চাঁদপুর। শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮। ১ পৌষ ১৪২৫। ৭ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৭। উহাকে ধর এবং টানিয়া লইয়া যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,

৪৮। অতঃপর উহার মস্তকের উপর ফুটন্ত পানি ঢালিয়া শাস্তি দাও-

৪৯। এবং বলা হইবে ‘আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত!   ¬





 


আদেশ সবাই দিতে পারে না।

  -শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।





 


ফটো গ্যালারি
ধানের শীষের তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হুঁশিয়ারি
ধর-পাকড় ও হামলা-মামলা বন্ধ না করলে কঠিন জবাব দেয়া হবে
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপি, গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের চাঁদপুরের তিনজন প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ চাঁদপুর শহরে কর্মরত সকল পর্যায়ের সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ধানের শীষের তিন প্রার্থী এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।



বক্তাদের সবাই প্রায় একই অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রশাসনসহ নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। ধানের শীষের প্রার্থী এবং কর্মীরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারছে না। পুলিশ ও সরকার দলীয় ক্যাডাররা ধানের শীষের কর্মীদের মারধর করছে, মামলা-হামলা ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে। এসব অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ না করলে জনগণকে সাথে নিয়ে কঠিন জবাব দেয়া হবে বলে ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।



চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক সফিউদ্দিন আহমেদের সভাপ্রধানে এবং জেলা গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব অ্যাডঃ সেলিম আকবরের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. মোঃ জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমএ হান্নান, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডঃ ফজলুল হক সরকার ও জেলা বিএনপি নেতা আঃ হামিদ মাস্টার।



সফিউদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত দশ বছর যাবৎ এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে নি। তিনশ' আসনের মধ্যে ১শ' ৫৩ আসনেই সরকার দলীয় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এর মধ্যে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনও রয়েছে। দশ বছর পর নির্বাচন দিয়েছে সরকার। এ নির্বাচনে সকল দল অংশ নিচ্ছে। মানুষ আশা করেছিলো এবার হয়ত তারা নিজের ভোটটি দিতে পারবে। কিন্তু প্রশাসন যে আচরণ করছে, তাতে বুঝা যাচ্ছে এবারো জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন সরকার থেকে বেরিয়ে এসে নিজের স্বত্ত্বা দেখাতে পারছে না।



অ্যাডঃ ফজলুল হক সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ভুলে গেছে। এক স্বৈরাচার আরেক স্বৈরাচারের (এরশাদের) সাথে জোট বেঁধেছে। এরশাদের মতোই এই স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে।



অ্যাডঃ সেলিম আকবর তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে । বিশেষ করে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে আমাদের প্রার্থী ও তাঁর নেতা-কর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলা ও ধর-পাকড়ের শিকার হচ্ছে। অন্য চারটি আসনেও আমাদের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর প্রশাসন অন্যায় আচরণ করছে। এই অত্যাচার, জুলুম, অনিয়ম, নির্যাতন আমরা আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে তুলে ধরছি। আমাদের বক্তব্য একটাই-আমরা ভোটের অধিকার চাই।



চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আমার নির্বাচনী কার্যক্রমের শুরু থেকেই নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সরকার দলীয় ক্যাডাররা আমার কর্মীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দিচ্ছে। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কাজ হচ্ছে না। আমি চাঁদপুর সদর ও হাইমচর থানার ওসির প্রত্যাহার চাই।



চাঁদপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমএ হান্নানও প্রায় এই অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রতীক পাওয়ার দিন থেকে ফরিদগঞ্জের পুলিশ আমাদের উপর যে আচরণ করছে, তা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মতো। আমি ফরিদগঞ্জ থানার ওসির প্রত্যাহার চাই।



চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী ড. মোঃ জালাল উদ্দিনও একই অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে প্রয়োজনে আমরা শহীদ হবো। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকিরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩৭৬২০
পুরোন সংখ্যা