চাঁদপুর, বুধবার ৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৯। শয়তান উহাদের উপর প্রভাব বিস্তার করিয়াছে; ফলে উহাদিগকে ভুলাইয়া দিয়াছে আল্লাহর স্মরণ। উহারা শয়তানেরই দল। সাবধান! শয়তানের দল অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত।


 


 


 


জনগণ যদি নেতা নির্বাচনে ভুল করে তাতে জনগণেরই দুর্গতি বাড়ে।


-প্লেটো।


 


 


যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো রসনাকে বিরত রাখা।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ইউপি সদস্য বাচ্চুর বিরুদ্ধে সালিস বাণিজ্যের অভিযোগ
নূরুল ইসলাম ফরহাদ
০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'নির্বাচনে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছে। সে টাকা তোলা লাগবে না'? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবকের কাছে বাচ্চু মেম্বারের বিরুদ্ধে ওঠা সালিস বাণিজ্যের কথা জানতে চাইলে তিনি তার সংক্ষিপ্ত জবাবে এ কথাটি বলেন। বর্তমানে নির্বাচন মানেই টাকার খেলা। সাধারণ একজন ইউপি মেম্বার হওয়ার জন্য ৫/৬ লাখ টাকা খরচ করা হয়! ভাবা যায়? কী আছে ইউনিয়ন পরিষদে? ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু এলাকায় সালিস বাণিজ্যের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আলোকে এলাকায় সরেজমিনে গেলে তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর সব তথ্য উঠে আসে। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৫/৬ মাসের মাথায় তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।



চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ৮নং ওয়ার্ডের হর্নি দূর্গাপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে একটি সালিসে বাদী ও বিবাদীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মেম্বার বাচ্চু। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে শুকুর আহম্মেদ (১৭)-এর সাথে বাহারাইন প্রবাসী মামুন ভূঁইয়ার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী লাকী বেগম (২৬)-এর অবৈধ যৌন মেলামেশার দৃশ্য লোকজন দেখে ফেলে। মামুন ভূঁইয়ার বড় ভাই মোঃ সফিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, 'এ ঘটনায় সালিস হয়। সালিসে মেম্বার দুই পক্ষকে ১৫ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। টাকাটি মেম্বারের কাছেই আছে। তিনি এই টাকা দিয়ে রাস্তার কাজ করবেন বলে আমাদের জানান।' মাসুম নামের যুবক বলেন, 'আমি সালিসে ছিলাম না। তবে যারা ছিলেন পরে তাদের কাছে শুনেছি, উভয় পক্ষের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। সেই টাকা বাচ্চু মেম্বারের কাছে আছে। তিনি টাকাগুলো দিয়ে রাস্তার কাজ করাবেন। কিন্তু রাস্তার কাজ করানো হয়নি'। এ বিষয়ে বাচ্চু মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, 'কে বলেছে আপনাকে? তওবা তওবা, আস্তাগফিরুল্লা, নাউজুবিল্লা। আমি কোনো টাকা নেইনি। এটা হারাম। তারা যেহেতু জ্বেনা করেছে তাই তাদেরকে শত শত মানুষের সামনে কান ধরে উঠ-বস করিয়েছি।' 'ওই টাকা দিয়ে রাস্তার কাজ করানো হবে বলে আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন' এ কথা বলার সাথে সাথে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'অসম্ভব, আমি কোনো টাকা নেই নি'। খানিক পরেই তিনি আবার বলেন, 'আমি তাদের টাকা তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছি। যেহেতু এটা হারামের টাকা। তাই আমি টাকা ফেরত দিয়েছি।' আবার তিনি এ প্রতিবেদকের কানের কাছে এসে ফিস ফিস করে বলেন, 'ভাই টাকা নিয়েছি সত্য, কিন্তু সে টাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকদের ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিয়েছি। অন্যথায় তারা ঝামেলা করতো'।



হর্ণি দূর্গাপুর গ্রামের ইসলাম উদ্দিন বেপারী বাড়ির তাজুল ইসলাম ও আমির হোসেন এবং মোশারফ হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দুটি নারিকেল গাছ নিয়ে বিরোধ। গত ২৫ নভেম্বর এক সালিসি বৈঠকে এবং সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় গাছ তাজুল ইসলামের। কিন্তু গাছের কিছু অংশ মোশারফ হোসেন গংয়ের অংশে চলে যায়। এ অবস্থায় বাচ্চু মেম্বারের পরামর্শে মোশারফ হোসেন গং বাদী হয়ে তাজুল ইসলামকে বিবাদী করে থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের আলোকে থানা থেকে এস.আই. জাফর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে এস.আই. জাফর বলেন, 'অভিযোগের আলোকে আমি এলাকাতে যাই। গিয়ে দেখি গাছের বেশির ভাগ অংশ আমির হোসেনদের ভাগে। তারা আবার সেখানে দেয়াল করবে। গাছের জন্য দেয়াল তুলতে পারছে না। তাই আমি বলেছি গাছগুলো কেটে ফেলতে।' এ প্রসঙ্গে মেম্বার বলেন,'হ্যাঁ, আমি বলেছি থানায় অভিযোগ করতে। আর গাছগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিম'।



এ বিষয়ে তাজুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার শিউলি বলেন, 'আমাদের দু'টি নারিকেল এবং কাঁঠাল গাছের ফল কয়েকবছর ্লধরে জোর করে খাচ্ছে মোশাররফ হোসেন ও তার ছেলে আমির হোসেন। পরে সালিসের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় মাপার। মাপার পর গাছগুলো আমাদের ভাগে পড়ে। এটাকে অপমান হিসেবে নিয়ে তারা বাগানে দেয়াল তোলার কথা বলে আমাদের গাছগুলো জোর করে কেটে ফেলেছে।'



আমির হোসেনকে না পেয়ে তার স্ত্রী আফতাবের নেছার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'ভূমি মূলত আমাদের, আমিন (সার্ভেয়ার) ভুল করে তাদেরকে দিয়ে দিয়েছে। আমরা এখানে বিল্ডিং করবো, তাই গাছ কেটে ফেলেছি'।



 



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১৮৮
পুরোন সংখ্যা