চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৪। কিন্তু যাহার এ সামর্থ্য থাকিবে না, একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাকে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিতে হইবে; যে তাহাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়াইবে; ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেনো আল্লাহর ও তাহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করো। এইগুলি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান; কাফিরদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।


 


 


 


খাদ্য খাওয়া ও খাওয়ানোর চেয়ে খাদ্য উৎপাদনই মহত্তর কাজ।


-তাবিব।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাষ বাড়ালে সংকট কেটে যাবে মশলা চাষে প্রণোদনা নেই
প্রায় ক্রেতাশূন্য পেঁয়াজের বাজার
কামরুজ্জামান টুটুল
১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। মাত্র ৩০/৩৫ টাকার পেঁয়াজ গত কয়েক সপ্তাহে কেজি প্রতি বাজার ২শ' ১০ টাকা থেকে ২শ' ২০ টাকায় পৌঁছেছে। ক্রেতার সাধ আর সাধ্যের বাইরে পেঁয়াজের বাজার চলে যাওয়ায় প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। ৩০/৪০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজের বাজার থাকাবস্থায় যেখানে সাধারণ মানের একজন দোকানি প্রতিদিন দেড় থেকে ২শ' কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতেন সেই বিক্রেতা এখন সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। পেঁয়াজের দাম নিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের সাফ কথা বেশি দামে কিনি বেশি দামে বিক্রি করি, আবার দাম কমে গেলে কম দামে বিক্রি করবো। এদিকে পেঁয়াজ চাষে কৃষককুল আগ্রহী হয়ে উঠলে সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে কৃষি কর্মকর্তার ধারণা। সরকারের মশলাচাষে প্রণোদনা থাকলেও জেলার কোনো উপজেলায় চলিত অর্থ বছরে মশলা চাষে প্রণোদনা নেই বলে কৃষি অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত সোমবার হাজীগঞ্জে খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ইন্ডিয়ান ২শ' ২০ টাকা আর তুরস্ক কেজি প্রতি ২শ' টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।



খোঁজ নিয়ে যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বগতি হওয়ার কারণে পেঁয়াজ বিক্রিতে ধস নামতে শুরু করে। পেঁয়াজ নিয়ে বাইরে যতই মাতামাতি হোক না কেন মূলত পেঁয়াজের বাজারে ধস নামতে শুরু করেছে বেশ কয়েক দিন আগ থেকে। খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের ক্রেতা নেমে এসেছে অনেকটা শূন্যের কোটায়। যে সকল ব্যবসায়ী দৈনিক গড়ে ৪/৫ বস্তা (দেড়শ থেকে ২শ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করতেন সেই সকল ব্যবসায়ী বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৮/১০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। যে সকল ব্যবসায়ী কখনো ১ পোয়া (আড়াইশ) গ্রাম পেঁয়াজ বিক্রির ক্রেতা পাননি সেই সকল ব্যবসায়ী এখন আড়াইশ গ্রামের পেঁয়াজের ক্রেতা সচরাচর পাচ্ছেন।



ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়ে পেঁয়াজের বিক্রেতাদের সাফ কথা : আমরা বেশি দামে কিনি বেশি দামে বিক্রি করি, আবার মোকামে দর কমে গেলে আমরা কমিয়ে বিক্রি করবো। অনেক ব্যবসায়ী উটকো ঝামেলার কারণে ইতিমধ্যে পেঁয়াজ বিক্রিটাই বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের সাফ কথা : ৬/৭ টাকা লাভের আশায় জরিমানা না গুণে বিক্রি না করাই শ্রেয়।



এদিকে হাজীগঞ্জে মশলার প্রধান বাজার হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার হলুদ পট্টি। হলুদ পট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্যে মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজের বাজার সহনীয় থাকাবস্থায় প্রতিদিন গড়ে আমি যেখানে দেড়শ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারতাম সেখানে এখন সর্বোচ্চ ১০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছি। এ বিষয়ে অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, চাঁদপুর পুরান বাজার থেকে পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১শ ৭০/৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যে বস্তা প্রতি ৩/৪ কেজি পেঁয়াজ পচা পাওয়া যায় কিংবা শুকিয়ে কমে যায়। এরপর পরিবহন আর লেবার নিয়ে কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে ১শ' ৮০ টাকার পেঁয়াজ দোকানে পৌঁছা পর্যন্ত ১শ' ৯০ টাকা পড়ে। এ ক্ষেত্রে আমরা ২শ' টাকা কেজি বিক্রি করে থাকি।



একই গলির লোকনাথ ভান্ডারের লিটন সাহা বলেন, পেঁয়াজের বাজার দেড়শ টাকার অধিক হওয়ার পর থেকে মূলত পেঁয়াজের ক্রেতা শূন্যের কোটায় চলে এসেছে। এখন প্রতিদিন আমার এই দোকানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছি। মজার বিষয় হলো, আমার দীর্ঘ ব্যবসায়ী জীবনে কখনো ১ পোয়া পেঁয়াজ ক্রয়ের ক্রেতা পাইনি। সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ৪/৫ জন করে ক্রেতা পাচ্ছি। যারা ১ পোয়া কিংবা আধা কেজি করে পেঁয়াজ কিনছেন।



হাজীগঞ্জের বাকিলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, মিজান স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুমন মিয়া জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। ৬/৭ টাকার লাভের আশা করতে গিয়ে হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে লাভ কি?



একই বাজারের একটি খাবার হোটেলের স্বত্বাধিকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৩০/৪০ টাকা যখন পেঁয়াজের বাজার ছিলো তখন প্রতিদিন গড়ে ১০/১২ কেজি পেঁয়াজ ব্যবহার হতো। সেই হিসেবে ঐ পরিমাণ পেঁয়াজ ব্যবহার করলে আমাকে দৈনিক বাড়তি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা বেশি গুণতে হবে বিধায় পেঁয়াজের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি।



পেঁয়াজের বাজার দর নিয়ে ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই বলে হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, রবি শস্যের সাথে চাঁদপুরের কৃষকরা পেঁয়াজ চাষ করলে অন্তত জেলার পেঁয়াজের ঘাটতি বহুলাংশে কমে যাবে। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, চাঁদপুরের কোথাও মশলা চাষে প্রণোদনা নেই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৭৭৯৬৯
পুরোন সংখ্যা