চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৮-সূরা নাবা'


৪০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৩। সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী।


৩৪। এবং পূর্ণ পানপাত্র।


৩৫। সেথায় তাহারা শুনিবে না অসার ও মিথ্যা বাক্য;


৩৬। ইহা পুরস্কার, যথোচিত দান তোমার প্রতিপালকের,


 


assets/data_files/web

সংসারে কারো ওপর ভরসা করো না, নিজের হাত এবং পায়ের ওপর ভরসা করতে শেখো।


-শেক্সপিয়ার।


 


 


 


নম্রতায় মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় আর কড়া মেজাজ হলো আয়াসের বস্তু অর্থাৎ বড় দূষণীয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল
ওয়ার্ডর্গুলো পরিষ্কার করার কেউ নেই!
গোলাম মোস্তফা
০১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর জেলাবাসীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার প্রতিষ্ঠান ২৫০শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আগত রোগীদের জন্য চারতলা ভবনের নিচতলা গাইনী ওয়ার্ডর্ থেকে শুরু করে পুরো বিল্ডিংয়ে রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডর্গুলো দেখলে মনে হয়, এ যেনো আবর্জনা বা ময়লা রাখার জন্য নির্ধারিত রুম। এগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্যে মনে হয় নেই কোনো ব্যবস্থা!



২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চারতলা ভবনের নিচ তলার অর্ধেক জুড়ে রয়েছে প্রসূতি বা গাইনি ওয়ার্ডর্।



দ্বিতীয় তলার অর্ধেক জুড়ে রয়েছে বৈশি্বক মহামারী করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন বিভাগ।



তৃতীয় তলায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে পুরুষ ওয়ার্ড এবং ৪র্থ তলার অর্ধেক জুড়ে রয়েছে নারী ও শিশু ওয়ার্ডর্। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্যে সরকার ওয়ার্ডর্ বয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন।



কিন্তু সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্যার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়ার্ডর্বয় নিয়োগ দিচ্ছেন। যাদের কাজ হবে নার্স এবং ব্রাদার্স বা সেবক-সেবিকাদের পাশে থেকে সহযোগিতা এবং ওয়ার্ডগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব পালন। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে একাধিক ওয়ার্ড বয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার হাসপাতালে গিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখে এবং আলোচনার ভিত্তিতে জানা যায় এমন তথ্য।



এ হাসপাতালে নিয়ম অনুসরণ করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ৫০জন ওয়ার্ডবয় নিয়োগের কাজটি পেয়েছেন মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজ। সরকারি নিয়মে ৮ ঘন্টা ডিউটি করে অস্থায়ী ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনকারীরা মাস শেষে ১৬ হাজার ১শ' টাকা বেতন পাবেন এ শর্তে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি দেয়া হয়।



ঠিকাদাদের পাশাপাশি এ অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছেন সরকারের প্রতিনিধি ওয়ার্ড মাস্টার। যিনি সকলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন এবং সেটি বুঝে নিবেন। কিন্তু কথাটি যেনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। যিনি দায়িত্বে রয়েছেন তিনি নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। আর অফিস ম্যানেজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার নিজের ১০/১৫ জনের নাম রেখে ৫০জন কর্মচারী বহাল রেখে মাস শেষে প্রতি কর্মচারীর বিপরীতে ১৬ হাজার ১০০ টাকা করে বেতন উত্তোলন করছেন।



আর যাদের ওয়ার্ডবয় হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারা হাসপাতালের ওয়ার্ডর্ বয়ের কাজ করছে না সঠিকভাবে। কারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদেরকে মাসে ৩/৪ হাজার টাকার উপরে বেতন দেন না। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীরা তাদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের স্বার্থে ঐ সকল ওয়ার্ড বয়কে ২০/৫০/১০০/২০০ টাকা দিয়ে কিছু সময়ের জন্য ওই স্থানটি পরিষ্কার করে বা বাথরুম পরিষ্কার করিয়ে তারা কোনো রকমে চিকিৎসা সেবা নেন। ফলে দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয়রা কার কাছ থেকে অর্থ পাবেন বা কার কাছ থেকে নগদ বখশিশ পাবেন, সে আশায় তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন না। ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডর্ ময়লা-আবর্জনায় অপরিচ্ছন্ন থাকে। যেখানে একজন সুস্থ মানুষ তার রোগীর সাথে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন বহু অভিযোগ কর্তৃপক্ষের কাছে করেও আজো কেউ তার প্রতিকার পায়নি।



সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আইসোলেশন ওয়ার্ডে যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা, সেটিও একই নোংরা আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।



হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অব্যবহৃত মালামাল এমন অবস্থায় রেখেছে, যে হাসপাতালে রোগী এবং রোগীদের স্বজনরা চলাচল পর্যন্ত করতে অসুবিধা হচ্ছে। এমনকি এ অব্যবহৃত মালামাল রাখার কারণে হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনরা অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রতি মুহূর্তে এসকল স্থানে আসা-যাওয়া করলেও এই বিষয়ে যেনো তারা চোখ থাকতে অন্ধ অবস্থায় রয়েছে।



ওয়ার্ডর্গুলোতে দায়িত্বরত ও অস্থায়ী শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ না করা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা বিষয়ে তাদের সাথে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদেরকে মাসে ৩ হাজার টাকা করে বেতন দেয়। কেউ হয়তো বেশি বাড়াবাড়ি করলে ৪ হাজার টাকা করে বেতন দেয়। তাও মাস শেষে ঠিক মতো বেতন পাই না। ফলে আমরা এত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চাই না। নগদে যা পাই, সেটি দিয়ে কোনো রকমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছি।



এতো অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অফিসকে ম্যানেজ করে যেখানে লোক দরকার ৩ জন সেখানে লোক দেয় ১ জন, যার ফলে ১ জন লোক দিয়ে এতগুলো কাজ করা সম্ভব হয় না। আপনারা দেখেন ৫০ জন লোক থাকার কথা থাকলেও তা আছে কিনা।



যিনি ওয়ার্ডর্ মাস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন তিনিও ঠিকমতো কী করতে হবে, কোন্ কাজটি করতে হবে, সেটিও বুঝিয়ে দেন না। তিনি যেন এই হাসপাতালের বড় সাহেব এমন ভাব এবং আচরণ করেন। থাকেন এসি রুমে।



নাম প্রকাশ করার না শর্তে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মূলত ৫০জন আউটসোর্সিং শ্রমিকের অনুমোদন থাকলেও অফিস ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ৩০ জনের মতো শ্রমিক দিয়ে কাজ করান।



এ বিষয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডর্ মাস্টার মনিরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি আমার দায়িত্ব পালন করি, এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না। আউটসোর্সিং শ্রমিকদের বেতন যে ৩/৪ হাজার টাকা দেয়া হয়, এমন বিষয়ে তিনি বলেন, সেটি সত্য। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানেন।



এই বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মিজান গাজীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সরকারের যে নিয়মে ঠিকাদারি কাজটি পেয়েছি সেই শর্ত মেনেই আমি কাজ করছি, এর বাইরে তিনি কিছু বলবেন না বলে জানান।



এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাবিব উল করিমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওয়ার্ডগুলো অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি আমার চোখে পড়ে না, তবে কিছু অব্যবহৃত মালামাল রয়েছে, সেগুলো আমরা দু-একদিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলবো। বেতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ দেয়নি, আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আমি যতটুকু জানি, সরকারি নিয়ম মোতাবেক বেতন দেয়া হচ্ছে।



এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ মিজান গাজী বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে জনবল সরবরাহের কাজটিতে আমি ছাড়াও অন্য ঠিকাদার রয়েছে। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ এ প্রতিষ্ঠানে জনবল সাপ্লাই দিচ্ছি, কিন্তু আমার সাথে সরকার ও ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠানের যে শর্ত সে অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা ঠিক মতো পাচ্ছি না। এখনো প্রচুর বিল বকেয়া রয়েছে। তারপরও জনস্বার্থে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কাজটি গুরুত্ব সহকারে করে আসছি।



তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যাদেরকে হাসপাতালে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তাদের সকলকে আমি একটি রুটিন অনুযায়ী কার কী দায়িত্ব সেটি কর্তৃপক্ষের নিকট বুঝিয়ে দিয়েছি।



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৭৮০৭
পুরোন সংখ্যা