চাঁদপুর, শনিবার ২৩ মে ২০২০, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


ছোটদের ঈদ কেমন যাবে এবার
২৩ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্ব এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। পৃথিবীর অলিগলি আজ অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কবলে অবরুদ্ধ। বয়স্কদের সাথে ছোটরাও আজ অবরুদ্ধ। থেমে গেছে তাদের দুরন্তপনা। খোলা আকাশের নিচে সবুজ মাঠে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানো শিশুরা আজ ঘরে বন্দী। এরই মধ্যে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎসব। এক মাস রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দে মেতে উঠে মুসলিম বিশ্ব ঐশী আবেশে। এই আনন্দের জাগতিক উৎসবের সবচে' বড় অংশীদার আমাদের আদরের ছোট সোনামণিরা।



বর্তমান মহামারি আক্রান্ত পরিবেশে কেমন যাবে ছোটদের ঈদ, কী তাদের ভাবনা? এ বিষয়ে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে শিশুদের অনুভূতি জানার চেষ্টা করেছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধি মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ।



নতুন জামা কেনার টাকা গরীবদের দিয়েছি



মাহিন আবরার : ৭ম শ্রেণি, ক-শাখা, রোল নং-১, আল-আমিন একাডেমি, চাঁদপুর।



মাহিন আবরার তার ঈদ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ। নতুন জামা, সব কিছুতেই এক নতুনের ছাপ। ঈদের আগের দিন সব সময়ই আমরা গ্রামে দাদুর বাড়িতে চলে যেতাম। সেখানে ঈদগাহে নামাজ পড়া, আত্মীয় এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে আনন্দ উপভোগ করার মজাই ছিল আলাদা। কিন্তু এবার সেরকম হবে না বলে কখনো কখনো মন খারাপ হয়। তবে এর মাঝে একটা আনন্দও আছে, সেটা হলো আমাদের নতুন জামা কেনার টাকা গরীবদের মাঝে দিয়ে দিয়েছি। সবচে' বড় কথা হলো, আমরা এই ঈদে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবো এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবো যেন বিশ্ববাসী এই মহামারী থেকে মুক্তি পায়।



ঈদের আনন্দ পরিবারের ছোটরাই বেশি উপভোগ করে



রাইয়ান সারোয়ার সাফি : ৬ষ্ঠ শ্রেণি, রোল নং-২৯, মতলব জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।



রাইয়ান সারোয়ার সাফি তার ঈদের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ঈদ মানে আনন্দ। আমরা যারা পরিবারের ছোট সদস্য তারাই ঈদ উপভোগ করি বেশি। আমাদের আনন্দেই বড়রা যে আনন্দিত থাকে তা তাদের হাসিমাখা মুখ দেখেই আমরা বুঝি। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন জামা পরি। বাবা নতুন জামার উপর সুগন্ধি মেখে দেন। এক অন্যরকম অনুভূতি তখন মনের মাঝে উঁকি দেয়। তারপর বাবার সাথে দাদার কবরের কাছে যাই। কবর জিয়ারত করে ঈদগাহে যাই। সমবয়সী বন্ধুদের সাথে সারাদিনের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি। কিন্তু মনে হয় এবারের ঈদে অন্য ঈদের মতো আনন্দ নাও হতে পারে। ধর্মীয় ভাব ও সামাজিক ভাবে ঈদ উদ্যাপন করতে না পারার বেদনা তাড়া করে।



এবার মন খারাপের ঈদ



রুকনোজ্জামান অয়ন : ৬ষ্ঠ শ্রেণি, রোল নং-১২, বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ।



রুকনোজ্জামান অয়ন সব সময়ই ঈদে অনেক আনন্দ করে। এবারের ঈদের অনুভূতি জানাতে গিয়ে অয়ন বলে, আমার দুই চাচা ঢাকায় থাকেন। তারা আমার জন্য নতুন পোশাক নিয়ে আসেন। বাবাও ঈদের নতুন পোশাক কিনে দেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে ঢাকা থেকে চাচারা আসতে পারবেন না। দোকানপাট সব বন্ধ। সব সময় ঈদের দিন সকালে নতুন জামা পরা নিয়ে তুমুল হইচই করতাম। কোন্টা রেখে কোন্টা পরবো। এবার সেটা হবে না। তাছাড়া ঈদিও তেমন পাবো না। তাই মনটা একটু খারাপ। তবে আমার আনন্দ মাটি হলেও সারা বিশ্ব যেন ভালো থাকে সেই কামনা করি।



এবারের ঈদে কোথাও যাবো না



সিদরাতুল মুনতাহা চিন্তি : ৬ষ্ঠ শ্রেণি, রোল নং- ০২, লিটল স্কলার্স একাডেমী, মতলব দক্ষিণ।



সিদরাতুল মুনতাহা চিন্তি জানান, এবারের ঈদ অন্য যে কোন সময়ের ঈদের মতো নয়। ঈদে আমরা সব সময়েই ঘুরতে যাই। ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল বেলায় সবাই মিলে নানার বাড়ি বেড়াতে যাই। নানার কবর জিয়ারত করি। সে এক অন্য রকম আনন্দ। কিন্তু এবার সে রকম কিছু হবার মতো অবস্থা নেই। সবাই যার অবস্থানে থেকে ঈদ আনন্দ উপভোগ করবো। ঈদের দিন সকালে নিজের মতো সেজেগুজে বাবা-মা, দাদা-দাদীকে সালাম করে ঈদি নিব। তারপর সেমাই খাবো। মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করবো। স্কুলের বন্ধুদের খোঁজ-খবর নিব।



ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো না



সাদিয়া সুলতানা লিলি : ৫ম শ্রেণি, রোল নং-৩৮, ঘিলাতলী ফাযিল মাদ্রাসা, মতলব দক্ষিণ।



সাদিয়া সুলতানা লিলি তার ঈদ অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলে, পারিবারিক ভাবে আমরা বাবা-মা, চাচা-চাচী-ফুফু এবং সকল ভাইবোন এক সাথে ঈদ উদ্যাপন করি সবসময়। ঈদের দিন রাতে আমাদের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান হয়। অত্যন্ত জমজমাট এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আমার ছোট চাচা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এবার সবাই হয়তো এক সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো না। বর্তমান অবস্থার কথা চিন্তা করে আমাদের পরিবার ঈদের নতুন কেনাকাটা বর্জন করেছে। সবার কাছে দোয়া চাই বিশ্বের মানুষ যেন ভালো থাকে।



আশা করি আল্লাহ আমাদের ঈদ আনন্দের সুযোগ দিবেন



জাহারা ইসলাম জেমি : তৃতীয় শ্রেণি, রোল নং-২, কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইমচর।



জাহারা ইসলাম জেমি তার ঈদ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ঈদ আমার কাছে এক অন্য রকম আনন্দ। ঈদের দিন সকালে মায়ের রান্না করা সেমাই আর নুডুলস আমার খুব পছন্দ। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন পোশাক পরি। তারপর সেজেগুজে ঈদের বকশিশের জন্য অপেক্ষা করি। বাবা চাচা দাদা আমাকে নতুন টাকা উপহার দেন। আমি তখন খুব খুশি হই। টাকাগুলো কিছু দিন জমিয়ে রাখি। তারপর সারাদিন বন্ধুদের সাথে এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়াই। কিন্তু এবার করোনার কারণে মন খারাপ। আশা করি আল্লাহ আমাদের ঈদ আনন্দের সুযোগ করে দিবেন।



সবার জন্য শুভ কামনা



আরাফাত আল-সামী : ৬ষ্ঠ শ্রেণি, রোল নং ২০, আল-বারাকা মডেল স্কুল, নারায়ণপুর।



ঈদে সবাই আনন্দ করে। আমিও আনন্দ করি। নতুন পোশাক পরি, নতুন টাকা পাই, বিভিন্ন কিছু খাই। প্রত্যেক ঈদেই আমি আমার পরিবারের সাথে ঘুরতে যাই। আর রাতের বেলা বাবা-মা, চাচা-চাচী, ফুফু এবং ভাইবোন এক সাথে পারিবারিক অনুষ্ঠানে মিলিত হই। সেখানে অনেক মজা হয়। আমি বাবা-চাচার সাথে ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে যাই। এমন অনুভূতি জানাচ্ছিল আল-বারাকা মডেল স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত আল-সামী। সে আরও জানায়, দাদা-দাদীর কবর জিয়ারত করতে গোরস্থানে যেতাম। এবার যেতে পারবো কি-না জানি না। তাই আমার মন খারাপ। সুতরাং এ বছর আমার ঈদটি সুন্দর হবে না। সবার জন্য শুভ কামনা।


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৪৪০১২
পুরোন সংখ্যা