চাঁদপুর, বুধবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে বরখাস্ত এবং স্ট্যান্ড রিলিজ। নতুন কর্মকর্তা আবুল বাসার মজুমদার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৫। তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলি কর্তন করিয়াছ এবং যেগুলি কা-ের উপর স্থির রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এবং এইজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন।


 


 


আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জে প্রাথমিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আনুপাতিক বৈষম্য চরমে
কামরুজ্জামান টুটুল
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজীগঞ্জের কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আনুপাতিক বৈষম্য চরমে উঠেছে। কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকের সংখ্যা কম আবার কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বেশি। আনুপাতিক তফাতের কারণে পাঠদানে মারাত্মকভাবে সমস্যা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষক নেতা স্বীকার করলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, আনুপাতিক হার সরকারি বিধি অনুযায়ী ঠিক আছে।



উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১শ' ৫৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয়ে ১ শিফটে আর বাকি ১শ' ৪২টি বিদ্যালয়ে ২ শিফটে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। আনুপাতিক দিক দিয়ে ২ শিফ্টের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হার প্রতি ৪০ শিক্ষার্থীর জন্যে ১ জন শিক্ষক। অনেক বিদ্যালয়ে পূর্বে সৃষ্ট পদের কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীর হারে শিক্ষক সংখ্যা বেশি রয়েছে, আবার একই নিয়মের কারণে কম শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে বেশি শিক্ষক রয়েছে। আরেক বিধিতে রয়েছে, প্রতি বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৫ জন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। এতোসবের পরেও ২শ' ৬ শিক্ষার্থীর জন্যে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন ৩ জন, আবার ২শ' ১৯ জন শিক্ষার্থীর জন্যে ৯ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের আহমেদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীসহ মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২শ' ৩ জন। এ সকল শিক্ষার্থীকে ২ শিফ্টে পাঠদান করছে ৩ জন শিক্ষক। ৫নং সদর ইউনিয়নের মাতৈন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাকপ্রাথমিক মিলিয়ে ২শ' ১৯ জন শিক্ষার্থীর জন্যে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। এ দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হারে চরম বৈষম্য চরমে বলে অভিভাকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।



সরজমিনে দেখা যায়, আহমেদাবাদ সপ্রাবিতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ২ জন পুরুষ আর ১ জন নারী শিক্ষক। প্রাকপ্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এ বিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রয়েছে ২শ' ৩ জন। অবকাঠামোগত দিক দিয়ে দো-চালা পুরাতন ভবনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থী হিসেবে ক্লাস রুম স্বল্পতা চরমে। পাশে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও ওয়াশ বস্নক নেই। শ্রেণীকক্ষে সিলিং ব্যবস্থা নাজুক। ক্লাস রুম থেকে বের হলেই পাকা সড়ক। বিদ্যালয়ে ৫টি পদের বিপরীতে ১ জন ইতিমধ্যে ডিপিএড ট্রেনিংয়ে আরেকজন অবসরে চলে গেছেন। সর্বমোট মিলিয়ে এখন শিক্ষক ৩ জন।



মাতৈন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে ২শ' ১৯ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। ১৯৪১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করলে পুরাতন ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০৩-২০০৪ সালে নতুন একটি ভবন নির্মিত হওয়ার পরে বিদ্যালয়ে শ্রেণী সঙ্কটের কারণে ক্লাস নেয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ বিদ্যালয়ে নেই ওয়াশ বস্নক।



আহমেদাবাদ সপ্রাবির ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদেরকে স্যারেরা ক্লাসে পড়া দিয়ে অন্য ক্লাসে চলে যান। স্যার কম থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।



অপরদিকে মাতৈন সপ্রাবির শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসরুম না থাকার কারণে আমাদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে। ওয়াশ বস্নক না থাকার কারণে বাথরুমের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।



পাঠদানের ব্যাঘাত সৃষ্টির বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ হাছান মোস্তফা বলেন, আমিসহ তিনজন শিক্ষক রয়েছি। মাঝে মধ্যে দাপ্তরিক কাজে আমি বা আমার শিক্ষকেরা অন্যত্র গেলে পাঠদানের সমস্যা হয়। এ বিষয়ে ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।



২শ' ১৯ জন শিক্ষার্থীর জন্যে ৯ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন স্বীকার করে মাতৈন সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত ভবনের জন্যে অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনোভাবে ভবনের বরাদ্দ আসছে না। একটি ভবনের জন্যে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।



উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু বকর তফদার জানান, ২শ' ১৯ শিক্ষার্থীর জন্যে ৯ জন শিক্ষক আবার ২০৩ জন শিক্ষার্থীর জন্যে ৩ জন শিক্ষক_এটা বড় ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য অব্যাহত থাকলে আর তার সমাধান না করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন এ শিক্ষক নেতা।



রাজারগাঁও ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুল ইসলাম বলেন, আহমেদাবাদ সপ্রাবিতে ৫ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে একটি পদ শূন্য এবং কর্মরত একজন ট্রেনিংয়ে আছে। তিনি জানুয়ারি মাসে যোগ দেবেন। তাছাড়া রাজারগাঁও ক্লাস্টারে বেশ ক'টি শূন্য পদ থাকায় ডেপুটেশনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।



উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চঃদাঃ) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল জানান, সৃষ্ট পদের বিপরীতে যে শিক্ষক থাকার কথা সেই হিসেবে আহমেদাবাদ সপ্রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ঠিক আছে। তবে মাতৈন সপ্রাবিতে শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষক কিছু বেশি বলে স্বীকার করেন এ কর্মকর্তা।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯৮৮২৫
পুরোন সংখ্যা