চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা

২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১২৬। ‘অতএব আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

১২৭। ‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আছে।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সর্বদা তাই কর যা করতে তুমি পাও।

-ইমারসন।


অত্যাচারী শাসক কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা অধম হবে।


ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হাফেজ মোঃ মনির হোসাইন
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যিনি তাঁর প্রিয় হাবীবকে প্রেরণ করার মাধ্যমে বিশ্ব জগতকে ধন্য করেছেন। তাঁর প্রিয় হাবীবের প্রতি ঈমান এনে তাঁর উম্মত হওয়ার তাওফীক আমাদেরকে দান করেছেন। তার সাথে সাথে



লক্ষ কোটি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করছি সেই মহান মানবের প্রতি যাঁকে সৃষ্টি না করা হলে মহান আল্লাহ তাআলা কুল কায়েনাতের কিছুই সৃষ্টি করতেন না। যিনি সমস্ত নবী রাসূলের মাথার মুকুট, সাইয়্যেদুল মুরসালিন, সাইয়্যিদুস সাকালাইন, ইমামুল হারামাইনিশ শারীফাইন, আফতাবে নবুওয়ত, শাহেন শাহে রিসালাত, নূরুন আলা নূর, ছাইয়্যিদিনা শাফীয়িনা হাবীবিনা মাওলানা মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর। যাঁকে আল্লাহ পাক দেড় হাজার বছর পূর্বে গোটা মানব জাতির জন্যে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন। অসংখ্য অগণিত দরূদ ও সালাম তাঁর আহলে বায়াত ও সাহাবায়ে কেরামের উপর।



পেয়ারা নবী রাসূলে পাক (সাঃ)-এর জীবনকে সর্বমোট ৫টি অধ্যায়ে ভাগ করা যায়। ১. রূহের জগত, ২. মায়ের রেহেম, ৩. দুনিয়ার জীবন, ৪. মিরাজের জীবন, ৫. ইন্তেকালের পরবর্তী জীবন।



১. রূহের জগত : নূরে মুহাম্মদী (সাঃ) সৃষ্টির রহস্য



মহান আল্লাহ তাআলা গোপন ছিলেন। তিনি প্রকাশ হওয়ার ইচ্ছা করলেন। তখনও পর্যন্ত কোনো মাখলুক সৃষ্টি করা হয়নি। সর্বপ্রথম যে মাখলুক সৃষ্টি করলেন তিনি হলেন আমাদের প্রিয় রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র নূর মোবারক। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এসেছে-



অনুবাদ: হযরত যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলে পাক (সাঃ)-এর খেদমতে আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা মাতা আপনার উপর কোরবান হউক, আপনি বলুন, মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম কোন্ বস্তু সৃষ্টি করেছেন? তদুত্তরে তিনি বললেন, ওহে যাবের! সমস্ত বস্তু সৃষ্টির পূর্বে মহান আল্লাহ তোমার নবীর নূরকে আপন নূর হতে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় ঐ নূর (লা মাকান) যেথায় সেথায় ভ্রমণ করতেছিল। ঐ সময় লাওহে মাহফুজ, কলম, জান্নাত-জাহান্নাম, ফেরেশতা, আসমান-জমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানুষ জীন কিছুই ছিল না। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করার মনস্থ করলেন- তখন আমার ঐ নূরকে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে লাওহে মাহফুজ, তৃতীয় ভাগ দিয়ে আরশ এবং অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফেরেশতা, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে কুরসী, তৃতীয় ভাগ দিয়ে অন্যান্য ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। দ্বিতীয় চার ভাগের এক ভাগকে আবার চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে আকাশ, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে জমিন তথা পৃথিবী, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ সৃষ্টি করলেন। তৃতীয়বার অবশিষ্ট এক ভাগকে পুনরায় চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে মুমিনদের নয়নের নূর (অন্তর্দৃষ্টি), দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে মুমিনদের ক্বলবের নূর তথা আল্লাহর মারেফাত, তৃতীয় ভাগ দিয়ে মুমিনদের মহব্বতের নূর তথা তাওহীদি কালেমা ????? ??????? ???? ???? ???? সৃষ্টি করলেন। এভাবেই নূরে মুহাম্মাদীকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে বিভিন্ন প্রকারের সৃষ্টি সম্পাদন করেন।



(সীরাতে হালাবিয়া) প্রথম খ-, পৃষ্ঠা -৯) মাওয়াহেবে লাদুনি্নয়া (ইমাম কাসতুলানী), মুসান্নাফ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক (মুহাদ্দিস আব্দুর রাজ্জাক)



এছাড়া মিশরের আল্লামা ইউসুফ নাবহানী তাঁর রচিত আনওয়ারে মোহাম্মাদীয়া কিতাবে এ হাদীসখানা এনেছেন।



রাসূলে পাক (সাঃ) নূর রূপে কত বছর ছিলেন তা হিসাব করা সম্ভব নয়, তবে এর কিছুটা ইঙ্গিত হাদীস শরীফে পাওয়া যায়। আর তা হলো- হযরত আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) অর্থাৎ হযরত আলী (রাঃ)-এর নাতী। তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক সাঃ ইরশাদ করেছেন, ??? ???? ??? ??? ??? ??? ??? ??? ?????? ?????? ???. অর্থাৎ আমি হযরত আদম (আঃ) সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আমার প্রতিপালকের নিকট নূর হিসেবে বিদ্যমান ছিলাম। যখন মহান আল্লাহ হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন তখন ঐ নূর তাঁর পৃষ্ঠে রাখলেন আর ঐ নূর তাঁর কপালে চমকিতে থাকে এবং অন্যান্য নূরের উপর প্রাধান্য লাভ করে। অতঃপর আল্লাহ পাক হযরত আদম (আঃ) কে নিজের শাহী তখতে উত্তোলন করেন এবং ফেরেশতাদের কাঁধে উঠায়ে আসমানে তাওয়াফ করালেন। যার ফলে আলমে মালাকূতে আশ্চর্যজনক নিদর্শন দেখলেন। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া।



হযরত জাফর বিন মুহাম্মদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রূহ হযরত আদম (আঃ)-এর মস্তকে একশত বৎসর, বক্ষে একশত বৎসর, পায়ের নলায় একশত বৎসর ছিলো, অত:পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমস্ত মাখলূকাতের নাম সমূহ তালীম দিলেন এবং ফেরেশতাদেরকে আদেশ করলেন তোমরা তাকে সিজদা করো। ফেরেশতাগণ অবনত মস্তকে তাঁকে সিজদা করল। কিন্তু ইবলীস করলো না। যার ফলে সে অপমাণিত হলো আল্লাহর দরবার থেকে চিরতরে নিরাশ হলো।



মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন পাকে ইরশাদ করেন-



???????? ???? ?? ??????



অর্থাৎ তোমাদের নিকট এক মহান রাসূলের আগমন হয়েছে। সূরা তাওবাহ।



এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে নবী করীম (সাঃ) কোথা হতে আসলেন সে সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে-



অনুবাদ: একদিন নবী করীম (সাঃ) কথা প্রসঙ্গে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) কে তাঁর বয়স সম্পর্কে এভাবে জিজ্ঞাসা করলেন- হে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? তদুত্তরে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) বললেন- আমার বয়স সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই, তবে এতটুকু জানি যে, নূরের চতুর্থ হিজাবে একটি উজ্জ্বল তারকা ৭০ হাজার বৎসর পর পর একবার উদিত হতো। অর্থাৎ (সত্তর হাজার বৎসর উদিত অবস্থায় এবং সত্তর হাজার বৎসর অস্তমিত অবস্থায় ঐ তারকাটি বিরাজমান ছিল)। আামি ঐ তারকাটিকে ৭২ হাজার বার উদিত অবস্থায় দেখেছি। তখন নবী করীম (সাঃ) বললেন, "আল্লাহর শপথ, আমিই ছিলাম ঐ তারকা। তাফসীরে রূহুল বয়ান ।



রাসূলে পাক (সাঃ)-এর সৃষ্টি রহস্য এত গভীর যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেহই প্রকৃত অবস্থা জানে না। দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওঃ আবুল কাশেম নানুতুবী নবী পাক (সাঃ)-এর বাহ্যিক আবরণের ভেতরে যে প্রকৃত নূরানী রূপটি লুকায়িত ও রহস্যাবৃত তা মুক্ত কণ্ঠে স্বীকার করেছেন এভাবে-



অর্থাৎ "হে প্রিয় নবী (সাঃ)! আপনার প্রকৃত রূপটি তো বশরিয়াতের আবরণে ঢাকা পড়ে আছে। আপনাকে আপনার প্রভু (ছাত্তার) ছাড়া অন্য কেহই চিনতে পারেনি।



পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-



?? ????? ?? ???? ??? ????? ????.



অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট আগমন করল নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব। সুরা মায়েদা।



প্রসিদ্ধ ৫ টি তাফসীরের (তাফসীরে নসফী, কুরতুবী, কবীর, খাজেন, বায়জাবী) কিতাবে ??? দ্বারা উদ্দেশ্য মুহাম্মদ (সাঃ)। কেননা, প্রথম বস্তু যা আল্লাহ তাআলা কুদরতি নূর দ্বারা প্রকাশ করেছেন সেটা হলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নূর। যেমন রাসূলে পাক (সাঃ)-এর বাণী, নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ আমার নূরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর বিশ্বজগতকে আমার উক্ত নূরের আংশিক দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। সমস্ত মাখলুকাত যেহেতু তাঁর নূরে প্রকাশিত হয়েছে তাই হুযুরকে নূর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ জন্যই হুযুর (সাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহ হতে আর সমস্ত সৃষ্টি আমার হতে। আর সুস্পষ্ট কিতাব দ্বারা পবিত্র কুরআন মাজিদ উদ্দেশ্য।



কোনো কোনো মুফাসিসরীনে কেরাম ??? দ্বারা হেদায়েত উদ্দেশ্য করেছেন, এ অর্থ গ্রহণ করলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ রাসূল (সাঃ)-এর আগমনতো হেদায়েত নিয়েই। আল্লাহ পাক ইরশাদ করছেন-



অর্থাৎ তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহই যথেষ্ট। সুরা ফাতাহ, আয়াত ২৮।



আল্লামা কাসতুলানী (রহ.) তদীয় কিতাব মাওয়াহেবুল লাদুনি্নয়া কিতাবে লিখিয়াছেন, যখন মহান আল্লাহ হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন তখন তাকে এ মর্মে প্রশ্ন করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন, বলো ওহে প্রভু! আপনি আমার উপনাম আবু মুহাম্মদ কেন রাখলেন? তখন আল্লাহ পাক বললেন; হে আদম মস্তক উত্তোলন করো। মস্তক উঠায়ে দেখলেন, আরশের শামীয়ানায় নূরে মোহাম্মদী (সাঃ)। হযরত আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ওহে প্রভু! এ নূর কিসের? উত্তরে বললেন, এ নূর তোমার এক সন্তানের যার নাম আকাশে আহমদ এবং জমীনে মুহাম্মদ। তিনি না হলে তোমাকে সৃষ্টি করতাম না এবং আসমান জমীন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। এ হাদীসের সাক্ষী হাকেম তাঁর স্বীয় ছহীহ কিতাবে বর্ণনা করেছেন, যখন আদম (আঃ) আরশের উপরে দেখলেন



মুহাম্মদ (সাঃ) নাম লিখিত আছে, তখন মহান আল্লাহ বললেন, হে আদম! যদি এ মুহাম্মদকে সৃষ্টি না করতাম, তোমাকেও সৃষ্টি করতাম না। (চলবে)



লেখক : শিক্ষক দ্বীনিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৩৯১১
পুরোন সংখ্যা