চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করে নাই।৩৯। অতএব উহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে,


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
আজ অমর একুশে
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


.'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' দেহ-মন শিহরিত ও দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হওয়া কালজয়ী এ গানটি যে দিবসকে ঘিরে সেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। বাঙালি তার মায়ের ভাষা 'বাংলা'কে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এদিনে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করেছিলো সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ বাংলার আরো বহু দামাল ছেলে। এ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আলোকিত সড়ক তাঁরা নির্মাণ করে গেছেন, সে পথ ধরেই একাত্তরে এসেছে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান 'স্বাধীনতা'। আর বাংলা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাষার জন্যে কোনো জাতি প্রাণ দিয়েছে এ দৃষ্টান্ত শুধু বাঙালিরই। প্রতি বছর এ দিবসটি প্রাণের উচ্ছ্বাসে উদ্যাপন করে থাকে বাঙালি। শুধু বাঙালিই নয়, বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ বাঙালির এ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ১৯৯৯ সাল থেকে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এ দিবসটি ঘিরে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিবসটি যথাযথভাবে উদ্যাপন করবে। চাঁদপুরে দিবসটি ঘিরে এবার ব্যাপক আয়োজনে পাঁচদিনব্যাপী একুশে বইমেলা চলছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও চাঁদপুর পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ বইমেলা শুরু হয়। আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বইমেলা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চাহিদার আলোকে আরো ক'দিন বাড়তে পারে মেলা।



আজকের এ দিবসকে ঘিরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসের প্রথম প্রহর গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয় জাগরণী অনুষ্ঠান। এ সময় থেকে চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ শুরু হয়। প্রথমে জেলা প্রশাসন, এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ধারাবাহিকভাবে পুলিশ বিভাগ, জেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।



আজ ভোর ৬টায় শহীদ দিবসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সংগীত পরিবেশন সহকারে চাঁদপুর শহরসহ অন্যান্য উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে প্রভাতফেরি বের করা হবে। সেখানে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'/লও সালাম, লও সালাম, সালাম নওজোয়ান, শহীদ নওজোয়ান/'মোদের গরব মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' ইত্যাদি দেহ-মন শিহরিত দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পীরা। স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকম-লী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতিসহ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও প্রভাতফেরি বের করবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবন এবং বেসরকারি ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করা হবে। জেলার সকল মসজিদে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা, ভাষা শহীদদের স্মরণে সকল স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা, বইপাঠ, স্বরচিত ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। গতকাল চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সড়কে দৃষ্টিনন্দন আলপনা অাঁকা হয়।



আজ বিকেল ৩টায় চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে ছবি অাঁকা, সঙ্গীত, আবৃত্তি ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সন্ধ্যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের উপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন এবং ভাষা শহীদদের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৮টায় সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়েও অমর একুশে স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।



এদিকে দিবসটির স্মরণে চাঁদপুর পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় শহরের নতুনবাজার মোড়, শপথ চত্বর, ইলিশ চত্বর, অঙ্গীকার পাদদেশ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর, পৌর ভবন, চিত্রলেখার মোড়, সড়ক দ্বীপ ও বাস স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য সড়ক বাংলা বর্ণমালা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ভবন আলোকসজ্জা করা হয়। চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ সংখ্যা বের করেছে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪৮৭৮৯
পুরোন সংখ্যা