চাঁদপুর। শুক্রবার ১৩ অক্টোবর ২০১৭। ২৮ আশ্বিন ১৪২৪। ২২ মহররম ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া দুই ছাত্রীসহ তিন জনকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। হাজীগঞ্জে দুই কিশোর শিক্ষার্থীর উত্যক্তের কারণে হালিমা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। || হাজীগঞ্জে দুই কিশোর শিক্ষার্থীর উত্যক্তের কারণে হালিমা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩০-সূরা রূম


৬০ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৮। আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করিতেছেন : তোমাদেরকে আমি যে রিযিক  দিয়াছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসিগণের কেহ কি তাহাতে অংশীদার? ফলে তোমরা কি এই ব্যাপারে সমান? তোমরা কি উহাদেরকে  সেইরূপ ভয় কর যেইরূপ তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভয় কর?  এইভাবেই আমি বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের নিকট নির্দশনাবলী বিবৃত করি।


২৯। বরং সীমালংঘনকরীরা অজ্ঞতাবশত তাহাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, সুতরাং আল্লাহ যাহাকে পথভ্রষ্ট করিয়াছেন, কে তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করিবে?  আর তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রেমহীন দাম্পত্য জীবন ব্যভিচারের নামান্তর। 


           -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

যা ইচ্ছা আহার করতে পারো, যা ইচ্ছা পরিধান করতে পারো, যদি তোমাদেরকে অপব্যয় ও গর্ব স্পর্শ না করে।


ফটো গ্যালারি
"সহীহ হাদীস আমার মাযহাব"
১. কথাটি ইমামগণ থেকে প্রমাণিত কিনা? ২. কথাটির সঠিক অর্থ কী? ৩. কি কি ভ্রান্ত অর্থে এ বাক্যটি ব্যবহার করা হচ্ছে?
বিএম মোস্তফা কামাল
১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)



"সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" এ বাক্যের সঠিক ব্যাখ্যা কী-এ বিষয়ে ইতোপূর্বে আমরা বিশ্বের সর্বজন মান্য শ্রদ্ধেয় ইমাম-ফকীহ ও আলেমগণের বক্তব্য হাওলাসহ উল্লেখ করলাম। আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে একটি বিষয় পরিস্কার হয়ে গেল যে, "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" ইমামগণের এ বক্তব্য মুজতাহিদ দরজার লোকদের জন্যে খাস ছিলো। আমভাবে সকলের জন্যে এ বক্তব্য নয়। (ইমাম যাহাবী (রঃ) তো বরং বলেছেন- ইমামদের এ কথার অর্থ হচ্ছে - আমি যে ফিকহী সমাধান দেই তা আমার নিজের কথা নয়; বরং আমার প্রদত্ত সমাধান তখনই আমি প্রদান করি যখন এ বিষয়ে সহীহ হাদীস আমার সামনে উপস্থিত থাকে।)



এখন কথা হলো, ইমামগণের উক্ত নসীহতের উপর আমল হয়েছে কি না ? এর জবাব আমাদের সামনে এসে যাবে, যদি আমরা চার মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাবগুলো অধ্যয়ন করি। চার মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাবগুলো দেখার তাওফীক যাদের হয়েছে তারা দেখেছেন- প্রত্যেক মাযহাবেই ইমামগণের ফিকহী সমাধান নির্বিচারে গ্রহণ করা হয়নি। বরং এমন বহু মাস্য়ালা রয়েছে যেগুলোতে ইমামগণের মুজতাহিদ দরজার প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মতামতই গ্রহণ করা হয়েছে।



# ইমাম নববী (রঃ) বলেন,



আমাদের মাযহাবের যোগ্য উত্তরসূরীগণ ইমামের এ অসিয়ত পালন করে ছিলেন এবং অনেক প্রসিদ্ধ মাসয়ালাতেই উক্ত অসিয়ত অনুযায়ী আমল করেছেন। (তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/৫১)।



এটি প্রত্যেক মাযহাবেই হয়েছে। আমাদের জানা মতে ইমামগণের ফিকহী সিদ্ধান্ত ও ফতোয়ার ব্যাপারে এত বেশি গবেষণা হয়েছে যে, পৃথিবীর অন্য কোনো ইল্মের ক্ষেত্রে এত বেশি গবেষণা হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ, ইমামগণের এ ফিকহী সিদ্ধান্ত বা ফতোয়া কোরআন-হাদীসের নির্যাস তথা কোরআন-হাদীস অনুযায়ী উম্মতে মুহাম্মদীর জীবন পরিচালনা করার সহজ ও সঠিক পন্থা।



 



এ জন্যে উম্মতের যোগ্য আলেমগণ (মুজতাহীদগণ) এ গবেষণায় শুধু দায়িত্ব আদায় করেই ক্ষান্ত হননি; বরং এ দায়িত্ব আদায় করতে গিয়ে আল্লাহ্ ও তাঁর হাবীব (সাঃ)-এর মুহাব্বতের যে দৃষ্টান্ত তাঁরা স্থাপন করেছেন, তা পৃথিবী সৃষ্টির পর হতে আসমান-জমিন, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র একবারই প্রত্যক্ষ করেছে।



 



তাই এ চার মাযহাবের ফিকহী সিদ্ধান্ত ও ফতোয়াগুলো এমন বিষয় নয় যে, তা নতুন করে গবেষণা করতে হবে। ইমামগণের "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" এ নসীহতটি যদি সকলের জন্য আম হতো তা হলে দ্বীন নিয়ে যে অরাজকতা ও বিশৃংখলা সৃষ্টি হতো তা বলাই বাহুল্য। কারণ, তখন সহীহ হাদীসের শ্লোগান তুলে যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো মাসয়ালা ইমামের মাযহাব বলে চালিয়ে দিতে শুরু করত।



# শাইখ মুহাম্মাদ আওয়ামা (দাঃবাঃ) তাঁর আছরুল হাদীসিস শরীফ-গ্রন্থে এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন- যদি ইমামদের এ বক্তব্য "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব"-এর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা এবং শর্তের প্রয়োজন না হতো, তা হলে প্রত্যেকেই প্রতিটি মাসয়ালাতে নিজে যে হাদীস সহীহ মনে করতেন তার ভিত্তিতে কোনো একজন ইমামের মাযহাব বলে প্রচার করতো। অপর কোনো ব্যক্তি পূর্বের ঐ মাসয়ালাটিই অন্য কোনো ইমামের মাযহাব বলে দাবি করতে শুরু করতো। এরপর ৩য় কোনো ব্যক্তি এসে পূর্বের মাসয়ালারই খেলাফ (বিপরীতধর্মী) কোনো হাদীস নিজে সহীহ মনে করে নিজের মতকেই পূর্বের ১ম ও ২য় ইমামের মাযহাব বলে প্রচার শুরু করতো। "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" এর ছত্রছায়ায় এমন অরাজকতা ও বিশৃংখলা সৃষ্টি হতো যার কোনো কুল কিনারা থাকতো না। (আছরুল হাদীসিস শরীফ/৭৪)।



# শাইখ আব্দুল গাফ্ফার আল হিমসী (রহ.) এ বিষয়টির আরো আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন । তিনি বলেন-"আমরা আমাদের এ সময়ে অনেক ব্যক্তিকে দেখছি, যারা নিজের সাথে প্রতারণা করে নিজেকে আলিম মনে করছে। সে নিজের ব্যাপারে ধারণা করে যে, সে ইল্মে গ্রহ-নক্ষত্রের উপরে অবস্থান করছে। অথচ বাস্তবে সে ইল্মী জগতে জমিনের গভীরতম তলদেশে রয়েছে। সে কখনো কিতাবুস সিত্তাহ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)-এর কোনো একটি কিতাব অধ্যয়ন করে কোনো একটি হাদীস দেখে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর মাযহাবের বিপরীত মনে করে বলতে থাকে, ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর মাযহাব ছুঁড়ে ফেলো এবং রাসূল (সাঃ)-এর হাদীস ধরো। কিন্তু বাস্তবতা হলো এ হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে বা এ হাদীস অন্য কোনো শক্তিশালী হাদীসের বিপরীত অথবা এমন কোনো আবশ্যক কারণ রয়েছে যার জন্যে এ হাদীসের উপর আমল করা যায় না। আর এ ব্যক্তির এ বিষয়গুলোর কোনো খবরই নেই। এমন ব্যক্তিদেরকে যদি "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব"-এর ভিত্তিতে মুক্তভাবে হাদীসের উপর আমল করার সুযোগ দেয়া হয়, তা হলে সে অগণিত মাসয়ালাতে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এবং যারা তার কাছে মাসয়ালা জানতে আসবে তদেরকেও সে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বে।" (দফউল আওহাম আন মাসয়ালাতিল ক্বেরাতে খালফাল ইমাম ১৫পৃঃ)।



বাস্তবতাতো এমনই। এজন্য আমাদের কথা হলো : ইসলামের প্রথম যুগ থেকে আজ অবধি মুসলিম উম্মাহ যে চার মাযহাব অনুসরণ করে আসছে-এটিই সিরাতুল মুসতাকীম তথা সঠিক পথ। বাতিল ফেরকা ব্যতীত এ চার মাযহাবের বিরোধিতা কখনো কেউ করেনি। তাই এ বিষয়ে সকল মুসলমানকে সচেতন থাকতে হবে, যেনো কেউ সহীহ্-য'ঈফের শ্লোগান তুলে আমাদের মূল সম্পদ ঈমান হরণ করে নিতে না পারে।



কারণ, সহীহ্-য'ঈফের শ্লোগান তুলে মুসলমানদের মাঝে দলাদলি-ফিৎনা-ফাসাদ ও বিভেদের ঝড় বইয়ে দিয়ে ঈমানহারা করার জন্যই ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ তাদের এজেন্টদেরকে মাঠে নামিয়েছে! জগদ্বিখ্যাত 'আস্সুন্নাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিত্তাশরী'ঈল ইসলামী'-গ্রন্থ প্রণেতা শায়খ ড. মুস্তফা আস্ সিবা'ঈ (রঃ)-এর লিখা 'আল ইসতিশরাক ওয়াল মুসতাসরিকূন' গ্রন্থটি অধ্যয়ন করলে এ সংক্রান্ত লোমহর্ষক তথ্য জানা যাবে। আরবি 'আল-মুসতাসরিক' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Orientalist-ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করে এবং বিভিন্নভাবে মুসলমানদের ইল্মী বিষয়ে খেয়ানত করে মুসলমানদের মাঝে দলাদলি-ফিৎনাফাসাদ ও বিভেদের ঝড় বইয়ে দেয়ার মিশন বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদেরকে আরবিতে 'আল-মুসতাসরিক' এবং ইংরেজিতে Orientalist বলা হয়। সহজ কথায় 'আল-মুসতাসরিক' হচ্ছে- ইসলামী জ্ঞানে আলেম কিন্তু ইয়াহুদী-খ্রিস্টান। এ সকল 'আল-মুসতাসরিক' তথা Orientalist-রা মুসলমানদের কলিজার টুকরা মেধাবী সন্তানগুলোকে তার্গেট করে তাদের মগজ ধোলাই করে এবং তাদেরকে দিয়ে নিজেদের বিষাক্ত ষঢ়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে। আর বেচারা মুসলমান স্কলার! গবেষণার নামে তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে 'আল-মুসতাসরিক' তথা Orientalist- দের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত করে। শায়খ ড. মুস্তফা আস্ সিবা'ঈ র. 'আল ইসতিশরাক ওয়াল মুসতাসরিকূন' গ্রন্থে এ ব্যাপারে দলিল-প্রমাণসহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।



# এতক্ষণ আমরা "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" - ইমামগণের এ বক্তব্যের যুগ শ্রেষ্ট আলেম-ইমামগণ যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তার যৎকিঞ্চিত আলোচনা করলাম। এখন আমরা দেখব ইমামগণের এ বক্তব্যকে কি কি ভ্রান্ত অর্থে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।



 



ইমামগণের এ বক্তব্যকে পুঁজি করে মাযহাবের (তাকলীদ) অনুসরণ করার বিরোধীতা করে বলে বেড়ানো হয় যে, মাযহাবের অনুসরণ করা জরুরি নয়। হাদীসের উপর আমল করাই জরুরি। কারণ, ইমাম আবু হনিফা (রঃ) বলেছেন "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব"-সুতরাং হাদীসের উপর আমল করাই ইমাম আবু হানিফা (রঃ)-এর মাযহাব ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা এমন সব মাসয়ালার আমলের ক্ষেত্রে "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব"-কথা দ্বারা মুসলমানদের ধোঁকা দিচ্ছে, যে বিষয়গুলোর আমল শুধু মাযহাবের ইমামগণই নন, উক্ত ইমামগণের পূর্বে রাসূল (সাঃ), অসংখ্য সাহাবী, তাবেঈন এবং তবয়ে-তাবেঈনগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল করেছেন।



যেমন- মুক্তাদীর সূরায়ে ফাতেহা না পড়া, নামাজে আমীন নিম্নস্বরে বলা, শুধুমাত্র তাকবীরে তাহ্রীমার সময় হাত উঠানো ইত্যাদি অনেক মাসয়ালার উপর সাহবায়েকেরাম, তাবেঈন, তবয়ে-তাবেঈন, ইমাম, মুজতাহিদ, ফকীহ, মুহাদ্দিসগণ যুগের পর যুগ-নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল করেছেন এবং করছেন। তাঁদের জীবনচরিত আমরা যদি আমাদের সামনে রাখি তা হলে দেখতে পাবো জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত-প্রতিটি ক্ষণ তাঁরা কাটিয়েছেন এক ধ্যানে, এক মনে। আর তা হচ্ছে-কোন্ হাদীস আমলযোগ্য, কোন্ হাদীস আমলযোগ্য নয়, কোন্ হাদীস নাসেখ, কোন্ হাদীস মানসূখ, মুসলিম উম্মাহ কীভাবে শরীয়ত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে, জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত কী হুকুম প্রদান করে; নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে ইসলাম কী সমাধান প্রদান করে; ইসলামী শরীয়তের সমাধানগুলো তাঁরা মুসলিম উম্মাহর সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। অথচ তাঁরা নামাজের এ মাসয়ালাগুলোর সহীহ হাদীস অনুযায়ী সমাধান জানবেন না-এটা কোনো বিবেকবান কি কল্পনাও করতে পারে ? এগুলোতো এমন মাসয়ালা নয় যে, জীবনে এক-দু'বার হয়তো সামনে আসে ! তাঁরা প্রতিদিন কত রাকাত নামাজ পড়েছেন, ইমামের সাথে কত ওয়াক্ত নামাজ পড়েছেন- তার কোনো হিসাব করা কি সম্ভব ? অথচ তাঁরা এসকল মাসয়ালার ক্ষেত্রে সহীহ হাদীস জানবেন না- এমনটি কি কল্পনাও করা যায়?



আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- এ মাসয়ালাগুলোর ক্ষেত্রেই "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" বাক্য দ্বারা উম্মতকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে- ইমামের পেছনে মুক্তাদির সূরায়ে ফাতেহা পড়া সংক্রান্ত হাদীস সহীহ, এর বিপরীত হাদীস যয়ীফ; উচ্চস্বরে 'আমীন' বলার হাদীস সহীহ, বিপরীত হাদীস যয়ীফ। রুকুতে যাওয়া এবং রুকু হতে উঠার সময় হাত উঠানো সংক্রান্ত হাদীস সহীহ, এর বিপরীত হাদীস যয়ীফ ইত্যাদি ইত্যাদি। মাযহাবের ইমাম যেহেতু বলেছেন "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" তাই এ সকল ক্ষেত্রে সহীহ হাদীসের উপরই আমল করতে হবে, তা হলেই মাযহাবের ইমামের অনুসরণ করা হবে।



বাস্তবতা হচ্ছে- মুক্তাদির সূরায়ে ফাতেহা না পড়া, নামাজে 'আমীন' নিম্নস্বরে বলা, রুকুতে যাওয়া এবং উঠার সময় হাত না উঠানোর মাসয়ালাগুলো কোরআন-হদীস তথা ইসলামী শরীয়তের দলিলের আলোকে অধিক শক্তিশালী।



(দলিল শক্তিশালী হওয়ার পদ্ধতি তথা মাযহাবের ইমামগণের দলিল গ্রহণের পদ্ধতি আমরা সামনে আলোচনা করবো- ইন্শাআল্লাহ।)



 



পৃথিবীর ইতিহাসে আল্লাহর এমন বান্দাও জন্মগ্রহণ করেছেন, যিনি ফতোয়া দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে সূরায়ে ফাতেহা পড়বে না সে কাফির ! (নাউজুবিল্লাহ)। এ ফতোয়ার কারণেই শাইখ আব্দুল গাফফার আল হিমসী (রহঃ) 'দফউল আওহাম আন মাসয়ালাতিল কি্বরাতে খালফাল ইমাম' কিতাবটি লিখেছেন। শাইখ আব্দুল গাফফার আল হিমসী (রহঃ)-এর ভাতিজা নিজেই তাঁর চাচা শাইখ আব্দুল গাফফার হিমসী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সিরিয়ার তারাবুল শহর থেকে তার চাচা শাইখ আব্দুল গাফফার আল হিমসী (রহঃ)-এর নিকট এসে বললেন, আমাদের তারাবুল শহরে এক ব্যক্তি আছে, যে মানুষকে বলছে, 'যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে সূরায়ে ফাতেহা পড়ে না সে কাফির ! তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, যে ইমামের পেছনে সূরায়ে ফাতেহা পড়ে না তার নামাজ হয় না, আর যার নামাজ হয় না সে যেনো নামাজই পড়ল না। আর যে নামাজ পড়ল না সে কাফির।' লা-হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা...! (মোঃ আওয়ামা (দাঃবাঃ)-এর আসরুল হাদীসিস শরীফ কিতাবের ৬২পৃ: টিকা)।



মাযহাব বিরোধীগণ বলেন যে, নামাজে 'আমীন' জোরে বলতে হবে। কারণ, আমীন জোরে বলার ব্যাপারে বুখারী শরীফে হাদীস আছে। আর বুখারী শরীফের হাদীস সহীহ। মাযহাবের ইমাম বলেছেন- "সহীহ হাদীস আমার মাযহাব" তাই আপনারাও 'আমীন' জোরে বলুন। এখন তাদের 'জোরে আমীন বলার হাদীস বুখারী শরীফে আছে'-এর বাস্তবতা আমরা বুখারী শরীফ থেকে একটু যাচাই করে দেখব। বুখারী শরীফে এ ব্যাপারে যা আছে তা নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো-



 



অনুচ্ছেদ : মুক্তাদীর প্রকাশ্যে আমীন বলা : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন- ইমাম 'গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ-ল্লীন' পড়লে তোমরা 'আমীন' বলো, কেননা যার আমীন বলা ফেরেস্তাদের আমীন বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রঃ) আবু সালামা (রঃ)-এর সূত্রে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী করিম (সাঃ) থেকে এবং নুয়াইম মুজমির (রঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় সুমাই (রঃ)এর অনুসরণ করেছেন। (বুখারী ১৭৮২)।



ইমাম বুখারী (রঃ) বাব তথা অনুচ্ছেদ লিখেছেন 'মুক্তাদীর প্রকাশ্যে আমীন বলা'। কিন্তু উক্ত অনুচ্ছেদের অধীন যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে 'মুক্তাদী আমীন উচ্চস্বরে বলবে'- এ রূপ কোনো কথা নেই। অর্থাৎ একটি হচ্ছে হাদীসুল বুখারী, আরেকটি হচ্ছে কিতাবুল বুখারী। হাদীসুল বুখারী হচ্ছে- বুখারী শরীফে উল্লেখিত হাদীসসমূহ। আর কিতাবুল বুখারী হচ্ছে- বুখারী শরীফে যা লিখা হয়েছে তা। যেমন - বুখারী শরীফে হাদীস ছাড়াও ইমাম বুখারী (রঃ)-এর নিজস্ব কথা আছে, নিজের ইজতিহাদ তথা কেয়াসের ভিত্তিতে বক্তব্য আছে, তরজুমাতুল বাব আছে। তরজুমাতুল বাব হিসেবে তিনি যে শিরোনামগুলো লিখেছেন এগুলো তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ- কিয়াস। বিষয়টি সহীহ বুখারী শরীফের পাঠক মাত্রই জানেন। প্রকাশ্যে (উচ্চস্বরে) আমীন বলার বিষয়টি ইমাম বুখারী (রঃ)-এর নিজস্ব কেয়াছ, যা তিনি শিরোনাম হিসেবে লিখেছেন। কিন্তু এর সমর্থনে তিনি যে হাদীস বর্ণনা করেছেন ঐ হ্াদিসের মধ্যে 'মুক্তাদীর প্রকাশ্যে আমীন বলা'-এর কথা নাই। এখন কেউ যদি ইমাম বুখারী (রঃ)-এর উক্ত কিয়াসকে বুখারীর হাদীস নামে চালিয়ে দিতে চায়, তবে অবশ্যই তা ইলমি খিয়ানত হবে । তার ইলমি যোগ্যতার ব্যাপারে আফসোস করা ছাড়া আর কি-ই বা বলার থাকতে পারে ! এভাবেই বুখারী শরীফে যে হাদীস নাই ; (বরং যা ইমাম বুখারী (রঃ)-এর নিজস্ব ইজতিহাদ/কিয়াস) উহাকে বুখারীর হাদীস বলে উম্মতের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।



কেউ হয়ত বলবেন- ' মুক্তাদীর প্রকাশ্যে আমীন বলা' এর ব্যাপারে আমাদের দলীল বুখারী শরীফের উক্ত উদ্ধৃতি নয়; বরং আমাদের দলীল হচ্ছে সুফিয়ান সাওরী (রঃ) বর্ণিত 'ওয়া মাদ্দা বেহা সাওতাহু' হাদীস। আমরা তাদের খেদমতে আরজ করব, আপনারা যে সুফিয়ান সাওরী (রঃ)-এর হাদীসকে দলিল হিসাবে উপস্থাপন করছেন, সেই সুফিয়ান সাওরী (রঃ) কিন্তু আমীন আস্তেই বলতেন, (উচ্চস্বরে) বলতেন না। (দেখুন ইবনে হাযম (রঃ)-এর আল মুহাল্লা ২য় খ- ২৯৫ পৃঃ)। আর উসূলে হাদীসের বিধান হচ্ছে, রাবী যদি নিজের বর্ণিত হাদীসের বিপরীত আমল করেন, তাহলে উক্ত হাদীস (হুজ্জত তথা) দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। (কারণ, রাবীর নিজের আমল তাঁর বর্ণিত হাদীসের বিপরীত হওয়াই প্রমাণ করে উক্ত হাদীস হয় মানসুখ, না হয় আমলের যোগ্য না হওয়ার বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে- যা তিনি জানতে পেরেছেন। হাদীস বর্ণনা করেছেন শুধুমাত্র হাদীস বর্ণনার স্বার্থেই।) (চলবে)।



 



লেখক : উপাধ্যক্ষ,



ওচমানিয়া ফাযিল মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৫৪৫৫
পুরোন সংখ্যা