চাঁদপুর, বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • অনিবার্য কারণে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আজকের চাঁদপুর সফর স্থগিত করা হয়েছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছেন ইউএইচএফপিও ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম শিপন
এমরান হোসেন লিটন
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েএ মুহূর্তে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। এটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। দ্বারে দ্বারে ঘুরে এবং সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার কাছে বারবার অনেক ধর্ণা দিয়ে যিনি এ কাজ উদ্ধার করে এনেছেন তিনি হলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান তথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম শিপন। অত্যন্ত সদালাপী, মিষ্টভাষী ও কঠোর পরিশ্রমী ডঃ জাহাঙ্গীর আলম শিপনের সাথে এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার।



ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম শিপন জানান, ২০১৫ সালের জুন মাসের ২৯ তারিখ তিনি ফরিদগঞ্জে যোগদান করেন। যোগদান করে তিনি দেখতে পান ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ ভবনে জনগণকে সেবাদানের জন্যে পরিপূর্ণ কিছুই নাই। তিনি বলেন, তখন এসে দেখি হাসপাতাল পরিচালনার মতো পরিপূর্ণ কোনো ভবন নেই। একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা ছিলো সম্পূর্ণ নষ্ট। এঙ্-রে মেশিন, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম থাকলেও সবই ছিলো অকেজো। সাথে সাথেই আমি তৎকালীন এমপি মহোদয় ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূঁইয়ার শরণাপন্ন হই এবং হাসপাতালটির করুণ অবস্থা তাঁর কাছে তুলে ধরি। পরে আমাদের দুজনার চেষ্টায় অত্যাধুনিক মডেলের একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং এঙ্-রে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন আনি। বর্তমানে কাজ চলমান আধুনিক মডেলের এই ভবনের ব্যবস্থা করি।



তিনি আরো জানান, চার বছর আগে এখানে এসে দেখি ইউএইচএফপিও এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও নার্সদের থাকার কোনো সুব্যবস্থা নেই। বর্তমান চলমান কাজের সাথে তাদের থাকার জন্যে আধুনিক মডেলে আবাসনের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে।



তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর আধুনিকায়নে ব্যাপক কাজ করেছি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া, সোলার সংযোগ দেয়া, পানির ব্যবস্থা করা, নিয়মিতভাবে ওষুধ পেঁৗছে দেয়া এবং নরমাল ডেলিভারিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে যেনো কোনো রকম সমস্যা না হয় সেদিক প্রতিনিয়ত দৃষ্টি দেয়া। আমি আসার আগে এ সুবিধাগুলো ছিলো কি না সেটা আপনারা সাংবাদিকরাই ভালো জানেন বলে তিনি বলেন।



তিনি আরো বলেন, ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নের আষ্টাবাজারে আমাদের একটি জরাজীর্ণ উপ-স্বাস্থ্য ক্লিনিক ছিলো এবং পিরোজপুরে ছিলো একটি। কড়ৈতলীবাজারের একটিসহ মোট তিনটি পাকা ভবনের ব্যবস্থা করি। যার মধ্যে কড়ৈতলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটির কাজ শেষ হয়েছে আরো আগেই। আষ্টা বাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটির কাজ বর্তমানে চলমান আছে। পিরোজপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের জন্যে কাজের টেন্ডার হয়েছে। যে কোনো সময় কাজ শুরু হতে পারে।



তিনি জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে মোট সম্পত্তি ৫ একর। যার চতুর্দিকে কোনো বাউন্ডারি দেয়াল ছিলো না। সেটাও আমার দৃষ্টিতে আসলে তা আমি তৎকালীন এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে মঞ্জুর করাই এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আড়াই একর পুকুরের গাইডওয়াল করা জরুরি ছিলো। সেই গাইডওয়ালসহ চতুর্দিকের বাউন্ডারি ওয়াল বর্তমান কাজের সাথে চলমান আছে।



তিনি আরো জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েযে বিদ্যুৎ লাইন ছিলো, তা ছিলো লোকাল লাইন। তাই হাসপাতালে সেবা দিতে খুব সমস্যা হতো। তিনি আসার পর চেষ্টা-তদবির করে সে লোকাল লাইন বাদ দিয়ে হাসপাতালে সরাসরি লাইনের ব্যবস্থা করা হয়। যার কারণে বর্তমানে হাসপাতালটিতে কোনো লোডশেডিং হয় না।



এছাড়া এ হাসপাতালে নিম্নমানের সেবা দেয়া হয় মনে করে একসময় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধনাঢ্য ব্যক্তিসহ উপজেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ হাসপাতালে সেবা নিতে আসতেন না। কিন্তু বর্তমানে উন্নত সেবা প্রদানের কারণে ইউএনও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সবাই এখানে চিকিৎসাসেবা নেন।



এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হাসপাতালটি একসময় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ছিলো। পরে তা ৫০ শয্যায় অনুমোদিত হয়। ৫০ শয্যায় অনুমোদিত হলেও বর্তমানে আমরা ৩১ শয্যারই খরচ পাই এবং পঞ্চাশের স্থলে ৩১ জনের বেড সেট থাকলেও প্রতিনিয়তই এখানে ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। যাদের ভরণ-পোষণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলমান ভবনগুলোর কাজ শেষ হলে সবকিছুই নিয়মের মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি আশা করেন।



এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা একটি উন্নত এলাকা। তাই এখানকার মানুষের মন-মানসিকতা খুব ভালো। গত চার বছর এখানকার মানুষের সাথে খুব সুন্দরভাবে দিন কাটিয়েছি। ভবিষ্যতে কখনো সুযোগ পেলে ফরিদগঞ্জের মানুষের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করবো।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৮৬৫৮
পুরোন সংখ্যা