চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


বলাখালে বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়
কামরুজ্জামান টুটুল ॥
৩১ মার্চ, ২০২০ ১৭:০২:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+


 হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ বলাখালের বাসিন্দা বশির উল্লাহ (৭৫)-এর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। এলাকায় চাউর আছে নিজ আত্মীয়ের হাতে নিগৃহীত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। তবে তার পরিবারিক সূত্র বলছে, বশির উল্লাহ স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। কথাগুলো নিছক গুজব না আসলেই সত্যি তার সঠিক কারণ জানতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে।

পুলিশ বলছে, বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা আমাদের কাছে আসার পরেই আমরা ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছি। ময়না তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো বলে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি। বশির উল্লাহ ওই এলাকার সৈয়দ আলী রাজ মিস্ত্রির মৃত আবুল কালামের ছেলে। তিনি ৪ ছেলে ৩ মেয়ের জনক।

একাধিক সালিস জানান, বশির উল্লার ছোট ছেলেকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার টোরাগড় গ্রামে বিয়ে করান। ছেলে প্রবাসী হলেও ছোট বউয়ের সাথে বশির উল্লাহর পারিবারিক বিষয় নিয়ে দূরত্ব তৈরি হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে গত ২১ মার্চ শনিবার বশির উল্লার বাড়িতে ঘরোয়াভাবে উভয় পরিবারের হস্তক্ষেপে একটি সালিস বসে। ওই সালিসে উভয় এলাকার বেশ ক’জন সালিস উপস্থিত থেকে উভয়কে মিলিয়ে দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।

এলাকাবাসী সূত্র আরো জানা যায়, ২৩ মার্চ সোমবার বশির উল্লাহ নিজ ঘরের পাশের টিউবওয়েলে গোসল করাবস্থায় পড়ে গিয়ে আহত হন। এরপরেই তাকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় ২৮ মার্চ শনিবার মারা যান।

শনিবার বিকেলে বশির উল্লাহর লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছলে এলাকায় চাউর হয়ে যায়, বশির উল্লাহ ছোট ছেলের শ^শুর বাড়ির লোকজনের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এমন বিষয়টি বিকেলের মধ্যেই এক কান দুই কান হয়ে থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। শনিবার সন্ধ্যার পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠায়। রোববার বশির উল্লাহর লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বশির উল্লাহর বড় ছেলের স্ত্রী মুঠোফোনে জানান, গত সোমবার আমার শ্বশুর  বাড়িতে স্ট্রোক করায় তার অঙ্গ চলে যায়, তখনই আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই।

দক্ষিণ বলাখালের সালিস জসিম উদ্দিন জানান, আমরা উভয় পরিবারকে মিলিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে বা আমাদের সামনে কিছু হয়েছে বলে আমি জানি না কিংবা দেখিনি।

আরেক সালিস আবুল বাসার মৃধা জানান, আমরা তাদের অভিযোগ শুনে উভয় পরিবারকে হাতে হাত দিয়ে মিলিয়ে দিয়েছি। সালিসের কাজই হলো কারো সমস্যায় ডাকলে উভয়ের কথা শুনে মিলিয়ে দেয়া। এ সালিসেও একইভাবে আমরা মিলিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আলাউদ্দিন মুন্সী জানান, তাদের পারিবারিক বিষয়ে সমস্যা ছিলো, সেটা আমি শুনেছি। বশির উল্লাহ স্ট্রোক করে মারা গেছেন সেটা শুনেছি। এর বাইরে আমাকে তারা কিছু জানায়নি, আমি জানিও না।

বশির উল্লাহর মৃত্যুর বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি জানান, আমরা বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন ধরনের খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। নিহতের পরিবারের পক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকলেও আমরা ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করেছি। রিপোর্ট হাতে আসলে রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, আসলে মারামারিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে অবশ্যই ফোন দিয়ে থাকে।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৬৪১৭৯
পুরোন সংখ্যা