চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা

২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১২৬। ‘অতএব আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

১২৭। ‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আছে।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সর্বদা তাই কর যা করতে তুমি পাও।

-ইমারসন।


অত্যাচারী শাসক কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা অধম হবে।


ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ইসলামের আদর্শ হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর নাম ও সুন্নাহ ছাড়া ইসলামকে জানা ও বোঝা অসম্ভব। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, "আল্লাহ পাক রাসূল (সঃ)কে মানবজাতির জন্যে রহমত স্বরূপ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, যা আল্লাহ কোরআনে বলেছেন। আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্যে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। (সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৬৪)।"



প্রায় ১৪০০ বছর ধরে সারা বিশ্বের মুসলমান ভক্তি ও আনন্দের সাথে রাসূল হজরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মদিবস ১২ রবিউল আউয়াল 'ঈদে মিল্লাদুন্নবী' উদ্যাপন করে আসছে। কোরআন ও হাদিসের কোথাও কি একথা বলা হয়েছে যে, ঈদে মিলাদুন্নবী ১২ রবিউল আউয়াল বা অন্য কোনো দিনে পালন করা ইসলামের বিরুদ্ধে? বরং পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি, হযরত ইসা (আঃ)-এর জন্ম সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। আল্লাহর প্রায় সব নবী মোহাম্মদ (সঃ)-এর আগমন সম্পর্কে তাঁদের নিজ নিজ অনুসারীদের বলেছেন।



মোহাম্মদ (সঃ) হলেন আল্লাহ এবং মানবজাতির মধ্যে যোগসূত্র স্বরূপ। রাসূল (সঃ) কে ভালোবাসা ঈমানের একটি অপরিহার্য অংশ। তাই আল্লাহ পাক কোরআনে রাসূল (সঃ)কে অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন-



বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, যাতে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-৩১)।



এখানে নির্দেশ এসেছে দু' দিক থেকে। একদিকে কেউ যদি সর্বশক্তিমান আল্লাহকে ভালোবাসতে চায় তবে তাকে অবশ্যই মোহাম্মদ (সঃ) কে অনুসরণ করতে হবে। অন্যদিকে আল্লাহর ভালবাসা পেতে হলে রাসূল (সঃ) কে অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে রাসূল (সাঃ) কে ভালোবাসা এবং অনুসরণ করা।



নবী করিম (সঃ) বলেছেন- 'ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ মোমেন হতে পারবেন না যতক্ষণ না আমি তার পিতামাতা, সন্তান ও অন্য সবাই থেকে প্রিয় হবো।' (সহীহ আল বুখারী)।



সাধারণতঃ মানুষ তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে ভালোবাসে। আর এটি একটি স্বর্গীয় ভালবাসা যেখানে একজন মুমিন আল্লাহর পরে রাসূল (সঃ) সম্পর্কে সর্বোচ্চ ভালোবাসা হৃদয়ে পোষণ করে এবং সর্বোচ্চ সম্মান দেয়। রবিউল আউয়াল মাসে এসব আশেকে রাসূল আনন্দের সাথে তাদের পথ প্রদর্শকের জন্মকে ঈদে মিল্লাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে। দুর্ভাগ্যবশতঃ আমাদের মধ্যে কেউ মুসলিম ভাইবোনদের এ বলে পরিচালিত করে যে, ঈদে মিল্লাদুন্নবী শিরক বেদাত ইত্যাদি এবং মুসলিমদের সরাসরি ঈদে মিল্লাদুন্নবী উদ্যাপন থেকে বিরত থাকতে বলে। এর দ্বারা তারা কার্যত মুসলমানদের আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ থেকেই বিরত রাখে। আবার এটাও দেখা যায় যে, ঐসব লোক যারা মোহাম্মদ (সঃ)-এর জন্ম দিবস পালন করতে বাধা দেয় তারাই আবার তাদের সন্তানদের জন্ম দিবস, আকিকা, খুশি ও উৎসাহের সাথে উদ্যাপন করে। তখন তারা ভুলে যায় তাদের দেয়া সকল শিরক, বেদাত ফতোয়া। একই সাথে তারা তাদের বন্ধু বা আত্মীয়দের জন্মদিনে যেতেও কিছু মনে করে না।



ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানমালায় যে সব বিষয় নিয়ে ঈদে মিল্লাদুন্নবীর অনুষ্ঠান সাজানো হয় সেগুলো নিম্নরূপ। ১। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ২। হাম্দ বা আল্লাহর গুণকীর্তন ৩। না'ত এ রাসূল বা রাসূল (সঃ)-এর গুণকীর্তন ৪। রাসূল (সঃ)-এর জীবন সম্পর্কে আলোচনা ৫। দরূদ শরীফ পড়া ৬। দোয়া ও মোনাজাত ৭। তাবারুক বা খাদ্য বিতরণ।



এখন আমরা উপরের ৭টি বিষয় কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্নেষণ করে দেখবো এগুলো ইসলামের পক্ষে না বিপক্ষে। বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে যদি সকল বিষয় শরীয়ত সম্মত হয় তাহলে সমস্ত বিষয়ই একত্রে (অনুষ্ঠানটি) গ্রহণযোগ্য হবে।



১। কোরআন তেলাওয়াত। পবিত্র কোরআন শরীফ তেলাওয়াত বা পড়ার ব্যাপারে কারও কোনো আপত্তি নেই।



২। হামদ্- সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসাই হচ্ছে হামদ্। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তুই আল্লাহর তসবিহ পড়ে। আল্লাহর জিকির মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়। ফলে এ ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি নেই।



৩। না'তে রাসূল (সাঃ)- না'তে রাসূল হলো ছন্দ বা কবিতার মাধ্যমে প্রিয় নবী (সাঃ)-এর প্রশংসা করা। নবীজির প্রশংসা করা শির্ক বা বেদাত নয়।



পবিত্র কোরআন শরীফের নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ পাক মোহাম্মদ (সাঃ)-এর সম্মান ও প্রশংসা করেছেন।



আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তাগণ নবীর প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ তোমরা নবীর প্রতি দরূদ ও সালাম বেশী করে প্রেরণ করো সম্মানের সহিত। (সুরা আহাযাব, আয়াত ৫৬)। আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭) আল্লাহর নবী মুমিনের আত্মার চেয়েও কাছাকাছি। (সুরা আহাযাব, আয়াত ০৬) যে লোক রাসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহর হুকুম মান্য করবে। (সুরা নিসার, আয়াত ৮০) যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (সুরা আহাযাব, আয়াত ২১)।



নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকে ঘুরিয়ে দিবো যাকে আপনি পছন্দ করেন। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৪৪)।



ঊধর্ে্ব দিগন্তে অতঃপর নিকটবর্তী হলো ও ঝুলে গেল তখন দুই ধণুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাহর প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার তা প্রত্যাদেশ করলেন। রাসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা তিনি দেখলেন। (সুরা নাজম, আয়াত ৭-৯)



মুমিনগণ। তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো তার সাথে সে স্বরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না, এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা তা টেরও পাবে না। (সুরা হুজুরাত, আয়াত ২) এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা বলুন এবং প্রকাশ করুন। (সুরা আদদোহা, আয়াত ১১) আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করে আমার ব্যাপারে আমি রয়েছি সনি্নকটে। যারা প্রার্থনা করে তখন তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)



পবিত্র কোরআনে রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে এ রকম সম্মান ও প্রশংসা অগণিত। হাদিসে আছে, রাসূল (সাঃ) নিজে হাসান বিন তাহবিদ (রাঃ) কে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে প্রশংসা করে কবিতা পড়ার জন্যে।



আমরা অবাক হই মুনকির-ই-মিলাদরা এখন কি ভাবছে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে? আমরা যারা রাসূল (সাঃ) কে ভালোবাসি তারা বিশ্বাস করি শরীয়ার ভেতরে থেকে কাউকে প্রশংসা করার অর্থ পরোক্ষভাবে আল্লাহকে ভালোবাসা যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কেউ যদি কোনো দালানের গঠন প্রনালীর প্রশংসা করে তবে তার মানে হলো পরোক্ষভাবে যারা এই গঠন প্রনালীর পেছনে সংশ্লিষ্ট তাদের প্রশংসা করা। যেমন নকশাবিদ, প্রকৌশলী, নির্মাতা। যদি কাউকে প্রশংসা করা শিরক বা বেদাত হয় তবে আমরা সবাই আমাদের পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, শিক্ষক, নেতাকে যে কোনোভাবেই প্রশংসা করে পাপ করছি। সর্বশেষে যদি মুনকির-ই-মিলাদরা প্রমাণ করে কোরআনে আল্লাহ পাক রাসূল (সাঃ)-এর প্রশংসা করার সীমারেখা টেনে দিয়েছেন তবে আমরা সেখানে থামবো কিন্তু কোরআন শরীফে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে বলেছেন,



৪। রাসূল (সাঃ) এর জীবনী আলোচনা- মোহম্মদ (সাঃ) হলেন ইসলামের আদর্শ। কেউই মোহাম্মদ (সাঃ) এর নাম মোবারক ছাড়া ইসলাম সম্পর্কে বলতে পারবে না। আল্লাহ ও মানবজাতির মাঝে তিনি হলেন যোগসূত্র। আমরা যতবারই 'লা- ইলাহা' বলি না কেনো আমরা মুসলমান হতে পারব না যতক্ষণ না আমরা 'মোহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ' বলব। এমনকি আমাদের নামাজ (যা একান্তই আল্লাহর জন্য) পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ না আমরা 'আসালামু আলাইকা আইয়্যূহান্নাবীয়ূ'- তাশাহুদ পড়বো (আত্তাহিয়াতু পড়ার সময়)। যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবীবের (সঃ) নাম তার নাম থেকে পৃথক করেননি তখন নবী (সঃ)-এর নাম আমরা আমরা বাদ দেবো? মোহাম্মদ (সঃ) না আসলে আজ পৃথিবীতে ইসলাম, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত কিছুই থাকত না। তাই তো আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্যে থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্যে তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। (সূরা : আল ইমরান, আয়াত-১৬৪) এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা বলুন এবং প্রকাশ করুন। (সুর আদদোহা আয়াত ১১)।



বিশ্বাসীদের জন্যে মোহাম্মদ (সঃ) হচ্ছেন সবচেয়ে বড় নেয়ামত। আল্লাহ পাক বিশ্বাসীদের তাঁর নেয়ামতের শোকর গুজার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা ঈদে মিল্লাদুন্নবী পালন করার মাধ্যমে নবী (সঃ)-এর বিভিন্ন দিক আলোচনা করে ইসলামের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে দেবো। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাসীদের জন্যে ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সঃ) হলো সত্যিকারের ঈদ। কেননা মোহাম্মদ (সঃ) ছাড়া ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা কোনোটাই হতো না।



৫। সালাত (দরুদ) সালাম-



পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বিশ্বাসীদের নির্দেশ দিয়েছেন মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠানোর জন্যে যা নিচের আয়াতে বলা হয়েছে।



আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিন তোমরাও নবীর প্রতি বেশী করে দরূদ ও সালাম প্রেরণ করো। (সূরা আহ্যাব, আয়াত ৫৬)



হাদীস :



আবু মাসউদ আল আনসারী (রাঃ) বলেছেন, আমরা সাদ ইবনে ওবায়দাহ'র সাথে বসেছিলাম। যখন নবী (সঃ) আমাদের নিকট আসলেন তখন বশীর ইবনে সাদ বললেন, আল্লাহ আমাদের উপর আপনার জন্যে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হে রাসূল (সঃ) আমরা তা কীভাবে করবো ? রাসূল (সাঃ) এ কথা শুনে চুপ করে রইলেন এবং কিছু জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে না ভেবে আমরা চুপ করে রইলাম। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, আল্লাহ মোহাম্মদ ও তার পরিবারবর্গের উপর অনুগ্রহ করেছেন যা আল্লাহ ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের উপর করেছেন। রহমত দান করেছেন মোহাম্মদ (সঃ) ও তার পরিবারবর্গের প্রতি আপনি (আল্লাহ) যা করেছেন পৃথিবীতে ইব্রাহিম (আঃ)-এর পরিবারবর্গের প্রতি। আপনার এ কাজ প্রকৃতপক্ষে প্রশংসনীয় ও গৌরবময় এবং আভিবাদন যা আপনি জানেন। (সহীহ মুসলিম)।



শুক্রবারে আমার উপর বেশী বেশী দরূদ ও সালাম পাঠ করো। তখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকে আমার উপর পড়া প্রতিটি দরূদ ও সালামের জন্যে তাঁর (আল্লাহ) সাওয়াব আমার কাছে পৌঁছায় তোমাদের দরূদ পাঠ শেষ করার পূর্বেই। (আল-তিরমিজি)।



উপরোক্ত হাদিস ও কোরআনের আয়াতের আলোকে বলা যায় মোহাম্মদ (সঃ)-এর উপর দরুদ ও সালাম পাঠানো ব্যতীত মুনকির-ই-মিলাদদের অন্য কোনো পথ নেই। মুনকির-ই-মিলাদরা (মিলাদ অস্বীকারকারী) মিলাদ মাহফিলে মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রতি দাঁড়িয়ে ও সরবে দরুদ পড়ার বিরোধিতা করে। প্রতিউত্তরে আমরা বলবো কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) কোনো জায়গায় ইহা উল্লেখ করেন নি যে কীভাবে এবং কতটা স্বরবে দরূদ ও সালাম জানাতে হবে। এটি সম্পূর্ণ বিশ্বাসীদের উপর নির্ভর করে যে তারা কী অবস্থায় এবং কতটা স্বরবে দরূদ ও সালাম জানাবে। দরূদ ও সালাম পাঠানোর ধরণ হতে পারে বসা, বিছানায় বা মাটিতে শোয়া অবস্থায় বা স্থির দাঁড়িয়ে। আর যেহেতু আমরা আল্লাহর পরেই মোহাম্মদ (সঃ) কে শ্রদ্ধা করি তাই মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রতি দাঁড়িয়ে দরুদ ও সালাম পাঠ করাই সর্বোত্তম। তাছাড়া আল্লাহ যেখানে বলেছেন 'ওয়া ছালি্লমু তাছলিমা' অর্থাৎ তাছলিম বা আদবের সাথে ছালাম দাও, তাই এখানে নবীজীকে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়াটাই হবে আদব এবং যুক্তিযুক্ত। (চলবে)



লেখক : মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন, প্রভাষক(আরবী, মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, পেশ ইমাম, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩১৪৭৯
পুরোন সংখ্যা