চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৬। আমি নূহ এবং ইব্রাহিমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং আমি তাহাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করিয়াছিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব, কিন্তু উহাদের অল্পই সৎপথ অবলম্বন করিয়াছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।


 


 


অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুলে'র ছোবলে চাঁদপুরের চার উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
এএইচএম আহসান উল্লাহ/মিজানুর রহমান/আব্দুর রহমান গাজী
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'র ছোবলে চাঁদপুর জেলার চারটি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে হাইমচর উপজেলাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এ উপজেলা এখনো বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় আছে। গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে কয়েকশ' ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় অনেক ঘরবাড়ির চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে এবং ঝড়ের তীব্রতায় পুরো গাছ ও গাছের বড় বড় কাণ্ড ভেঙ্গে গিয়ে ঘরবাড়ির উপর গিয়ে পড়েছে, বিদ্যুতের তারের উপর গিয়ে পড়েছে। বেশকিছু আশ্রয়কেন্দ্রের ঘরের চালাও উড়ে গেছে। গুচ্ছগ্রামের ২৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিধ্বস্ত হওয়া ঘরবাড়ির সংখ্যা হবে চার শতাধিক। এছাড়া বিদ্যুতের বেশ কিছু খুঁটিও পড়ে গেছে। যার কারণে গতকাল পর্যন্ত হাইমচরে বিদ্যুত সঞ্চালন স্বাভাবিক করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।



ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'র প্রভাবে চাঁদপুরে শনিবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও শনিবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে শুরু হয় বিরামহীন বৃষ্টি। রোববার সারাদিন বৃষ্টি হতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হানা দেয় ঘূর্ণিঝড়। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের গতি আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। প্রায় আধঘন্টার মতো প্রবলবেগে ঝড় বইতে থাকে। এই সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।



হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসি বেগম জানান, প্রচণ্ড বাতাসে হাইমচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে হাওলাদারকান্দিতে ৩৮টিসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ঈশানবালা, মনিরপুরচর, গাজীপুর, নীলকমল, মাঝির বাজার, সাহেবগঞ্জ, চরকোড়ালিয়া, মাঝেরচর ও নতুন চরে ৫ শতাধিক কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সড়কে বহুগাছ ভেঙ্গে পড়ে। এসব গাছ তাৎক্ষণিক চাঁদপুর ও হাইমচর ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় কেটে অপসারণ করা হয়েছে।



সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী জানান, সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া থাকলেও বিকেল ৩টার পরে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে গোয়ালনগর ও বলিয়ার চরে বহু কাঁচা ও অস্থায়ীভাবে উঠানে ঘর ভেঙ্গে পড়েছে এবং এসব ঘরের টিনের চাল ও বেড়া বাতাসে উড়ে নদীতে গিয়ে পড়ে। তবে তাঁর ইউনিয়নে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।



ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী কাশেম খান জানান, ঝড়ে ওই ইউনিয়নের চরফতেজংপুর, হিন্দুলী, ইব্রাহীমপুর, চরমুকুন্দি, নরহারদিসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩০টির মতো বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য গোয়ালঘর, গাছপালা এবং ফসলি জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে।



সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মেম্বার মোঃ হোসেন গাজী জানান, এই ইউনিয়নে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে বেশকিছু এলাকায় গাছপালা ভেঙ্গে গেছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।



হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনা আব্দুস ছাত্তার রাঢ়ী বলেন, এই ইউনিয়নের প্রায় ৫০টির মতো বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশকিছু চাষকৃত পুকুরের মাছ নষ্ট হয়েছে। সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, চাঁদপুর সিআইপি বেড়িবাঁধের সড়কে, বিদ্যালয়ে ও ঘরবাড়িতে শতাধিক গাছ ভেঙ্গে উপড়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন এসব গাছ কেটে সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়েছে। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগিতেও বহু গাছ ভেঙ্গে পড়েছে।



এদিকে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮ থেকে ১০টি বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। পুরাণবাজার নিতাইগঞ্জ পানগোলা এলাকায় বড় ৪টি চামরুল গাছ উপড়ে পড়ে ২টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিতাইগঞ্জ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মানিক দাস, রাজিব দেবনাথ ও দুলাল বেপারী জানান। এছাড়াও পশ্চিম শ্রীরামদী বুদাই বেপারী বাড়ির রাস্তার পাশের ৪টি গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। শহরের গুয়াখোলা ও কোড়ালিয়া রোডে গাছের ডাল ভেঙ্গে বিদ্যুৎ তারের উপরে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ তার ছিড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।



চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বহু গাছপালা বিদ্যুতের তারের উপর পড়েছে। এসব গাছপালা কেটে অপসারণ করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের জাতীয় গ্রীডে মেরামতের কাজ করার কারণে পালাক্রমে কিছু সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিলো।



জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান জানান, বিধ্বস্ত বাড়িঘর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।



চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এই ঘূর্ণিঝড়ে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, হাজীগঞ্জ ও মতলব উত্তরে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাইমচর উপজেলায়। এ উপজেলার গাজীপুর, নীলকমল ও হাইমচর উপজেলায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর, হানারচর, ইব্রাহিমপুর ও চান্দ্রা ইউনিয়ন, হাইমচরের গাজীপুর, আলগী উত্তর, আলগী দক্ষিণ, নীলকমল, হাইমচর ও চরভৈরবী ইউনিয়ন, হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়ন ও হাজীগঞ্জ পৌরসভা এবং মতলব উত্তর ইউনিয়নের মোহনপুর, ফরাজিকান্দি ও ফতেহপুর ইউনিয়নে এই ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গত মানুষ (অনুমান) ১২ হাজার ৭শ' ৩৫জন, বিধ্বস্ত মোট ঘরবাড়ি ৪শ' ৮৩টি। এর মধ্যে আংশিক ৩শ' ৮৮ এবং সম্পূর্ণ ৯৫টি। এসব ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্যে জিআর চাল, গৃহ নির্মাণ বাবদ ঢেউটিন এবং জিআর-এর ক্যাশ টাকা সহসা বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।



এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের দুদিন সার্বক্ষণিক সব জায়গায় খোঁজখবর রেখেছেন জেলা প্রশাসকসহ তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলে।



চাঁদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ও রোববার চাঁদপুরে বৃষ্টি হয়েছে ৭৭ মিলিমিটার। এর মধ্যে রোববারই হয়েছে ৫৮ মিলিমিটার। আর রোববার বিকেলে ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৫০৪৪৩
পুরোন সংখ্যা