চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছেলেটির করোনা ভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নয়। তথ্য সূত্র: আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল। || বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে সনু সাহা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় নি : সিভিল সার্জন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৭-সূরা মুল্ক


৩০ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬। যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের শাস্তি, উহা কত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


 


ফটো গ্যালারি
সব বয়সীদের পদচারণায় মুখরিত চাঁদপুরের বইমেলা
পারভেজ খান
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নানা শ্রেণী-পেশার সব বয়সী মানুষদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের বইমেলা। ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত এ বর্ণের ও ছন্দের মেলায় বর্ণিল সাজে সেজেছে বইয়ের স্টলগুলো। বইপ্রেমী কিংবা নিছক কৌতূহলী মানুষজনসহ শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীরা মেলার স্বাদ পেতে কিংবা তাদের পছন্দের বইগুলো সংগ্রহ করতে বিকেল থেকে রাত অব্দি বই মেলার মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় লেখক-লেখিকা ছাড়াও লেখালেখির প্রতি আগ্রহী সকলেই চাঁদপুরে এমন বইমেলার আয়োজনে বেজায় খুশি। এ উছিলায় স্থানীয় লেখকরা সাধারণ মানুষদের কাছে নিজেকে ও নিজের সৃষ্টিকে তুলে ধরতে পারছে সহজেই। সেজন্যে মেলা নিয়ে তাদের আগ্রহেও ঘাটতি নেই এতটুকু। গতকাল বিকেলে মেলার দ্বিতীয় দিনের আয়োজন ঘুরে তেমনটিই মনে হয়েছে।



চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও পৌরসভার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী সহ অন্যান্য সাহিত্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সহযোগিতায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ৬ ফাল্গুনের মিষ্টি বিকেলে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় অমর একুশে বইমেলা। ৮ দিনব্যাপী এ বইমেলার ৩২টি স্টলে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার বই ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদর্শনী ও বিক্রি করা হচ্ছে।



আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবার বইমেলার স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রেও ব্যাপক চাহিদা ও প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি রয়েছে ফুল ও ফলের গাছ বিক্রি ও প্রদর্শনী স্টল, ভ্যাকসিন সেন্টার, নিরাপত্তা কক্ষসহ ফুচকা ও নানা প্রকার খাবার বিক্রির ক্যান্টিন। প্রতিদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় মেলা মাঠে শহীদ মিনার বেদীতে আয়োজিত হচ্ছে কবিতা আবৃত্তি, নাচ, গানসহ নানান সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



মেলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, শুধুমাত্র চাঁদপুরের স্থানীয় এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত চাঁদপুরের কবি-লেখক ও সাহিত্যিকদের বই নিয়ে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী ও চাঁদমুখের স্টল। যেখানে স্থান পেয়েছে চাঁদপুর জেলার সৃষ্টিশীল লেখকদের সব বই। সাহিত্য একাডেমীর স্টলে কর্মরত ইয়াসিন কবিরাজ ও চাঁদমুখ স্টলের দায়িত্বরত লেখক ও সংগঠক এইচএম জাকির জানান, মেলার প্রথম দুদিনেই তারা পাঠকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। অনেকে বই কিনছেন আবার অনেকেই বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখছেন কিংবা পরে কিনবেন বলে জানাচ্ছেন। চাঁদমুখ একধাপ এগিয়ে। তাদের স্টলে রেখেছে কুইজ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা। একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রে বাংলাভাষা ও বাংলাদেশ সম্পর্কিত ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রদানকারীদের মধ্যে লটারীর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতি তিনজনকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে এক হাজার টাকার বই।



বইমেলায় পসরা সাজিয়েছে এমন স্টলগুলো হচ্ছে : ইসলামি ইন্টারন্যাশানাল বুক হাউজ, মোহাম্মদীয়া লাইব্রেরী, তাজমহল লাইব্রেরী, ইউনিক বুকস এন্ড স্টেশনারী, বইমেলা লাইব্রেরী, আল-মদিনা লাইব্রেরী, প্রফেসর লাইব্রেরী, ফেমাস লাইব্রেরী, ন্যাশনাল লাইব্রেরী, মাস্টার লাইব্রেরী, দোয়াগঞ্জল বুক স্টল, শিশু একাডেমী লাইব্রেরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র, সাহিত্য একাডেমী, জিগীষা (চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও চাঁদপুর পৌরসভা), সাহিত্য মঞ্চ, প্রথম আলো বন্ধুসভা, চাঁদমুখ, চাঁদপুর ভ্যাকসিন সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদপুর, পৌর পাঠাগার, পরিবার পাবলিকেশন্স, ইসলামী পাঠাগার এন্ড লাইব্রেরী, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা এবং ভক্তি বেদান্ত বুক স্টল। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন গাছের চারা বিক্রির প্রতিষ্ঠান নার্সারী, আনোয়ার চটপটি, শিল্পকলা ক্যান্টিন ও একটি নিরাপত্তা কক্ষ।



স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন শিশুতোষ ছড়া, কবিতা, গল্প ও কমিকস-এর বইসহ সাধারণ জ্ঞান এবং হরোরধর্মী ভৌতিক ও গোয়েন্দা কাহিনীসহ দেশী-বিদেশী ও স্থানীয় লেখকদের নানা ধরনের বই। রয়েছে বড়দের জন্য গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ জানা অজানা হাজারো বইয়ের কালেকশন। পাশাপাশি রয়েছে পাক প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির বিভিন্ন পাঠ্য ও শিক্ষণীয় বই, প্রশ্ন ও সাজেশন্স সহ নানা শিক্ষা উপকরণ সমৃদ্ধ স্টল।



আয়োজকরা জানান, মূলত চাঁদপুরের বই প্রেমীদের খোরাক জোগাতে এবং নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এই আয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে ইন্টারনেটের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং মননশীলতার ধারাবাহিকতায় ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের বই মেলার আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা মনে করছেন। আগামীতে চাঁদপুরের বই মেলাকে ১৫ দিনব্যাপী আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে আয়োজকদের।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৪২৩৭
পুরোন সংখ্যা