চাঁদপুর, বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ১ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৪২ জন, আইসোলেশনে থাকার রোগী করোনা আক্রান্ত কিনা জানা যাবে আজ রাতে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৫। তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তো পরীক্ষা বিশেষ; আর আল্লাহ, তাঁহারই নিকট রহিয়াছে মহাপুরস্কার।


১৬। তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর, এবং শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্য; যাহারা অন্তরের কার্পণ্য হইতে মুক্ত তাহারাই সফল কাম।


 


 


 


সাহসহীন কোনো ব্যক্তিই সাফল্য অর্জন করতে পারে না।


-কাও ন্যাল গিবন।


 


 


 


 


 


নিরপেক্ষ লোকের দোয়া সহজে কবুল হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর সদর ইউএইচএফপিও ডাঃ সাজেদা বেগমের উদ্ভাবন
'কৈশোরবান্ধব চাঁদপুর সদর উপজেলা' প্রধানমন্ত্রীর এটুআই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম 'কৈশোরবান্ধব সদর উপজেলা, চাঁদপুর' মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এটুআই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডাঃ পলিনের এ উদ্ভাবনী কার্যক্রমটি পাইলটিং হয়ে গেছে। অর্থাৎ এটিকে সারাদেশের জন্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেয়া হয়েছে।



বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন 'স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ইনোভেশন টিম'র ৪র্থ সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বিএমএ ভবন সংলগ্ন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাহমুদ। এ সভায় স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত ছয়টি ইনোভেশন প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। সারাদেশের ছয়টির মধ্যে ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনের 'কৈশোরবান্ধব সদর উপজেলা, চাঁদপুর' নামে উদ্ভাবনী প্রকল্পটি ছিলো অন্যতম এবং খুবই প্রশংসিত ও আকর্ষণীয়। সভায় প্রধান অতিথি ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাহমুদ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় ডাঃ সাজেদা বেগম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে তাঁর 'কৈশোরবান্ধব সদর উপজেলা, চাঁদপুর' নামে ইনোভেশন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডাঃ সাজেদা বেগম তাঁর উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশানে উল্লেখ করেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ২২.৫% হচ্ছে কিশোর-কিশোরী (১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী)। এই কিশোর কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টির বিষয়টি আমাদের দেশে অনেকটাই অবহেলিত। এই বয়সে হরমোনজনিত কারণে কিশোর কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এবং ছেলে-মেয়েরা প্রজননক্ষম হয়। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টির বিষয়টি আরো তরান্বিত করা খুবই প্রয়োজন। এই উপলব্ধি থেকেই আমার ভেতরে কিশোর কিশোরীদের নিয়ে কিছু একটা করার চিন্তা ভাবনা আসে। সে চিন্তা থেকেই আমি আমার কর্মস্থল চাঁদপুর সদর উপজেলায় 'কৈশোরবান্ধব' নামে একটি ইনোভেটিভ কার্যক্রম হাতে নিয়ে কাজ শুরু করি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমি প্রথমে সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে 'কৈশোরবান্ধব বাগাদী ইউনিয়ন' নামে আমার এই ইনোভেশন কার্যক্রমটি শুরু করি। এই ইউনিয়নের ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কার্যক্রম গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়। বাগাদী গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এর কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় 'কৈশোরবান্ধব বাগাদী ইউনিয়নের' যাত্রা। পর্যায়ক্রমে এই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় রামপুর, শাহমাহমুদপুর, মৈশাদী, বালিয়া, চান্দ্রা, বিষ্ণুপুর ও কল্যাণপুর ইউনিয়নে এই কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেই এবং তা চলমান অবস্থায় আছে। এভাবে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার এই ইনোভেশন কার্যক্রমে। তিনি জানান, ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে 'কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা কর্নার' নামে নির্ধারিত একটি কক্ষ থাকে। যেখানে সপ্তাহে রুটিন অনুযায়ী আমার ডাক্তার, স্বাস্থ্য সহকারীরা এবং আমি নিজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকি এবং তাদেরকে এই বয়ঃসন্ধিকালে নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক উপদেশ দিয়ে থাকি। ডাঃ সাজেদা বেগম জানান, সরকারের ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা যে সময়টাতে দেয়া হয় অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকগুলোতে ফ্রি সেবা দেয়ার যে নির্ধারিত সময় রয়েছে, তখন এই বয়সী ছেলেমেয়েরা অর্থাৎ কিশোর-কিশোরীরা থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এতে করে তারা সরকারের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই আমি মনে করেছি যে, এদের কাছে আমি চিকিৎসক নিজেই ছুটে যাবো। এ চিন্তা থেকেই আমি এই কার্যক্রম শুরু করি। আর যে সব ছেলেমেয়ে স্কুল মাদ্রাসায় যায় না, তাদের জন্য এই স্বাস্থ্য সেবার কাজটি করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিকে। ডাঃ সাজেদা বেগম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাঁর এই উদ্ভাবনী কার্যক্রমের বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরেন। এতে প্রধান অতিথিসহ অন্য কর্মকর্তারা তাঁর এই উদ্ভাবনী কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮০১০৯
পুরোন সংখ্যা