চাঁদপুর, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • এক কিংবদন্তীর প্রস্থান চাঁদপুরবাসী শোকাহত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৩। তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া লয় ;


৩৪। এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?


৩৫। তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কর্তৃক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


ফটো গ্যালারি
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের ৩নং ওয়ার্ডের হালচাল
২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আবার প্রার্থী হবেন বর্তমান কাউন্সিলর আঃ লতিফ গাজী, এবার দলের সমর্থন আশা করেন গাজী মোঃ হাসান, নয়নের প্রার্থী হবার সম্ভাবনা, এলাকার জনগণ বললে প্রার্থী হবেন মজিব, আগের মত নির্বাচন হলে প্রার্থী হবেন না শহিদুল ইসলাম মুক্কু



মিজানুর রহমান সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর কয়েকমাস পরই অনুষ্ঠিত হবে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত প্রাচীন চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে চাঁদপুর পৌরসভা গঠিত। এর মধ্যে ১ জন মেয়র, ১৫ জন কাউন্সিলর ও ৫ জন মহিলা কাউন্সিলর রয়েছেন। সকলেই পৌর নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত। আগামী পৌর নির্বাচনে এ সকল কাউন্সিলর তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্যে পুনরায় পৌর নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। যারা গত নির্বাচনে হেরে গেছেন এবং আরো যারা প্রার্থী হতে আগ্রহী আগামী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রতিনিধি তাদের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া কথা বলেছেন ৩নং ওয়ার্ডের সচেতন মানুষের সাথে।



চাঁদপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। এটি এক সময় চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১ নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত ছিল। চাঁদপুর পৌর এলাকাকে সমপ্রসারণ করা হলে পূর্ব জাফরাবাদ, পালপাড়াসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে ৩ নং ওয়ার্ড গঠিত হয়।



পুরাণবাজারের নাপিত বাড়ি খালের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়, লোহারপুল দক্ষিণ, আমজাদ আলী সড়কের পশ্চিম এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ডটি। এখান দিয়েই চলে গেছে পুরাণবাজার-বহরিয়া-হরিনা-চান্দ্রা-হাইমচর সড়ক। হালনাগাদসহ ভোটার প্রায় সাড়ে ৮ হাজার। জাফরাবাদ হাফিজিয়া মাদ্রাসা, নূরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পালপাড়া মন্দির ও আলোচিত দাসপাড়া দুর্গা মন্দির ও চাঁদপুর উদয়ন কচিকাঁচার মেলা এ ওয়ার্ডেই অবস্থিত। সাবেক কমিশনার মরহুম আঃ মতিন বেপারী, আঃ ছোবহান বেপারী, বঙ্গবন্ধুর সহচর সামছুল হক সাম গাজী এ ওয়ার্ডের।



আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো ভাবনা বা আগ্রহ নেই এখানকার জনগণের। বিভিন্ন পেশার এবং সচেতন ওয়ার্ডবাসীর সাথে নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাইলে অনেকেই সাড়া দেননি। তারা বলেন, নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আগে তৈরি হোক তারপর বলার সময় আছে।



কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আঃ লতিফ গাজী বিপুল ভোটে দুই দুই বার নির্বাচিত হন। তিনি জানান, আমি কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়ে এ ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমার ওয়ার্ডে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় আরসিসি ঢালাই রাস্তা ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্যে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করেছি। পানির সমস্যা নেই। মেইন রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, পালপাড়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংযোগ রাস্তার খালের ওপরসহ তিনটি ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। তাজু হাজীর মিলের সামনের ব্রিজটিও সংস্কার করা হয়। পালপাড়া রাস্তায় বাতির লাইন ছিল না সেখানে বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনো বাড়ি বাড়ি কিছু রাস্তা ও ড্রেনের কাজ বাকি আছে। এলাকাকে মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।



লতিফ গাজী আরো বলেন, আমার রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করা। গত ১৪ বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে শতভাগ আত্মতৃপ্তি নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, ইনশাল্লাহ নির্বাচন করবো।



সামনের নির্বাচন ও এলাকার সমস্যা এবং প্রার্থী হিসেবে কাদের নাম শুনছেন এ বিষয়ে ওয়ার্ডের বিশিষ্টজন, ভোটার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা হয়। দাসপাড়া নিবাসী আবু নাইম পাটওয়ারী নয়ন (স্টার আলকায়েদ জুট মিলের শ্রমিক মজুরি কর্মকর্তা) জানান, জনগণ এখন অনেক সচেতন। নির্বাচন আসলে এলাকার উন্নয়নে যার প্রতি বেশি আস্থা থাকবে তাকে নিয়ে চিন্তা করবে। বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলর আমাদের এলাকায় অনেক কাজ করেছেন। আরো যে সব সমস্যা আছে সেগুলোর কাজ করা দরকার।



পাটওয়ারী পুল সাম গাজী সড়ক এলাকার বাসিন্দা মফিজ ঢালী জানান, গাজী মোঃ হাসান ও আঃ লতিফ গাজী এ দুজন আমাদের ওয়ার্ডের শক্তিশালী প্রার্থী। ভোটের সময় এলে ব্যক্তির ইমেজ ও দলের সমর্থন যার পক্ষে যাবে সে এগিয়ে যাবে। লোহারপুল মতি সল্ট বেপারী বাড়ি সড়কের বাসিন্দা ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন তাফু জানান, আমাদের এলাকায় রাস্তা, ড্রেন ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে। এখনো এলাকার রাস্তাটি পাকাকরণ করা হয়নি। রাস্তার উপর পানির চেম্বারটি দীর্ঘদিন ঢাকনাবিহীন রয়েছে। প্রতিদিনই মানুষ আহত হচ্ছে। উন্নয়নে যিনি বেশি বেশি কাজ করতে পারবেন এলাকাবাসী তাকে মনে রাখবে।



লোহারপুল প্রভাতী মার্কেটের সামনে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক চাল ব্যবসায়ী হেলাল ভূঁইয়া জানান, ভোটেরইতো খবর নাই। লতিফ গাজী ও হাসান গাজীর নামই বেশি শুনছি, তারা নির্বাচন করবেন। বিএনপির কেউ নির্বাচন করবেন কিনা আপাতত নাম গন্ধ নেই। ছৈয়াল বাড়ির বাসিন্দা সেলিম ছৈয়াল জানান, পৌর নির্বাচনের জন্য আমাগো ওয়ার্ডে কেবল আওয়ামী লীগের দুই গাজীর নাম শুনছি। গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মুক্কু ছৈয়াল ও মজিবুল হক মজিব চুপচাপ আছেন, তারা আওয়াজ করছেন না।



এ ওয়ার্ডের ফেভারিট সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী গাজী মোঃ হাসান জানান, জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। যিনি কাউন্সিলর আছেন, তিনিও কাজ করছেন। জনগণ যাকে চাইবে সে হবে। এবার দলের সমর্থন আশা করেন গাজী মোঃ হাসান। তিনি বলেন, ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তার আগে ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আমার বাবা সাম গাজী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সহচর ছিলেন। তৎকালীন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম কাশেম চৌধুরীর সাথে সবসময় ছিলেন। তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এলাকার মানুষের জন্যে রাজনীতি করেছেন।



হাসান গাজী আরো জানান, দলের সিদ্ধান্তে গত নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। এবার এলাকার উন্নয়নের জন্যে প্রার্থী হবো।



মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ফরিদ নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, এলাকার রাস্তাঘাটসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, এলাকাবাসীর আশানুরূপ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এলাকার যুবসমাজকে সাথে নিয়ে ৩নং ওয়ার্ডকে পৌরসভার মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করার জন্যেই আমি পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী।



গত নির্বাচনের এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী, চাঁদপুর পৌর বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম মুক্কু জানান, জনগণের ভোট দেয়ার পরিবেশ বিদ্যমান থাকলে ভেবে দেখবো। আগের মত নির্বাচন হলে নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না।



একই দলের আরেক প্রার্থী মোঃ মজিবুল হক মজিব। তিনি এ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মজিব বলেন, আমার এলাকার জনগণ যদি বলে, নির্বাচনে দাঁড়াব। আর যদি বলে দাঁড়াতে না, তাহলে প্রার্থী হবো না।



এ ছাড়া যুবলীগ নেতা আবুল হাসানাত নয়ন, সাবেক কমিশনার আঃ ছোবহান বেপারীর ছেলে হারুন বেপারীও এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী।



সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, ৩ নং ওয়ার্ডে ব্যক্তির ইমেজ, আত্মীয় স্বজন ও গোষ্ঠীর ভোটের সংখ্যা যার বেশি, রাজনৈতিক দলের প্রভাব যার পক্ষে থাকবে, সে-ই নির্বাচনে বেরিয়ে আসবে।



উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে আঃ লতিফ গাজী, মজিবুল হক মজিব ও শহিদুল ইসলাম মুক্কু ছৈয়াল এ তিন প্রার্থীর মধ্য ত্রিমুখী লড়াই হয়। সেই নির্বাচনে আঃ লতিফ গাজী জয়ী হয়।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫৯৭২৯
পুরোন সংখ্যা