চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ৩০ পৌষ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর শহরে গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬১-সূরা সাফ্‌ফ


১৪ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭। যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে আহূত হইয়াও আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তাহার অপেক্ষা অধিক যালিম আর কে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


 


ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কোনো দেশ নেই। - জেফারসন।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


ফটো গ্যালারি
হাইমচরে লড়াই না করেই হেরে গেলো বিএনপি
পারভেজ খান
১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গতকাল অনুষ্ঠিত হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির নিষ্ক্রিয়তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। কোনো কেন্দ্রেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। দিন শেষে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মনে হওয়ায় এবং দলের লড়াই না করে হেরে যাওয়ার মনোভাব প্রকাশ পাওয়ায় হতাশ হয়েছে দলের সাধারণ কর্মী, সমর্থক ও ভোটারবৃন্দ।



দিনব্যাপী উপজেলা ঘুরে পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নাতীত তৎপরতায় অধিকাংশ কেন্দ্রেই সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ছিলো কোণঠাসা। তবে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন ছিলো অনেকটাই নিষ্প্রভ। ফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মূল লড়াই হয়েছে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নূর হোসেন পাটওয়ারীর নৌকা এবং বিদ্রোহী প্রার্থী মোতালেব জমাদারের আনারস প্রতীকের মধ্যেই। যে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীকে ১৬,১৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ের মালা গলায় পরেছেন নূর হোসেন পাটওয়ারী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোতালেব জমাদার আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১১,৭২৭ ভোট এবং বিএনপির প্রার্থী ইছহাক খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪,২০৬ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদের ফলাফলও প্রায়ই একই রকম।



আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকার কারণেই মূলত বিএনপি লড়াই করার আগেই হেরে গেছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্র ঘুরে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষের লোকজনের সরব ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের নীরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বিএনপির উপজেলা কিংবা জেলা নেতৃবৃন্দের কোনোরূপ উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।



অন্যদিকে বেশ কিছু কেন্দ্রে বিএনপির স্থানীয় কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মনোভাব আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় মোতালেব জমাদারের পক্ষেই লক্ষ্য করা গেছে। যা বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতৃবৃন্দের দিক নির্দেশনাও বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।



অবস্থা পর্যালোচনায় মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল, ব্যক্তিস্বার্থ এবং উপজেলার রাজনীতিতে একচ্ছত্র দলীয় প্রভাব বিবেচনায় বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারীকে পরাজিত করাটাই আওয়ামী লীগের একাংশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মূল লক্ষ্য ছিলো। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ নেতা মোতালেব জমাদার নির্বাচনী গণসংযোগকালীন সংঘর্ষে আহত হওয়ায় এবং তৎপরবর্তী সময়ে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ তার প্রতি সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ভোটের মাধ্যমে। এছাড়া দলীয় প্রার্থী নূর হোসেন পাটওয়ারীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় জেলা শহরের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে উপজেলার যেসব নেতা-কর্মী কিছুটা আড়ালে ছিলো তারাও এক পর্যায়ে মোতালেব জমাদারের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও কারো কারো মনোভাব ছিলো অস্পষ্ট। কিছু কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টদের সক্রিয়তাও আশানুরূপ মনে হয়নি। এমনকি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হতে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যাপারেও কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে কেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে দলীয় সমর্থক ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়েনি সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি। মাত্র ৩৫ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।



এদিকে হাইমচর উপজেলায় বিএনপির ভোট ব্যাংকের ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও দলীয় নিষ্ক্রিয়তায় তাদের ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হয়নি বিধায় বিএনপি নির্বাচনে আশানুরূপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭৮৭০২
পুরোন সংখ্যা