চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
চান্দ্রা বাজারের যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্ভাবনা থাকলেও সমস্যার শেষ নেই
এমরান হোসেন লিটন
২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন সুবিশাল প্রসিদ্ধ বাজার চান্দ্রা। চাঁদপুর জেলা শহরের অদূরে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের খুব নিকটে আঞ্চলিক এলাকার মূল কেন্দ্রস্থলে এই চান্দ্রা বাজার। এ বাজারের পরিধি দিন দিন বেড়েই চলছে। বাজারের পূর্ব-উত্তর সীমানা হচ্ছে ওষুধ বাড়ি চৌরাস্তা পর্যন্ত। উত্তর-পশ্চিম সীমানা হচ্ছে বস্নু ডাক্তারের ব্রিজ চৌরাস্তা পর্যন্ত। পূর্ব-দক্ষিণ কর্নার হচ্ছে দক্ষিণ খাঁড়খাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নার হচ্ছে চান্দ্রা ছামাদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শেষ মাথা পর্যন্ত। এ সুবিশাল বাজারটির গুরুত্ব ও সম্ভাবনা যথেষ্ট থাকলেও অন্তহীন সমস্যাগুলো সমাধানের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।



বাজারের প্রতিটি গলির ফুটপাত ক্ষুদ্র কাঁচামালের দোকানসহ বিভিন্ন ফল ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। ফুটপাত নোংরা আবর্জনায় সয়লাব হয়ে পড়ে থাকে। ফলে ক্রেতা সাধারণ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষজন চলাচলের সময় হোঁচট খেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে বাজারে চলাচলের রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার মধ্যে পানি জমে কাদা ও নর্দমার সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেখানে সেখানে ছাউনির মত পলিথিন কাগজ টাঙ্গিয়ে রেখে বাজারের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। প্রায় সময় বাজারের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পিকআপ ভ্যান ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে মানুষজনের চলাচলসহ মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি করা হয়ে থাকে।



বাজারের পরিবেশ এক রকম হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে বাজারের প্রত্যেকটি সড়কে বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসায় ঘিঞ্জি পরিবেশে বিকিকিনি চলে। এর মধ্যে কাঁচা মালামাল, পাইকারী ব্যবসায়ীদের চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের লরিসহ ছোট ছোট যানবাহন বাজারে প্রবেশ করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। আর এসব কারণে বাজারে আগত নারী ক্রেতাসহ মুমূর্ষু রোগী ও পথচারী জনসাধারণের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। এজন্য বাজারের মালামাল বিভিন্ন গাড়ি থেকে লোড আনলোড করার জন্য সুনির্দিষ্ট একটি জায়গা নির্ধারণ জরুরি প্রয়োজন।



চান্দ্রা বাজারটির চতুর্দিকের রোডের মাথায় অপরিকল্পিত রিকশা, অটোবাইক, সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড থাকার ফলে উল্লেখিত গাড়িগুলো এলোপাতাড়িভাবে রাখা হয়। এর ফলে নিত্য যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।



বাজারে মাছ ও মাংস বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। মাংস ব্যবসায়ীরা বাজারের ইজারাদারদের সাথে সমন্বয় করে যখন যেখানে মন চায় সেখানেই বসে মাংস বিক্রি করে। এ কারণে মাংস ব্যবসায়ীরা তাদের নিজেদের মনমতো দাম নিচ্ছে। মাংস ব্যবসায়ীরা এক জায়গায় থাকলে যেটি সম্ভব হতো না। মাছ বেচাকেনার স্থান একেবারেই অপ্রতুল। বাজারে বিশাল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি থাকলেও সেই সম্পত্তি কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালীরা ভূমি অফিস ও আমলাদের ম্যানেজ করে ভোগদখল করে আসছে। ঠিক মাছ বাজারের পাশেই সরকারি অনেক সম্পত্তি আছে, যা বিভিন্নজন দখল করে আছে। সেসব সম্পত্তি সরকার তার নিয়ন্ত্রণে এনে মাছ বাজার বড় করা সম্ভব।



বাজারের পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ড্রেন থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার না করার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গায় পানি আটকে থাকে। এ কারণে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়।



চান্দ্রা বাজারটি একটি সুবিশাল বাজার হওয়ার ফলে এখানে ময়লা আবর্জনাও বেশি হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়। কিন্তু সে তুলনায় এ বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার একটি ডাস্টবিনও নেই। এই বিশাল বাজারটিতে কমপক্ষে দুটি সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন প্রয়োজন। বাজারে নোংরা আবর্জনার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে।



কাঁচা বাজারের নির্দিষ্ট স্থান নিয়ে লিখলে লেখার কোনো শেষ নেই। দুই হাজারের অধিক দোকান এবং চাঁদপুর জেলার মফস্বল এলাকায় এই বাজারটি সর্ববৃহৎ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই বাজারে কোনো কাঁচা বাজারের নির্দিষ্ট স্থান নেই। যে যেখানে পারছে সেখানেই বসে পড়ে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছে। যার কারণে বাজারের পরিবেশ একেবারেই নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। বাজারটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মাছ-মাংস এবং সবজি কিনতে এসে কাঁচা বাজারের এহেন পরিস্থিতি দেখে হতাশ হতে দেখা যায়।



টয়লেটের সমস্যা এ বাজারের একটি প্রধান সমস্যা। বিশাল এই বাজারটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুদের সমাগম ঘটে। বিশাল এই বাজারের চারদিকে যদি চারটি টয়লেটও করে দেয়া হয়, তাহলেও খুব কম হবে। কিন্তু অতিশয় দুঃখের বিষয়, এই বাজারে পরিবেশ বান্ধব একটি টয়লেটও না থাকার কারণে বাজারে আগত মানুষজনকে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে খুবই বিপদগ্রস্ত অবস্থায় পড়তে হয়। বাজারে আগত মানুষদেরকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে বিভিন্ন মার্কেটের মালিকদের হাতে-পায়ে ধরে ওই মার্কেটের টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। ইতিপূর্বে এই বাজারের টয়লেটগুলো সংস্কার ও পরিবেশবান্ধব করার জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও কোনোরকম ঘষামাজা করেই শেষ। সঠিক তদারকি না থাকার ফলে এমনটা হচ্ছে বলে সকলের বিশ্বাস।



খাজনা আদায়ের দিক দিয়ে এই বাজারে অনিয়মের কোনো শেষ নেই। কিছু কিছু পণ্য আছে যেগুলো এই বাজারে বিক্রি করতে আসলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুজনকেই খাজনা দিতে হয়। অন্যান্য বাজারের তুলনায় এই বাজারে বিভিন্ন পণ্যের খাজনা খুব বেশি নেয় বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানায়।



চুরি-ছিনতাই এই বাজারের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এই সুবিশাল বাজারে পুলিশের তদারকি না থাকায় এবং বাজারে নির্দিষ্ট কোনো নাইটগার্ড না থাকায় এই বাজারে চুরি-ছিনতাই এখন সাধারণ বিষয়। বাজারটিতে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো দোকানে চুরি হচ্ছে। বিভিন্ন সময় ক্রেতা অথবা বিক্রেতার মোবাইল ফোন, অথবা অনেকের সাইকেল চুরি হয়ে যায়।



বিভিন্ন রকম অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে বাজারটি ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। বাজারটিতে চারটি ব্যাংক রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সার্ভিস রয়েছে। এছাড়া ভূমি অফিস, হাই স্কুল, কলেজ, ফাজিল মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল, কয়েকটি কেজি স্কুলসহ সারা বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আরো বহু সমিতির প্রধান কার্যালয় এই বাজারে। বিভিন্ন ধরনের বীমা এবং অনেক রকম অফিস দিয়ে এই বাজারটি সয়লাব।



গত ১০ বছর যাবত বাজারটিতে কোনোরকম কমিটি না থাকার কারণে বাজার এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে তার কোনো সঠিক সমাধান পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে বাজারে কোনো কমিটি হচ্ছে না। যার কারণে বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ত্রুটি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি কমিটি থাকলে এ ধরনের অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হতো না বলে সুধীমহলের ধারণা।



এই রকম নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী সুবিশাল এই চান্দ্রা বাজার। সুধীমহল চান্দ্রা বাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে উপযুক্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৯-সূরা নাযি 'আত


৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৩। ইহা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ,


১৪। তখনই ময়দানে উহাদের আবির্ভাব হইবে।


১৫। তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পেঁৗছিয়াছে কি?


১৬। যখন তাহার প্রতিপালক পবিত্র উপত্যকা তুওয়া-য় তাহাকে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিলেন,


 


 


সৌভাগ্য এবং প্রেম নির্ভীকের সঙ্গ ত্যাগ করে।


-ওভিড।


 


 


 


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে (অর্থাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশীর কোনো প্রকার অনিষ্ট না করে।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৩৬,৬৮৪ ৫,৫৪,২৮,৫৯৬
সুস্থ ৩,৫২,৮৯৫ ৩,৮৫,৭৮,৭০৩
মৃত্যু ৬,২৫৪ ১৩,৩৩,৭৭৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৪৬৯৩
পুরোন সংখ্যা