চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০১৯, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬, ৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


assets/data_files/web

প্রার্থনা ও প্রশংসা এই দুটো জিনিস স্বয়ং বিধাতাও পছন্দ করেন।


-সুইডেন বাগ।


 


 


 


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম-আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


 


ফটো গ্যালারি
৪০ দিনে আটক ৩৯, ইয়াবা উদ্ধার সাড়ে ১৩শ'
হাজীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান সত্ত্বেও মাদক বিক্রি থেমে নেই!
কামরুজ্জামান টুটুল
১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

হাজীগঞ্জে মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের মধ্যে মাদক বিক্রি থেমে নেই। প্রতি সপ্তাহে পুলিশ মাদকসহ কাউকে না কাউকে আটক করছে। আটককৃতরা জামিনে এসে ফের একই পেশায় ফিরে আসছে। তাই মাদক বিক্রি রোধ করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি নারীরাও এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে, আটক হচ্ছে, জামিনে এসে কৌশলে একই পেশায় থেকে যাচ্ছে। সড়ক আর রেলপথে হাজীগঞ্জের সাথে অন্য জেলার যোগাযোগ সহজ হওয়ার কারণে মাদক বিক্রেতারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এ উপজেলায়। তবে মাদক বিক্রেতা কিংবা খাদকরা যতোই ধুরন্দর হোক না কেনো মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গত জুন মাসসহ চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত হাজীগঞ্জ থানায় মাদকসহ মাদক কারবারি ও মাদক খাদক মিলিয়ে আটক হয়েছে ৩৮ জন। মাদক আইনে মামলা হয়েছে ২৯টি, ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১৩৪২টি, গাঁজা আড়াই কেজি আর নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার হয়েছে ৮ পিচ।

থানা পুলিশের ফেসবুক কী বলে : হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ঐধলরমড়হল ঞযধহধ' নামের ফেসবুক পেইজে দেখা যায়, গত ৭ জুলাই মকিমাবাদ এলাকা থেকে ১ কেজি গাঁজাসহ কাজলী বেগম নামের এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। ৫ জুলাই কুখ্যাত মাদক কারবারি বাকিলার খলাপাড়ার জাকিরসহ কয়েকটি অভিযানে আটক হয় ৪ মাদক কারবারি। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১৩০ পিচ ইয়াবা। ১ জুলাই আটক হয় পূর্ব মকিমাবাদ গ্রামের ইউসুফ ৮ পিচ ইয়াবাসহ। ২৯ জুন ১১ পিচ ইয়াবাসহ আটক হয় টোরাগড় গাইন বাড়ির মাদক কারবারি সাগর হোসেন। এভাবে সপ্তাহের কোনো না কোনো দিন মাদক নিয়ে মাদক কারবারি আটক হচ্ছে।

পুলিশের উপর বাটপারি : পুলিশ মাদক কারবারিদের ধরার জন্যে সচেষ্ট থাকলেও মাদক বিক্রেতারা কোনো অংশে পুলিশের চেয়ে কম নয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি এলাকায় মাদক কারবারিদের নিজস্ব সোর্স বা লোক থাকে। কোনো এলাকায় পুলিশ সিভিল ড্রেসে কিংবা পুলিশি ড্রেসে পুলিশের গাড়িতে কিংবা সাধারণ কোনো গাড়িতে যাওয়া মাত্র সোর্সের মাধ্যমে মাদক কারবারিকে নিরাপদে সরে থাকার জন্যে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়ে দেয়। মাদক কারবারিদের সোর্স মাদক কারবারিরা নিজেরাই। যারা তুলনামূলক কম পরিচিত তারাই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থানে থাকে পুলিশি অবস্থান জানার জন্যে। আর তুলনামূলক বেশি পরিচিত মাদক কারবারি নিরাপদ এলাকায় মাদক বিক্রি করে থাকে।

নিজস্ব সোর্সের সক্রিয়তা : হাজীগঞ্জের বাকিলা এলাকায় বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাদক বিক্রেতাদের সোর্স রয়েছে বাকিলা গরুর বাজার এলাকায় আর বাকিলা বাজারস্থ ফকির বাজার সড়কের মাথায়। বাকিলা বাজারে পুলিশের গাড়ি বা পুলিশের লোকজন আসা মাত্র গরুর বাজারের সোর্স তার লোকদের জানিয়ে দেয়। অপরদিকে ফকির বাজারের রাস্তার দিকে পুলিশের গাড়ি কিংবা পুলিশ ঢোকা মাত্র ফকির বাজার রাস্তার মাথার সোর্স ভেতরে তার লোকজদের খবর পাঠিয়ে দেয় যে, পুলিশ আসছে। তবে পুলিশ অন্য কাজে গেলেও একই ম্যাসেজ দেয় তার সোর্স। আর এ চিত্র অধিকাংশ এলাকার।

এক কারবারি অন্য কারবারিকে ধরিয়ে দেয় : ইয়াবা বিক্রেতাদের অন্যতম চরিত্র হলো এক কারবারি অন্য কারবারিকে ধরিয়ে দেয়া। এ ধরিয়ে দেয়ার মূল উদ্দেশ্য বেশি করে মাল (ইয়াবা) বিক্রি করা। কোনো কারবারি ধরা খেলে ক্রেতা বিকল্প কারবারি খোঁজে। এজন্যে একজন আটক হলে অন্যজনের মার্কেট ভালো হয়ে উঠে। এসব কারণে এক মাদক কারবারি আটক হলেও সেই এলাকায় মাদক বিক্রি থেমে থাকে না।

নারীরা চলে আসছে মাদক ব্যবসায় : মাদক কারবারিদের তালিকায় গত কয়েক বছর ধরে নারীদের নাম উঠে আসছে। হাজীগঞ্জে বেশকিছু নারী মাদক কারবারি রয়েছে, যারা কদিন পর পর মাদক নিয়ে আটক হয়। জামিন পেয়ে ফের একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।

ইয়াবার প্রকারভেদ ও বাজারদর : বর্তমান বাজারে ৩ ধরনের ইয়াবা পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর মধ্যে সবচে' দামী ইয়াবার দাম প্রায় ৪শ' টাকা। তবে এটা কিছুটা দুর্লভ। ৩শ' টাকার মধ্যে যেটা পাওয়া যায় সেটা বর্তমানে সবচে' বেশি চলে। ১শ' ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ২শ' টাকার মধ্যে যেটি পাওয়া যায় তার মান অনেকটাই খারাপ। তবে ক্রেতার ধরণ কিংবা টাকার হিসেব বুঝে কারবারিরা ইয়াবা সরবরাহ করতে সক্ষম হয় বলে সূত্র জানায়।

হুমকি ও চাপের শিকার খুচরা বিক্রেতারা : কোনো ব্যক্তি একবার ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে ইচ্ছে করলেও তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব না। যে খুচরা বিক্রেতা পাইকারী বিক্রেতার মাল বিক্রি করে থাকে সেই খুচরা বিক্রেতা এ পেশা ছেড়ে দিতে চাওয়া মাত্র পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি এবং চাপ থাকে।

একের মাল অন্যে বিক্রি করতে পারবে না : এক কারবারির মাল অন্য কারবারি বিক্রি করা মানেই এ ব্যবসায় ঝামেলার বিষয়। একের মাল অন্যে বিক্রি করা মানে নিশ্চিত পুলিশে ধরিয়ে দেয়া। তাই কেউ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অন্যের মাল বিক্রি করে না।

অ্যালমুনিয়াম পেপারের কদর : হাজীগঞ্জের মাদক কারবারি কিংবা মাদক খাদকদের কাছে সবচে' পছন্দের নেশা ইয়াবা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে গাঁজা, তার পরেই রয়েছে ফেন্সিডিল আর ইনজেকশন। ইয়াবা সেবনকারীদের কাছে সবচে' পছন্দের বস্তু হলো অ্যালমুনিয়াম পেপার। বিশেষ করে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্লেটের ওপর যে অ্যালমুনিয়াম পেপার মুড়িয়ে খাবার পরিবেশন করা হয় সেই অ্যালমুনিয়াম পেপার। হাজীগঞ্জ বাজারের বেশ কিছু দোকানে এ অ্যালুমিনিয়াম পেপার দেদার বিক্রি হয়ে থাকে। যদিও এই পেপার বিক্রি নিষিদ্ধ নয়। আর ইয়াবাসেবীরা সেই সকল পেপার অনায়াসে কিনে নিয়ে যায়।

হাজীগঞ্জে কেনো মাদকের বাজার : ভৌগোলিক কারণে হাজীগঞ্জ থেকে সড়ক আর রেলপথে কুমিল্লাসহ বৃহত্তর নোয়াখালীসহ দেশের অন্য সকল জেলার সাথে যোগাযোগ সহজতর। আবার সড়কযোগে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক আর রেলপথে চাঁদপুর-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথে যোগাযোগ সহজ হওয়ার কারণে মাদক কারবারিরা মাদক বিক্রিতে হাজীগঞ্জে বেশি সক্রিয়। মেঘনা ও পদ্মার কারণে চাঁদপুরের সাথে দেশের নদীবেষ্টিত জেলাগুলোর যোগাযোগ সহজ হওয়ার কারণে মাদক বিক্রেতারা চাঁদপুরসহ হাজীগঞ্জকে বেছে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে এ রূটে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদকের চালান আটক করতে সমর্থ হয়। বহু আগেই উপজেলার বড় বড় হাটবাজারসহ অজপাড়াগাঁয়ে মাদক বিক্রি আর সেবনের বিস্তৃতি লাভ করেছে। পুলিশ নিয়মিত অভিযানে অজপাড়াগাঁ হতে মাদকসহ আসামী ধরার কারণে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।

উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক মাদক বিক্রির এলাকাসমূহ : স্ব স্ব এলাকার দায়িত্বশীলগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাকিলা ইউনিয়নের বাকিলা-ফকির বাজার সড়কের বাকিলা বাজারস্থ মুসা মার্কেট, মালি বাড়ির সম্মুখস্থ বাগান এলাকা থেকে শুরু করে চৌধুরী বাড়ির রাস্তার মাথা পর্যন্ত বেশ কটি স্পট, চৌধুরী বাড়ির বাগান এলাকা, বাকিলা-মনিহার সড়কের বাকিলা বাজার থেকে রেলপথের আক্তারের কফির দোকান পর্যন্ত, বাকিলা বাজারের স্কুল গেট এলাকা, বাজারস্থ প্রধান সড়কের পাশে রিজিক হোটেল এলাকা, খলাপাড়া প্রধান সড়ক, খালাপাড়া- সিদলা সড়ক, টেকের হাট এলাকা, মিতালী বাজার এলাকা, দেবপুর সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকা। এছাড়া কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর বাজারের রামপুর পশ্চিম বাজার (মিন্টু মিয়ার বাড়ির রাস্তা), ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনের এলাকা, রামপুর বাজার দিঘির দক্ষিণ পাড় ব্রিজ এলাকা, রামপুর বাজারস্থ নওহাটা রাস্তার মাথা, ভাজনাখাল চাঁদপুর মেইন রোড, সিদলা দোকানের নামনে, নওহাটা ফাযিল মাদ্রাসা এলাকা, ওড়পুর মাজার গেট এলাকা, খলিফা বাড়ি সড়ক, ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের বলাখাল-রামচন্দ্রপুর সেতুর পাড়, জাকনি হালিমের দোকান এলাকা, দেবীপুর বাজার এলাকা, চেয়ারম্যান মার্কেট এলাকা, প্রতাপপুর গুদাড়া, সাদ্রা চৌরাস্তা এলাকা, গোবিন্দপুর রামচন্দ্রপুর মধ্যবর্তী এলাকা। ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি হিন্দুপাড়া এলাকা, লক্ষ্মীপুর চৌরাস্তা এলাকা, বেলচোঁ বাজার এলাকা, হাজেরা আলী ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসার সামনের প্রধান সড়ক, ধোয়াগ-া বটতলা (কোন্দ্রা), রায়চোঁ বাজারসহ বিভিন্ন স্পটে মাদক দেদার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার অন্য সকল ইউনিয়নের কোনো না কোনো স্থানে মাদক বিক্রির প্রকাশ্য কিংবা গোপন স্পট রয়েছে, যা থেকে দিনে কিংবা রাতে মাদক বিক্রি হয়ে আসছে।

এছাড়া পৌর এলাকার বলাখাল বাজারের বেশ ক'টি স্পট, মকিমাবাদ, করিমের বাগান এলাকা, টোরাগড় এলাকায় বেশ কটি স্পটসহ পৌর এলাকায় রয়েছে প্রায় ২০/৩০ স্পট। এ সকল স্পট থেকে পুলিশ কোনো না কোনো দিন মাদক বিক্রেতা আর ক্রেতা আটক করছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, মাদকবিরোধী অভিযানসহ এ বিষয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের সভা-সমাবেশ চলমান রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকায় অভিযান চালানো হয়ে থাকে। আর তা থেকে মাদক কারবারি আটকসহ মাদক উদ্ধার করা হয়।

অপর এক প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, মাদক কারবারি কিংবা মাদক বিক্রেতা ধরে আদালতে প্রেরণ করি। আদালত তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করে, কিন্তু তারা জামিনে বেরিয়ে এসে কৌশল পরিবর্তন করে ফের একই পেশায় কিংবা নেশায় জড়িয়ে পড়ে।

করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ১,৭২,১৩৪ ১,২০,১২,১২৫
সুস্থ ৮০,৮৩৮ ৬৫,৬৩,৪৯২
মৃত্যু ২১৯৭ ৫,৪৮,৮৯৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৯৬৩৬
পুরোন সংখ্যা