চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৯-সূরা হুজুরাত


১৮ আয়াত, ২ রুকু, 'মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। যাহারা ঘরের বাহির হইতে তোমাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাহাদের অধিকাংশই নির্বোধ,


৫। তুমি বাহির হইয়া উহাদের নিকট আসা পর্যন্ত যদি উহারা ধৈর্য ধারণ করিত, তাহাই উহাদের জন্য উত্তম হইত। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


 


 


কোনো বড় কাজই উৎসাহ ছাড়া লাভ হয়নি। -ইমারসন।


 


 


 


নিঃসন্দেহে তিন প্রকার লোকের দোয়া কবুল হয়-পিতার দোয়া, মোসাফিরের দোয়া এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।


 


 


ফটো গ্যালারি
হাইমচরে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২৫ লাখ টাকার কি অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার?
শওকত আলী
২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

হাইমচর উপজেলার আলগী এলাকার কৃষি জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা ছাড়াই কৃষ্ণপুর খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার শত শত মানুষের পক্ষ থেকে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছোট খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলে শত শত জেলের জেলে নৌকা আসা-যাওয়ার সময় সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে জেলেদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে হাইমচর উপজেলার ৩নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডস্থ কৃষ্ণপুর খালের উপর কৃষি জমির মাঝখানে। এ ব্রিজটি নির্মাণ করতে সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে হাইমচর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে। নদীর পাড়ে কৃষিজমির মাঝে রাস্তা ছাড়া একটি ব্রিজ নির্মাণ করায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ দুলাল পাটোয়ারীর হাডু এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সের নামে ব্রিজটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি করার জন্যে দেয়া হয়। পরে নয়ানি লক্ষ্মীপুর গ্রামের মজিবুর রহমান পাটোয়ারী ও নুরুল হক মাস্টার যৌথভাবে ব্রিজের কাজটি ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়ে তারা নিজেরাই কাজটি করছেন বলে ঠিকাদার জানান ।

সরজমিনে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে এলাকার হাফেজ পাটওয়ারী, শহীদ মাঝি ও মফিজ মাতাব্বর জানান, জনবহুল এলাকা যেখানে প্রয়োজন সেখানে ব্রিজ না করে মেঘনা নদীর পাড়ে বিলের মাঝখানে ঠিকাদারের স্বার্থ হাসিল করতে ব্রিজটি করার পূর্বে ইউনিয়নের শত শত জেলে হাইমচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আনিসুর রহমানের কাছে অভিযোগ জানায় এবং কাজটি না করার জন্য বাধাও দেয়। বাধা উপেক্ষা করে ঠিকাদার নিজের প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের রাস্তায় ব্রিজটি না করে কৃষি জমির মাঝে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শুরু করে। ছোট একটি খালের উপর দিয়ে ব্রিজটি করলেও দুই পাশে কোনো রাস্তা নেই, রয়েছে কৃষি জমি, পাশেই আছে ডাকাতিয়া নদী। এ এলাকার শতকরা ৮০ ভাগ লোক মৎস্যজীবী। এ কৃষ্ণপুর খাল দিয়ে শত শত জেলে নৌকা আসা-যাওয়া করে থাকে।

তাছাড়া ব্রিজটি যে উচ্চতায় করা হচ্ছে, বর্ষার সময় এখান দিয়ে কোনো নৌকা চলাচল করতে পারবে না এবং চরম দুর্ভোগে পড়বে শত শত জেলে।

এদিকে এই ব্রিজটি নির্মাণ কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সিডিউল মোতাবেক যে পরিমাণ রড দেয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে কম রড ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বোল্ডার ভাঙ্গা পাথর ব্যবহার না করে নিম্নমানের ভুতু ভাঙ্গা গুড়া পাথর ও সিলেকশন বালু না দিয়ে আস্তর বালু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তাছাড়া ব্রিজ করার পূর্বে নীচে পাইলিং করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। মেঘনা নদীর পাড়ে নির্মাণাধীন এ ব্রিজটি প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। জেলেদের দাবি উপেক্ষা করে রাস্তা বিহীন এই ব্রিজটি করায় জনমনে উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারের প্রতিনিধি নুরুল হক মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাজারে যে পাথর পাওয়া যাচ্ছে সে পাথর দিয়েই কাজ করানো হচ্ছে। নিম্নমানের পাথর দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে কিনা এতো প্রশ্নের জবাব আপনাদের দেবো কেনো? আর কিছু জানতে হলে অফিসের সাথে যোগাযোগ করেন।

হাইমচর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) আনিসুর রহমান জানান, রাস্তা ছাড়া কৃষি জমির মাঝে ব্রিজটি তৈরি করার পূর্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল। চেয়ারম্যান নতুন একটি রাস্তা করে দেয়ার কথা বলার পরেই ব্রিজের কাজ শুরু করা হয়। সিডিউল মোতাবেক ব্রিজ নির্মাণে বোল্ডার পাথর ও সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে। নিম্নমানের পাথর দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবো।

এ ব্যাপারে হাইমচর উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। কৃষিজমির মাঝখানে ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে ওই এলাকার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করেছেন। ঐ ইউপির চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে এ বিষয়ে ঘটানাস্থলে গিয়ে দেখে জানানোর জন্যে। তারপর আমি জেনে ব্যবস্থা নেবো।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৫৩০৩
পুরোন সংখ্যা