চাঁদপুর, শনিবার ১৩ জুলাই ২০১৯, ২৯ আষাঢ় ১৪২৬, ৯ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৬। যখন বৃক্ষটি, যদ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,


১৭। তাহার দৃষ্টি বিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।


১৮। সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলি দেখিয়াছিল;


 


 


 


শূন্য ভিক্ষা পাত্রের মতো ভারি জিনিস জগতে আর কিছুই নেই।


-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ছেলেধরা গুজবে কিছু মানুষের উন্মাদনার শিকার হচ্ছে নিরীহ মানুষ
মানসিক রোগী ও পাগল কেউই রেহাই পাচ্ছে না চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জে আটক ৮ উদ্ধার ৩
এএইচএম আহসান উল্লাহ
১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, রক্ত লাগবে' কুচক্রী মহলের এমন জঘন্য কুসংস্কারের অপপ্রচারের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ কুসংস্কারের অপপ্রচারকে পুঁজি করে সেই কুচক্রী মহলের ইঙ্গিতে একটি মহল ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক ছড়াতে মাঠে নেমে গেছে। আর এদের হাতে এখন প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ, রক্তাক্ত হচ্ছে মানুষগুলো। মানসিক রোগী এমনকি পাগলও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমন জঘন্য অমানবিক কাজ চাঁদপুরেও হচ্ছে। তবে প্রশাসন সচেতন থাকায় এখন গুজবে কান দিয়ে যারা নিরীহ মানুষদের পিটাচ্ছে, তাদের আটক করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওইসব মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব রটাচ্ছে, তাদেরও আটক করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। গুজবে কান দিয়ে যারা নিরীহ মানুষদের পিটাচ্ছে, এমন আটজনকে আটক করেছে চাঁদপুর মডেল থানা ও ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সাথে আক্রান্ত দুজনসহ তিনজনকে উদ্ধার করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ । গতকাল শুক্রবার এ বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন।



বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরতলীর গাছতলা এলাকায় মনু মিয়া (৩৮) নামে এক পাগলকে ছেলেধরা সন্দেহে বেদম মারধর করে এলাকার কিছু যুবক। তারপর ছেলেধরা গুজবে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়। কিন্তু কিছু ছেলে কিছু না বুঝেই ওই পাগলটাকে বেদম মারতে থাকে। পরে মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পাগলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। মনু মিয়া নামে ওই পাগলটির মাথা ফেটে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই পাগলকে পেটানোর দায়ে তিন যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরা হচ্ছে : মোঃ সাজ্জাদ গাজী (১৯), পিতা মোঃ সেলিম গাজী, সাং-ইসলামপুর গাছতলা; মোঃ সায়েম ভূঁইয়া (১৯), পিতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, সাং-বাসারা, ফরিদগঞ্জ ও আবু খালেক রতন (২১), পিতা মোখলেছুর হাওলাদার, সাং বাঘড়া বাজার, চাঁদপুর।



একইদিন রাতে চাঁদপুর শহরের শপথ চত্বর এলাকায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন এলাকায় ১৭/১৮ বছরের এক যুবকের সাথে ৮/৯ বছরের মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে দেখে এবং শিশুটিকে তখন কাঁদতে দেখে কিছু মানুষের সন্দেহ হয়। তখন লোকজন শিশুটির কাছে থাকা ওই যুবকের সম্পর্কে জানতে চাইলে সে তাকে চিনে না বলে জানায়। ব্যস, এতেই শুরু হয়ে গেলো ছেলেধরা পাওয়া গেছে। মুহূর্তে শুরু হয়ে গেলো ওই যুবককে মারধর। যুবকটি দেখতেও কিছুটা হাবাগোবা ধরনের। মুহূর্তে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে যায়। সে সময় শপথ চত্বর এলাকায় পুলিশ বঙ্রে কাছে থাকা দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ বঙ্ েনিয়ে যায়। সেখানেও শত শত মানুষ জড়ো হয় এবং পুলিশ বঙ্ থেকে ওই যুবককে ছিনিয়ে আনতে কিছু যুবক উদ্ধত হয়। কিছু কিছু মানুষের আক্রমণাত্মক ভাব এমন ছিল যেনো ওই যুবককে মেরে ফেলতে পারলেই তাদের শাস্তি। এমন অবস্থায় কাছেই টাউন হলের দোতলায় জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী অফিস থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তিনি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়া মডেল থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। পরে ওই শিশু এবং যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সঠিক বিষয়টি জানা গেছে। জানা গেলো যে, উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম আল-আমিন। সে ঢাকায় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে। তার গায়ে মাদ্রাসার মনোগ্রাম খচিত ড্রেস পরা ছিল। তাদের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায়। সে মাদ্রাসা থেকে না বলে চলে এসেছে। চাঁদপুর এসে সে বাড়ি যেতে না পেরে কোর্ট স্টেশনে বসে কান্নাকাটি করছিল। তখন ওই হাবাগোবা ধরনের যুবকটি শিশুটির সাথে কথা বলে এবং তাকে কিছু খাওয়ার জন্যে ২০ টাকাও দেয়। এদিকে শিশুটিকে কান্নাকাটি করতে দেখে এবং সাথে থাকা যুবকটিকে শিশুটি চিনে না বলায় যুবকটিকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ হয়। যুবকটি সম্পর্কে জানা গেছে, তার মানসিক সমস্যা আছে। তার বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শেখ বাড়ি। রাতেই মডেল থানা থেকে উভয়ের অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। রাতে মডেল থানায় আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী । পুরো বিষয়টি তিনি মনিটরিং করেন।



গাছতলা এবং শপথ চত্বর এলাকার পুরো বিষয়টি নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিং করেন অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন। এ সময় পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ ও ইন্সপেক্টর আব্দুর রবও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সাংবাদিকদের সামনে উদ্ধার হওয়া তিনজন এবং আটক হওয়া তিনজনকে হাজির করে। সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা মা এবং হাবাগোবা যুবকটির মা, চাচা ও ছোট ভাই। শিশু আল-আমিনের পিতা রৌশন আলী সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা গ্রামে। তারা ঢাকা থাকেন। ছেলে আল-আমিন ঢাকা মোহাম্মদপুর কাটাশুর এলাকায় তালিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়ছে। সে বৃহস্পতিবার সকালে কাউকে কিছু না বলে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পেরে বিভিন্ন জায়গায় ছেলের খোঁজ করেন এবং মাইকিংও করেন। রাতে ছেলের সন্ধানের খবর পেয়ে চাঁদপুর থানায় আসেন।



ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির হাত থেকে উদ্ধার হওয়া যুবকটির নাম হচ্ছে সাখাওয়াত হোসেন, বয়স ১৭। তাকে নিতে আসা তার ছোট ভাই নূর মোহাম্মদ ও চাচা মুনসুর আহমেদ জানান, তাদের বাড়ি রঘুনাথপুর শেখ বাড়ি। সাখাওয়াতের বাবা মালয়েশিয়া থাকেন। সাখাওয়াত মাদ্রাসায় পড়ত। এক সময় তার মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। পরে আর পড়াশোনা করে নি। প্রায়ই বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়। অনেকদিন নিখোঁজ থাকে। পরে খোঁজ করে আনা হয়। বৃহস্পতিবারও সে আগের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাতে আমরা ঘটনা শুনলাম।



মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্যে ওই কুসংস্কার ও গুজব রটাচ্ছে কুচক্রী মহলটি। জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে নিকটস্থ থানায় খবর দিন।



এদিকে ফরিদগঞ্জ থানায় আটক হওয়া ৫ জন হচ্ছে : নারিকেলতলা গ্রামের পালের বাড়ির শহীদুল্লাহর ছেলে সুমন (২৮), সেকান্তরের ছেলে জলিল (৫০), একই গ্রামের ইউসুফ (৩০), ইব্রাহিম (২৮) ও জসিম (২০)।



এদেরকে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামে মাহমুদা বেগম নামে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধা মানসিক রোগীকে অতি উৎসাহী কিছু মানুষ ছেলেধরা সন্দেহে বেদম প্রহার করলে মাহমুদা বেগমের ছেলের দায়ের করা মামলার আসামী হিসেবে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৪০০১
পুরোন সংখ্যা