চাঁদপুর। রোববার ২২ জানুয়ারি ২০১৭। ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২০৫। তুমি ভাবিয়া দেখ যদি আমি তাহাদিগকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাস করিতে দেই। 


২০৬। এবং পরে উহাদিগকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হইয়াছিল তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়ে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


টাকা যখন কথা বলে তখন সত্য চুপ করে থাকে। 


                        -রুশ দেশীয় প্রবাদ।


                       


যার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ অহঙ্কার আছে সে কখনো বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না। 


-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।

ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ ও মানুষের ধর্ম বিশ্বাস
আহমেদ উল্লাহ ভূঁইয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী)
২২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের প্রায় সকল বিজ্ঞজনোচিত আলোচনায়, আলোচিত শব্দাবলির মাঝে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা সেক্যুলারিজম শব্দটি বেশ কিছু সময় হতে সদম্ভে উচ্চারিত হয়ে আসছে। আমাদের ঘোষিত গুণীজন, অাঁতেল বা রাজনীতিবিদগণ এ শব্দটিকে পরম তাজিমের সাথে এবং গুরুত্ব সহকারে জনতার কর্ণকুহরে প্রবেশ করানোর ব্রতে নিজেদের অষ্টপ্রহর ব্যস্ত রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের জন্মস্থান ইউরোপ। জন্মকাল আসলে পুনর্জন্মকাল বলাই শ্রেয়। কারণ খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ সহস্রাব্দে, মিশরীয় ফেরাউন আখ্্-ইন্্-আতন একটি অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্যে তৎকালীন মিশরে তার সাম্রাজ্যের পরিসীমার ভেতর থেকে ঐতিহ্যবাহী সকল উপাস্য দেব-দেবীর পূজা বা উপাসনার সকল নিয়মকানুন বাতিল করে দেন। অবশ্য এর পেছনে কারণও ছিলো। মন্দিরের পুরোহিতগণ জনগণের দেয়া অঢেল অর্ঘ্যে সন্তুষ্ট ছিলেন না। সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতায় তারা প্রাধান্য বিস্তারে সচেষ্ট হয়ে উঠেন। অঢেল প্রাচুর্য, বলগাহীন জীবনযাপন, উশৃঙ্খল আচরণে পুরোহিত তন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সঞ্চার হতে থাকে। ধর্ম ব্যবসায়ী মূর্তি পূজারীর একটি বিদ্রোহী দল এ সময় বিতাড়িত হয়ে 'আরব্য' বা আর্য নামে ভারত উপমহাদেশে অনুপ্রবেশ করে। রাষ্ট্র শক্তি এবং অত্যাচারিত জনগোষ্ঠী এদের দেশ ছাড়া করে। তৎকালীন প্রচলিত সাকার ধর্মীয় অনুশাসনের আবেদন জনগণের নিকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না।



প্রাচীন গ্রীসেও প্রচলিত ধর্ম, ধর্মীয় আচরণ, পুরোহিতদের অর্থ গৃধ্নুতা ও উশৃঙ্খল আচরণ গ্রীক সমাজে পচন ধরায়। তাই সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধির স্বার্থে, গ্রীক সম্রাট জিনোফিনিজ এবং সম্রাট এক্্জাগোরাস, তাঁদের সময়ের প্রায় সব মন্দিরের পূজা বন্ধ করে দেন। অবাস্তব, অবৈজ্ঞানিক তথা মানুষের জীবন বোধের সাথে সঙ্গতিহীন ধর্মবিধানের আবেদন যেমনি সার্বজনীন হয় না, ঠিক তেমনি এসব ধর্মের স্থায়িত্বও বেশি দিন টেকে না। সাপ্তাহিক কনফেশনের মাধ্যমে, মানুষের যে কোনো পাপের যদি স্খলন নিশ্চিত হয় তবে মানুষ ধর্মনুরাগী হবে না এটাই স্বাভাবিক। প্রয়োগের কলুষে ধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়ে। যে ধর্ম আত্মার উৎকর্ষতা বিধানে অপারগ, সে ধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। 'সেক্যুলারিজম' ল্যাটিন শব্দ 'সিকিউলারিস' থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'সিকিউলারিস' শব্দের অর্থ পার্থিব বা বৈষয়িক, অস্থায়ী অথবা প্রাচীন বা সেকেল। কোনো গীর্জার পাদ্রী যদি কখনও গীর্জার বৈরাগ্যবাদী জীবন ত্যাগ করে, বৈষয়িক জীবনযাপনের অনুমতি লাভ করতেন, তখন এ বাস্তব জীবনবাদী সংসারী মানুষটিকে 'সিকিউলার' নামে অভিহিত করা হতো। বলে রাখা ভালো, তখনকার সময়ে ইউরোপীয় গীর্জা ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একান্ত ধার্মিক ব্যক্তি হিসেবে তিনিই স্বীকৃতি পেতেন, যিনি সংসার ধর্ম ত্যাগ করে গীর্জাশ্রিত বৈরাগ্য জীবনযাপন করতেন। মোদ্দা কথা হলো, ধর্মবিবর্জিত জীবন ধারাই হলো সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ।



ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে যখন সেক্যুলারিজম আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ফরাসী দেশে এর নাম দেয়া হয় 'লেইসিজম' বা ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি ও নিষ্কৃতি লাভ। অর্থাৎ মানুষের কোনো ধর্মই থাকবে না। কিন্তু বৃটিশরা এ দর্শন বা মতবাদের নাম দেয় 'সেক্যুলারিজম'। যাই হোক, মূল দর্শন হলো, ধর্মকে পুরোপুরি অস্বীকার করা। এ দর্শনের কারিগররা জনগণকে আকৃষ্ট করার জন্যে, উন্নত জীবন ব্যবস্থা আর প্রগতির আবহে সঙ্গীতের অবতারণা করেন। যে কোনো নতুন জিনিসের প্রতি মানুষের একটি সহজাত আগ্রহ থাকে। ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থার দালালেরা, সকল যুগে সকল দেশে এ সুযোগটি গ্রহণ করে থাকে। মানুষকে একবার তার সহজাত বোধ ও বিশ্বাস থেকে সরাতে পারলে পূর্বাবস্থানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা ও সুযোগ কমই থাকে। গীর্জার বিজ্ঞান বিমুখতা, সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণে মারমুখো ভাব, জনগণের গীর্জার জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতি অনীহা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গীর্জার মতামত চাপিয়ে দেয়াকে জনগণ মেনে নিতে পারে নি। সংসার ধর্মকে অস্বীকার করে, বৈরাগ্য সাধনের মাধ্যমে ধর্মের প্রকাশ ও বিকাশ মানুষের জীবন বিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাই ধর্মের আবেদন স্বাভাবিকভাবেই খ্রিস্টজগতে কমে যেতে থাকে। জনগণ অর্থাৎ বিশেষতঃ ইউরোপীয় খ্রিস্ট জগৎ, গীর্জাঘোষিত ধর্মবলয় হতে মুক্ত হওয়ার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। নব নব বৈজ্ঞানিক মতবাদ ও আবিষ্কারের সরাসরি বিরোধিতায় নামে গীর্জাগুলো। 'ডায়ালগ অন দা টু চীফ ওয়ার্লড সিসটেম' বইতে গ্যালিলিও গ্যালিলি, ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা মতবাদের কথা তুলে ধরেন। গ্যালিলি প্রমাণ সহকারে দেখান যে, অন্যান্য গ্রহের মতো পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। গীর্জা বলতো, সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। নতুন মতবাদকে গীর্জার বিরোধিতা তথা ধর্মবিরোধিতা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ধর্ম গুরুগণ আন্দোলন শুরু করে এবং বৈজ্ঞানিক গ্যালিলিকে সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ব মতবাদ প্রত্যাহারে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ব মতবাদের প্রচারক বৈজ্ঞানিক ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে ১৬০০ সালে হত্যা করে। ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় বৈজ্ঞানিকরা বিশ্বাস করতেন যে, খ্রিস্ট পূর্ব ৪০০৪ সালের ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টায় পৃথিবী সৃষ্টি হয়। এ মতবাদটিও গীর্জা প্রভাবিত। অথচ আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে পবিত্র বিজ্ঞানময় কোরআন ঘোষণা করে, সূর্য কেন্দ্রিক বিশ্ব মতবাদ, যা আজও বিজ্ঞানের সকল উৎকর্ষতার যুগে প্রমাণিত সত্য হিসেবে গৃহীত।



ইউরোপীয় জনসমাজ গীর্জামুখী খ্রিস্ট ধর্মের প্রভাবমুক্ত হলেও, পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানময় ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুশৃঙ্খল মানবিক আবেদনকে এড়িয়ে চলে অদ্যাবধি। যেহেতু পবিত্র কোরআন হলো বিশ্বের সকল যুগের সকল মানুষের প্রশ্নাতীত অনুকরণীয় সকল মানুষের ধর্ম ব্যবস্থা। একে পৃথিবীর সকল মানুষের যুগোপযোগী জীবন ব্যবস্থার সংবিধান বলা হয়। নেহায়েৎ অপপ্রচার এবং লাম্পট্যের অলঙ্করণে অলঙ্কৃত ভোগবাদী পশ্চিমা বিশ্ব আত্ম অহমিকার বশে নিজেদের অমানবিক আচরণকে ঢেকে রাখার জন্যে ইসলামের বিরোধিতা করে থাকে। পৃথিবীর সকল দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রিপুর উপাসকরা পশ্চিমের এ সর্বনাশা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের আড়ালে স্বীয় অপরাধবাদের আস্তানাকে আড়াল করে রাখে।



ঈসায়ী ১৯৩৬ সালে রাণী ভিক্টোরিয়া ইংল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহন করেন। ভারত উপমহাদেশ থেকে মুসলমান শাসনের অবসান ঘটিয়ে বৃটিশরা ভারত শাসন ও শোষণ করছিলো বল্গাহীনভাবে। এরই মাঝে অনেক মুসলমান দেশও তখন বৃটিশের উপনিবেশে পরিণত হয়। ভারতের আর্থিক প্রাচুর্য আর সমাজ ও রাষ্ট্রিক শৃঙ্খলা এবং শিল্পকলা এতো সমৃদ্ধ, তা নিয়ে রীতিমত গবেষণা চালায়। দেখা গেলো এসবের মূলে ছিলো শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগতমান এবং শাসক ও শাসিতের নৈতিক মূল্যবোধ। কোরআনের আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলমান শাসকারা ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শিক মহাপুরুষ। এদেশের একাধিক শাসনকর্তা কোরআন নকল করে, দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরা ছিলেন প্রজা বৎসল, ন্যায় বিচারক। এ উপমহাদেশে কোরআন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছিলো এবং ছিলো ৮৫০০০ মাদ্রাসা। যেখানে শিক্ষা দেয়া হতো অঙ্ক শাস্ত্র, সমুদ্র বিজ্ঞান, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস, নীতিশাস্ত্র, দর্শন, মানুষের জাগতিক ও পরকালীন জীবনবোধ ও ব্যবস্থা সম্পর্কিত শাস্ত্র প্রভৃতি। যেহেতু মুসলমানদের হাত থেকে বৃটিশরা রাজত্ব কেড়ে নিয়েছিলো এবং একমাত্র মুসলমানরাই দেশি বা বিদেশি অপশাসন ও শোষণকে অনুমোদন দেয় না বা ইসলাম তা অনুমোদন করে না, সেহেতু বৃটিশরা মুসলমানদের সংগ্রামের পথ থেকে নিভৃত করার পথ খুঁজছিলো। তাই মুসলমানদের ঈমানকে বিনষ্ট করার জন্যে ভারতে একটি গবেষণা ধর্মী দল পাঠায়। এটা পরে শিক্ষা কমিশন নামে খ্যাত হয়। বৃটিশ পার্লামেন্টে আলোচনা হয় এই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তখন স্যার গ্লাডস্টোন। তিনি একদিন এক কপি পবিত্র কোরআন হাতে পার্লামেন্টে ঢুকেন। উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমার হাতে ধৃত গ্রন্থটি মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন। পৃথিবীতে একমাত্র এ ধর্মগ্রন্থটিই কোনো রাষ্ট্রে জাতীয় বা বিজাতীয় কোনো প্রকার অন্যায় শাসন বা শোষণ অনুমোদন করে না। বৃটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার অধীনে আজ অনেকগুলো মুসলিম দেশ। যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজিত করা আপাত সহজ হলেও দীর্ঘদিন তা সম্ভব নয়। তাই এসব মুসলমান দেশ এবং বিশেষভাবে নিরুপদ্রবে ভারত শাসন করতে হলে আমাদের বিকল্প সহজ পথ বের করতে হবে। সকল মুসলমান দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব এবং সিলেবাস পরিবর্তন করে আমাদের বোধ ও বিশ্বাসের সাথে সকল মাদ্রাসা তথা কোরআন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে শিক্ষিত মুসলমানরা জন্মগতভাবে মুসলমান হলেও তারা বোধ ও বিশ্বাসে আমাদেরই প্রতিনিধিত্ব করবে। আমাদের আর যুদ্ধ করতে হবে না। মোদ্দা কথা, কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা ও আদর্শ হতে মুসলমানদের দূরে রাখার সাফল্য অনাদিকাল পর্যন্ত আমাদের স্বার্থকে সমুন্নত রাখবে। এ ধারালো তলোয়ার যতোদিন খাপবদ্ধ থাকবে, ততোদিন আমাদের যুদ্ধ করতে হবে না, নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে না। কালের প্রবাহে বৃটিশ মানসিকতায় পুষ্ট মুসলমানেরা মূলধারার বিরুদ্ধে চলে যাবে আর আমরা আমাদের স্বার্থ আদায় করে যেতে পারব। কোরআন মুসলমানদের মনে শোষণ ও বিদেশি শাসনের নাগপাশ হতে মুক্ত হওয়ার সীমাহীন শক্তি যোগায়। তাই আমাদের আজ হতে সর্বাত্মক চেষ্টা হোক, কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা হতে মুসলমানদের দূরে রাখা।"



অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লব ইউরোপীয়দের ভোগবাদী আদর্শের পথে ধাবিত করে। প্রকৃত জীবনবোধের সাথে তাদের ধর্মীয় অনুশাসন সামঞ্জস্য বিধান করতে অক্ষম ছিলো। ইউরোপীয়রা গ্রীক সাহিত্য, শিল্পকলা এবং ধর্মীয় আচারণের দ্বারা প্রভাবিত ছিলো। তাই মনীষী গিলবার্ট মারে যথার্থই বলেছেন, "ঐতিহাসিকভাবে আমরা অনেকাংশে চিন্তায়, শিল্প-সাহিত্যে, দর্শনে, নীতিশাস্ত্রে, জীবনবোধ এবং ধর্মে গ্রীসেরই মানস সন্তান।"



গ্রীক ও রোমান ধর্ম, গোটা ইউরোপীয়দের জীবনে দীর্ঘকাল প্রভাব বিস্তার করেছে। হোমার তাঁর অমর সাহিত্য কর্ম 'ইলিয়ড' এবং 'অডিসির' মাধ্যমে গ্রীক দেব-দেবীর চরিত্র চিত্রণ করেছেন, যা একান্তভাবে মানবীয়। সৃষ্ট দেব-দেবীদের ভোগবিলাস, হিংসা বিদ্বেষ, বীরত্ব, গ্রীক ও রোমানদের মতো ইউরোপীয়দেরকেও প্রভাবিত করে। এসব দেব-দেবী প্রেমাসক্ত হতো, আহার করতো, যুদ্ধ করতো, ঝগড়াঝাটি করতো, বিপক্ষকে আক্রমণ করতো, ঘুমাতো এবং নাচ-গান করতো। ধর্মের ভিত্তি ছিলো বাহ্যিক এবং মানুষের সাথে দেব-দেবীর সম্পর্কটাও ছিলো বাহ্যিক ও যান্ত্রিক। ধর্মোৎসবগুলো ছিলো অবসর বিনোদনের মাধ্যম মাত্র। মূল বিষয় ছিলো যুদ্ধ বিদ্যা এবং প্রতীক রূপ তথা মূর্তি পূজা। কাল্পনিক সব দেব-দেবী মন্দিরে প্রতিস্থাপিত হয়ে পূজা পেতো। যেমন নেকড়ে বাঘের দেবতা 'অ্যাপোলো লাইকিউস' আরগোসে প্রবেশ করে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়। তার জন্যে মন্দির স্থাপন করে স্থাপন করা হয় আগুনের অনির্বাণ শিখা। জাতির চিরন্তন জীবনের প্রতীক রূপেই তা গণ্য করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ইউরোপ হয়ে আজ আমাদের বাংলাদেশেও বীরত্বের প্রতীকী শক্তি হিসেবে চিতা বহ্নিমান স্থাপিত হয়। অথচ মৃত ব্যক্তির পূজোর উৎস গ্রীস। গ্রীকে আচরিত ধর্ম আসলেই কোনো ধর্মতত্ত্ব অথবা কমান্ডমেন্টস্ খুঁজে পাওয়া যায় না। অসীম এবং চিরন্তন সত্তার বিশ্লেষণ পেশ করার জন্যে গ্রীকদের কোনো ধর্মতত্ত্ববিদ আদৌ ছিলো না। প্রকৃত অর্থে তারা কোনো দিনই সে পরম ও অনন্ত সত্তাকে বিশ্লেষণ করার উদ্যোগও নেয় নি। তাদের প্রচলিত ধর্মীয় আচরণ, মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তুলতে পারে নি। গ্রীক ধর্মের সর্বত্র দেখা যায়, বিপজ্জনক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, উত্তেজক ভুরিভোজ, নাচ-গান, মদ্যপান, নারীর বেলেল্লেপনা, মদ বা উত্তেজক পানীয়ের ও দেবতা। তিনি ডায়োনিসাস, মন্দিরে তার মূর্তি ছিলো। তাকে পূজা করা হতো। গ্রীক সাহিত্যে ছিলো স্থূল বর্ণনায় দেহজ সৌন্দর্য, বস্তুগত সমৃদ্ধি, ভোগ ও ভোজের আনন্দের প্রশস্তি। মৃত্যুর পর জীবন তথা পরকালের প্রতি তারা ছিলো নিরাসক্ত। তাই পার্থিব জীবনকে ভোগের আনন্দে ভাসিয়ে দেয়াকে জীবনের পূর্ণতা মনে করতো। গ্রীক ও রোমানরা বিবেকের দংশনে বিচলিত না হয়ে আমোদ-আপ্লুত জীবনযাপন করতো। সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ের কাছে আত্ম সমর্পণের তাগিদ অনুভব করে নি। স্রষ্টার নিকট সাহায্য চাওয়ার বিপরীতে সৃষ্ট দেবতার মন্দিরে নৈবেদ্য দানই ছিলো তাদের বিশ্বাস। হতবুদ্ধিতা অথবা বিবেকের দংশন তাদের প্রাত্যহিক জীবনাচারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি।



রোমানদের প্রথম রাজা তাঁর জাতিকে দিয়েছিলেন রাজনৈতিক ইউনিয়ন। দ্বিতীয় রাজা নুমা করেন ধর্মীয় কার্যাবলির প্রচলন। রোমান রাজারা রাষ্ট্র শাসনের পাশাপাশি, ধর্মীয় বিধিবিধানও নিয়ন্ত্রণ করতেন। রোমানদের বিশ্বাস ছিলো যে, একমাত্র সম্রাটের সাথেই স্বর্গীয় দেবতাদের সম্পর্ক রয়েছে। রোমানরা ধর্মীয় পূজা অর্চনার সাথে বলিদান প্রথা প্রচলন করে। রোমানদের দেব-দেবীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত উপাচার দেখে দার্শনিক সিসেরো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ডি নেচুরা ডিওরাম'-এ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন "যে দেবতার কাছ থেকে তুমি কিছুই পাওনি, তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের বাধ্য বাধকতা কোথায়?" রোমানদের প্রচলিত ধর্ম তাদের দিয়েছে শুধু লাগামহীন আমোদ প্রমোদের সীমাহীন প্রতিযোগিতা। পরিণতিতে রোমান সাম্রাজ্যে সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা এবং পরিণামে পতন। সুতরাং গ্রীক ও রোমান ধর্মের প্রতি অনীহা, চরমপন্থী চার্চিস্ট এবং ইউরোপীয় মহাদেশে সৃষ্ট বিভিন্ন বিপ্লব ও আন্দোলনে জনমনে জেগে ওঠা বিপ্লবাত্মক আশা আকাঙ্ক্ষার চরম ব্যর্থতার পর ১৮৪৮ সালে সেক্যুলারিজম ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং পথহারা জনগণের সমর্থন লাভ করে। অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, অতীব নিকৃষ্ট এবং তীব্র সামাজিক বিপর্যয়ের ফল স্বরূপ সেক্যুলারিজমের জন্ম হয়। বিত্তশালী ও প্রভাব প্রতিপত্তিশালী লোকদের বল্গাহীন লালসায়, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পথে অসঙ্গত ও অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা ও গীর্জার ধর্মীয় বাড়াবাড়ি সেক্যুলারিজমের জন্ম দিয়েছিলো। বঞ্চিতরা রাজনীতির খোল নলচে বদল করতে গিয়ে তারা ধর্মকেও অস্বীকার করে বসে। জনগণের আবেগকে কাজে লাগায় সুযোগসন্ধানী ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী সমাজ। তারা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে কৌশলে ধর্মকেও নির্বাসনে পাঠায়।



আন্দোলনে ইহুদী সম্প্রদায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা এদের সমাজ ও রাষ্ট্র হতে নির্মূল করার অভিযানে নামে। ইহুদীদের যেখানেই পাওয়া যেতো তাদের হত্যা করা হতো। স্মরণযোগ্য যে ইহুদীরা পৃথিবীর সবচে' সংখ্যালঘু জাতি। জাতিগতভাবে এরা হিংসুক, সুদখোর এবং কলহপ্রিয়। প্রতিটি ঐশী গ্রন্থ অনুযায়ী এরা অভিশপ্ত। তবে এরা বেশ কৌশলী এবং বুদ্ধিমান। ইহুদীরা তার স্বজাতির প্রতি সর্বদা দায়িত্বশীল থাকে। বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীতে কলহ লাগিয়ে রাখা এদের রুটিনমাফিক কাজ। মিডিয়ার উন্মেষের সাথে সাথে এদের বিকাশ ও প্রভাব বাড়তে থাকে। পৃথিবীর তাবৎ প্রচার মাধ্যমে এদের প্রশ্নাতীত প্রভাব রয়েছে। যে গীর্জার প্ররোচনায় ইউরোপে ইনকিউজিশন চলছিলো, সে গীর্জাকে উৎখাতের যাবতীয় প্রচার-প্ররোচনায় ইহুদীরা সর্বোচ্চ অবদান রাখে। ইহুদী লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী সবাই একাট্টা হয়ে পড়ে। তাছাড়া খ্রিস্টান বুদ্ধিজীবীদেরকে নিজ দলে টানে বিভিন্ন কৌশলে। জিরামী বেনহাম, জেমস মিল, রবার্ট পেইন, রিচার্ড কারলাইন, কে. এইচ. লিউস প্রমুখ বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিকগণ কাকস্য কোরাসে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ফজিলত বর্ণনায় বহুসংখ্যক বক্তৃতা, প্রবন্ধ ও বই লিখেন। ইহুদী নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা প্রচার মাধ্যম তা ছাপতে শুরু করে। তবে বৃটেনে জন্মগ্রহণকারী জর্জ জ্যাকব হলিউক সেক্যুলারিজমের আরেক দিকপাল রবার্ট ইউনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেও কালের পরিক্রমায় এ ইহুদী সন্তান ১৮৪১ সালে সৃষ্টিকর্তাকে সরাসরি অস্বীকার করে সেক্যুলারিজমকে আরো দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে নেন।



সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠায় হলিউকের সহকর্মীদের মাঝে ছিলেন থমাস কুপার, চার্লস সাউথওয়েলস, থমাস পিটারসন এবং উইলিয়াম বিলটন। ১৮৪৯ সালে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। হলিউক এ আন্দোলনকে সরাসরি নাস্তিকতাবাদের উত্তম বিকল্প হিসেবে অভিহিত করেন। ১৮৫০ সালে হলিউকের সাথে চার্লস ব্রেডলাফের পরিচয় ঘটে। উভয়ই একমত হন যে, সরাসরি নাস্তিকতাবাদের মোড়কে সেক্যুলারিজমকে না ঢেকে 'এটি বর্তমান অর্থাৎ পার্থিব জীবনের আওতাভুক্ত কর্তব্যসমূহ উত্তমভাবে পালনের মতাদর্শ' হিসেবে পরিচিত করতে আগ্রহী ছিলেন। এটা ছিলো নাস্তিকতার অপবাদ হতে আত্মরক্ষার কৌশল মাত্র। এর সাথে যোগ করলেন প্রগতি, মানবতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি। আরো রং চাড়ালেন এ বলে যে, আমার পরিচয় হবে আমি মানুষ। আমার ধর্ম হবে মানবধর্ম। এসব চটকদার শব্দ আপাতঃ মধুর শোনালেও মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মকে অস্বীকার করা। ইউরোপের বেশির ভাগ রাষ্ট্রই অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে এশিয়া আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে। এসব উপনিবেশ থেকে লুণ্ঠিত অর্থ ও সম্পদের প্রাচুর্য, দীর্ঘকাল অশিক্ষা, কুসংস্কার, সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও গীর্জার অনৈতিক নিষ্পেষণে ইউরোপের জনগণের নাভিশ্বাস চলছিলো। জনগণ চেয়েছিলো মুক্ত জীবন ব্যবস্থা। তাই ধর্মের বিধানমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিলো সময়ের দাবি। গণআন্দোলনে ক্লান্ত ইউরোপীয় শাসকরা নেহায়েৎ অসহায়ের মতো রাষ্ট্র ব্যবস্থার বাইরে ধর্মকে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯০৫ সালে তৃতীয় রিপাবলিক আইন পাসের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ গীর্জার প্রভাবমুক্ত হলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রভাব নিষিদ্ধ করা হলো। অবশ্য এর আগে ১৮৮২ সালেই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ধর্মীয় শিক্ষা বিদায় করা হয় সুকৌশলে।



বলে রাখা ভালো, যে ধর্মে মানবিক আবেদন নেই, প্রকৃত জীবন বিধান নেই, স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সেতুবন্ধন নেই, নৈতিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নেই, নেই মানুষের জীবন জিজ্ঞাসার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, সে ধর্মের প্রতি মানুষের সন্দেহ ও সংশয়ের আঙ্গুলি উত্থিত হবে এটাই পরাবাস্তবতা। তার উপর যদি ধর্মীয় জুলুম, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অযাচিত হস্তক্ষেপ থাকে, তাহলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এর বিকল্প খুঁজবে, এটাই স্বাভাবিক। ইউরোপে গ্রীক ধর্ম বলুন, রোমান ধর্ম বলুন বা খ্রিস্ট ধর্মের কথা বলুন, এর কোনোটিই বিজ্ঞানসম্মত ছিলো না বা মানুষের জীবনে বয়ে আনতে পারে নি মানুষের জীবন জিজ্ঞাসার জবাব। তাই জীবনধারার বিপরিতমুখী বা বিজ্ঞানকে অস্বীকারকারী সে ধর্মকে অস্বীকার করাই স্বাভাবিক।



ইহুদী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মতো, মুসলমানরাও আসমানী বা ঐশী গ্রন্থের মালিক বা অনুসারী। মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ হলো পবিত্র কোরআন। মহান আল্লাহর ভাষায় একে কোরআনুল হাকিম বা বিজ্ঞানময় কোরআন বলা হয়। অন্যান্য আসমানী কিতাব বা ঐশী গ্রন্থ হতে পবিত্র বিজ্ঞানময় কোরআনের পার্থক্য হলো যে, এ কোরআনই হলো মানব জাতির উপর মহান আল্লাহপাকের নাজিলকৃত সর্বশেষে ঐশী গ্রন্থ এবং এরপর আর কোনো নবী বা রাসূল মানব জাতিকে হেদায়েত করার জন্যে প্রেরিত হবেন না বা আর কোনো ঐশী গ্রন্থও অবতীর্ণ হবে না। মানব জাতির প্রতি এটাই মহান আল্লাহ পাকের অঙ্গীকার। কারণ, পৃথিবীর সকল মানুষকে অনাদিকাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবন পরিচালনার জন্যে যুগোপযোগী যাবতীয় ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, আন্তঃরাষ্ট্রীয় যাবতীয় বিধান পবিত্র কোরআনে সনি্নবেশিত আছে। মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান সম্বলিত এ মহান সংবিধানের রচয়িতা স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এর কোনো প্রকার পরিবর্তন পরিবর্ধনের ক্ষমতা মানুষের নেই।



পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে আদর্শ বিবর্জিত মানুষ একজন অকৃতজ্ঞ অমানুষ। যে মহান সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পায় আমার জন্ম, যার অজস্র সৃষ্টির উপকরণে আমি সমৃদ্ধ, তাঁর প্রতি আমার সমর্পিত কৃতজ্ঞতা না জানালে মানুষ হিসেবে আমি হবো অকৃতজ্ঞ, মোনাফেক। আল্লাহর বিধান মোতাবেকই পৃথিবীর আকাশম-ল পরিচালিত হয়ে আসছে পরম শৃঙ্খলার সাথে। এর ব্যতিক্রমই হবে হিংসা, হানাহানি-বিশৃঙ্খলা, যা পৃথিবীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। পূর্বে অবতীর্ণ সকল ঐশী গ্রন্থের পরিসমাপ্তি স্বয়ং আল্লাহপাকই ঘোষণা করেছেন। কারণ, পৃথিবীতে চলতে হলে মানুষকে যা যা করতে হবে এবং যা যা বর্জন করতে হবে, তার সবই সবিস্তারে কোরআনে উল্লেখ করা আছে। পবিত্র কোরআনে বিজ্ঞান মনষ্কতা তথা বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে উন্নততর ইবাদতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবস্থায় ইসলামিক বিধান মানুষের আবিষ্কৃত তথা পাশ্চাত্যের আইন হতে অনেক বেশি আদর্শিক, মানবিক ও কার্যকর। মানুষ যেহেতু প্রবৃত্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সসীম ক্ষমতার অধিকারী, সেহেতু মানব রচিত আইন বা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ব্যক্তি মানস ও সীমাবদ্ধতার দোষে দুষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক।



পশ্চিমা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গীর্জার অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ, অর্থলিপ্সুতা, বিশপ ও পাদ্রীদের বিলাসী জীবনযাপন সাধারণ খ্রিস্ট ধর্মবিশ্বাসীদের ধর্মের প্রতি অনীহা প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করে। জনগণ যাজকদের ঘৃণা করত। যাজক পাদ্রীদের অনেকে ছিলো শিকারী বাজপাখি, কুকুর, জমকালো অনুচরবর্গ এবং সুসজ্জিত মহিলা সঙ্গিনী। পাপাচার আর পার্থিব স্বার্থ পূজা ছাড়া আরেকটা কলঙ্কের বিষয় ঢুকে পড়ে গীর্জাগুলোতে। আর তা হলো পাপের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দানের সার্টিফিকেট বিক্রি। ঈসা আলাইহিসসালাম কর্তৃক সেইন্ট পিটারকে প্রদত্ত পাপমুক্তির সনদ, পিটার কর্তৃক বিশপদের এবং বিশপদের কর্তৃক যাজকদের প্রদত্ত সনদবলে তারা অনুতপ্ত এবং গুরুদক্ষিণা দানে স্বীকৃত পাপীদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক, পাপীদের পাপ মুক্তি ও জাহান্নামের অনল হতে নিষ্কৃতির নিশ্চয়তা দিতো, যা একটা ব্যবসায় রূপ নেয় এবং বিত্তবানদের পাপাচারের পথ খুলে দেয়। পাদ্রীরা ধর্মীয় মিছিলে পবিত্র দ্রব্যাদি স্পর্শ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। এসবকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে মানুষ ভাবতে শুরু করে এবং ক্রমে ধর্মের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।



এসবই পশ্চিমের অর্জন এবং বিসর্জন। এর সাথে আমাদের বোধ ও বিশ্বাসের সাজুয্য নেই, মিল নেই। ইসলাম ধর্মে কারো পাপ ক্ষমা করার অধিকার অন্য কোনো ধর্ম বিশারদ বা পীর তথা গুরুকে দেয়া হয় নি, এর বিধানও নেই। এখানে প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব ক্রিয়া কর্মের জন্যে সরাসরি আল্লাহপাকের নিকট দায়ী থাকবেন। ধর্মীয় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো ধর্মীয় লেবাসধারী লোক ধর্মকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারার দায়দায়িত্ব তার একান্তভাবেই নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর জন্যে ধর্মীয় আবেদনের কোনো হেরফের হবে না। সুতরাং ইসলাম ধর্মে ব্যবসার কোনো অবকাশ নেই। যাজকীয় ভূত ইসলামে আবিষ্কার করার পরিণাম আত্ম প্রবঞ্চনা মাত্র। ইসলাম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না থাকলে এতদ্বিষয়ে আলোচনা করারও অনুমতি নেই।



পবিত্র কোরআনে এমন কোনো বাণী নেই, এমন কোনো আদেশ নিষেধ নেই, যা এর অবতীর্ণ কাল হতে অদ্যাবধি প্রায় চৌদ্দশ' বছর পার হলেও ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র বা বৈশ্বিক আলোকে এর বিন্দুমাত্র পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন পড়ে। ইহা সর্ব যুগে, সর্বলোকে, সকল মানুষের জন্যে উপযোগী বিজ্ঞান সম্মত মহান গ্রন্থ। এ ঐশী গ্রন্থের মাধ্যমে আল্লাহপাক মানবজাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সৃষ্টির আদি হতে কোরআন অবতীর্ণের কাল অবধি এর পূর্বে নাজিলকৃত সকল ধর্মগ্রন্থ রহিত করা হলো এবং কোরআনুল হাকীমই কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর সকল মানুষকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা বৈশ্বিক সকল জিজ্ঞাসার জবাব ও সমাধানে সমর্থ সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ। আল্লাহপাকের নির্ধারিত বিধানই মানবজাতির সার্বিক কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত এবং সকল মানুষ একেই অনুসরণ করে উপকৃত হবে।



সীমিত জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের রচিত কোনো আইনই চিরস্থায়ী নয় এবং এতে ভেদাভেদ তথা সংঘর্ষ অনিবার্য। মানব ধর্মের নামে বা চটকদার প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষতার নামে, যেভাবেই ধর্মের বিরোধিতা করা হোক না কেনো, আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের বিরোধিতা মানেই আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা, পরম সত্তাকে অস্বীকার করার সামিল। পশ্চিমা বিশ্বের ধর্মের প্রতি অরুচির জন্যে আমরা আমাদের পবিত্র ধর্মের উপর এর দায়ভার চাপাতে পারি না। এ ধরনের কোনো দুর্বলতা পবিত্র কোরআনে নেই। এবার দেখুন ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে পশ্চিমের বিখ্যাত দার্শনিক, চিন্তাবিদ বা সমাজ সংস্কারকরা কী বলেন_


The Quran abounds in excellent morals, suggestions and precepts, its composition is so fragmentory that we can not turn to a single page without finding maxims of which all men must approve. (By-Jhon Willium Dropper- in his book, ‘A History of the Intellectual Development of Europe’- Published in London).

                If a man like Mohammad were to assume the dictatorship of this modern world, he could solve the problems in a way that would ultimately brings its much needed peace and happiness.” George Barnard Shaw- In a Lecture on World Peace.


                Philosophers, orators, apostles, lagislators, warriors, conquirors of ideas, restorers of religious dogmas of cults without images of the founder of twenty terrestial empires and one spiritual emprire that is Mohammad. As regards to all standards by which human greatness may be measured, we may ask, is there any man greater that Mohammad?” Alfred La Mortin- A famous philosopher of France.



নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, হিটলার, চার্চিল, মহাত্মা গান্ধী, এম. এন. রায় প্রমুখের মতো হাজার হাজার বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ইসলাম সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এমনকি বিশ্ব এইডস্ রোগ প্রতিরোধ কমিটির সভায় ২০০৬ সালের গৃহীত রেজুলেশনে বলা হয়, 'বিশ্ব সভ্যতা এবং বিশ্বের মানুষকে এ মরণ ব্যাধির হাত হতে বাঁচানোর এক মাত্র পন্থা হলো ইসলামী জীবন ব্যবস্থার বাস্তব অনুশীলন।' উক্ত সংস্থার সভাপতি তাঁর সমাপনী ভাষণে বলেন, "গবেষণায় দেখা যায়, যে সকল মানুষ ইসলামী বিধি মোতাবেক জীবনযাপন করেন তাদের কেউই জীবনঘাতী সিফিলিস, গণোরিয়া বা এইডসের মতো জঘন্য রোগে আক্রান্ত হয় নি। কারণ, ইসলাম সুশৃঙ্খল আদর্শিক জীবনযাপনের নির্দেশক।"



আধুনিক বিশ্বের সংঘাতময় পরিস্থিতি পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। হিংসা বিদ্বেষ জাতিগত সংঘাত, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, বৃহৎ শক্তি কর্তৃক দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন অজুহাতে সশস্ত্র হস্তক্ষেপ, বিশেষত ধর্মের প্রতি মানুষের অনীহা বা ক্ষেত্র বিশেষে বিদ্বেষ পোষণ, মানবজাতিকে অনিবার্য ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত করেছে, অথচ এসবের কিছুই ইসলাম অনুমোদন করে না। মানবতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার, সম্পদের ন্যায় ভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা, পরস্পর সহানুভূতি ও সহমর্মিতার অলঙ্করণে ইসলাম অলঙ্কৃত। ইসলামের বিধান তথা আল্লাহর আদেশ নির্দেশ হতে মানবজাতি বা কোনো সম্প্রদায় যখন যেখানে দূরে সরে গিয়েছে, তখনই তার বিপর্যয় ঘটেছে। ইতিহাস তার সাক্ষী।



যেহেতু মানুষ সমাজবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক জীব, সেহেতু এখানে সংঘচ্যুত মানসিকতার আবেদন বিফল বা আবেদনহীন হওয়াই স্বাভাবিক। জন্মগতভাবেই কোনো মানুষ নিরপেক্ষ নয়। জন্ম সূত্রে সে তার পরিবারের বিশ্বাস ও আচরণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য বোধ পারিবারিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সাথে স্বাভাবিকভাবেই সাংঘর্ষিক হবে এবং শান্তি বিঘি্নত হবে। প্রত্যেক জাতি, প্রতিটি সম্প্রদায়, প্রতিটি ধর্মাচারী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বাণীর আবেদনে আত্মপ্রসাদ লাভ করে। এটা হওয়া উচিত এবং এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রতিটি জীব, জড় বা অজড় পদার্থ সবারই একটা ধর্ম আছে বিধায়ই এ পদার্থটা ওই বিশেষ নামে পরিচিত। মানুষ, পশু, গাছপালা, প্রতিটি রাসায়নিক পদার্থ এমনকি ঝড় তুফানেরও জাতধর্ম আছে। তাইতো এ ধর্মের কারণেই আমরা একটিকে অন্যটি হতে পৃথক করতে পারি এবং ভিন্ন নামে ডাকতে পারি।



নিরপেক্ষতা শব্দটির প্রচলিত অর্থের সাথে আমি একমত হতে পারি না। আমার স্বকীয়ত্ব ত্যাগ করে একটা অন্যায়কে সমর্থন করা যুক্তিযুক্ত নয়। প্রথমে ভাবতে হবে আমি যে সম্প্রদায়ের বা বিশ্বাসী শ্রেণীর মাঝে আছি, তার বোধ ও বিশ্বাসের সাথে আমি মানিয়ে নিতে পারছি কি না। যদি না পারি, তবে ভেবে চিন্তে সে পরিবেশের বোধ ও বিশ্বাস ত্যাগ করে যে সম্প্রদায় আমার ভালো লাগে, যে ধর্ম বিশ্বাসে আমার আস্থা আছে, আমাকে সেখানেই চলে যাওয়া উচিত। ভাসমান বা চলমান নৌকায় বসে এর তলা ছিদ্র করা নিজের জন্যে এবং নৌকার অন্যান্য যাত্রীর জন্যেও সমভাবে বিপজ্জনক।



ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে আজ পশ্চিমা বিশ্বের অবক্ষয় সভ্যতার দগদগে ক্ষতে পরিণত হয়েছে। পারিবারিক অবকাঠামো বিলুপ্তির পথে। সদ্যজাত মানব শিশুর আশ্রয় হয় এতিমখানায়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বৃদ্ধা-বৃদ্ধাগণ বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের অসহায় বাসিন্দা। নারীর জন্মগত অধিকারেই যেন সংসার হতে সে নির্বাসিত। ধর্মীয় মূল্যবোধের সুশীতল ছায়া হতে সবাই বিতাড়িত। চলাচলের অযোগ্য যানবাহনের মতো বৃদ্ধ অসহায় মানুষের আশ্রয় অচেনা ভূবনে। পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণহীন যুবক যুবতীরা স্রোতের শেওলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। জরাগ্রস্থ সন্তান বা জন্মদাতা ও স্নেহময়ী জননী কেউ কারো স্নেহ-ভালোবাসা দাবি করতে পারছে না। যন্ত্র আর মানুষ সেখানে সমার্থক। ধর্মের নির্বাসনের সাথে সাথে মানবিক মূল্যবোধ তথা পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানুষের জীবন বোধ কর্পুরের মতো উবে গেছে।



ধর্মনিরপেক্ষতার ছায়ায় গড়ে উঠেছে কৌশলে ধর্মকে নির্বাসনের সর্ব আয়োজন। তাই আমরা প্রত্যক্ষ করছি, নীতিহীন রাজনীতি, সততাহীন ব্যবসা, কর্মহীন সম্পদ, চরিত্রহীন শিক্ষা, মানবতাহীন বিজ্ঞান এবং বিবেকহীন আনন্দ। ব্যক্তি স্বাধীনতার উন্মত্ত প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যাচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যবোধ। শৃঙ্খলাবিহীন অধিকার বোধ সততই কর্তব্যবোধের কণ্ঠরোধ করে। ১৯২৩ সালে মহাত্মা গান্ধীর মতো ব্যক্তিত্ব বোম্বের পাইওনিয়ার পত্রিকার সাথে এক সক্ষাৎকারে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "আমি পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত একজন হিন্দু। আমি বেদ, উপনিষদে এবং পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাস করি। হিন্দু হিসেবে আমার পরিচয় আমার গর্ব।" জনৈক দার্শনিক বলেছেন, "অবোধ শিশু ও পাগল ছাড়া কোনো মানুষই নিরপেক্ষ নয়।"



ধর্মনিরপেক্ষতা প্রথাসিদ্ধ সহনশীলতার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ মাত্র। ভিন্ন বিশ্বাসী বা ধর্মাচারের প্রতি সহনশীল থাকাই ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের জন্যে ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু নিজ ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন ব্যক্তিগত অপরাধ হলেও সমষ্টির সেখানে নিশ্চুপ থাকার অবকাশ তেমন একটা নেই। কারণ এটা আন্তঃ সাম্প্রদায়িক সঙ্গতি বিনাশী। শুধু ধর্মান্তরিত হলে ব্যাপারটি ব্যক্তি পর্যায়ে পড়ে। কারণ এটা তার অধিকার। আমাদের সমস্যা হলো যারা ধর্মের সংস্কার চান, এরা ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী নন। এরা ধর্ম পড়েন না, ধর্মীয় আচরণও পালন করেন না। কিন্তু পবিত্র ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে অরুচি বোধ করেন না। সুন্দর সুন্দর ইসলামী নাম ধারণ করতে পছন্দ করেন। বিয়ে-শাদী, নামকরণ, কুলখানি বা চেহলাম পালনে বেশ জাঁকজমক করে থাকেন। দার্শনিক অধ্যাপক বাকলে বলেছেন, 'মানুষের মনে নিরপেক্ষ বলতে কোনো বস্তু বা অনুভূতির অস্তিত্ব নেই।' পরিশেষে বিখ্যাত দার্শনিক সেইন্ট থমাস একুইনাসের ভাষায় বলতে চাই, 'ব্যক্তি মানুষের বোধ ও বিবেকের সীমাবদ্ধতা দিয়ে অসীম সৃষ্টিকর্তার কৌশল ও পূর্ণতা নির্ণয় অসম্ভব।' যারা ধর্মকে অস্বীকার করে, আসলে তারা স্বকীয়ত্ব বা আত্মহননের পথকেই বেছে নেয়। ধর্মহীন মানুষ পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্যে সম্পদ হতে পারে না। সে একজন অকৃতজ্ঞ মানুষ। আল্লাহ আমাদের সৎপথ প্রদর্শন করুন।



 

এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ২৫৪৭৮৮
    পুরোন সংখ্যা