চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৮-সূরা নাবা'


৪০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৩। সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী।


৩৪। এবং পূর্ণ পানপাত্র।


৩৫। সেথায় তাহারা শুনিবে না অসার ও মিথ্যা বাক্য;


৩৬। ইহা পুরস্কার, যথোচিত দান তোমার প্রতিপালকের,


 


assets/data_files/web

সংসারে কারো ওপর ভরসা করো না, নিজের হাত এবং পায়ের ওপর ভরসা করতে শেখো।


-শেক্সপিয়ার।


 


 


 


নম্রতায় মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় আর কড়া মেজাজ হলো আয়াসের বস্তু অর্থাৎ বড় দূষণীয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
আজ চাঁদপুর পৌরসভার ১২৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
আগামী ১০ অক্টোবর পৌরসভা নির্বাচনের শতবর্ষ পূর্তি! বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের প্রতীক্ষায় পৌরবাসী
রাসেল হাসান
০১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর আজকের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় চাঁদপুর পৌরসভা। সে হিসেবে আজ চাঁদপুর পৌরসভার ১২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার বহুল প্রত্যাশিত ও পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পর ১৯২০ সালের ৪ জুন। ১শ' বছর পর ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রত্যাশিত সেই নির্বাচন!



বিগত ১২৪ বছরের ইতিহাসে কাকতালীয়ভাবে কখনোই অক্টোবর মাসে নির্বাচন হয়নি চাঁদপুর পৌসভার। এই প্রথম অক্টোবর মাসে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে কে হচ্ছেন শতবর্ষী পৌরসভাটির পৌর পিতা। শুধুই কি তাই? এমন ঐতিহাসিক একটি নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চাঁদপুরের তুখোড় দুই ছাত্রনেতা। প্রতিহিংসা নয় বরং নির্বাচনী ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে কিভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যায় একের পর এক তার নজির স্থাপন করে চলছেন আসন্ন পৌর নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল ও আক্তার হোসেন মাঝি। পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে সমান তালে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই পীরের দল) সমর্থিত মামুনুর রশিদ বেলাল।



১৮৭৮ সালে চাঁদপুর মহকুমা গঠিত হওয়ার পর রেলওয়ে বিভাগের সাহেবদের আনাগোনা, ২২টি বিখ্যাত পাট কোম্পানির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ইত্যাদি কারণে মেঘনা-ডাকাতিয়ার মিলনস্থলের উভয় প্রান্তে চাঁদপুর লোকালয়ে একটি পৌরসভা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। তারই ফলস্বরূপ মহকুমা স্থাপনের ১৮ বছর পর ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের শাখা লাইনটি স্থাপনের ১১ বছর পর সরকারি আদেশে ১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর চাঁদপুর প্রথমে 'গ' শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে।



প্রতিষ্ঠাকালীন পৌর পরিষদের সদস্য ছিলো মাত্র ৯জন। ৪ জন ইংরেজ ও ৫জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির নিয়ে গঠিত হওয়া তৎকালীন পৌর পরিষদের ব্যক্তিগণ সকলে ইংরেজ ভাইসরয় কর্তৃক নিযুক্ত হতেন। পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র হোল্ডিং ট্যাঙ্ প্রদানকারীগণের সরাসরি ভোটে পৌর পরিষদ নির্বাচিত হতো। তার কিছু সময় পর হোল্ডিংয়ে বসবাসকারী আবাসিকদের মধ্যে যারা নূ্যনতম এন্ট্রান্স পাস ছিলেন তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতেন এবং ভোট প্রদান করতে পারতেন।



১০ অক্টোবর ভোট প্রয়োগের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর পৌরসভার ভোটাধিকার প্রয়োগের শতবর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। ১৮৯৬ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও পৌরসভার নাগরিক প্রথম ভোট দিতে পারেন ১৯২০ সালে। এর আগে কোনো ভোটের ব্যবস্থা ছিল না। পৌর পরিষদ ইংরেজ ভাইসরয় কর্তৃক নিযুক্ত হত। পৌরসভা নির্বাচিত নাগরিক, যাদের ভোটাধিকার ছিল তাদের ভোটে ১৯২০ সালের ৪ জুন রমণী মোহন রায় প্রথম এ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।



দীর্ঘ ১২৬ বছরের বিশেষ সময়ে বেশ কয়েকজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম চেয়ারম্যান রমণী মোহন রায় সহ মোট ১১ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে। সবশেষ একাদশ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি ২০০৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের ১৪ মে পর্যন্ত এই পৌরসভার সর্বশেষ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করে প্রথম মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চাঁদপুর পৌরসভার ১১জন চেয়ারম্যান ও ১ জন মেয়রের মধ্যে তিনিই হচ্ছেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে লাগাতার দায়িত্বপালন করছেন। এর আগে দ্বিতীয় চেয়ারম্যান মধুসূদন রায় ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন। অতীত সমীকরণ অনুসারে ১০ অক্টোবর আসন্ন নির্বাচনে শতবর্ষ পরের ভোট উৎসবের মধ্য দিয়ে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি হবেন ব্যক্তি হিসেবে ২য় মেয়র ও নির্বাচিত দ্বাদশ শীর্ষ পৌর জনপ্রতিনিধি।



বহুল কাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সমর্থিত সাবেক ছাত্রনেতা আক্তার হোসেন মাঝি। তাঁদের সাথে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল।



চাঁদপুর পৌরসভার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে মেয়র হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন জিল্লুর রহমান জুয়েল। অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহামন জুয়েল বর্তমানে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী হিসেবে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। চাঁদপুরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ অনেকেই মনে করেন, শিবির অধ্যুষিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করা ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে বিতর্কের ঊধর্ে্ব থেকে একজন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যে ভূমিকা তিনি রেখেছেন তারই পুরস্কার হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান তিনি। করোনাকালীন লকডাউনে জিল্লুর রহমান জুয়েল মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য ও ঔষধ সামগ্রী পেঁৗছে দিয়ে বেশ প্রশংসিত হন। পেশায় আইনজীবী জুয়েল ক্লিন ইমেজের জন্যে চাঁদপুর সদরের এমপি, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং দীর্ঘদিন তাঁর ঘনিষ্ঠ সানি্নধ্যপ্রাপ্ত একজন।



পৌর নির্বাচনের অপর প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি। ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোঃ সফিকুর রহমান মারা যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় মনোনয়ন পেলেন তিনি। আক্তার হোসেন মাঝি ১৯৮৬ সালে চাঁদপুর শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতায় ১৯৮৭ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত ভিপি হয়েছেন আক্তার হোসেন মাঝি। ১৯৯২ সালে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। পৌরসভাকে ঘিরে আক্তার হোসেন মাঝির রাজনৈতিক দীর্ঘ পথচলা ঘটলেও কখনো এর অপব্যবহার করেছেন বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেনি। দলীয়ভাবে নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন দীর্ঘ সময় ধরে।



পৌর নির্বাচনের অপর প্রার্থী চরমোনাই থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত মামুনুর রশিদ বেলাল। তিনি ১৯৭৬ সালে চাঁদপুর বাবুরহাট কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটওয়ারী, এমপি আলম খান তার সহপাঠী ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ চলাকালে সে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতার সপক্ষে ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি চরমোনাই দরবার শরীফে গিয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র বাংলাদেশ-এর নীতি ও আদর্শের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেন। সেখান থেকে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সদস্য পদ লাভ করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা কমিটির সদস্য, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে দলটির জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সততা বিবেচনায় দলটির নীতিনির্ধারক ফোরাম তাকে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনীত করেন।



বর্তমান নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নির্বাচন মানেই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি অভিযোগ, ব্যক্তি আক্রমণ করে বক্তব্য আর সমর্থকদের হামলা ঘটনা থাকলেও চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের চিত্র পুরোই বিপরীত। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল ও দেশের বৃহত্তর বিরোধী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি নির্বাচনটিকে নিয়েছেন ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে। উভয় প্রার্থীই উভয়কে সমীহ করে সম্মান দিয়ে কথা বলছেন। নির্বাচন অফিসের সামনে সৃষ্ট সংঘর্ষ চলাকালে আক্তার মাঝিকে সাথে নিয়ে নিরাপদে তাঁর বিপণীবাগস্থ কার্যালয়ে পেঁৗছে দিচ্ছেন, জেলা বিএনপি অফিসের সামনে সাঁটানো নৌকার প্রচার সামগ্রী সরাচ্ছেন এবং আক্তার মাঝির অফিসে গিয়ে চরম সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে চলছেন। একদলের নেতা অন্য দলের ব্যানার লাগাতে সহযোগিতা করার ঘটনাও ঘটেছে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে। ইসলামী শাসনতন্ত্র বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলালও তার নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রতিহিংসার ঊধর্ে্ব থেকে। উভয় প্রার্থীরই প্রত্যাশা বিজয়ী যিনিই হবেন তিনি কোন দলের হয়ে নয় কাজ করবেন সমগ্র চাঁদপুরের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য।



চাঁদপুর পৌরসভার ১২৪ বছর পূর্তি ও ভোটগ্রহণের শতবর্ষী সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, শত বছরের পৌরসভাই সারা বাংলাদেশে হাতে গোণা কয়েকটি আছে। সেখানে চাঁদপুর পৌরসভার বয়স ১২৪ বছর। এ পৌরসভার একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিষয়টি আমার জন্য গর্বের। শতবর্ষের অধিক সময়ের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতাকে অন্তরে লালন করে আমি এ পৌরসভায় একটি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়তে চাই।



নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, এই প্রথম চাঁদপুরে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি উপহার স্বরূপ। কাজেই সেই নির্বাচন যেন বিতর্কিত না হয়, সে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য যা কিছু করণীয় তার সবটুকুই করার জন্য আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো। যেহেতু আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী, তাই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হলে আমার ও আমার দলের নৈতিক জয় ঘটবে বলে আমি মনে করি।



'ভোটের পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহারের যে নজির তিনি স্থাপন করেছেন তা ভোটের দিন বা ভোটের পরে থাকবে কি-না' এমন প্রশ্নের জবাবে জিল্লুর রহমান জুয়েল জানান, আমি যেহেতু ভোটের পূর্বেই কে কোন্ দলের তা দেখিনি ভোটের দিন বা ভোটের পরেও তা দেখবো না। আমি মনে করি প্রত্যেকেই আমার ভোটার। আমাকে আমার দল মনোনয়ন দিয়েছে ঠিকই, তবে আমি নির্বাচিত হলে শুধু একটি দলের মেয়র হবো না, সকল পৌরবাসীর মেয়র হবো। দল মত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবো।



এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, প্রথমেই ধন্যবাদ রজতজয়ন্তি পূর্ণ করা চাঁদপুরের প্রথম দৈনিক পত্রিকা চাঁদপুর কণ্ঠকে। আমি মনে করি চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আমার জয়লাভ হবে আমার ২৬ বছরের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও স্বীকৃতি। ১২৪ বছরের এই পৌরসভাটির দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিক সেবাকে নাগরিকের বাড়ি বাড়ি পেঁৗছে দিতে আমি কাজ করবো। পৌরপিতা হিসেবে নয় পৌরবন্ধু হিসেবে জনগণের সেবা করার জন্যই আমি পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছি। আমার রাজনীতির পুরো সময়টাই ছিলো চাঁদপুর পৌরসভা কেন্দ্রিক। কাজেই এ পৌরসভার মাটি ও মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, আক্ষেপ ও আকাঙ্ক্ষা আমি জানি। তা আমি পূরণ করতে পারবো বলে দৃঢ় বিশ্বাস করি।



নির্বাচনী পরিবেশ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, আমি আশা করি ১০ তারিখে চাঁদপুর পৌরসভায় জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের উৎসব করবে। ভোট উৎসবের মধ্য দিয়ে আমি বা জিল্লুর রহমান জুয়েল যেই জয়ী হই না কেন তা আমরা হাসিমুখে মেনে নিবো। ১০ তারিখের পর আমরা দু'জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম তা ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ফের মিলিত হবো।



এ বিষয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র বাংলাদেশের প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল বলেন, চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ আমাদের মূল্যায়ন করার জন্য। চাঁদপুর পৌরসভার ১২৪ বছর পূর্ণ হলেও পৌরসভা যে পরিমাণ উন্নয়ন হওয়ার কথা সে পরিমাণ হয়নি। পৌরসভার শাখা সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা, যানজটে অচল করে রাখা, সড়ক বাতির খুঁটিতে বাতি না থেকে পাখির বাসা জানান দেয় পৌরসভা তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। এমন একটি পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটাতে হলে একজন আল্লাহওয়ালা, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন। ইনশআল্লাহ আগামী ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার ভোটাররা যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, নির্বাচনী পরিবেশ বজায় থাকে তবে পৌরবাসী তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই মনোনীত করতে পারবে।



বর্তমান নির্বাচনের সৌহার্দ্য পূর্ণ পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল অত্যন্ত ভালো মানুষ, ধানের শীষ প্রতীকের আক্তার হোসেন মাঝিও ভালো মনের অধিকারী। আমাদের হাতপাখার সমর্থকদের মধ্যেও কোনো প্রকার প্রতিহিংসা নেই। তাই এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রার্থীদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রয়েছে। আমি আশা করি ভোটের দিন ও ভোট পরবর্তী সময়েও ভ্রাতৃত্বের এ বন্ধন বজায় থাকবে। আমরা একটি ভোট উৎসব দেখতে চাই। যে উৎসবের মাধ্যমে যে-ই জয়ী হোক বিজিত প্রার্থীরা যেন তাকে হাসিমুখে অভিনন্দন জানাতে পারে।



চাঁদপুর পৌরসভার ১২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পৌর নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের শতবর্ষ পূর্তিতে ১০ অক্টোবর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের ভোট বিপ্লব ঘটবে, ভোটার পাবে নির্বাচনী আমেজ, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন আগামী দিনের পৌরপিতা এমন আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা এখন চাঁদপুর পৌরসভার সকল সচেতন নাগরিকের।


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫০০৯৮
পুরোন সংখ্যা