চাঁদপুর, শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৭-সূরা মুল্ক


৩০ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬। যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের শাস্তি, উহা কত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


 


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জে অশান্তির ঝড় শুরু
এমপি ও চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষে মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা সভা পণ্ড রণক্ষেত্র উপজেলা পরিষদ চত্বর আহত অর্ধশত
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


যে আশঙ্কা করেছিল ফরিদগঞ্জবাসী অবশেষে তা-ই বাস্তবে রূপ ধারণ করলো। অশান্তির আগুন জ্বলে উঠলো ফরিদগঞ্জে। দুই জনপ্রতিনিধির মধ্যকার বিভেদ ও দ্বন্দ্ব নেতা-কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার জের হিসেবে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অশ্লীল বাক্য বিনিময়, উত্তেজনা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঘন্টকাল ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ চত্বর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনুসারীদের প্রকাশ্য সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নিজেরাই আহত হয়। অন্যদিকে দুই পক্ষ পরস্পরের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এদিকে উপজেলা পরিষদের ভেতরেও চলে উত্তেজনা এবং কথা ও পাল্টা কথার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। ঘটনা নিয়ে সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পরস্পরকে দোষারোপ করেন। দুই দফায় সংঘর্ষের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি দুটি সভাই স্থগিত করতে বাধ্য হন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান পরিষদে উপস্থিত ছিলেন।



জানা গেছে, প্রতি ইংরেজি মাসের ১২ তারিখ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে উপদেষ্টা হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান আমন্ত্রণ পান।



দুই সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুলিশের পাশাপাশি দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হতে শুরু করে। পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান তার নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য মোটরসাইকেল বহর নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ নেতার পক্ষে শ্লোগান দিতে শুরু করে। এমপির সাথে সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাজে আহাম্মদ মজুমদারসহ বেশ ক'জন নেতা পরিষদের কক্ষে প্রবেশ করার ঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা সভার সদস্য নয় এমন লোকজনের সভাকক্ষে প্রবেশ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। প্রতিবাদের এক পর্যায়ে এমপি পক্ষ মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও খাজে আহাম্মদের নামে এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনুসারীরা 'রোমান ভাই'য়ের নামে শ্লোগান দিতে দিতে পরস্পরের প্রতি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।



থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব পুরো পুলিশ ফোর্স নিয়ে এ সময় দুই পক্ষকে থামানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে নবাগত ইউএনও শিউলী হরি নিজে কক্ষ থেকে নেমে এসে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পেঁৗছলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তার কক্ষ থেকে বের হয়ে পরিষদের সভা কক্ষের সামনে থাকা কয়েকজনকে সভার সদস্য নয় বিধায় তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলেন। ইউএনওর অফিস কক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনে এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পরস্পরের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এরই মধ্যে হেলমেট পরিহিত এক কর্মী হঠাৎ করে ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ারগুলো ফেলে দিলে চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান তাকে বের করে দেন।



এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ কিছুটা নমনীয় হলেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। প্রথমে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে জুতা নিক্ষেপ, পরে হেলমেট নিক্ষেপের পর পরস্পরের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তারা। পুলিশ উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও এ সময় বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে দুই পক্ষই। আধা ঘণ্টা স্থায়ী প্রথম দফার সংর্ঘষ পুলিশ ভূমিকা নিয়ে থামাতে সমর্থ হয়। এরপর ইউএনওর অফিস কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভা শুরু হলেও আবারো বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশের এসআই নাজমুল হোসেন মারাত্মক আহত হন। বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে উপজেলা পরিষদ চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। তারা ৬ রাউ- টিয়ারসেল নিক্ষেপ করার সাথে সাথে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। বাইরে সংঘর্ষ ও ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা এই নিয়ে কমিটির এক সদস্য প্রশ্ন তুললে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ সভা স্থগিত করতে অনুরোধ করেন। পরে ইউএনও শিউলী হরি সভা স্থগিত ঘোষণা করেন।



এরই মধ্যে চাঁদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ডিবি পুলিশের একটি দল এসে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়ক হিসেবে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পরে নেতা-কর্মী ও পুলিশি কঠোর প্রহরার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদ থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে পরিস্থিতির বিষয়ে শোনেন এবং আলোচনা করেন।



এদিকে দুইবারের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনুসারী জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন মনির, ছাত্রলীগ নেতা জয়, হাবিব, কাশেম, রিয়াদ, হাসান, সাহেদ সুজন, নাছির, কাইয়ুম, মামুন, মিঠু, লিয়ন প্রমুখ আহত হন। অন্যদিকে এমপির অনুসারীদের মধ্যে পুতুল সরকার, আলাউদ্দিন, আল-আমিন, রায়হান, মোহন মিজি, সৈকত, মিঠুন, নুর আল-আমিন, সাগর, রফিক মেম্বার, কালু, ওমর ফারুক, রায়হান, সাকিল, হুমায়ুন, আলী আকবরসহ অন্তত প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন।



ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, উভয় পক্ষকে শান্ত করতে পুুলিশ প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিআরসেল নিক্ষেপ করে। সংবাদ পেয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, সকাল থেকেই পর্যাপ্ত পুলিশ উপজেলা চত্বরে ছিল। তারা উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে পুলিশ তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা নিজেদের অনড় অবস্থানের কারণে সংর্ঘষের সৃষ্টি হয়। ফলে বাধ্য হয়ে টিআর সেল নিক্ষেপ করতে হয়।



উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, রুটিন মাফিক সভা করার কথা থাকলেও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণে মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা স্থগিত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।



উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য নয় এমন লোক এবং মাদককারবারী পরিষদের সভায় উপস্থিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। আমি ইউএনও অফিস কক্ষে গিয়ে এমপি মহোদয়কে সভার সদস্য না এমন লোকজনকে চলে যাওয়ার কথা বললেও তারা শোনে নি। অন্যদিকে এমপির লোকজন পূর্ব প্রস্তুতি তথা অস্ত্র নিয়েই উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।



অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান জানান, আমি আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভার নিমন্ত্রণ পেয়ে উপস্থিত হওয়ার পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। ইউএনওর কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের লোকজন ঢুকে তা-ব চালিয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমার সাথে রুঢ় আচরণ করেছে। তার অনুমতি নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসার জন্যে বলেছে সে।



উল্লেখ্য, নির্বাচনের পর থেকে এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে মানসিক দূরত্ব ছিল। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমপির লোকজন তাদের নেতা-কর্মীদের চাঁদপুরে মারধরের বিষয়ে দোষারোপ করেন। অন্যদিকে এমপির সাথে মাদককারবারী থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলাকে মাদকের আস্তানা গড়ে তুলছেন বলে চেয়ারম্যানের লোকজন অভিযোগ করেন। সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আরো লোকজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বাজে মন্তব্য করার ঘটনায় পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। যার বহিঃপ্রকাশ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ঘটলো। দীর্ঘদিন শান্ত থাকা ফরিদগঞ্জ আবারো অশান্ত হয়ে উঠলো।



এ ব্যাপারে এমপির অনুসারী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান জানান, এমপি মহোদয় যেখানেই যাবেন সেখানে তার সাথে দলীয় নেতা-কর্মীরা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ওই সময় আমি ও খাজে আহাম্মদ মজুমদারসহ এমপির সাথে ইউএনও'র অফিস কক্ষে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় বাইরে থাকা আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা হলো কেনো তার কারণটা বুঝতে পারলাম না।



উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুসারী জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন জানান, এমপির সাথে আমদের সাথে কোনো বিরোধ নেই। তবে যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা রয়েছে, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী সে যেই হোক না কেনো জনস্বার্থে তাকে বর্জন করতে হবে, সেই কারণে আইনশৃঙ্খলা সভায় এমপির সাথে থাকা একজন কুখ্যাত মাদকসম্রাট খাজা আহাম্মদ মজুমদারকে দেখে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে বের করে দেয়ার দাবি তুললে আমাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৭৪৮৬
পুরোন সংখ্যা