চাঁদপুর, বুধবার ৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৯। শয়তান উহাদের উপর প্রভাব বিস্তার করিয়াছে; ফলে উহাদিগকে ভুলাইয়া দিয়াছে আল্লাহর স্মরণ। উহারা শয়তানেরই দল। সাবধান! শয়তানের দল অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত।


 


 


 


জনগণ যদি নেতা নির্বাচনে ভুল করে তাতে জনগণেরই দুর্গতি বাড়ে।


-প্লেটো।


 


 


যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো রসনাকে বিরত রাখা।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
নানা অভিযোগে অভিযুক্ত বাসারা দাখিল মাদ্রাসার সুপার
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে উপস্থিত না থাকলেও রাতে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর প্রদান, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে ক্লাস নেয়া, গাইড বই এনে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অপকৌশল অবলম্বনসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদগঞ্জের বাসারা নেছারাবাদ ছিদ্দিকিয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ মোশাররাফ হোসেন পাটওয়ারী। তার উপর সদ্য সাবেক হওয়া ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক এবং এলাকাবাসীও ক্ষুব্ধ। অথচ মাত্র এক বছর পূর্বে তিনি এ মাদ্রাসার সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এ সব অনিয়ম বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক মিয়াজী বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার মাওঃ মোশাররাফ হোসেন পাটওয়ারী বলেছেন, কমিটির সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ফিরাতে গিয়ে কর্মরতদের চক্ষুশূল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়।



জানা গেছে, উপজেলার ৩নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বাসারা বাজারের অদূরে ১৯৭৫ সালে স্থানীয় লোকজন ও ছারছীনা দরবার শরীফের অনুসারীদের সহায়তায় বাসারা নেছারাবাদ ছিদ্দিকিয়া ছালেহিয়া ডিএস ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে এমপিওভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। ইবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।



সরজমিনে গেলে মাদ্রাসার সদ্য বিদায়ী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক মিয়াজী বলেন, মাদ্রাসার যে কয়েকটি সমস্যা রয়েছে, তার মধ্যে অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন। কমিটির নেতৃবৃন্দ ও আশপাশের লোকজনের সহায়তা মাদ্রাসার একটি অংশ দ্বিতীয়তলা পর্যন্ত উন্নয়নের সম্ভব হয়। এছাড়া সর্বশেষ আমাদের এলাকার কৃতী সন্তান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন খোকার সার্বিক সহযোগিতায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবনের কাজ সহসা শুরু হবে। কিন্তু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান না থাকায় যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তাতে শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়নি। সে মোতাবেক ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর মাদ্রাসায় সুপার হিসেবে মাওঃ মোশাররফ হোসেন পাটওয়ারীসহ তিনজনকে নিয়োগ প্রদান করি। সুপারকে নিয়োগ দেয়ার সময় বিনীতভাবে বলেছি, অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আপনার ভাবনা করতে হবে না, আপনার প্রধান দায়িত্ব মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি করা। কিন্তু তিনি যোগদানের পর থেকেই নিজের মতো করে চলতে শুরু করেন। ইচ্ছেমতো মাদ্রাসায় আসা যাওয়া, ছুটি না নিয়ে গরহাজির থাকা, উপজেলায় কাজ রয়েছে বলে সেখানে না গিয়ে অন্য কাজে যাওয়া এসব ইত্যাদি নানা অনিয়ম তার রুটিন ওয়ার্ক হয়ে পড়ে। তার এসব অনিয়ম বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাকে সতর্ক করে রেজুলেশনভুক্ত করা হয়। যাতে তার স্বাক্ষর রয়েছে। সর্বশেষ নভেম্বর মাসের ২ তারিখ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত তিনি একটানা মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। অথচ অতীতের মতো এবারও তিনি রাতে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে রাখেন। সর্বশেষ ঘটনার ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ইবতেদায়ী পরীক্ষা ও জেডিসি পরীক্ষার জন্যে কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন। যদিও তিনি ওই দুই পরীক্ষায় কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন। সুপারের এই আচরণের কারণে মাদ্রাসার ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষায় ১৯ জনের মধ্যে ৭জন পাস করেছে। তিনি আরো জানান, সুপার মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নুরুউদ্দিনকে দিয়ে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ক্লাস নেন। এ বছর মাদ্রাসার পাঠ্য বইয়ের বাইরে গাইড বই বিক্রি করে তিনি বড় অংকের অর্থ বাণিজ্য করেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মানিসহ বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার তৈরি করতেন তিনি।



তিনি আরো জানান, সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এমপির ডিও লেটার নিয়ে এক প্রার্থী মাদ্রাসায় এসে অযাচিত আচরণ করে যান। পরবর্তীতে ওইদিনই নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে কামতা এলাকায় অবরুদ্ধ করে ফিরে যেতে বাধ্য করে একদল লোক। সে বিষয়ে ইউএনওকে এমপির ডিও লেটার নিয়ে আসা প্রার্থীর অযাচিত আচরণ বিষয়ে লিখিতভাবে জানালেও কয়েকদিন পর তিনি মাদ্রাসার নাইট গার্ডসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা জিডি করেন থানায়। নির্বাচন করার সময় না হওয়ায় এডহক কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তুতির জন্য তিনি গোপনে কাজ করছেন। শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি সবই তিনি কাউকেই তথা নির্বাচিতদের না জানিয়েই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। যা সঠিক নয়।



কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক শিক্ষক আবুল খায়ের, বিল্লাল হোসেন, মোঃ বাবুল, ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ, জাকির হোসনে, সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াছ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আঃ মমিন ও অহিদুল ইসলাম সুপারের এইসব আচরণের বিষয় জানিয়ে বলেন, আমাদের দাবি একটাই, মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভাল ফলাফল নিশ্চিত করা।



কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিগত বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে সুপার পরীক্ষার প্রশ্ন নিজের ড্রয়ারে রেখে তালা মেরে কুমিল্লা চলে যান। পরে বিষয়টি তার নজরে আনলে তিনি পরীক্ষা বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু আমরা বাইরে থাকা প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাই।



এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মোশাররাফ হোসেন পাটওয়ারী বলেন, 'কমিটির সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ফিরাতে গিয়ে কর্মরতদের চক্ষুশূল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, আমি যখনই মাদ্রাসা থেকে বের হয়েছি মুভমেন্ট রেজিস্টারে কারণ উল্লেখ করে বেরিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে রেজুলেশন হওয়ার কথা সঠিক, কিন্তু মাদ্রাসার সভাপতি সভার শুরতেই বাধ্যতামূলকভাবে সকলের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে অফিস সহকারীকে দিয়ে নিজের মতো করে রেজুলেশন লিখে নেন। অথচ এসব কাজ সুপার ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার করার কথা। তিনি বলেন, আমি এসে শিক্ষকদের ক্লাসে নিয়মিত করেছি। যার ফলে তারা কমিটির কাছে হয়ত কান ভারী করেছেন। গাইড বই বিক্রির বিষয়ে তিনি জানান, ছাত্ররা বই আশপাশে না পাওয়ায় আমি ফরিদগঞ্জ থেকে এনে দিয়েছি। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও সে আলেম পাস। তারপরও তাকে ইবতেদায়ী শ্রেণিতে দুই একদিন শিক্ষক না থাকায় তাকে ক্লাসটি নিয়ন্ত্রণের জন্যে পাঠিয়েছি।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৮০০
পুরোন সংখ্যা