চাঁদপুর, বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


০৭। তোমরা আল্লাহ ও তাহার রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে যাহা কিছুর উত্তরাধিকারী করিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় কর। তোমাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনে ও ব্যয় করে, তাহাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।


 


 


মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে আমি নিজের অভিভাবক। -নিকেলাস রান্ড।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল প্রায়
অচলাবস্থা কাটাতে প্রধান শিক্ষকের প্রত্যাহার চায় অভিভাবকরা
বিশেষ প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দীর্ঘ ৯ মাস স্কুল অংশের বেতন না পাওয়ায় পাঠদানে উদাসীন ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। সনদপত্র জালিয়াতি, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়, অবৈধ নিয়োগসহ নানা অভিযোগের খড়গ প্রধান শিক্ষকের মাথার উপর। তাই স্কুল কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়তই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল। অচলাবস্থা কাটাতে প্রধান শিক্ষকের প্রত্যাহার চান স্কুলের অভাভাবকরা।



চাঁদপুর জেলার সদ্য সরকারিকরণ হওয়া সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারিগণ প্রতি মাসে পূর্বের নিয়মে বেতন-ভাতা ভোগ করলেও শুধুমাত্র ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাই স্কুল অংশের বেতন পাচ্ছেন না দীর্ঘ ৯ মাস। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের অসংখ্যবার বেতন প্রদানের তারিখ ঘোষণা করেও বেতন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সবশেষ গত ঈদ-উল আযহার পূর্বে শিক্ষকদের চাপের মুখে পড়ে পূর্ববর্তী ৬ মাসের মাত্র ১৫ শতাংশ বেতন দিতে রাজি হন প্রধান শিক্ষক। ঈদের পরই বাকি ৮৫ শতাংশ বেতন পাবেন এমন শর্তে শিক্ষকরা ১৫ শতাংশ বেতন গ্রহণ করেন। অথচ ঈদের পর বকেয়া হয়েছে আরও তিন মাসের বেতন! সব মিলিয়ে শিক্ষকরা এখন ৯ মাসের বেতন পান প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে। প্রতিনিয়তই এ নিয়ে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছেই। দীর্ঘদিনের সেই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় গত রোববার স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। এ সময় তারা চলমান ১০ম ও ৮ম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার এসে শিক্ষকদের সকল বকেয়া বেতন প্রদানের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।



এ বিষয়ে স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক অভিভাবক বলেন, যেহেতু আমার ছেলেটি ঐ স্কুল থেকে পরীক্ষা দিবে। তাই নাম প্রকাশ করছি না। আমি মনে করি শিক্ষকদের ৯ মাসের বেতন যে প্রধান শিক্ষক দিতে ব্যর্থ তিনি স্কুল প্রশাসন চালাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। যেহেতু তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি সহ দুর্নীতি ও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাই স্কুলের বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে হলেও প্রত্যাহার করা হোক।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০ম শ্রেণির অপর এক অভিভাবক বলেন, আমি বুঝি না, এত অনিয়মের অভিযোগ যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিনি আবার শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে দাঁড়ান কোন্ মুখ নিয়ে? স্কুলের শৃঙ্খলার স্বার্থে বহু আগেই প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ করা উচিত ছিলো। যেহেতু তিনি নির্লজ্জের মত তার পদে বহাল আছেন তাই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি আগামী জেএসসি পরীক্ষার পূর্বেই স্কুল চালাতে অক্ষম ও দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহার করে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হোক।



ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠটি ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ছে। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসার কারণে তিনি নিয়মিত স্কুলের নির্ধারিত ক্লাসও নিতে পারছেন না। স্কুলের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী তিনি ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রথম ঘণ্টা গণিত নেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার পূর্বে গত প্রায় এক মাস ধরে তাদের গণিত ঘণ্টা নিয়েছে স্কুলের নতুন এক খ-কালীন শিক্ষক। মনিটরিংয়ের অভাবে স্কুলের অন্যান্য ক্লাসও ঠিকমত হচ্ছে না। এমতাবস্থায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্কুলের সকল অভিভাবক। তাদের দাবি, অচিরেই এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু সমাধান আসবে। একজন প্রধান শিক্ষকের জন্যে স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এভাবে ভেঙ্গে পড়বে তা কোনোভাবেই কাম্য নয় স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০০৯১৯৬
পুরোন সংখ্যা