চাঁদপুর, শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৪। যখন উহারা প্রতিশ্রুত শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, বুঝিতে পারিবে, কে সাহায্যকারীর দিক দিয়া দুর্বল এবং কে সংখ্যায় স্বল্প।


২৫। বল, 'আমি জানি না তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা কি আসন্ন, না আমার প্রতিপালক ইহার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করিবেন।'


 


 


 


ভিক্ষাবৃত্তি পতিতাবৃত্তির চেয়েও খারাপ। -লেলিন।


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মোহনপুর বোরোপিটে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে মাছ ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা
মতলব উত্তর প্রতিনিধি
০৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর অতিবৃষ্টির কারণে চলমান বন্যায় মতলব উত্তরের মোহনপুর বোরোপিট ১, ২, ৩ ও ৪ ফিশারির মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বোরোপিটের দলনেতা আহসান উল্লাহ হাসান। ৫ আগস্ট বুধববার রাতে হঠাৎ বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফিশারির মাছ পানিতে ভেসে যায়।



বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মোহনপুর ইউনিয়নের মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বোরোপিট ফিশারির প্রজেক্ট দলনেতা আহসান উল্ল্যাহ হাসান জানান, মোহনপুর মৌজায় সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে এলাকার যুবসমাজকে সাথে নিয়ে ৯ একর জমির মধ্যে ৪টি বোরোপিটে রুই, মৃগেল, কাতলা, কার্প, ব্রিগেড মাছ চাষ করি। কিন্তু মাছ বিক্রির পূর্বেই অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পানি ফিশারির বাঁধের উপর দিয়ে ঢুকে সব মাছ পানির সাথে চলে যায়। বন্যায় আমাদের মতো প্রান্তিক মৎস্য চাষীরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ আমাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। আমরা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো? আমাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।



সাবেক ছাত্রনেতা বোরোপিটের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, জননেত্রীর মাছে ভাতে বাঙালি ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে আমরা শিক্ষিত বেকার যুবকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খননসহ মৎস্যচাষের উৎসাহ দিয়ে কাজ করে আসছি। ভাগ্যের পরিহাস, আজকে আমাদের সকলের কপালে হাত। কিন্তু বন্যায় সব ক্ষেত্রে ক্ষতিপূূরণ দেওয়া হলেও মৎস্য খামারিদের ক্ষতিপূূরণ দেওয়া হয় না। এবারের বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া গেলে তারা মাছচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তিনি মৎস্য অধিদপ্তরসহ সরকারের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং এই খাতে প্রণোদনাসহ আর্থিক সহযোগিতা করলে যুবসমাজ উৎসাহ ও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তিনি।



মৎস্য চাষী কাজী মতিন বলেন, কল্পনার মধ্যেও ছিলো না, এতো দূরের বন্যা এ এলাকায় আসবে। নিজের ও এলাকার যুবকদের পরিশ্রমে মৎস্য প্রজেক্টটি গড়ে তুলেছি। রাত-দিন খামার নিয়েই থেকেছি। খামারে বিশাল আকারের ৪টি পুকুর ছিলো। বড় বড় মাছ ছিলো সেসব পুকুরে। ৪টি পুকুরে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ ছিলো। কিছুদিন পরেই পুকুরের মাছ বিক্রি করতাম। কিন্তু কে জানতো তার এমন সর্বনাশ হবে। এক রাতের মধ্যে বন্যার পানিতে পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। মাছের জন্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার খাবার ছিলো। সেটাও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। সব মিলে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।



কাজী মতিন আরো বলেন, আমি এখন সর্বস্বান্ত। কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করবো? পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবো সে চিন্তায় এখন আমি দিশেহারা।



মৎস্য চাষী হুমায়ুুন বলেন, বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ার সময় আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পানির এতটা স্রোত ছিলো যে কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। সব মাছ ভেসে গেছে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। বন্যার পানিতে ভেসে চলে গেলো আমার জীবিকার শেষ অবলম্বন। পুকুরে এখন কোনো মাছ নেই। একদম পথে বসে গেছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। আমরা এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো। আমাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।



মৎস্য চাষী সোহাগ বলেন, খামারে ২ কেজি ওজনের বড় মাছসহ প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিলো। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফিশারির মাছ বিক্রি করার কথা ছিলো। তাতে অনেক টাকা লাভ হতো। কিন্তু হঠাৎ বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফিশারির মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।



অফিস সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর বোরোপিট ১, ২, ৩ ও ৪ আগামী ৩ বৎসরের জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে ৩ বছরের জন্যে লীজ নেওয়া হয়। ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরে ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফিশারির খনন কাজ ও ফিশারির বাঁধ নির্মাণ করা হয়।



মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ৪/৫ দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। বন্যার পানিতে মাছচাষীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫১২৭১
পুরোন সংখ্যা