চাঁদপুর। শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১১৮। ‘সুতরাং তুমি আমার ও উহাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করিয়া দাও এবং আমাকে ও আমার সহিত যেসব মু’মিন আছে, তাহাদিগকে রক্ষা করো।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মৃত্যুটা জন্মনোর মতোই স্বাভাবিক।


             -বেকন।   


 


আল্লাহর আদেশ সমূহের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি প্রদর্শন এবং যাবতীয় সৃষ্ট জীবের প্রতি সহানুভূতি ইহাই ইসলাম।     


  

ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+
১২ রবউিল আউয়াল, ঈদে মলিাদুন্নবী (সাঃ), বশ্বিনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ১৪৪৫তম বলোদাত ও ১৩৮৩তম ওফাত দবিস। দনিটি সমগ্র বশ্বিরে মুসলমানদরে কাছে অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ ও তাৎর্পযর্পূণ। ৫৭০ খ্রস্টিাব্দরে ২৯ আগস্ট, রবউিল আউয়াল মাসরে ১২ তারখি সোমবার, র্সূযোদ্বয়রে ঠকি র্পূবমুর্হূত,ে সুবহে সাদকিরে সময় মহাকালরে এক মহাক্রান্তলিগ্নে প্রয়ি নবী (সাঃ) এ পৃথবিীতে আগমন করনে। আবার তষেট্টি বছররে এক মহান আর্দশকি জীবন অতবিাহতি করে ৬৩২ খ্রস্টিাব্দরে ৮ জুন, ১১ হজিরি রবউিল আউয়াল মাসরে ১২ তারখি একই দনিে তনিি পবত্রি ওফাত গ্রহণ করনে। দনিটি মুসলমি সমাজে ঈদে মলিাদুন্নবী (সাঃ) নামে সমধকি পরচিতি। ঈদ, মলিাদ আর নবী তনিটি শব্দযোগে দবিসটরি নামকরণ হয়ছে।ে ঈদ র্অথ- আনন্দোৎসব, মলিাদ র্অথ- জন্মদবিস আর নবী র্অথ নবী বা ঐশী র্বাতাবাহক।

 

তাহলে ঈদে মলিাদুন্নবীর র্অথ দাঁড়ায় নবীর জন্মদনিরে আনন্দোৎসব। ১২ রবউিল আউয়াল একই সাথে মহানবীর জন্ম ও ওফাত দবিস হলওে তা শুধু জন্মোৎসব হসিবেইে পালতি হয়। পৃথবিীর যকেোনো মানুষরে মৃত্যুই তাঁর পরবিার, সমাজ ও দশেরে জন্য বরিাট শূন্যতা সৃষ্টি কর।ে কন্তিু মহানবীর ইন্তকোল মানবসমাজ ও সভ্যতার কোনো র্পযয়ে কোনো শূন্যতার সৃষ্টি করনে।ি যদওি তাঁর ইন্তকোলরে চয়েে অধকি বদেনাদায়ক কোনো বষিয় উম্মতরে জন্য হতে পারে না। তনিি প্ররেতি হয়ছেলিনে সমগ্র পৃথবিীর জন্য আল্লাহর রহমত হসিবে।ে

 

এরশাদ হয়ছে,ে আমি আপনাকে সমগ্র বশ্বিরে জন্য রহমত হসিবেে প্ররেণ করছেি (সূরা আল-আম্বয়িা : ১০৭)। এরশাদ হয়ছে,ে আজ আমি তোমাদরে জন্য তোমাদরে জীবন বধিানকে পরপর্িূণ করে দলিাম, তোমাদরে উপর আমার নয়োমতরাজকিে র্পূণতা দলিাম আর ইসলামকে তোমাদরে একমাত্র জীবন বধিান হসিবেে মনোনীত করলাম (সুরা আল-মায়দিা ; ৩)।

 

রবউিল আউয়াল মাস এলে মুসলমি সমাজে মলিাদ মাহফলি ও সরিাত মাহফলি আয়োজনরে ধুম পড়ে যায়। কন্তিু রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে আর্দশরে সুষমা দয়িে একটি র্ববর জাতকিে আর্দশ জাতি হসিবেে প্রতষ্ঠিতি করছেলিনে, জ্বলন্ত আগ্নয়েগরিরি মতো ফুটতে থাকা একটি সমাজকে শান্তরি সুশীতল ছায়াতলে এনে দয়িছেলিনে; সইে মহান আর্দশে উত্তরণরে কোনো চহ্নি খুঁজে পাওয়া যায় না। মহানবীর আর্দশ অনুসরণ না করে শুধু মলিাদ মাহফলি আর সরিাত মাহফলি আয়োজনে কোনো লাভ নইে। কারণ মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আর্দশকে জীবনে ধারণ করার নর্দিশে দয়িছেনে।

 

এরশাদ হয়ছে,ে 'হে রাসুল! আপনি বলে দনি, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তায়ালা তোমাদরে ভালোবাসবনে এবং তোমাদরে গুনাহগুলো ক্ষমা করে দবেনে। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু (সুরা আল-মায়দিা : ৩১)। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) চারত্রিকি শ্রষ্ঠেত্বরে মাধ্যমইে একটি শ্রষ্ঠে জাতি গঠন করছেলিনে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) র্বণনা করছেনে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেনে নশ্চিয়ই আমি র্সবোত্তম চরত্রিরে র্পূণাঙ্গতা সাধনরে জন্য প্ররেতি হয়ছেি (ইবনে মাজাহ)। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আর্দশ ধারণ করইে সাহাবায়ে করোম (রাঃ) যুগরে র্সবোত্তম মানুষ হতে পরেছেলিনে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) র্বণনা করছেনে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলছেনে : র্সবোত্তম মানুষ হলো আমার যুগরে মানুষ, অতঃপর তাদরে পরর্বতী যুগরে মানুষ, তারপর তাদরে পরর্বতী যুগরে মানুষ (সহীহ বোখারী)।

 

আজ আমাদরে সমাজে মলিাদ-কয়িাম নয়িে দ্বন্দ্ব আর দলাদলরি শষে নইে। রাসুলকে ভালোবাসার দাবদিার সবাই। কন্তিু এক পক্ষরে প্রতি অন্য পক্ষরে নকিৃষ্ট সব উক্ততিে রাসুলরে প্রতি ভক্তি আর ভালোবাসার বন্দিুমাত্র চহ্নি খুঁজে পাওয়া যায় না। ভ-, বদিায়াত,ি ওহাব,ি ফাসকে, কাফরে বভিন্নি আখ্যায় একে অন্যকে আখ্যায়তি করে ফরেকাবাজি আর সামাজকি বভিাজনকে বাড়য়িইে চলছেনে রাসুল প্রমেকিরা। মাঝমেধ্যে বরিোধ সংঘাতে গড়াচ্ছে এমনকি রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ ও হত্যাকা-রে মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটছ।ে যে রাসুল তাঁর জীবনে শত্রুর প্রতি কোনোদনি রুঢ়বাক্য নক্ষিপে করনেন,ি আজ তাঁর ভালোবাসার দাবি যে মুখ থকেে উচ্চারতি হচ্ছে সে মুখটাই অন্য মুসলমানরে রক্তরে পপিাসায় অধীর! হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) একটি হাদসি র্বণনা করছেনে। তনিি বলনে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেনে : কোনো মুসলমানকে গালি দয়ো ফাসকেি আর তাকে হত্যা করা কুফরি (বোখারী-মুসলমি)। হজরত আবু জার গফিারি (রাঃ) র্বণনা করছেনে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেনে যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তরি প্রতি ফাসকেি বা কুফররি অপবাদ নক্ষিপে করে তখন অভযিুক্ত ব্যক্তি তার উপযুক্ত না হলে অপবাদ নক্ষিপেকারীর দকিে তার অপবাদ ফরিে আসে (সহীহ বোখারী)।

 

বজিয়রে মাস ডসিম্বেরে ঈদে মলিাদুন্নবী (সাঃ)-এর আগমন খুবই তাৎর্পযর্পূণ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) গোত্রীয় শাসনরে স্বরৈাচারে দগ্ধ, মুষ্টমিয়ে বত্তিশালীর শোষণে নঃিস্ব ও সামাজকি দূরাচারে অতষ্ঠি মানুষরে মুক্তরি স্বপ্ন দখেছেলিনে। তনিি বঞ্চতি মানুষরে অধকিার আদায়রে লক্ষ্যে তাওহদিরে বাণী প্রচাররে দায়ে স্বজাতরি নর্যিাতনে নরিুপায় হয়ে জন্মভূমি ছড়েে মদনিায় হজিরতে বাধ্য হয়ছেলিনে। অতঃপর ঐতহিাসকি মদনিা সনদ প্রণয়নরে মাধ্যমে ইহুদ,ি পৗেত্তলকি, খ্রস্টিান ও মুসলমানদরে নয়িে মদনিাতে একটি স্বাধীন-স্বতন্ত্র জাতি ও র্সাবভৗেম প্রজাতন্ত্র প্রতষ্ঠিা করছেলিনে। অল্প সময়রে ব্যবধানে রাসুলরে আর্দশকি জাগরণ সমগ্র আরব উপদ্বীপকে আয়ত্ত্ব করে নয়িছেলিো। রাজনতৈকি স্থতিশিীলতা, সামাজকি সুশাসন, র্অথনতৈকি স্বাবলম্বন একটি সুদৃঢ় ভত্তিরি উপর প্রতষ্ঠিতি হয়ছেলিো। আজ যখন দশেরে বপিুল মানুষ দারদ্র্যি সীমার নচিে বসবাস করছ,ে যখন অন্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শক্ষিা-চকিৎিসার অভাব জনজীবনে প্রকট হয়ে উঠছ,ে যখন মানুষ একে অপররে দ্বারা নর্যিাততি ও অধকিার বঞ্চতি হচ্ছে তখন ঈদে মলিাদুন্নবী (সাঃ)-এর প্রতপিাদ্য বষিয় হোক রাসুলরে ভালোবাসার দাবতিে সংঘাত নয়, চাই রাসুলরে আর্দশরে ভত্তিতিে ঐক্যবদ্ধ একটি শান্তপর্িূণ সমাজ।

 

লখেক : পশে ইমাম ও খতবি,

 

রাজশাহী কলজে কন্দ্রেীয় মসজদি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯২৫৮৮৩
পুরোন সংখ্যা