চাঁদপুর, শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর মহাস্মশানে অন্তেস্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে || চাঁদপুর অযাচক আশ্রমের অধ্যক্ষ সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারী আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকার বারডেমে লাইফ সপোর্টে থাকা অবস্থায় পরলোক গমন করেছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৪-সূরা মুদ্দাছ্ছির


৫৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫। পৌত্তলিকতা পরিহার করিয়া চল,


৬। অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না।


৭। এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর।


৮। যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে


 


মানুষের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষকই হল মহৎ ব্যক্তিদের আত্মজীবনী।


-ওরসন স্কোয়ার ফাউলার।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, তিনিই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।


 


 


ফটো গ্যালারি
শোকের আগস্ট শক্তির আগস্ট
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ পিতা হারানোর পনর আগস্ট। আজ বঙ্গমাতা হারানোর ঘাতক পনর আগস্ট। ভাই হারাবার দুর্বহ বেদনার দিন আজ। আজ জাতির স্বপ্ন খোয়ানোর ভয়াবহ দিন। যাঁরা সেই ঘাতক রাতে, শেষ শ্রাবণের গুলির বৃষ্টিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের সকলের পুণ্য স্মৃতিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের পুতঃ পবিত্র সে রক্তধারায় ধুয়ে মুছে যাক বাঙালির জনক হত্যার কলঙ্ক।



মানবসভ্যতার ইতিহাসে আজ এক নৃশংসতম দিন। এমন নৃশংস দিন বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এই ঘাতক আততায়ী দিনের ইতিহাস বাঙালির আত্মঘাতের ইতিহাস, আত্মপীড়নের ইতিহাস। আত্মপীড়নকারী বাঙালি সেই ইংরেজ আমলেই ইংরেজ প্রভুর নির্দেশে নিজের ভায়ের গলায় নিজেই ফাঁসি দিয়েছে। একটুও তার প্রতিবাদ করেনি। এটা বার বার পীড়া দিয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। বাঙালি ভাই হয়ে ভায়ের বুকে গুলি মেরেছে পুলিশের উর্দি পরে। একটুও ভাবেনি স্বাজাত্যবোধের কথা। বঙ্গবন্ধু তাঁর কারাগারের রোজ নামচায় এই আক্ষেপই করে গেছেন তাঁর প্রিয় বাঙালিকে নিয়ে। দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু যে কথা তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে বলে গেছেন আজ হতে অর্ধশত বছরেরও অধিক আগে, সেই নির্মমতাই উন্মত্ত হায়েনারা ঘটিয়ে দিলো স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর সাথে পনর মার্চের কালরাতে।



একজন বঙ্গবন্ধুকে ধারণের ও অনুধাবনের সঠিক ক্ষমতা বাঙালির ছিল না কখনো। বাঙালি না পেরেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে ঠিকমতো বুঝতে, না পেরেছে বঙ্গবন্ধুর চারিত্রমাধুর্যে নিজেকে সুরভিত করে তুলতে। যে মানুষ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের খাতিরে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেননি, সেই মহান মানুষকে বাঙালি আগলে রাখতে পারেনি হায়েনার কবল থেকে। অথচ বঙ্গবন্ধুর মতো একটা নেতা পেলে আজ এগিয়ে যেতো প্যালেস্টাইনীরা, স্বাধীন হয়ে যেতো ক্যাটালানরা। মুজিবের মতো প্রজ্ঞার গভীরতা বিশ্বের কয়টি নেতারই বা ছিল? প্রজ্ঞার অতল গভীরতা ছিল বলেই বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা বলেই বাংলাদেশ বুঝিয়ে গেছেন, নচেৎ রাষ্ট্রদ্রোহের অপবাদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হয়ে যেত সুদূর পরাহত। যে দ্বিতীয় বিপ্লবের বীজ বঙ্গবন্ধু তাঁর মেধায় লালন করে চলেছিলেন, সে স্বপ্নবীজ যদি বঙ্গবন্ধু তাঁর কর্মসূচিতে উপ্ত করে যেতে পারতেন তাহলে বাংলাদেশ হয়ে যেতো আজকের জাপান, এ কথা স্বয়ং জাপানীরাই বলে চলে।



বঙ্গবন্ধুর বাঙালিয়ানা কেউ বুঝতে পেরেছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ তা মনে হয় না। তিনি সাদামাটা এক বাঙালি পরিবারের কর্তা, যেখানে খাবার টেবিলে সবাই বসতো একসাথে। তাঁর পান্তা প্রিয় ছিল, প্রিয় ছিল ব্রতচারী নৃত্য, যেখানে শাশ্বত বাঙালিয়ানার পাঠ দিয়েই খাঁটি মানুষ বানানোর ব্রত ছিলো।



খাঁটি বাঙালির মন নদীর স্রোতের মতোই স্বচ্ছ, ঝর্ণার মতোই নির্মল। বঙ্গবন্ধু এই নির্মল বাঙালি নদীর প্রবহমান ধারা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিলেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো, বঙ্গবন্ধুকে হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন আনোয়ার সাদাত, মার্শাল টিটো, প্রণব মুখার্জীর মতো ধীমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।



বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের দূরদর্শিতা বোঝেনি বলেই এদেশে আজ বিভিন্ন স্বপ্নে পাওয়া তত্ত্বের উদ্গম হয়। অথচ একজন বঙ্গবন্ধুই বুকের রক্ত ঢেলে, জেলে থেকেও বাঙালিকে দিয়ে গেছেন আত্ম পরিচয় এবং আত্ম নির্মাণের ভিত। পনর আগস্ট হয়তো বঙ্গবন্ধুর বুকের রক্ত কেড়ে নিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে মুজিবের প্রাণ; কিন্তু মুজিব বেঁচে আছে আজও নিন্দুকের বিরোধিতায়, সমর্থকের জীবনপণ ভালোবাসায় এবং ইতিহাসের অনিবার্যতায়। পনর আগস্টের এই জনক হারানোর প্রহরে বুকের লাল রক্তগোলাপ দিয়ে আজ অর্ঘ্য সাজাই হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির অমলিন স্মৃতির প্রতি।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৯৭৪২
পুরোন সংখ্যা