চাঁদপুর, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
সিআইপির অভ্যন্তরীণ নদী ও খাল দখলের মহোৎসব
কর্তৃপক্ষের নজর নেই
নূরুল ইসলাম ফরহাদ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সিআইপির অভ্যন্তরীণ বিশেষ করে ফরিদগঞ্জ উপজেলার খালগুলো দিন দিন অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে কর্তৃপক্ষসহ কারোরই নজর নেই। খাল দখল তথা ভরাট হলে অশান্তি বাড়বে সর্বসাধারণের। খাল বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, ফরিদগঞ্জ বাঁচবে। আর ফরিদগঞ্জ বাঁচলে এ অঞ্চলের বসতি বাঁচবে। আস্তে আস্তে, নীরবে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। এই খাল দখলে ওয়াপদা তথা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন ফরিদগঞ্জের কারো কিছু যায় আসে না। কারণ কর্তা ব্যক্তিরা আজ আছে তো কাল নেই। সে অর্থে তাদের তেমন কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না। ক্ষতির সম্মুখীন অথবা অশান্তির পুরোটাই এ অঞ্চলে বসবাসকারী এবং পরবর্তী প্রজন্মকে ভোগ করতে হবে। অবাধ দখলদারিত্বের মাধ্যমে নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারছে।



এ যেনো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের মতো, 'আমি জেনে-শুনে বিষ করেছি পান'। একটু চিন্তা করলে দেখা যায় ঠিকই উপজেলাবাসী বিষ পান করছে। যে বিষ মানুষকে হঠাৎ না মেরে আস্তে আস্তে শেষ করে দিচ্ছে। যে বিষ মানুষকে ক্যানসারের মতো তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। ১০০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দ্বারা সংরক্ষিত চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৫৭ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়ে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বিস্তৃত। এর মধ্যে চাঁদপুর জেলার অংশ ৩১,৩০০ হেক্টর। এর অধিকাংশই ফরিদগঞ্জ উপজেলার। ১৯৬৫ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ২ দফায় কাজ বন্ধ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে পুনরায় কাজ শুরু করে ১৯৭৮ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।



একসময় ফরিদগঞ্জে জালের মতো ছড়িয়ে ছিলো বহু খাল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অবহেলায়, নজরদারির অভাবে বহু খাল দখল হয়ে গেছে। বিগত তিনমাস সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়েও জানা যায়নি, একসময় ফরিদগঞ্জে কতটি খাল ছিলো এবং এখন কতটি খাল কোনো মতে বেঁচে আছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে দু-একটি স্থানে নদী এবং খাল দখলমুক্ত করা হলেও আবারো দখল হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে। মূলত স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব খাল দখল করছে। তারা পরিবেশ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় আনছে না। এটাও ভাবছে না যে, সবার দুর্ভোগ মানে তাদেরও দুর্ভোগ। তাই এখনই সময় দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার করা। ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে খাল ও নদী দখল হচ্ছে। এ যেনো খাল দখলের মহোৎসব। প্রতিযোগিতা দিয়ে খাল এবং নদী দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বহুতল ভবনও করছে। এ যেনো জোর যার মুল্লুক তার। সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের সর্বোচ্চ প্রদর্শন চলছে ফরিদগঞ্জে। কর্তৃপক্ষ যেনো দেখেও না দেখার ভান করছে। অথবা অসহায়। কেউ কেউ এমনও ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে যে, আগে ছিলো বাঁশ-মুলির স্থাপনা, পত্রিকা প্রকাশের পর পাউবোর ব্যবস্থাগ্রহণের ঠিক কয়েকদিন পরেই সেখানে স্থায়ী অর্থাৎ ইটের দালান গড়ে তুলেছে। এসব দখলদারের খুঁটির জোর কোথায়-উপজেলাজুড়ে সচেতন মহলের এমনই প্রশ্ন। অধিকাংশ দখলকৃত স্থানে দোকানঘর করছে। কিছু করছে সমিতিসহ অন্যান্য অফিস। আবার কেউ কেউ খাল দখল করে নামাজের স্থানও গড়ে তুলছে। বিষয়টি কতটুকু ধর্মীয় দিক থেকে সঠিক হচ্ছে তা চিন্তা না করেই গড়ে তুলছে এসব স্থাপনা। আবার কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে নামাজের স্থান করে পরবর্তীতে পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে।



উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ১নং বালিথুবা ইউনিয়নের চান্দ্রাবাজারের প্রবেশমুখ কলেজ রোড হয়ে পূর্ব বাজার নদীর উত্তর পাড় বেশির ভাগ দখল হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। সেকদী রাস্তার প্রবেশমুখ খালের দক্ষিণ পাড় বেশির ভাগ দখল। ২নং বালিথুবায় বালুথুবা বাজার এবং সরখাল এলাকার কাজী বাড়ির সামনের খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ৩নং সুবিদপুরে বাশারা বাজার খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। লক্ষ্মীপুর চৌরাস্তায় এবং আনন্দবাজারে খালের উপর দোকানপাট গড়ে উঠেছে। ৪নং সুবিদপুরে নদী ও খাল দখল করে কামতাবাজার গড়ে উঠেছে। কামতাবাজারের পশ্চিম মাথায় খাল এবং পূর্ব মাথায় নদী দখল হয়ে আছে দীর্ঘ বছর। ৫নং গুপ্টিতে আষ্টাবাজারের অধিকাংশ দোকান খালের উপর। গল্লাকবাজারের বেশকিছু স্থাপনা ডাকাতিয়া নদীর পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে। ৬নং গুপ্টিতে খাজুরিয়াবাজার পূর্ব এবং পশ্চিম মাথায় খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ৭নং পাইকপাড়ায় চৌরঙ্গীবাজার, পাইকপাড়া চৌরাস্তা, আমিরাবাজারের দক্ষিণ পাশে খাল দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ৮নং পাইকপাড়ায় কড়ৈতলী চৌরাস্তা থেকে কড়ৈতলী বাজারমুখী রাস্তার উত্তর পাশের অধিকাংশ দখল। এছাড়াও বটতলী ও দায়চারা এলাকায় খাল দখল করে কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। ৯নং গোবিন্দপুরে উত্তর ধানুয়া ৩নং ওয়ার্ডের স্কীম খাল ভরাটের কারণে ১৫ বছর ধরে বন্ধ। দাসবাড়ি সংলগ্ন খালও দখল হয়ে গেছে। ১০নং গোবিন্দপুরে গোয়ালভাওর বাজারেও দখল সংস্কৃতি চালু রয়েছে। ১১নং চরদুঃখিয়ায় আলোনিয়া গুদারাঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদী দখল করে বহু স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ১২নং চরদুঃখিয়ায় ফিরোজপুরবাজার, বিরামপুরবাজার, গলাকাটাবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে খাল ও নদী দখল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণে কালিরবাজারের দক্ষিণ মাথায় নদী, রমজান আলীর হাজী বাড়ির সামনে খালের উপর, চরবড়ালী বটতলায় ও নূরু চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে খালের উপর স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ১৫নং রূপসা উত্তরে রূপসাবাজার, গাব্দেরগাঁও, বদরপুর, বারপাইকা, মালের ভাংতিসহ বহু এলাকায় খাল দখল করে রেখেছে স্থানীয়রা। চতুরা খাল থেকে পৌরসভার ১৫নং ইউনিয়ন সীমান্ত খালের দক্ষিণ গাব্দেরগাঁও অংশের বেশকিছু অংশ ভরাট করে ফেলছে স্থানীয়রা। খালের সে অংশ এখন কৃষি জমি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ১৬নং রূপসা দক্ষিণে বর্ডারবাজার, গঙ্গাজলী খাল দখল করে বহুতল ভবনও তৈরি হচ্ছে। ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় ডাকাতিয়া নদী, চতুরা খাল, মিরপুর খাল দখল হয়ে আছে বহু বছর ধরে।



সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সামাধান দেখছেন না সচেতন মহল। এ বিষয় নিয়ে যারা চিন্তা করছেন, তারা ফরিদগঞ্জকে বাঁচাতে অতি দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তেক্ষেপ কামনা করছেন।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৭-সূরা মুর্সালাত


৫০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। ওযর-আপত্তি রহিতকরণ ও সতর্ক করার জন্য


৭। নিশ্চয়ই তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা অবশ্যম্ভাবী।


৮। যখন নক্ষত্ররাজির আলো নির্বাপিত হইবে,


 


যে ব্যাপারকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা আমার নেই, তা নিয়ে আমি কখনো ভাবি না।


-বুথ টাসিংটন।


 


 


 


আল্লাহর আদেশ সমূহের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি প্রদর্শন এবং যাবতীয় সৃষ্ট জীবের প্রতি সহানুভূতি-ইহাই ইসলাম।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০১৯১১
পুরোন সংখ্যা