চাঁদপুর, রোববার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • অনিবার্য কারণে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আজকের চাঁদপুর সফর স্থগিত করা হয়েছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০৫। আকাশম-লী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই এবং আল্লাহরই দিকে সমস্ত বিষয় প্রত্যাবর্তিত হইবে।


০৬। তিনিই রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসে এবং দিবসকে প্রবেশ করান রাত্রিতে এবং তিনি অন্তর্যামী।


 


 


 


assets/data_files/web

মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে আমি নিজের অভিভাবক। -নিকেলাস রান্ড।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে স্বামীর পলায়ন
স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
শওকত আলী
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর পৌর ১৩নং ওয়ার্ড ওয়্যারলেছ এলাকায় তানজিনা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে খুন করা হয়েছে। তানজিলা বিউটিশিয়ান ছিলেন এবং ওয়্যারলেস বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। এ ব্যাপারে নিহত তানজিনার পিতা মুনাফ মুন্সী বাদী হয়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে চাঁদপুর মডেল থানায় গতকাল শনিবার দুপুরে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার বিকেলে নিহত তানজিনার লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় তানজিনাকে মৃত অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বামী। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তানজিনাকে রেখেই স্বামী জুয়েল খান পালিয়ে যায়।



হত্যার বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, লাশের সুরতহালসহ প্রাথমিক ধারণায় বুঝা যাচ্ছে তানজিনাকে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় নখের অাঁচড়সহ দাগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।



এ ব্যাপারে নিহত তানজিনার পিতা মোঃ মুনাফ মুন্সি জানান, ৪ বছর আগে তার মেয়ে তানজিনাকে চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচ-ী ইউনিয়নের তেতুলতলা সংলগ্ন সফদার খান বাড়ির মোঃ নুরু খানের ছেলে জুয়েল খানের সাথে বিবাহ দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে জুয়েল খান যৌতুকের জন্যে আমার মেয়েকে প্রতিনিয়তই মারধর করত। যার ফলে আমরা জুয়েল খান ও তার বাবা নূরু খানের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় জুয়েল খান ও তার পিতা নূরু খান চাঁদপুর জেল হাজতে ছিল। ২ মাস আগে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে। জামিনে বের হওয়ার পর জুয়েল খান আদালতের মাধ্যমে আমার মেয়ে তানজিনাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে ওয়্যারলেস এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করে।



মুনাফ মুন্সি আরো জানান, গত ১ সপ্তাহ পূর্বে জুয়েল খান অন্য এক মেয়েকে গোপনে বিয়ে করে। ওই বিয়ের পর থেকে তানজিনার উপর সে আরও অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। এই নির্যাতনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় তানজিনাকে জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজন হত্যা করে তার লাশ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।



চাঁদপুর সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, তানজিনা বেগমের স্বামী জুয়েল খান প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্যে তাকে মারধর করতো। এমন একটি যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা জুয়েলের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতেও চলমান রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এই যৌতুকের মামলা তুলে নিতেই জুয়েল খান ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী তানজিনাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। তবে আমরা তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের ওই সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকেই জানতে পারবো তানজিনাকে কে বা কারা হাসপাতালে এনে রেখে গিয়েছিলো।



স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন পূর্বে তানজিনা বেগম তার স্বামী পরিচয়ে জুয়েল খানকে নিয়ে পৌর ১৩নং ওয়ার্ডে আসে। সেখানে ওয়্যারলেস বাজারস্থ টিএন্ডটি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারিছ বেপারীর ৪ তলা ভবনের নিচতলা তারা ভাড়া নেয়। সেখানেই তানজিনা নিজের নামে একটি বিউটি পার্লার খুলে ব্যবসা শুরু করে।



এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, তানজিনা হত্যার রহস্য উদঘাটনে প্রাথমিকভাবে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আমরা আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। শনিবার বিকেলে তানজিনার ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।



সবশেষে তানজিনার বাবার বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের বালিথুবা গ্রামের মুনাফ মুন্সি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে ৪ বছরের সংসার জীবনে তানজিনার কোনো সন্তানাদি ছিল না। এই হত্যাকা-ের পর থেকে ঘাতক জুয়েল খানের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪১৩৭৯
পুরোন সংখ্যা