চাঁদপুর, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • মতলবের জিয়াউর রহমান সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত

৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

৫১। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করিও না ; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।

৫২। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’


assets/data_files/web

ভালোবাসার ক্ষেত্রে সেই জ্ঞানী যে ভালোবাসা বেশি কিন্তু প্রকাশ করে কম। -জর্জ ডেভিডসন।


 


 


নিঃসন্দেহে তিন প্রকার লোকের দোয়া কবুল হয়। পিতার দোয়া, মোসাফিরের দোয়া এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।


 


 


ফটো গ্যালারি
মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে চলছে অনিয়ম
শওকত আলী
১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর আওতাধীন মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)-এর চাঁদপুর সদরে ৬শ' শিখন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে মৌলিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকারের মহতী উদ্যোগ থাকলেও প্রকল্প পরিচালনা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছসেবী সংগঠন 'সমাহার' কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। কাগজে থাকলেও কাজে নেই এই প্রকল্পের বাস্তবচিত্র।



সরেজমিন ও শিখন কেন্দ্রের কর্মরত সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে নিরক্ষর লোকদের শিক্ষার্থী হিসেবে পাঠদান করা হয়। প্রত্যেক কেন্দ্রে শিক্ষার্থী থাকার কথা দুই শিফটে ৩০ জন করে ৬০ জন। শিক্ষকদের নূ্যনতম যোগ্যতা এসএসসি পাস। শিক্ষার্থীদের দিতে হয় নির্ধারিত শিক্ষা উপকরণ ।



সরেজমিন শহরের গুয়াখোলা, কদমতলা ও ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামের বাইনের বাড়ি কেন্দ্র, পাঁচবাড়িয়া করাতি বাড়ি কেন্দ্র, দেলান বাড়ি কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষক নেই। আবার শিক্ষক থাকলেও পঞ্চম শ্রেণী পাস শিক্ষক। অনেক কেন্দ্রে শিক্ষার্থী নেই। কোনো কেন্দ্রে শিক্ষার্থী থাকলেও তারা অন্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী।



সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ৬মাস। চাঁদপুর সদরের ৬শ' কেন্দ্রের জন্যে ব্যয় বরাদ্দ শিক্ষা উপকরণসহ প্রায় ১ কোটি টাকা।



শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্যে বস্ন্যাক বোর্ড, চক, খাতা, কলম, মাদুর ক্রয় এবং কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ বিল ও ঘরভাড়া প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেক শিক্ষক তার সম্মানী হিসেবে পাওয়ার কথা ১হাজার ২শ' টাকা। কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্ব পাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সমাহার' এসব নিয়ম নীতির কোনো কিছুই মানছে না। শিক্ষকদেরকে প্রতি মাসে সম্মানী দিচ্ছেন ৫ থেকে ৬শ' টাকা। শিক্ষার্থীরাও উপকরণ নিয়মমত পাচ্ছেন না।



মধুরোড ভাষাবীর এম.এ.ওয়াদুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিজা আক্তার জানান, সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে এবং প্রকল্পের বিদ্যালয়ে একই সাথে পড়ে।



রামপুর বাইন বাড়ি কেন্দ্রের শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, তার কেন্দ্রে ৫ থেকে ৭জন শিক্ষার্থী আসেন। ঈদুল ফিতরের পরে কোনো শিক্ষার্থীই নেই।



রামপুর দালানবাড়ি কেন্দ্রের শিক্ষক আল-আমিন জানান, প্রকল্পটি মেয়াদ ৬ মাসের থাকলেও তিনি এখন পর্যন্ত সম্মানী পেয়েছেন ২ মাসের।



পাঁচবাড়িয়া করাতি বাড়ি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষক নাছিমা আক্তার নেই। ওই বাড়ির কেন্দ্রের স্থানীয় লোকজন জানান তিনি বেড়াতে গিয়েছেন। এ কেন্দ্র থাকলেও শিক্ষার্থী নেই।



চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার প্রশান্ত সরকার বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। অনিয়ম সম্পর্কে আমি কোনোভাবেই অবগত নই।



জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোঃ সাঈদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। এ কারণে প্রকল্পের সবকিছু দেখা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। বিস্তারিত সাক্ষাৎ করলে জানাতে পারবো। 'সমাহার'-এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আজাদ শেখের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রোগ্রাম অফিসার ও সহকারী পরিচালকের প্রকল্পের কার্যক্রম দেখার দায়িত্ব। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। মোবাইল ফোনে অনিয়মের কথা বলতে অপারগতা স্বীকার করেন। কয়েকদিন পরে চাঁদপুরে আসলে সরাসরি কথা বলবেন।



মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)-এর হাইমচর উপজেলায়ও ৬শ' কেন্দ্র রয়েছে। এই প্রকল্পের ৬শ' কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ আওয়ার লাইফ (সল)। এই উপজেলার চিত্রও সদর উপজেলার ন্যায় বলে বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৩০৯৫৬
পুরোন সংখ্যা