চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৪। যখন উহারা প্রতিশ্রুত শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, বুঝিতে পারিবে, কে সাহায্যকারীর দিক দিয়া দুর্বল এবং কে সংখ্যায় স্বল্প।


২৫। বল, 'আমি জানি না তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা কি আসন্ন, না আমার প্রতিপালক ইহার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করিবেন।'


 


 


assets/data_files/web

ভিক্ষাবৃত্তি পতিতাবৃত্তির চেয়েও খারাপ।


-লেলিন।


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


বাবা এং সদ্য হারানো বোনের স্মৃতির সাথে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় কিশোরী স্মৃতি
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
০২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পিতা প্রবাসে জীবন কাটানোর পর ঢাকার কাওরান বাজারে যখন ব্যবসা বাণিজ্য করেছেন সেই সুখময় দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। মা মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের পর বাবার দ্বিতীয় বিয়ে। তার কিছুদিনের মধ্যে বাবার চলে যাওয়া দেখেছে বর্তমানে গল্লাক নোয়াব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী স্মৃতি। এরই মাঝে প্রতিবন্ধী ভাইটি পানিতে ডুবে মারা যায়। সর্বশেষ গত ২৬ জুন তার একমাত্র বড় বোনও স্বামীর সাথে ঝগড়া করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার ফলে পুরো পরিবারের একমাত্র জীবিত সুস্থ সদস্য এই স্মৃতি। এসব হারানো স্মৃতির সাথে তার প্রতি যুক্ত হয়েছে চাচা-চাচীদের রূঢ় আচরণের শঙ্কা। কী করবে সে কোথায় যাবে এ নিয়ে ছোট্ট এই কিশোরী শঙ্কায় থাকলেও লেখাপড়া করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। বর্তমানে রূঢ় আচরণ থেকে বাঁচতে খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে সে।



স্মৃতি আক্তারের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাগপুর গ্রামে। ওই গ্রামের চৌধুরী বাড়ির মরহুম আঃ মালেকের মেয়ে সে। স্মৃতির খালু গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারকেলতলা গ্রামের মোঃ আবু তাহের পাটওয়ারী ও মামা জাকির হোসেন জানান, স্মৃতির বাবা আঃ মালেক কাতার প্রবাসী ছিলেন। তার অন্য তিন ভাই কাশেম, কামাল, কালাম বাড়িতে থাকতেন। এক সময় আঃ মালেক দেশে এসে ঢাকায় কারওয়ান বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। তবে এক ছেলে দুই মেয়ে মেহেরুন্নেছা প্রীতি ও স্মৃতিকে নিয়ে তার স্ত্রী রিনা আক্তার বাড়িতেই বসবাস করতেন। তারা অভিযোগ করেন, ভাইয়ের অর্থ ও সম্পত্তির উপর দৃষ্টি থাকায় আঃ মালেকের ভাইয়েরা মালেকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলে তাকে বিভ্রান্ত করতো। এসব কারণে এক সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রিনা আক্তার। ফলে এক পর্যায়ে স্বামী আঃ মালেক রিনাকে বিদায় করে দেন। আঃ মালেক দ্বিতীয় বিয়ের পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিছুদিন পর স্মৃতির দ্বিতীয় মাও সংসার ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে মা বেঁচে থাকলেও মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। ফলে তিনি থেকেও নেই।



পিতা ও ভাইকে হারিয়ে বড় বোন মেহেরুন্নেছা প্রীতি খালার বাড়িতে চলে যায়। ছোট বোন স্মৃতি চাচা-চাচীর সাথে থেকেই পড়াশোনা করতো। কিন্তু তার সাথে রূঢ় আচরণ করার কারণে সেটি সইতে না পেরে সেও এক সময়ে খালা পারভীন বেগমের বাড়ি চলে যায়। বর্তমানে সে গল্লাক নোয়াব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।



এক সময় খালা পারভীন বেগম সামাজিকভাবে মেহেরুন্নেছা প্রীতিকে উপজেলার ৬নং গুপ্টি ইউনিয়নের হোগলী পাটওয়ারী বাড়ির সজিব পাটওয়ারীর সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় প্রীতির চাচাদেরকে অবহিত করলেও তারা তাদের কোনো সহযোগিতা করতে আসেনি। এমনকি কখনো খোঁজও রাখেনি। কিন্তু বিয়ের এক বছরের মাথায় গত ২৬ জুন দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হওয়ার পর প্রীতি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই দিনই বড় বোন প্রীতির লাশের সামনে থেকে ছোট বোন স্মৃতিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চাচা-চাচীরা। এ সময় স্মৃতি চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।



স্মৃতির খালু ও মামা অভিযোগ করে বলেন, আঃ মালেকের ঢাকায় ২টি প্লট, ৫ কাঠা জায়গা, বাড়ির বিশাল সম্পদ সব কিছুই তাদের দখলে। এখন ছোট মেয়ে স্মৃতিকে তাদের কব্জায় নিলে সবকিছু তাদের। তাই তাকে নেয়ার জন্য বিভিন্ন পাঁয়তারা করছে।



সব হারানো ভাগ্য বিড়ম্বিত স্মৃতি আক্তার জানায়, চাচা-চাচীরা আমাকে মারধর করতো, ঠিক মতো খেতে দিতো না, পড়ালেখা করতে দিতো না, শুধু কাজ করাতো। তাই আমি স্কুল থেকে পালিয়ে খালার বাড়িতে চলে যাই। আমার একমাত্র বোন ছিল, সেও চলে গেল, আমি এখন বড়ই একা। খালাই আমার সব। আমি কখনো চাচা-চাচীদের কাছে যাবো না। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, আমি শুনেছি আমার বাবার অনেক সম্পদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে কীভাবে আছে আমি কিছুই জানি না। আমি যদি সঠিক মালিক হয়ে থাকি একদিন ফিরে পাবোই। আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করি।



এ ব্যাপারে স্মৃতির চাচা আবুল কাশেম পাটওয়ারী জানান, তাদের বাবার মৃত্যুর পর আমাদের কাছেই থাকতো প্রীতি ও স্মৃতি। আমাদের না জানিয়ে স্কুল থেকে তার খালার বাড়িতে চলে যায়। আমরা আনতে গেলেও তারা না আসায় আমরা আর খোঁজ-খবর নেইনি। তবে আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সঠিক নয়।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৫৭২২৮
পুরোন সংখ্যা