চাঁদপুর, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। আল্লাহ বলিবেন, ‘আমার সম্মুখে বাগ্-বিত-া করিও না; তোমাদিগকে আমি তো পূর্বেই সতর্ক করিয়াছি’।

২৯। ‘আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোনো অবিচার করি না।’

৩০। সেই দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করিব, ‘তুমি কি পূর্ণ হইয়া গিয়াছ? জাহান্নাম বলিবে, ‘আরও আছে কি?’


assets/data_files/web

অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
এগুলো তদারকির দায়িত্ব কার?
পুরাণবাজারে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই
গোলাম মোস্তফা
১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারে তৈরি করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। কিন্তু মানুষের খাবার তৈরির যে সকল নিয়ম কানুন বা সরকারের নীতিমালা রয়েছে, সে অনুযায়ী সাধারণত যে পরিবেশ থাকার কথা বা যে নিয়মে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করার কথা, তার ধার কাছেও নেই পুরাণবাজারের সেমাই তৈরির ফ্যাক্টরীগুলো। আর এ অভিযোগ আলম ফুড প্রোডাক্টস্ ও পাঁচতারা ফুড প্রোডাক্টস্-এর বিরুদ্ধে।

চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার নিতাইগঞ্জ রোডে অবস্থিত আলম ফুড প্রোডাক্টস্-এ তৈরি হয় আলম লাচ্ছা সেমাই, আর রয়েজ রোডে অবস্থিত পাঁচতারা ফুড প্রোডাক্টস্-এ তৈরি হয় পাঁচাতারা লাচ্ছা সেমাই। এ দুটি ফ্যাক্টরীতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে সেমাই। দুর্গন্ধময় ময়লা আবর্জনার গন্ধে সেমাই তৈরির স্থানে দাঁড়ানোই কষ্টসাধ্য। আলম ফুড প্রোডাক্টস্-এর ফ্যাক্টরীতে সেমাই তৈরি হওয়ার স্থানটি কালো কর্দমাক্ত ময়লা মাটির কারণে পা রাখলেই পা ডুবে যায়। তারপরও এই কর্দমাক্ত ময়লার দু'পাশে কাজ করছে শ্রমিকরা। একপাশে সেমাই তৈরি করছে, অন্য পাশে তেল দিয়ে ভাজা শেষ করে স্তূপ করে রাখছে। সেমাই তৈরির সময় শ্রমিকরা গায়ে অ্যাপ্রোন পরার নিয়ম থাকলেও সেটিতো যেনো শ্রমিকদের জন্যে দুষ্প্রাপ্য বিষয়। কেউ খালি গায়ে, কেউ বা গেঞ্জি গায়ে কাজ করছে। একদিকে প্রাকৃতিক গরম অন্যদিকে গ্যাসের চুলার গরম। এ দু'গরমের মাঝে শ্রমিকরা তাদের মালিকের নির্দেশ মতো কাজ করছে। নিজের শরীরের ঘাম ঝরে পড়ছে সেমাই তৈরির কাঁচামাল ময়দা ও তৈলে। আবার অনেক সময় নিজেরাই শরীর থেকে যে ঘাম ফেলছে সেটিও সেমাই তৈরির উপকরণে পড়ছে। আবার কোনো শ্রমিক তো এক হাতে সিগারেট ফুঁকছেন, আর অন্য হাত দিয়ে কাজ করছেন। আর সেমাই তৈরির উপকরণ হচ্ছে নিম্নমানের ময়দা, পামওয়েল, ডালডা। এগুলো কত বছর ধরে একই কড়াইতে পড়ে আছে তা শ্রমিকরা নিজেরাও জানে না। সেমাই তৈরির বিভিন্ন কড়াইগুলোর তৈল এতোটাই কালো অবস্থায় রয়েছে যে, মানুষজন এক নজর দেখলে এই সেমাই আর জীবনে কখনোই মুখে নেবে না। এক কথায় আলম ফুড প্রোডাক্টসের বা আলম লাচ্ছা সেমাই ফ্যাক্টরীতে গিয়ে যে পরিবেশ দেখা যায় তাতে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ঈদের প্রিয় সু-স্বাদু খাবার লাচ্ছা সেমাই যেভাবে তৈরি হচ্ছে এটি খেয়ে মানুষ তার মৃত্যুকে দ্রুত ডেকে আনছে।

জানা যায়, আলম ফুড প্রোডাক্টসের মালিক হাজী মোঃ শাহ আলম। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। চাঁদপুরের মতো প্রথম শ্রেণির পৌরসভার তিনি কাউন্সিলর। বর্তমানেও দায়িত্বে রয়েছেন। তার মালিকানাধীন আলম লাচ্ছা সেমাই তৈরির যদি এ অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের ভালো মানের খাবার খাওয়ার নিরাপত্তা কোথায় থাকবে। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নিতে তার ফ্যাক্টরীতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বড় ছেলে মাসুদ বলেন, যা মন চায় লিখে দেন। সকলকে ম্যানেজ করেই আমরা এ ফ্যাক্টরী চালাই।

নিতাইগঞ্জ পাঁচতারা ফুড প্রোডাক্টস্ বা পাঁচতারা লাচ্ছা সেমাই ফ্যাক্টরীতে গিয়ে দেখা যায়, মালিকপক্ষ সেমাই তৈরির একটি অংশে টাইলস্ দিয়ে ফ্লোর তৈরি করার কারণে ময়লা আবর্জনা ও কর্দমাক্ত মাটি নেই বললেই চলে। পাশে কিচেন ও ২টি ড্রেন থাকার কারণে ময়লা পানিগুলো ড্রেন দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সেমাই তৈরির শ্রমিক সেই একই অবস্থায়। অ্যাপ্রোন তো দূরের কথা, অনেকের গায়ে গেঞ্জিও নেই। যার ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। শরীরের ঘাম সদ্য কড়াই থেকে উঠানো সেমাইয়ে গিয়ে পড়ছে। শ্রমিকদের পায়ের মাটি ময়দার সাথে মিশে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। সেমাই ভাজার কড়াইগুলো এবং সেমাই তৈরির কাজের জন্যে আনা ডালডা বা পাম ওয়েল তৈল দেখলে মনে হয় যেনো এগুলো বিষাক্ত কোনো ময়লার পানি। এতটা কালো হয়ে আছে। দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য। নোংরা এ পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরির বিষয়টি পাঁচতারা লাচ্ছা সেমাই মালিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পুরাণবাজারে যে ক'টি সেমাই ফ্যাক্টরী রয়েছে, তার মধ্যে আমারটি অনেক ভালো পরিবেশে রয়েছে। তিনি বলেন, বুঝেন তো সকল সংস্থাকে কম-বেশি ম্যানেজ করেই আমাদের চলতে হয়।

মানুষের খাবার তৈরি করার ফ্যাক্টরীর মালিকও মানুষ। মানুষ হয়ে মানুষের প্রিয় খাবারগুলো নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা এবং এ শখের খাবারগুলো খেয়ে খুব দ্রুত মানুষকে রোগাক্রান্ত করার জন্য এইভাবে এ লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারণ কী-এটা সচেতনদের জিজ্ঞাসা। তাছাড়া এই সকল বিষয় দেখার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত রয়েছেন রমজানের ১২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের নীরবতায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর (চলতি দায়িত্ব) অরুপ শ্যামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যিনি মূল দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন। তার অনুপস্থিতিতে আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু আইনী প্রতিবন্ধকতার কারণে অভিযান চালানো যাচ্ছে না। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সকল অভিযান চালানো হয়, সেখানে আমাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৯৯২৪
পুরোন সংখ্যা