চাঁদপুর। শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১১৮। ‘সুতরাং তুমি আমার ও উহাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করিয়া দাও এবং আমাকে ও আমার সহিত যেসব মু’মিন আছে, তাহাদিগকে রক্ষা করো।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মৃত্যুটা জন্মনোর মতোই স্বাভাবিক।


             -বেকন।   


 


আল্লাহর আদেশ সমূহের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি প্রদর্শন এবং যাবতীয় সৃষ্ট জীবের প্রতি সহানুভূতি ইহাই ইসলাম।     


  

নিজে ভালো হয়ে অন্যের ভালো করি
নাজমুন নাহার
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর গোলামী ও দাসত্ব করার জন্যে। সূরা জারিয়াতের ৫৪নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন-'ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন'। অর্থাৎ 'আমি মানুষ ও জ্বীনকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।' এ ইবাদতের অপর নাম নেক আমল বা সৎকাজ। মূলত সৎকাজের জন্যই এ বিশ্বচরাচর এবং নভোম-ল ও ভূম-ল সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টি করা হয়েছে সূখের উল্লাসময় জীবন এবং দুঃখের চিহ্নস্বরূপ মৃত্যু। সূরা মূলকের ১-২নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তিনি বড়ই মহান ও শ্রেষ্ঠ যাঁর হাতে রয়েছে সৃষ্টিলোকের রাজত্ব। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে নেক আমলের দিক থেকে কে বেশি ভালো। তিনি মহাশক্তিশালী ও ক্ষমাশীল।' পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সৎ কাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন। সূরা তীনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, 'আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে, তারপর বদ আমলের কারণে তাকে পেঁৗছে দেই সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থায়। তবে তাদের নয়, যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে। তাদের জন্যে তো রয়েছে এমন পুরস্কার, যা কখনো শেষ হবে না।' (সূরা তীন ৫-৭)। সূরা আসরে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'সময়ের শপথ। প্রত্যেক মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে যারা ঈমান আনে, নেক আমল করে, সত্যের পথে দাওয়াত দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয় তারা ক্ষতি থেকে মুক্ত।' (সূরা আসর ১-৩।) সৎকাজের গুরুত্ব সম্পর্কে সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ' আল্লাহতায়ালা নেক আমল ও বদ আমলের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নেক আমলের তাৎপর্য এত বেশি যে, কেউ যখন নেক আমলের সংকল্প করে, আল্লাহতায়ালা তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। আর যখন সে তা সম্পন্ন করে তখন তার আমলনামায় দশ থেকে সাতশ' নেকি লেখা হয়। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। কেয়ামতের দিন বান্দা তার সামান্য সৎকাজের সম্পর্কেও জানতে পারবে। একটি ছোট সৎকাজও তাকে বড় ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারবে। সূরা যিলযালের ৭-৮নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, কেউ যদি অণু পরিমাণ নেক আমল করে তবে সেদিন তা দেখতে পাবে। সৎকাজের প্রতিদান সম্পর্কে সূরা ইনফিতারে আল্লাহ বলেন, 'সৎকাজকারী থাকবে সূখ- স্বাচ্ছন্দ্যে। আর বদ আমলকারীরা থাকবে প্রজ্বলিত আগুনে।' (ইনফিতার ১৩-১৪)। দুনিয়া ও পরকালের জীবনে সুন্দরভাবে বসবাসের জন্যে সৎকাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নিজে সৎকাজ করার পাশাপাশি অন্যকেও সৎকাজের নির্দেশ দেয়া খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। প্রকৃত অর্থে এটিও একটি সৎকাজ। সূরা আলে ইমরানের ১১০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধের জন্যে। অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন,'সৎকাজের আদেশ করো এবং অসৎ কাজের নিষেধ করো। তোমার উপর যে বিপদ-আপদ আসবে তার জন্য ধৈর্য অবলন্বন করো। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ কাজ। (সূরা লোকমান-১৭)। বিশ্বনবী (সাঃ) নিজেও ছিলেন সৎকাজের আদেশদাতা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ও অতুলনীয় সৎ মানুষ। নবুয়াতের আগে হিলফুল ফুযুল প্রতিষ্ঠা করে রাসূল (সাঃ) সৎকাজের আদেশ করেছেন। আবার নবুয়াতের পরও এর ধারাবাহিতা বজায় রেখেছেন। রাসূল (সাঃ)-এর এ মহান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তিনি সৎকাজের আদেশ করেন এবং অসৎ কাজের নিষেধ করেন' (সূরা আ'রাফ ১৫৭)। বর্তমান পৃথিবীতে নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধ করার আমল আবার জারি করতে হবে। তবেই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎকাজের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুক। আমিন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৮০৪৮
পুরোন সংখ্যা