চাঁদপুর, রোববার ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৯-সূরা হুজুরাত


১৮ আয়াত, ২ রুকু, 'মাদানী


৩। যাহারা আল্লাহর রাসূলের সম্মুখে নিজেদের কণ্ঠস্বর নীচু করে, আল্লাহ তাহাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করিয়া লইয়াছেন। তাহাদের জন্য রহিয়াছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
জুমার নামাজের সময় এলাহী মসজিদে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চাঁদপুর শহরের পূর্ব নাজিরপাড়াস্থ এলাহী মসজিদে গত ১৯ এপ্রিল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আগন্তুক এক ইমামের বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে মসজিদে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী এবং মসজিদের নিয়মিত মুসলি্লরা। আগামী শুক্রবারও একইভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে এনে কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক চলে আসা শত শত বছরের নিয়মকে বাদ দিয়ে নূতন নিয়মে নামাজসহ ধর্মীয় আনুষঙ্গিক কাজ করানোর পাঁয়তারা করছে কমিটির একটি অংশ। এদিকে এলাকাবাসী এবং মসজিদের নিয়মিত মুসিল্লরাও প্রস্তুত যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে। মুসলি্ল বেশে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর ভাড়াটে কেউ মসজিদে এসে নিত্য নূতন ফতোয়া দিয়ে মুসলি্লদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তা তারা করতে দেবে না। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী এবং মসজিদের নিয়মিত মুসিল্লরা।

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল শুক্রবার চাঁদপুর শহরের পূর্ব নাজিরপাড়াস্থ এলাহী মসজিদে জুমার নামাজের সময় মসজিদের নিয়মিত ইমামকে বসিয়ে রেখে মুজাফফর বিন মুহসিন নামে আহলে হাদিসের অনুসারী এক ব্যক্তিকে দিয়ে নামাজ পড়ানো হয়। তিনি নামাজ পড়াতে গিয়ে শত শত বছর ধরে চলে আসা নিয়মকে বাদ দিয়ে নূতন নিয়মে খুৎবা হতে শুরু করে নামাজ পড়ানো সব কিছু করেন। এটিকে কেন্দ্র করেই মসজিদে প্রথমে বিশৃঙ্খলা পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। দেখা গেলো যে, এ মসজিদে নতুনমুখ এমন কিছু যুবক মসজিদের নিয়মিত মুসলি্লদের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়।

ওই ঘটনার বিষয়ে শুক্রবার রাতে এবং গতকাল শনিবার মসজিদের নিয়মিত কয়েকজন মুসলি্ল যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাদের একজন সফিক হাজী বলেন, আমরা সবসময় দেখেছি যে, জুমার খুৎবা ইমাম সাহেব আরবিতে দেন, খুৎবায় ইসলামের প্রধান চার খলিফাসহ নবীজীর পরিবারবর্গের নাম নেয়া হয় এবং খুৎবার পূর্বে মুয়াজ্জিন সাহেব ছানি আযান দেন। কিন্তু আজকে খুৎবা দেয়া হয়নি, ছানি আযানও দেয়া হয়নি। নতুন ইমাম সাহেব একবার দীর্ঘসময় নিয়ে বয়ান করলেন, বয়ান শেষ করে মুসলি্লদের খুব দ্রুত দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার জন্য বললেন। অথচ আমরা সবসময় পড়ে এসেছি কাবলাল জুমা চার রাকাআত। আমরা দু'রাকাআত নামাজ শেষ না করতেই ইমাম সাহেব পুনরায় মিম্বরে দাঁড়িয়ে বয়ান শুরু করলেন বাংলায়। বয়ান শেষ করেই সরাসরি নামাজে চলে গেলেন। এরই মধ্যে মসজিদে হট্টগোল বেঁধে যায়। মুসলি্ল ইকবাল পাটোয়ারী বলেন, এ ইমাম দীর্ঘ সময় আলোচনা করে ইকামত নিয়েও বিতর্ক জুড়ে দিলো। এরপর নামাজ পড়া শুরু করলেন। আমরা নামাজ পড়তে না পড়তেই মুসলি্লদের মধ্যে হট্টগোল বেঁধে যায়। মুসলি্ল সিরাজুল ইসলাম (৬০) বলেন, আমি মসজিদের সভাপতি মোঃ সোহেলকে এই নতুন হুজুর এবং বিশৃঙ্খলার কারণ জিজ্ঞেস করতেই সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বসে। মুসলি্ল আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যতটুকু দেখেছি এ দেশে সকল মসজিদে আরবিতে খুৎবা হয়ে থাকে। ছানি আযানও দেয়া হয়। অথচ মুজাফফর বিন মুহসিন কোনোটাই করলেন না। তিনি মনগড়া নামাজ পড়িয়ে একটা ফেতনা সৃষ্টি করে গেলেন। এলাকাবাসী জানান, এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম আলহাজ্ব আবদুল মান্নান তালুকদার। আজ কতটা বছর হলো আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জুমার নামাজ এ মসজিদে পড়ছি, কোনো সমস্যা হয়নি। উনি একদিনই এসে এতো ফেৎনা লাগিয়ে গেলেন। আমরা অচিরেই এ কমিটির পরিবর্তন চাই। এটা সুন্নী সমাজের এলাকা। পীর-মাশায়েখগণ আমাদের যেভাবে নামাজ-রোজা শিখিয়েছেন, আমরা সেভাবেই চলতে চাই।

এলাকাবাসী এবং সেদিন জুমার মুসলি্ল শাহজাহান মাঝি এ প্রতিবেদককে ঘটনার বিষয়ে জানাতে গিয়ে বলেন, ভাই যতসব নতুন নিয়ম এবং আমাদের মধ্যে ফেৎনা সৃষ্টি করা। নতুন ইমাম সাহেব বললেন, ৮০ বছর আগের সব নিয়ম বাদ, ওইগুলো সব বেদাত। এই নতুন নিয়মে নামাজ পড়াটাই হচ্ছে প্রকৃত সুন্নাত। তিনি খুৎবা পড়লেন না, কাবলাল জুমা চার রাকাত পড়তে দিলেন না, ছানি আজান দিলেন না, অথচ বিরতি দিয়ে দুই বার দীর্ঘ সময় নিয়ে বয়ান করলেন। বয়ানে শুধু বললেন, এটা করলে বেদাত-শিরিক, ওটা করলে বেদাত-শিরিক। সেদিন এ মসজিদে তাদের অনুসারী বেশ কিছু লোক জড়ো করা হয়েছে, যাদেরকে আগে কখনো এ মসজিদে দেখা যায়নি। নামাজের পরে আমি মসজিদের মোতাওয়াল্লীকে এসবের কারণ জিজ্ঞেস করতেই ওই লোকগুলো আমার ওপর ক্ষেপে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা মারমুখী হয়ে ওঠে। বুঝা গেলো যে, তারা অন্যরকম একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছে। তারা এলাকার মুসলি্ল স্বপন চৌধুরীর সাথেও হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।

এ ব্যাপারে মসজিদের সভাপতি মোঃ সোহেলের সাথে কথা বলতে চাইলে একাধিকবার চেষ্টা করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। এদিকে মসজিদের মোতাওয়াল্লী মোঃ ইয়াসিন তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বাবা এখানে মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন আখেরাতের উদ্দেশ্যে। আমরা বাবার উত্তরসূরিরা সে লক্ষ্যেই আছি। আমি এতটুকুই বুঝি, বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম যেভাবে চলে আমাদের মসজিদ সেভাবেই চলবে। মসজিদ কমিটি পরিবর্তন করবেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে আমি দেখছি বলে তিনি জানান। তবে এলাকাবাসী এবং মসজিদের পাঞ্জোগানা মুসলি্ল সবাই মসজিদ কমিটির বর্তমান বিতর্কিত সভাপতির পরিবর্তন চান। মসজিদ কমিটির নতুন সভাপতি সোহেল এবং তার ভাই ঠিকাদার পাখি এ ঘটনার হোতা বলে এলাকাবাসী এবং মসজিদের নিয়মিত মুসিল্লরা জানান।

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেেণ এনেছি। বিষয়টিকে আমরা খতিয়ে দেখেছি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৪১০০
পুরোন সংখ্যা