চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ৩ বৈশাখ ১৪২৬, ৯ শাবান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৮-সূরা ফাত্হ্

২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী

২৬। যখন কাফিররা তাহাদের অন্তরে পোষণ করিতো গোত্রীয় অহমিকা-অজ্ঞতার যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ তাঁহার রাসূল ও মু’মিনদিগকে স্বীয় প্রশান্তি দান করিলেন; আর তাহাদিগকে তাকওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করিলেন, এবং তাহারাই ছিলো ইহার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সমস্ত বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন।











 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


ফটো গ্যালারি
মেঘনার অভয়াশ্রমে জাটকাসহ সব মাছই ধরা হচ্ছে
মিজানুর রহমান
১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চাঁদপুরে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে জাটকাসহ সব ধরনের মাছই ধরছে জেলেদের একটি অংশ। প্রতিদিন ভোর বেলায় এবং সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীর পাড়ের চিহ্নিত স্থানগুলোতে চলে মাছ বিক্রির রমরমা হাট। প্রশাসন সেখানে হানা না দেয়ায় কতিপয় আড়তদার তাদের জেলেদের দিয়ে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা এবং প্রকাশ্যে বেচা-বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর শহর এলাকার পুরাণবাজার হরিসভা মোড়, পুরাতন ফায়ার সার্ভিস তালগাছতলা, পশ্চিম শ্রীরামদী রনাগোয়াল, সদর উপজেলার দোকানঘর গুচ্ছগ্রাম, সাখুয়া খাল, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর, নন্দেশ খার খাল, হরিণা, গোবিন্দিয়া, আখনেরহাট নদীর পাড়ে অভয়াশ্রমের মাছ ধরা হয়। এসব স্থানের কজন আড়তদার আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে।

সবচেয়ে বেশি মাছ ধরা হয় মেঘনার পশ্চিমপাড়ে চরাঞ্চলে। সেখানকার মাছও পুরাণবাজার, দোকানঘর, বহরিয়াসহ আশপাশের আড়ত সংলগ্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে। আরও আছে মতলব জেলেদের দাপট। বিকেল হলেই সবার চোখে ধরা পড়ে মতলব জেলেদের আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সময়ের মাছ ধরার দাপট। তারা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনে সারি সারি নৌকার বহর নিয়ে দক্ষিণে ধেয়ে যায় মাছ ধরার জন্যে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত অভয়াশ্রমের ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে সকল প্রকার জাল ফেলা, মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। জাটকা সংরক্ষণসহ নদীর অন্যান্য মাছ যাতে নির্বিঘ্নে বিচরণ করতে পারে এজন্যে মার্চ ও এপ্রিল দুমাস জেলেরা নদীতে নামতে পারবে না।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছে না জেলেদের একটি অংশ। প্রতিদিন এসব জেলের জাল আটক হচ্ছে, মোবাইল কোর্টে জেল-জরিমানাও হচ্ছে। তারপরও নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না এসব জেলেকে। মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ের প্রথম দিন থেকেই নৌকা নিয়ে জেলেদের মাছ শিকার করতে দেখা যাচ্ছে। মতলব উত্তরের মাছের আড়তগুলোতে, হাইমচরের চরাঞ্চল ও চাঁদপুর শহরতলীতে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত প্রায় ৫১ হাজারেরও বেশি জেলে রয়েছে। সরকার প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চারবারে ১৬০ কেজি চাল দিচ্ছে। এছাড়া জেলে পরিবারকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন উপকরণও দিচ্ছে। এতোসব করার পরও জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানছে না। মনে হচ্ছে যেন সরকারি এসব সহায়তা পেয়ে আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে তারা নদীতে নামছে ও জাটকা ধরছে।

সরেজমিন মতলবের জহিরাবাদ থেকে ষাটনল পর্যন্ত, চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহিমপুর, হরিণা, হাইমচরের নীলকমল, কাটখালিসহ মেঘনার তীর ঘুরে দেখে এসব অঞ্চল মাছের অভয়াশ্রম বলে মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে যেন মৎস্য শিকারী বা জেলেদের জন্যই এ অঞ্চল অভয়াশ্রম। এখলাছপুর থেকে ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার সর্বত্রই জেলেদের নিরাপদে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

সচেতন মহলের মতে, যেসব জেলে আইন অমান্য করে অভয়াশ্রমে মাছ ধরছে, ইলিশ ধ্বংসে জাটকা নিধন করছে এবং যারা এই মাছের আড়তদারি ও বিভিন্নস্থানে পাচার করছে তাদের গোয়েন্দা লাগিয়ে ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারলেই চাঁদপুরে অভয়াশ্রম সফল হবে।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৩৬৩১
পুরোন সংখ্যা