চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৪। যখন উহারা প্রতিশ্রুত শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, বুঝিতে পারিবে, কে সাহায্যকারীর দিক দিয়া দুর্বল এবং কে সংখ্যায় স্বল্প।


২৫। বল, 'আমি জানি না তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা কি আসন্ন, না আমার প্রতিপালক ইহার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করিবেন।'


 


 


ভিক্ষাবৃত্তি পতিতাবৃত্তির চেয়েও খারাপ। -লেলিন।


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
কোভিড-১৯ হেল্পলাইন ইউএইচএফপিও চাঁদপুর সদর ফেসবুক লাইভ
আমাদের বাবা যে সম্পদ রেখে গেছেন তা কোনোভাবে অর্থমূল্যে দাঁড় করানো যায় না
---------শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
০৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


"আমরা সেখানেই যাই, এখনো আমাদের বাবার নামেই বহু মানুষ আমাদের বলে 'ও তুমি ওয়াদুদ সাহেবের মেয়ে! তুমি ওয়াদুদ সাহেবের ছেলে! এবং যখন আমাদের বাবার সম্পর্কে অসম্ভব সব সুন্দর ভালো কথা বলেন, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান, তখন সত্যি গর্বে বুক ভরে উঠে যে, এমন একজন মানুষের সন্তান হওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। কাজেই আগামীকাল (১ আগস্ট) তাঁর ৯৫তম জন্মদিন। আমি আপনাদের সবার প্রতি আমার ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।"



১ আগস্ট প্রয়াত বাবার ৯৫তম জন্মদিনকে সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই রাতে একটি ফেসবুক পেইজের লাইভে এসে এভাবেই গর্বিত পিতাকে নিয়ে গর্বিত সন্তান শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি স্মৃতিচারণ করলেন। যদিও তাঁর বাবার বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময় জীবনের কিয়দংশ মাত্র ছিলো ওই স্মৃতিচারণে।



গত ৩১ জুলাই শুক্রবার ঈদুল আজহার রাতে কোভিড-১৯ হেল্পলাইন ইউএইচএফপিও চাঁদপুর সদর নামে ফেসবুক পেজে লাইভে এসে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি একটানা এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট আলোচনা করেন। এই ফেসবুক পেইজের নিয়ন্ত্রক সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, করোনা জেনারেল খ্যাত ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনের উপস্থাপনায় এই লাইভ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।



ডাঃ দীপু মনি তাঁর এই দীর্ঘ প্রাণবন্ত আলোচনায় তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা তথা চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার জনগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তিনি বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। দীর্ঘ এই আলোচনায় উঠে আসে চাঁদপুরে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রেক্ষাপট, সরকারি জেনারেল হাসপাতালে হাই ফ্লো নেজেল ক্যানুলাসহ সেন্ট্রাল অঙ্েিজন প্লান্ট স্থাপন, ডাঃ দীপু মনির গর্বিত পিতা ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদের বর্ণাঢ্য জীবন এবং করোনাকালে চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাপক খাদ্যসহায়তা প্রদান, করোনাভাইরাসকে মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতাসহ আরো নানা বিষয়।



উপস্থাপক ডাঃ পলিন চাঁদপুরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনে শিক্ষামন্ত্রী নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যয়কে বিরল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আসলে এটাকে আমি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছি না। আমি এটিকে মানবসেবার জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা হিসেবেই দেখছি। তিনি বলেন, বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে যখন আমরা দেখলাম চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অঙ্েিজনের অভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তখন এখানে সেন্ট্রাল অঙ্েিজন প্লান্ট স্থাপনের বিষয়ে ভাবতে লাগলাম আমি এবং আমার ভাইয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু। আমরা দুজনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই আমাদের ভাই-বোনের অর্থে চাঁদপুরে সেন্ট্রাল অঙ্েিজন প্লান্ট স্থাপন হবে। আর এটি হবে আমাদের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে। এদিকে একই সময় চাঁদপুরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা প্রসঙ্গে চাঁদপুরে ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি নেত্রীকে বলি। এতে আমার সঞ্চয়পত্রের অর্থ ব্যয় করার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীকে বলি। তখন নেত্রী বললেন, তিনিও এখানে সহযোগিতা করবেন। তখন আমি তাঁকে তাঁর সহযোগিতাকে আশীর্বাদ হিসেবে নেই। সহজ হয়ে গেলো আমার পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়টিও। এক্ষেত্রে আমাকে পুরোপুরি সাপোর্ট করার জন্যে এগিয়ে আসে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি। এভাবেই চাঁদপুরে সেন্ট্রাল অঙ্েিজন প্লান্ট এবং আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন হয়ে গেলো। এখন চাঁদপুরের মানুষ দিনের রিপোর্ট দিনেই পেয়ে যাচ্ছে। আর অঙ্েিজনের উপকারিতাও পাচ্ছে জন্য।



শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি তাঁর বাবা ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমাদের বাবা-মায়েরা তো সন্তানের জন্যে কিছু না কিছু সম্পদ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে অর্থে আমাদের বাবা-মা আমাদের জন্যে ঢাকা শহরে হয়তো শুধুমাত্র একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই রেখে গেছেন। তবে তার চেয়েও বড় যে সম্পদ আমাদের বাবা আমাদের জন্যে রেখে গেছেন, এ সম্পদকে কোনোভাবে কোনো ধরনের অর্থমূল্যে দাঁড় করানো যায় না। সেটি অমূল্য। আমার বাবা যে সম্মান, সুনাম, সততা ও ত্যাগের বড় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তার সন্তানদের জন্যে এর চেয়ে বড় কোনো সম্পদ হতে পারে না।



ডাঃ দীপু মনি তাঁর বাবার সংগ্রামী জীবনের উপর আলোচনা রাখতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে এমন কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম ছিলো না যেখানে তাঁর বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো না। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা ছিলো। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা দিবসের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আমার বাবা তখন যুবনেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সচিবালয় ঘেরাও করা হয়। তখন পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমার বাবাসহ তাঁর সাথে থাকা সহযোদ্ধারা সচিবালয়ের গেটের সামনে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। আর তখন পুলিশের গাড়ি এসে চাপা দিলে আমার বাবার পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। বাবাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরই মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকা এসে এয়ারপোর্টে নেমে অন্যান্য সময়ের মতো আমার বাবাকে না দেখে তাঁর খোঁজ করেন। তখন তিনি জানতে পারেন এমএ ওয়াদুদ হাসপাতালে। এ কথা জানার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গাড়ি নিয়ে সোজা হাসপাতালে চলে যান আমার বাবাকে দেখতে। প্রধানমন্ত্রী হয়ে একজন ছাত্রনেতা যুবনেতাকে দেখতে হাসপাতালে চলে যাওয়া, এতেই বুঝা যাচ্ছে তিনি আমার বাবাকে কতটুকু স্নেহ করতেন। দীপু মনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে আমার বাবা বহুবার জেল খেটেছেন। আমরা মায়ের সাথে বাবাকে দেখতে যেতাম জেলখানায়। এমন বহু স্মৃতি আছে আমার বাবার সংগ্রামী জীবনের। ডাঃ দীপু মনি তাঁর বাবার এসব স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে যান। তিনি তাঁর বাবার জন্মদিনের বিষয়টি লাইভ অনুষ্ঠানে তুলে ধরায় উপস্থাপক ডাঃ পলিনকে ধন্যবাদ জানান।



উল্লেখ্য, ঈদুল আযহার রাতে অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত এ লাইভ অনুষ্ঠানটি বিশেষ আকর্ষণীয় ছিলো। চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের অসংখ্য মানুষসহ দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও শিক্ষামন্ত্রীর এই লাইভ অনুষ্ঠানটি খুব আগ্রহের সাথে দেখেন। শিক্ষামন্ত্রী এই লাইভের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণসহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৮৪১৬
পুরোন সংখ্যা