চাঁদপুর। শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই || স্বাগতিক চাঁদপুরের কাছে ১ গোলে হেরেছে কুমিল্লা জেলা দল || শহরের নাজির পাড়ায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাসহ সাইনবোর্ডে নাম মুছে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা || চাঁদপুর কলেজে অনুমতি ছাড়া ইশা ছাত্র আন্দোলন সম্মেলন ॥ আটক ২
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১১৮। ‘সুতরাং তুমি আমার ও উহাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করিয়া দাও এবং আমাকে ও আমার সহিত যেসব মু’মিন আছে, তাহাদিগকে রক্ষা করো।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মৃত্যুটা জন্মনোর মতোই স্বাভাবিক।


             -বেকন।   


 


আল্লাহর আদেশ সমূহের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি প্রদর্শন এবং যাবতীয় সৃষ্ট জীবের প্রতি সহানুভূতি ইহাই ইসলাম।     


  

ফটো গ্যালারি
মানুষের প্রকৃত বন্ধু নেক আমল
মাওঃ মোঃ সফিকুল ইসলাম গাজী
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

পার্থিব জীবনে আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব থাকে। ঘরে-বাইরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে অনেক বন্ধু গড়ে ওঠে। চিন্তার বিষয় হলো, যাদের আমি বন্ধু মনে করি তারা আমাকে কতদিন মনে রাখবে। মানুষের প্রকৃত বন্ধু কে, তা প্রিয় নবী (সাঃ) জানিয়ে দিয়েছেন। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, লাশের সঙ্গে (কবরের দিকে) তিন প্রকারের সঙ্গী যায়। দুই প্রকার সঙ্গী ফিরে আসে আর একপ্রকার তার সঙ্গে থেকে যায়। তার সঙ্গে যায় আত্মীয়স্বজন, কিছু মালসামানা (লাশ বহনের খাট ইত্যাদি) এবং তার আমল। লাশ দাফনের পর আত্মীয়স্বজন ও মালসামানা ফিরে আসে কিন্তু তার আমল সঙ্গে থাকে (বুখারীও মুসলিম)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে নিজের মাল অপেক্ষা নিজের ওয়ারিশদের মাল অধিক ভালোবাসে এরূপ কেউ আছে কি? সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে এরূপ কেউ নেই, বরং সবাই ওয়ারিশদের মাল থেকে নিজের মালকে বেশি ভালোবাসেন। তিনি বললেন, যে আল্লাহর পথে খরচ করে আগাম প্রেরণ করে, তাই তার মাল। আর যা সে পেছনে রেখে যায়, তা তার ওয়ারিশদের মাল (বুখারি)। অর্থাৎ তার দান অনুদানের নেক আমল তার সঙ্গে রয়ে যাবে আর বাকি সম্পত্তি ভাগ-বাঁটেয়ারা হয়ে যাবে। হযরত মুতাররিফ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, একবার আমি নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে আগমন করলাম। ওই সময় তিনি সূরা তাকাসুর পাঠ করছিলেন। তারপর তিনি বললেন, মানুষ বলে, আমার মাল আমার মাল। রাসুল (সাঃ) বলেন, হে মানব! তোমার মাল তো তা-ই, যা তুমি খেয়ে শেষ করেছ অথবা পরিধান করে ছিড়ে ফেলেছ, কিংবা দান-খয়রাত করে পরকালের পাথেয় জোগাড় করেছ (মুসলিম)। হযরত আনাস (রাঃ) নবী করীম (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, কিয়ামত দিবসে আদম সন্তানকে এরূপভাবে উপস্থিত করা হবে, যেন সে একটি নিঃসহায় ছাগলছানা। অতঃপর তাকে আল্লাহর সামনে দ-ায়মান করা হবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, আমি তোমাকে আয়ু এবং সুস্থতা দান করেছিলাম, দাস-দাসী ও ধনসম্পদের অধিকারী করেছিলাম এবং আমি তোমাকে খাঁটি ধর্মস্বরূপ নিয়ামত দিয়েছিলাম। তুমি আমার সেসব নিয়ামত কী কাজে লাগিয়েছ? সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি ধনসম্পদ সঞ্চয় করেছি, ব্যবসা-বাণিজ্য দ্বারা তা বাড়িয়ে তুলেছি এবং পরিশেষে প্রথমে যে পরিমাণ ছিল, তদপেক্ষা অধিক পরিমাণে রেখে এসেছি। সুতরাং আমাকে আবার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন, আমি সেই যাবতীয় সম্পদ আপনার কাছে নিয়ে আসব। আল্লাহ তাকে বলবেন, যা কিছু আগে পাঠিয়েছ তা আমাকে দেখাও। জবাবে সে আবার বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তা জমা করেছি, বাড়িয়ে তুলেছি এবং আগে যে পরিমাণ ছিল তা থেকে বেশি রেখে এসেছি। সুতরাং আমাকে আবার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দাও। যাবতীয় সম্পদ নিয়ে আমি তোমার কাছে আসব। তখন প্রকাশ পাবে যে, সে এরূপ এক বান্দা, যে আখিরাতের জন্য কোনো নেক আমলই আগাম পাঠায়নি। সুতরাং তাকে তখন দোজখের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে (তিরমিজি শরীফ)।

লেখক : খতিব, দক্ষিণ তরপুরচ-ী, হাফেজ মমতাজ উদ্দীন (রহঃ) জামে মসজিদ, চাঁদপুর

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৪২৬৬
পুরোন সংখ্যা