চাঁদপুর, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করে নাই।৩৯। অতএব উহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে,


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


শাহরাস্তিতে প্রচারণায় ব্যস্ত ১২ প্রার্থী ভোটারদের মাঝে সাড়া নেই
নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান রিটার্নিং কর্মকর্তার
মঈনুল ইসলাম কাজল
১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে উপজেলাজুড়ে নির্বাচনী আমেজ কোথাও লক্ষ্য করা যায়নি। এর কারণ হিসেবে সাধারণ ভোটাররা জানান, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এমনটি হচ্ছে।

শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের বিগত নির্বাচনে পর পর দুবার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ সময়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলে মাত্র কয়েক মাস পূর্বে অর্থাৎ গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু। গত ৪ অক্টোবর তিনি চেয়ারম্যান পদে শপথ গ্রহণ করে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মাত্র ৪ মাস না যেতেই আবার তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয়ভাবে মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু মনোনয়ন না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোচনার ঝড় ওঠে। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ উল্লাহ চৌধুরী। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু। এর পরও বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ ফরিদ উল্লাহ চৌধুরী। তার শক্ত প্রতিপক্ষ হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের ইঞ্জিঃ মোঃ মুকবুল হোসাইন পাটওয়ারী। তিনি আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও দলীয় মনোনয়ন তিনি পাননি। প্রতিষ্ঠিত এ ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে পরিচিতি লাভ করেছেন। যদিও তার নির্বাচনে আসা অনেকটাই চমক। শেষ পর্যন্ত এ দুজনের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অপর প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত চেয়ার প্রতীকের মোঃ এমদাদুল হক পাটওয়ারী। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় দলের কোনো নেতা-কর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি।

বিএনপির ক'জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা নির্বাচন নয়, মামলা মোকাবেলায় ব্যস্ত। নির্বাচনে নিজেদের জড়িয়ে নতুন করে কোনো সমস্যায় পড়তে চান না তারা। অনেকেই জানান, তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণকে বিএনপির সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিও দিতে শোনা যাচ্ছে। প্রার্থীদের ধারণা যারাই বিএনপির সমর্থকদের কেন্দ্রে আনতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। কেননা আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় তাদের ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সুন্দরভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে কি না এ নিয়ে জনমনে রয়েছে উৎকণ্ঠা। তাদের এ ভীতি দূর করা না গেলে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সুষ্ঠু পরিবেশে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি যাওয়ার নিরাপত্তা দিবে নির্বাচন কমিশন এমন আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন খান গত ১৩ মার্চ নির্বাচনী আচরণবিধি অবহিতকরণ সভায় বলেন, নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার নিরাপত্তা দিবে কমিশন। আপনারা বের হয়ে আসুন, ভোট দেন, আমরা আপনাদের সহায়তা করবো। এ উপজেলায় আমার কোনো আত্মীয় নেই। আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবো, আপনাদের সকলের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ বক্তব্যে উপস্থিত সকলের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার এ বার্তা মাঠপর্যায়ে প্রচার হলে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসাহের আমেজ অনেকটাই ফিরে আসবে। অনেকেরই ধারণা ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে অনিয়মও কমে আসবে।

এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ ইরান, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তর তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা ও মোঃ ইব্রাহিম খলিল।

গত নির্বাচনে বিজয়ী জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওঃ আবুল হোসাইন এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। ভোটার উপস্থিতি অনেকটাই ভাইস চেয়ারম্যানদের উপর নির্ভর করবে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে তিনজনই বিএনপি ঘরানার হিসেবে পরিচিত। বাকি জন বিগত দুবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। বিগত দু'বার নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার এবারও প্রজাপতি নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সদস্য। অ্যাডঃ শাহনাজ আক্তার রুজি ও মহছেনা আক্তার লড়ছেন এ পদে। তারা বিএনপির সমর্থক হলেও তাদের কোনো প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির কাউকে দেখা যায়নি। হাসিনা আক্তারের ভোটব্যাংকে এবার ভাগ বসাতে পারেন বিএনপির সমর্থিত অপর এ দু প্রার্থী।

প্রতীক পেয়েই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন এমনকি বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জনগণের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। জনগণের মন জয় করে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায় করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে_এটাই সভার প্রত্যাশা। শান্তিপ্রিয় এলাকা নামে পরিচিত শাহরস্তি উপজেলার পরিবেশ শান্তিতে বজায় থাকুক_এ কামনা সকলের।

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৮৯৫২
পুরোন সংখ্যা