চাঁদপুর, রোববার ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৭ শাওয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা ঃ


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


২০। 'আমি জানিতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হইতে হইবে।'


২১। সুতরাং সে যাপন করিবে সন্তোষজনক জীবন;


২২। সুউচ্চ জান্নাতে


 


আল হাদিস


 


যা ইচ্ছা আহার করতে পারো, যা ইচ্ছা পরিধান করতে পারো, যদি তোমাকে অপব্যয় ও গর্ব স্পর্শ না করে।


বাণী চিরন্তন


মধুর ব্যবহার লাভ করতে হলে মাধুর্যময় ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসতে হয়। -উইলিয়াম উইন্টার।


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

মহৎ মানুষেরা বিধাতার কল্পনার চমৎকার ফসল।


-পি জে বেইলি।


 


 


 


প্রত্যেক কওমের জন্য একটি পরীক্ষা আছে এবং আমার উম্মতদের পরীক্ষা তাদের ধন-দৌলত।


 


 


ফটো গ্যালারি
টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না কোটিপতি ছেলের মা!
বিশেষ প্রতিনিধি
৩১ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ছেলে স্পেন প্রবাসী, বর্তমানে কোটিপতি ব্যবসায়ী। অথচ কোটিপতি এ ছেলের বয়ঃবৃদ্ধা মা টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে হাপিত্যেশ করছেন। নিরূপায় হয়ে অসহায় ওই বৃদ্ধা মা তার একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশে চলমান দুঃসময়ে মায়ের প্রতি একমাত্র ছেলের নিষ্ঠুর এই আচরণের ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কেরোয়া গ্রামে।



খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেরোয়া গ্রামের মৃত লোকমান হোসেন খানের ছেলে শহীদ উল্লা খান। উপজেলা সদরে একটি ফার্মেসী ছিলো লোকমান খানের। সবার কাছেই তিনি লোকমান ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার এক ছেলে তিন মেয়ে। একমাত্র ছেলে শহীদ উল্লাকে বিদেশে পাঠান। বর্তমানে শহীদ উল্লা স্পেনে থেকে ইলেক্ট্রনিঙ্ সামগ্রীর ব্যবসা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঢাকায় ও গ্রামের বাড়িতে রয়েছে তার অঢেল সম্পত্তি। গত প্রায় তিন বছর পূর্বে লোকমান ডাক্তার মারা যাওয়ার পূর্বে শহীদ উল্লা বিভিন্ন ছলচাতুরি করে বাবার কাছ থেকে সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় বলে তার মায়ের অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এরপর থেকেই শহীদ উল্লা তার বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ-খবর নেয়া থেকে দূরে সরে পড়েন।



সরেজমিনে শহীদ উল্লার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাকা ভবনে এক মেয়ে মনোয়ারা বেগম তার জামাতা হাসানকে নিয়ে বসবাস করছেন। পা্যরালাইসিসে বৃদ্ধা মায়ের শরীর অবশ হয়ে আছে। কারো সাহায্য ছাড়া চলতে পারছেন না বৃদ্ধা মা রোশনারা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে অনেকটাই হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।



রোশনারা এ প্রতিনিধিকে বলেন, যে ছেলেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি, সেই ছেলে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর বর্তমানে আমার দুঃসময়ে খোঁজ নেয়া থেকে দূরে সরে থাকবে তা কখনোই কল্পনা করিনি। তিনি আরো বলেন, ফরিদগঞ্জ বাজারে থাকা আমার ৮টি দোকানের ভাড়া নেয়াও কৌশলে বন্ধ করেছে। বর্তমানে স্পেনে থাকা আমার কোটিপতি ছেলে তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার পিংকি ও এক সন্তান নিয়ে আনন্দ উল্লাসে থাকলেও আমি এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পেয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।



শহীদ উল্লারই এক বোন মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ভাই কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও আমার মা আজ টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। এ কথা শুনে সবাই হতবাক হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছে না।



শহীদ উল্লার বাড়িরই জনৈক মোঃ হেলাল সহ ক'জন এলাকাবাসী বলেন, এক সময়ে শহীদ উল্লার সেবা-যত্ন করার জন্য এ বাড়িরই এক মহিলাকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মায়ের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে মাকে তার কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে শহীদ উল্লারই এক বোন মনোয়ারা তার স্বামীর বাসা ছেড়ে এক বছর আগে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন। বোনের উপর রাগ করেই একটি সুবিধাভোগী মহলের ইন্ধনে মূলত শহীদ উল্লা তার মায়ের খোঁজ-খবর নিচ্ছে না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।



এ বিষয়ে স্পেন প্রবাসী শহীদ উল্লার বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শহীদ উল্লা তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানায়, মায়ের সাথে থাকা তার বোন মনোয়ারা কেনো তার প্রাপ্য ওয়ারিশের ১২ শতাংশ সম্পত্তি বিক্রি করো দিলো। এতেই রাগে-অভিমানে শহীদ উল্লা বাড়িতে থাকা বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ-খবর নেয়া ছেড়ে দিয়েছে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৭২০৪
পুরোন সংখ্যা