চাঁদপুর, শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৫। তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলি কর্তন করিয়াছ এবং যেগুলি কা-ের উপর স্থির রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এবং এইজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন।


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
এবারো কি চাঁদপুরে গত বছরের মতো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহোৎসব হবে?
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আগামী ১৭ নভেম্বর রোববার থেকে সারাদেশে একযোগে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে। শেষ হবে ২৬ নভেম্বর। এবার চাঁদপুর জেলায় স্কুল ও মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর এই সমাপনী পরীক্ষার্থী হচ্ছে মোট ৫২ হাজার ৪শ' ৭৩ জন। প্রাথমিক সমাপনীর কেন্দ্র হচ্ছে ৮১টি, আর ইবতেদায়ীর কেন্দ্র হচ্ছে ১৯টি। এর বাইরে যৌথ কেন্দ্র হচ্ছে ৫৬টি।



বাবা-মার আদরের ধন ছোট্ট সোনামনিদের শিক্ষা জীবনের প্রথম সার্টিফিকেট পরীক্ষা তথা বোর্ড পরীক্ষা হচ্ছে এই সমাপনী পরীক্ষা। তাই এ পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবক ও সন্তানদের মাঝে উৎসাহ এবং আনন্দের কোনো কমতি নেই। সন্তানরা শিক্ষাজীবনের প্রথম পরীক্ষা ভালো করুক, বৃত্তি পাক; এ আশা এবং প্রচেষ্টা সবারই কমবেশি থাকে। কিন্তু এই প্রচেষ্টা যখন অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্যতম কাজের সাথে লিপ্ত হয়ে যায় অভিভাবকসহ কিছু অসাধু শিক্ষক, তখন এই 'ফুটন্ত ফুলদের' ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই শঙ্কিত হতে হয়। হ্যাঁ, এমন ঘটনাই ঘটেছে গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়।



চাঁদপুরে গত বছর এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস যেনো মহোৎসবে পরিণত হয়েছিল। পরীক্ষার আগের দিন পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র চলে যেতো। একেবারে পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই জঘন্য এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কা-টি চলেছিল। পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্ন পেয়ে বাচ্চারা সে নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তরই পড়তো। আর এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকায় সক্রিয়ভাবে থাকতেন কিছু শিক্ষক। পরীক্ষার দিন দেখা গেছে যে, বাচ্চারা যখন পরীক্ষার হল থেকে বের হতো, তখন তারা সরলভাবে বলে ফেলতো_'কাল রাতে যা পড়েছি, হুবহু সব এসেছে, এর বাইরে থেকে একটি প্রশ্নও আসেনি।' আর এই প্রশ্নগুলো ফাঁস হতো কোচিং সেন্টার এবং প্রাইভেট টিউটর থেকে। স্কুলের কিছু শিক্ষকরাও জড়িত আছেন এর সাথে।



দেখা গেছে যে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ও যেদিন পরীক্ষা না থাকতো সেদিন ও পরীক্ষার আগের রাতে কোচিংয়ে বাচ্চাদের যেতে হতো এবং এই সময়ের পাঠদানটা হতো খুবই সতর্কতার সাথে। কোচিং সেন্টারের প্রধান গেট ভেতর দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে খুব নীরবতার সাথে পড়ানো হতো। অন্যান্য দিন গেইটের ভেতরে অভিভাবকরা থাকলেও এই সময়ে কোনো অভিভাবককে সেখানে থাকতে দেয়া হতো না। অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় নিয়ে এই সময়ে বাচ্চাদের পড়ানো হতো। আর বাসায় এসে বাচ্চারা কোচিংয়ের স্যার যা যা প্রশ্ন এবং উত্তর লিখিয়ে দিয়েছেন, বাচ্চারা তাই পড়তো। এর বাইরে একটি পড়াও পড়তো না। পরদিন পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে এসে বলতো_কাল রাতে যা পড়েছি, হুবহু সব এসেছে।



গত বছর এই সমাপনী পরীক্ষার সময় অনেক অভিভাবক ক্ষোভ এবং দুঃখের সাথে তাদের সন্তানদের জীবনের প্রথম পরীক্ষার জঘন্যতম অনৈতিকতার আশ্রয়ের চিত্র এভাবেই তুলে ধরেছেন। তারা খুব দুঃখের সাথে বলছিলেন, আমাদের সন্তানদের অঙ্কুরেই শেষ করে দিলো শিক্ষক নামের কিছু কলঙ্কিত মানুষ।



এ বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর শহরের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের সাথে। তারা সকলে এ প্রতিবেদকের সাথে একমত পোষণ করেছেন গত বছর সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে। তারা বলেছেন, শুধু চাঁদপুর নয়, গত বছর সারাদেশেই এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। তবে তারা জানান, প্রশ্ন ফাঁসের সাথে কোনো শিক্ষক জড়িত নন অর্থাৎ কোনো শিক্ষকের দ্বারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন ফাঁস হয় অন্য জায়গা থেকে। আর সেটা যখন শিক্ষকের হাতে আসে তখন এটি সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়। অনেকের মোবাইলে ইম্যুতেও চলে যায় প্রশ্ন। প্রশ্ন ফাঁস বিজি প্রেস, ট্রেজারি বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোথাও থেকে হয় বলে শিক্ষকরা জানান। কারণ, প্রশ্ন কোনো শিক্ষকের হাতে আসে না। তবে যেখান থেকে যেভাবেই হোক, প্রশ্ন ফাঁস রোধ করাটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করেন। এক্ষেত্রে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি যে কৌশল এবং পদ্ধতিসহ কঠোর পদক্ষেপ এসএসসিসহ অন্য পরীক্ষার বেলায় নিয়েছেন, সে উদ্যোগ যদি এই সমাপনী পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নেয়া হয় তাহলে হয় প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা যাবে বলে তারা মনে করেন।



আবারো আসলো সমাপনী পরীক্ষা। গত বছরের সেই জঘন্য কর্মকাণ্ড  দেখে অভিভাবকরা এবার খুব চিন্তিত এবং আতঙ্কিত। তারা ক্ষোভের সাথে বলছেন, এবারো কি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনাটি ঘটবে? চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ শিক্ষা পরিবারের কাছে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ প্রশ্নটি মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তারা অনুরোধ করেছেন, এ বিষয়ে সকল মহলের সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্যে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির কাছেও তারা এ বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০২১৮
পুরোন সংখ্যা