চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৭ রজব ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযোদ্ধার ভাবনা-২
জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়তে যেই সোনার মানুষের কথা বলেছিলেন, তার অভাব এখনো রয়েছে
-----------------------সহিদ উল্লাহ তপাদার
প্রবীর চক্রবর্তী
০২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অগি্নঝরা ১৯৭১ থেকে আজ ২০২১ সাল। ৫০ বছরে বাংলাদেশ। আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে। ১৯৭১ সালে যারা কিশোর, যুবক ছিলেন, আজ তারা বয়সের ভারে নূ্যব্জ। ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকেই দেশ ছিল পুরো উত্তাল। বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির যুগের মতো মুহূর্তেই মধ্যেই সংবাদ পেঁৗছে দেয়ার বড় কোনো মাধ্যম না থাকলেও বীর বাঙালিরা ঠিকই প্রতিদিনই সকল সংবাদ পেয়ে যেতেন। ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও পরবর্তীতে ২৫ মার্চের কালো রাত্রির মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে কিশোর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমরা যাদের স্বাধীনতার সূর্য সন্তান অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিনি, তাঁরা আজ ৫০ বছর পূর্তি উৎসবের মূহূর্তে কেমন আছেন, কী ভাবছেন ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান নিয়ে সেটি জানতে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ স্বাধীনতার মাস মার্চ থেকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন শুরু করেছে। সেই তালিকায় আজ আমরা মুখোমুখি হয়েছি ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দীর্ঘদিনের কমান্ডার সহিদ উল্লাহ তপাদারের। তার আগে জেনে নেই সহিদ উল্লাহ তপদার সম্পর্কে এক ঝলক।



ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের সুসময় ও দুঃসময়ের কা-ারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সহিদ উল্লাহ তপদার। তিনি ১৯৭২ সালে প্রথম ফরিদগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত মহকুমা সংসদের সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ থানা কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে পারেননি। তখন সহিদ উল্লাহ তপাদারই একমাত্র থানার কমান্ডার হিসাবে দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।



১৯৯৭ সালে সারাদেশের ন্যায় ফরিদগঞ্জেও যখন মুক্তিবার্তার কাজ আরম্ভ হয়, কিন্তু তখন অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা করার কারণে ১৯৯৮ সালে তিনি উপজেলা কমান্ডার পদ থেকে নিজেই সরে দাঁড়ান। এরপর অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় তাদের সহিদ উল্লাহ তপাদারকে ২০১০ ও ২০১৪ সালের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনে বিপুল ভোটে কমান্ডার নির্বাচিত করেন। সেই থেকে তিনি আজ পর্যন্ত নিজ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।



চাঁদপুর কণ্ঠ : কেমন আছেন?



সহিদ উল্লাহ তপাদার : উপরওয়ালার ইচ্ছায় এই পর্যন্ত বেঁচে আছি, এটাই বড় রহমত। সহযোদ্ধাদের জন্যে এখনো নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কাজ করছি। পরম শান্তি এখানেই।



চাঁদপুর কণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর পঞ্চাশ বছর বেঁচে থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দেখা পেলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার অনুভূতি কেমন?



সহিদ উল্লাহ তপাদার : আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ডাকে। আমরা সেদিন কিছু পাওয়ার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি। দেশের মানুষ পাকিস্তানীদের অত্যাচারে জর্জরিত ছিল। মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা এবং সর্বোপরি বাঙালি ও বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা দিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ৯ মাস যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধু যখন পুনর্গঠনে হাত দিয়েছে, ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। এর পরবর্তী সময়ে আমরা মুক্তিযুযোদ্ধাসহ স্বাধীনতা সপক্ষের লোকজন অবহেলিত ছিলাম। এমনকি আমরা মুক্তিযোদ্ধারাও নিজেদের পরিচয় দিতে পারি নি। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর বিষয়টি শুরু করেন। তিনি আমাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, ভাতা চালু, কোটা চালু করাসহ নানাভাবে আমাদের সম্মান দেন। ২০০১ সালে আবার ক্ষমতার পট পরবর্তনের পর আবার সবকিছু থেমে যায়। সর্বশেষ ২০০৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান দেয়াসহ নানাভাবে তাদের প্রজন্মকেও সম্মানিত করেছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যা আশা করিনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সবকিছুই দিয়েছেন। তাই তাঁর প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ। একই সাথে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের কাছেও আমরা ঋণী।



চাঁদপুর কণ্ঠ : যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেই স্বপ্নের সমান্তরালে দেশের অগ্রযাত্রা লক্ষ্য করছেন কি?



সহিদ উল্লাহ তপাদার : স্বাধীনতার পূর্বে বাঙালি যে নিপীড়িত নির্যাতিত ছিল, সেই থেকে উত্তরণের জন্য বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই অগ্রযাত্রা থেমে যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘসময় পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে। কিন্তু আমরা যেই চেতনা ও স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, আমার মনে হয় আমরা এখনো তার থেকে দূরে রয়েছি। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, যেই সোনার বাংলার জন্যে আমরা যুদ্ধে ঝঁাঁপিয়ে পড়েছিলাম, আশা করছি বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো কিছু সময় ক্ষমতায় থেকে অধরা স্বপ্নের পরিপূর্ণ রূপদান করবেন। এজন্যে তিনি যেন দীর্ঘজীবী হোন এই কামনা করছি।



চাঁদপুর কণ্ঠ : দেশকে নিয়ে আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে কি?



সহিদ উল্লাহ তপাদার : অতৃপ্তি বলতে আমার কাছে মনে হয়, জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়তে যেই সোনার মানুষের কথা বলেছিলেন, সেই সোনার মানুষের এখনো অভাব রয়েছে। আমাদের সমাজে এখনো অন্যায়ের পক্ষে লোকজন বেশি। মানুষ এখনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয় বেশি। আজকের সমাজ ব্যবস্থার দিকে যদি তাকাই, রাজনীতি থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই চিত্র দেখা যাবে। অতৃপ্তি এখানেই।



চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আপনি কাকে বা কাদেরকে বেশি স্মরণ করতে চান?



সহিদ উল্লাহ তপাদার : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার সহযোদ্ধা যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল বীর সেনানীকে স্মরণ করছি।



চাঁদপুর কণ্ঠ : সকলের উদ্দেশ্যে আপনার পছন্দের কিছু কথা বলুন।



সহিদ উল্লাহ তপাদার : আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে যদি দেশাত্মবোধ আসে, তবে আমরা সঠিক পথেই যেতে পারবো। দেখেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে গুটি কয়েক লোক ছাড়া পুরো দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল বলেই দ্রুত আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। তাই নতুন প্রজন্মসহ সকলের কাছে আমার অনুরোধ, আমরা দেশ থেকে কী পেয়েছি, তা না দেখে আমি দেশকে কী দিয়েছি, এই ভাবনা জাগ্রত করুন। তাহলে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।



পরিশেষে চাঁদপুর কণ্ঠকে অভিনন্দন। তারা স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে আমাদের কথা শোনার জন্য।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৯৮-সূরা বায়্যিনাঃ


০৮ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭। যাহারা ঈমান আনে ও সংকর্ম করে, তাহারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।


৮। তাহাদের প্রতিপালকের নিকট আছে তাহাদের পুরস্কার-স্থায়ী জান্নাত, যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে। আল্লাহ তাহাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাঁহাতে সন্তুষ্ট। ইহা তাহার জন্য, যে তাহার প্রতিপালককে ভয় করে।


 


 


সৌভাগ্য এবং প্রেম নির্ভীকের সঙ্গত্যাগ করে।


_ওভিড।


 


 


 


 


নিরপেক্ষ লোকের দোয়া সহজে কবুল হয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪০২৩
পুরোন সংখ্যা