চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০৫। আকাশম-লী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই এবং আল্লাহরই দিকে সমস্ত বিষয় প্রত্যাবর্তিত হইবে।


০৬। তিনিই রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসে এবং দিবসকে প্রবেশ করান রাত্রিতে এবং তিনি অন্তর্যামী।


 


 


 


মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে আমি নিজের অভিভাবক। -নিকেলাস রান্ড।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
৯ মাসের বেতন না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকগণ!
ফরিদগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এ আর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করবে কে?
এমকে মানিক পাঠান
২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বকেয়া ৯ মাসের বেতন না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষের ভেতের রেখে তালা মেরেছেন বেতন বঞ্চিত শিক্ষকরা। শুধু তাই নয়, স্কুল প্রাঙ্গণেই মাইকিং করে ওই দিনের শিক্ষার্থীদের চলমান টেস্ট পরীক্ষা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়। এ খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী রেজা আশরাফী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে। তবে শর্তসাপেক্ষে ওই তালা খুলে নেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিকেলে পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় বলাবলি হচ্ছে যে, দীর্ঘ বছরের ফরিদগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য মূলত রক্ষা করবে কে? তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল বলছেন, পরিকল্পিতভাবে স্কুলে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করতে চেষ্টা করেছে ২জন শিক্ষক।



প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, স্কুলটির শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বেতন পাচ্ছে না। গত ক'মাস আগে শিক্ষকরা তাদের কোচিং ফি ও বেতনের টাকা না পাওয়ায় দিন দিন প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ওই কোচিং ফির টাকা না পেয়ে প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজলের বিরুদ্ধে গত ক'মাস আগে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও অভিযোগ দিয়েছিলেন। একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, সাবেক এমপি ড. শামছুল হক ভূঁইয়া উক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে সাবেক ওই এমপি এবং প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিনের মধ্যে রাজনীতিক সম্পর্ক গভীর থাকায় কেউ হয়রানির ভয়ে প্রকাশ্যে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায়নি।



স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১২শ'। এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন ১৯ জন এবং এমপিওবিহীন অর্থাৎ অস্থায়ী শিক্ষক রয়েছে ১২ জন। মোট ৩১ জনের প্রতিমাসের প্রাতিষ্ঠানিক বেতন প্রায় এক লাখ টাকা।



গতকাল সোমবার দুপুরে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর টেস্ট পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে হাছান গাজী ও জাকির পাটওয়ারী নামে দু শিক্ষক শিক্ষকদের পক্ষে তাদের স্কুলের প্রাতিষ্ঠাানিক বেতন চান। এ বেতন না পেয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের রুমে প্রবেশের কলাপসিবল গেইটে তালা মেরে দেন। এ নিয়ে স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকের মধ্যে বাকবিত-া শুরু হলে ওই স্কুলের খ-কালীন অস্থায়ী শিক্ষক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুবুর আলম সোহাগ প্রধান শিক্ষকের পক্ষ হয়ে শিক্ষক হাছান গাজীর সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে দু' জনের মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়।



এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক হাছান গাজী বলেন, আমরা শিক্ষকরা স্কুল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বেতন পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক তার স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার বলে শিক্ষকদের প্রাপ্য বেতন থেকে বঞ্চিত করে আসছেন। শুধু তাই নয়, এই স্কুলেরই একজন অস্থায়ী শিক্ষক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুুবুল আলম সোহাগ ও প্রধান শিক্ষক (উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি) রফিকুল আমিন কাজল দু'জনে তাদের ক্ষমতার দাপটে সকল শিক্ষককে বিভিন্ন অধিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে আসছেন। মাহাবুব আলম সোহাগ আমাকে মারার প্রস্তুতি নিতে দেখে আমি সাথে সাথে ইউএনও এবং থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে জানাই। তিনি আরো বলেন, আমরা দফায় দফায় প্রধান শিক্ষক সাহেবের সাথে বসেছি। বারবার তিনি আমাদের বেতন দেই, দিবো, দিচ্ছি বলে বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন। গত কোরবানি ঈদের পূর্বে তিনি আমাদের শর্ত সাপেক্ষে ৬ মাসের ১৫ শতাংশ বেতন দেন। ঈদের পর আমাদের বাকি ৮৫ শতাংশ বেতন পরিশোধ করবেন এমন সিদ্ধান্তে ভিত্তিতে টাকা গ্রহণ করি। ঈদের পর সেই টাকাতো দেনইনি বরং তারপর আরও তিন মাসের টাকা বকেয়া হয়ে আছে। আমরা বর্তমানে স্কুল অংশের ৯ মাসের বেতন পাই অথচ প্রধান শিক্ষক পত্রিকায় মিথ্যা প্রতিবাদ দিয়ে বলেন, আমাদেরকে নাকি সকল টাকা যথানিয়মে দেয়া হয়েছে।



স্কুলটিতে দীর্ঘ দিনের শিক্ষক জাকির পাটওয়ারী বলেন, আমাদের ৯ মাসের বকেয়া বেতন না দেয়ায় প্রধান শিক্ষকের রুমে তালা দিতে বাধ্য হয়েছি। এতে সকল শিক্ষক একমত হলেও হয়রানি কিংবা চাকুরি হারোনোর ভয়ে প্রকাশ্যে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমি রোববার প্রধান শিক্ষক মহোদয়কে সকল শিক্ষকের পক্ষ থেকে বেতনের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেই। আজ সোমবার বেতন দেয়ার কথা থাকলেও তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে তার অফিসে ডেকে আমার নিজের বেতনের সকল টাকা দিয়ে দিয়ে আমাকে ম্যানেজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলেছিলাম, স্কুলের বাকি ৩৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে প্রতারণা করে আমি এই বেঈমানি করতে পারি না। আপনি সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দিন। এতে তিনি দ্বিমত পোষণ করলে আমরা পরীক্ষা বর্জন ও আজকের মধ্যে বেতন দেয়ার জন্যে এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য তাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করি।



খ-কালীন শিক্ষক মাহাবুবুল আলম সোহাগ তার বিরুদ্ধে হাছান গাজীর অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা বন্ধ করার ঘোষণা দেয় এই শিক্ষক। স্কুলে বেআইনীভাবে এমন ঘোষণার কারণ জানতে গেলে হাছান গাজী আমার সাথে তর্কে ঝড়িয়ে এক পর্যায়ে সে আমার গায়ে হাত তুলেছে।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়জন শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল তার স্বীয় স্বার্থ উদ্ধার হিসেবে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে শিক্ষকদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করেই আসছেন। শুধু তাই নয়, এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে স্কুলটির আয়-ব্যয় সম্পর্কিত কোনো সঠিক তথ্য কাউকে জানান নি। স্কুলের নানাবিধ উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ ও স্কুলের অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।



এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে স্কুলের ছুটি শেষে রফিকুল আমিন কাজলের কক্ষে উপস্থিত হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, স্কুলের প্রাতিষ্ঠিানিক বেতন দিতে শিক্ষকের সাথে আজ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক হাছান গাজী ও জাকির পাটওয়ারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অন্যান্য শিক্ষকদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। আমি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে উক্ত বিষয়টি জানিয়েছি।



স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মমতা আফরিন বলেন, উক্ত বিষয়টি জেনে আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও পুলিশ পাঠিয়েছি স্কুলে। তবে শিক্ষকদের বেতনের বিষয়টি সুরাহা করতে হলে ১৫দিন সময় লাগবে। তারপরও আমি আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে তাদের প্রাপ্য বেতনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। প্রধান শিক্ষকের সাময়িক প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচ্য বিষয়। তাঁরা যদি মনে করেন স্কুলের শৃঙ্খলার স্বার্থে তা করা উচিত তবে অবশ্যই করবেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে ইতঃমধ্যে জেলা হতে পৃথক ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ করা হয়েছে। শীঘ্রই হয়তো এর দৃশ্যমান তদন্ত শুরু হবে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৩৮৩৪
পুরোন সংখ্যা