চাঁদপুর, বুধবার ২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করায় মন্ত্রণালয়ের শুনানি
প্রতারণার দায় স্বীকার করলেন প্রধান শিক্ষক দোষ দিলেন স্কুলের শিক্ষকদের
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
০২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নিজের বাবাকে নব্য মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করায় ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজলকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। ৩০ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল ও অভিযোগকারী একই স্কুলের সর্বশেষ নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন নান্নুকে চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান। যার স্মারক নং ৪১.০০.০০০০.০৫.০০৫.২০২০.৫৬৯। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার শুনানিতে অবশেষে প্রতারণার দায় স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল। শুনানির শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, 'আমার স্কুলের শিক্ষকরা এসব করেছে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক প্রতিযোগিতার ফরম স্টাফরা ফিলাপ করে জমা দিয়েছে।' প্রধান শিক্ষকের এমন বক্তব্যে উ-পসচিব ফরম উঁচু করে বলেন, নিচের স্বাক্ষরটি কি আপনার? প্রধান শিক্ষক ধীর গলায় বললেন, জি্ব। উপ-সচিব ফের বললেন, আপনার শিক্ষকগণ ভুল করতে পারেন, আপনি স্বাক্ষর দিলেন কেনো? টানা দুবছর একই ভুল কী করে হলো?



শুরুতে রফিকুল আমিন কাজল তার মৌখিক বক্তব্যে বলেন, তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনি ফরিদগঞ্জ ১৫নং ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো সনদ গ্রহণ করেননি। একাত্তরে তার বাবা আব্দুর রব পাটওয়ারী মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।



প্রতিউত্তরে অভিযোগকারী মোশারফ হোসেন নান্নু ফরিদগঞ্জকেন্দ্রিক একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই থেকে ১৫নং রূপসা ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটিতে কে কে ছিলেন তা পড়ে শোনান এবং উক্ত কমিটির ফটোকপি উপস্থাপন করেন। সেখানে কোথাও আব্দুর রব পাটওয়ারীর নাম না থাকায় প্রধান শিক্ষক শুনানিতে এসেও মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করেন।



শুনানিতে উপসচিব প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করেন, আপনার বাবা কি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন? প্রধান শিক্ষক বলেন, 'জি্ব করেন।' প্রতিউত্তরে মোশারফ হোসেন নান্নু দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকায় ১৭ অক্টোবর-২০১৯ তারিখে প্রকাশিত 'বাবা বলছেন না, ছেলে বলছেন হ্যাঁ' শীর্ষক সংবাদটি উপস্থাপন করে বলেন, 'তার বাবা আব্দুর রব পাটওয়ারী নিজেই গণমাধ্যমে বলেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন। একাত্তর সালে পরিবারের অন্য কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় তিনি ফরিদগঞ্জের একটি ফার্মেসিতে ঔষধ বিক্রি করেছেন। নিজের বাবাই যখন বলছেন তিনি অমুক্তিযোদ্ধা, তখন সন্তান কী করে বলেন তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান?'



তদন্ত কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করেন, আপনি আর কোনো স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করেছেন? প্রধান শিক্ষক মাথা নেড়ে জানালেন করেননি। মোশারফ হোসেন নান্নুকে একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি অজ্ঞাত। তিনি করতেও পারেন। এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত জরুরি।



রফিকুল আমিন কাজল শুনানির এক পর্যায়ে বলেন, মোশারফ হোসেন নান্নু এবং আমি এআর স্কুলের ছাত্র। আমি তার এক ব্যাচ সিনিয়র। তিনি গত প্রায় একবছর ধরে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দাঁড় করিয়েছেন। এতে আমার স্কুল পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। জবাবে মোশারফ হোসেন নান্নু বলেন, আমার কাছে প্রমাণসহ পর্যাপ্ত নথিপত্র আছে বলেই আমি অভিযোগ দাখিল করেছি। আপনি নির্দোষ হলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন। আমি অযথা আপনাকে হয়রানি করলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। প্রতিহিংসা নয় বরং অনিয়ম, দুর্নীতি ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছি।



এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোশারফ হোসেন নান্নু বলেন, স্কুলটির আমি একজন প্রাক্তন ছাত্র। পরবর্তীতে শত শত অভিভাবকের ভোটে আমি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হই। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো স্কুলের দীর্ঘদিনের চলমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করবো এবং তা করেছি, বর্তমানেও করছি। বহু সচেতন অভিভাবক আমার পক্ষে আছেন। আশা করি স্কুলটি প্রধান পদের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাবে।



অভিযুক্ত ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমিই বাংলাদেশের একমাত্র প্রধান শিক্ষক যিনি স্কুল সরকারিকরণের জন্য টিচারদের কাছ থেকে একটি টাকাও নেইনি। অথচ অন্য স্কুলগুলো সরকারিকরণের জন্য প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের বিষয়টি একটা ছোট্ট বিষয়। এটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কিছু নেই। আসলে ২০১৬ সালে আমাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ডেকে বলেন, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক পদটা খালি যাচ্ছে, আপনি একটা ফরম ফিলাপ করে জমা দিয়ে দিন; আমরা আপনাকে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক করে দিচ্ছি। পরবর্তীতে আমার স্কুলের শিক্ষক ফরমটি ফিলাপ করে আমাকে এনে দিলে আমি স্বাক্ষর করে দেই। এখানে যে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান লেখা ছিলো তা আমি খেয়াল করিনি। স্কুলের শিক্ষক এমনটি টাইপ করেছে আমি অসাবধানতাবশত স্বাক্ষর দিয়েছি।'



'এর পূর্বে আপনি তো গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন, আপনার দাবি সঠিক; আপনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বর্তমানে আবার বলছেন আপনি অসাবধানতাবশত স্বাক্ষর দিয়েছেন, তাহলে কোন্টি সঠিক' এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।



'আপনি যেহেতু টানা দুবছর একই ভুল করেছেন তাহলে আপনি কি মনে করেন আপনার সুষ্ঠু বিচার হবে'-এমন প্রশ্ন একাধিকবার করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। কিছু সময় নীরব থেকে বলেন, এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।



তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, প্রধান শিক্ষক শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা নন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান লেখাটি তার স্কুলের শিক্ষকরা যে লিখেছেন তিনি তা খেয়াল করেননি। এর দায় তার নয়, তার স্কুলের শিক্ষকদের বলে তিনি জানান।



তবুও যেহেতু টানা দুবছর প্রধান শিক্ষক একই কাজ করেছেন এবং তাতে তার স্বাক্ষরও রয়েছে এ ঘটনার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। অভিযোগকারীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮৩-সূরা মুতাফ্ফিফীন


৩৬ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭। কখনও না, পাপাচারীদের 'আমলনামা তো সিজজীনে আছে।


৮। সিজজীন সম্পর্কে তুমি কী জান?


৯। উহা চিহ্নিত 'আমলনামা'।


১০। সেই দিন দুর্ভোগ হইবে অস্বীকারকারীদের,


 


assets/data_files/web

প্রকৃতি বিধাতার অমূল্য দান। _টমাস


 


 


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৫৬৩৯৭
পুরোন সংখ্যা