চাঁদপুর, শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৬, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬১-সূরা সাফ্ফ


১৪ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১১। উহা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করিবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করিবে। ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানিতে!


 


 


দুঃখীদের মনের জোর কম থাকে।


-রবার্ট হেরিক।


 


 


যে ব্যক্তি বিদ্যার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী।


 


 


ফটো গ্যালারি
মেঘনায় দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২০ পাঁচ জনকে ঢাকায় প্রেরণ
শওকত আলী
১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মেঘনা নদীতে ২টি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে রক্তাক্ত জখম পাঁচ যাত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত আরো ৬ জন যাত্রীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় মেঘনা নদীর আলুরবাজার ফেরীঘাট লাগোয়া চাঁদপুর-শরীয়তপুরের মধ্যবর্তী স্থানে। ঘটনার স্বীকার করে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নৌ-থানার ইনচার্জ মোঃ ফয়সাল রাবি্ব ঈশান। এ ঘটনায় চাঁদপুর নৌ-থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।



ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ ও লঞ্চের যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হুলারহাট-ভাণ্ডারিয়াগামী এমভি টিপু-১২ ও শরীয়তপুর ডামুড্যা থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি আওলাদ-৪ ঘটনাস্থলে আসলে এ দুটি লঞ্চের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘন কুয়াশার কারণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কমপক্ষে ২০জন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন। এ সময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। লঞ্চের ভেতর ছোটাছুটি করতে গিয়ে ২টি লঞ্চের বহু যাত্রী আহত হয় বলে জানা যায়।



ঘটনা শোনার পর পর চাঁদপুর থেকে ছুটে যান নৌ-পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তাৎক্ষণিক আহতদের মধ্যে ৬ জনকে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাতেই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এরা হলেন বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিকিম আলীর ছেলে তারেকুল ইসলাম (১২), ইন্দুরিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ফজলু (১৩), আন্দার মানিক গ্রামের আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে মামুন রাঢ়ী (২৬), চরকিল্লা গ্রামের আব্দুল আজিজ মাঝির ছেলে আবু তাহের (১৮), বড় জমিয়া ওসমান মঞ্জিল গ্রামের সাত্তার বেপারীর ছেলে রাসেল (১৫) ও আব্দুস সালামের ছেলে মহিউদ্দিন (১৩)। এদের মধ্যে ফজলুর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে শুক্রবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এছাড়াও এ ঘটনায় অন্তত আরো ১৫/২০ জন কমবেশি আহত হয়েছে বলে যাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে।



আহত মামুন রাঢ়ী ও রনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা শরীয়তপুর ডামুড্যা থেকে এমভি আওলাদ লঞ্চে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। আওলাদ লঞ্চটি চাঁদপুর মেঘনা নদীর আলুরবাজার নামক স্থানে আসলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশাল হুলারহাটগামী এমভি টিপু-১২ লঞ্চটি আওলাদ লঞ্চের সামনে পড়ে।



যাত্রীরা জানান, যখন দুইটি লঞ্চের কাছাকাছি অবস্থান দেখতে পায়, তখন আওলাদ লঞ্চের সারেং সেটি সরিয়ে নিতে লাইট দিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মাইকিং করে সেটি সরিয়ে সাইড নিতে। কিন্তু টিপু লঞ্চটি বড় আকারের হওয়ায় মাস্টার কোনোভাবেই সে কথা শুনেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই টিপু লঞ্চটি আওলাদ লঞ্চের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। এতে ঘুমে থাকা ও লঞ্চে অবস্থান করা যাত্রীরা দোতলা থেকে পড়ে গিয়ে এবং লোহার পিলারের সাথে আঘাত লেগে মারাত্মকভাবে আহত হন। আওলাদ লঞ্চের যাত্রীরা জানান, টিপু লঞ্চের এক তরফা খামখেয়ালীর কারণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।



চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে অবস্থানরত নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (উপরিদর্শক) মোঃ ফরহাদ রাব্বী ঈশান জানান, মেঘনা নদীর আলুরবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ঘন কুয়াশার কারণে কিছু দেখতে না পারায় নদীতে দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সদস্যরা এবং চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সযোগে চিকিৎসার জন্যে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। এদের মধ্যে আওলাদ লঞ্চের ৫ জন যাত্রীকে ঘটনাস্থল থেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।



এমভি আওলাদ লঞ্চটি চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে অবস্থান না করায় রক্তাক্ত জখম ৫ জন যাত্রীর নাম ও ঠিকানা জানা যায়নি। মারাত্মক ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেলে সকালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৪৮২৭৭
পুরোন সংখ্যা