চাঁদপুর। শুক্রবার ১০ নভেম্বর ২০১৭। ২৬ কার্তিক ১৪২৪। ২০ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৮। তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানেরই অনুরূপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।


২৯। তুমি কি দেখ না আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে এবং দিবসকে রাত্রিতে পরিণত করেন? তিনি চন্দ্র-সূর্যকে করিয়াছেন নিয়মাধীন, প্রত্যেকটি বিচরণ করে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত; তোমরা যাহা কর আল্লাহ্ সে সম্পর্কে অবহিত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


ভাষা হল চিন্তার পোশাক।


                               -জনসন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে (অথাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশির কোন প্রকার অনিষ্ট না করে।


রাসূল (সাঃ) নূরের তৈরি
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
১০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আল্লাহ তায়া'লা ইরশাদ করেন-অর্থ : নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে (সূরা মায়িদা আয়াত-১৫) আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হল : দলিল নং ১ বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আববাস এর মধ্যে আছে- অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আববাস পৃষ্ঠা ৭২)। দলিল নং ২ ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রাঃ) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন,অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককে নিশ্চিহ্ন করেছেন। (তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খ-, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।

দলিল নং ৩ মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি 'খাজিন' নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন,অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া'লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খ-, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৪ ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রাঃ) এই আয়াত শরীফ প্রসঙ্গে বলেন,আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খ-, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৫ ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রাঃ) এই আয়াত শরীফ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খ-, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।

আর যারা বলে যে 'নূর ও কিতাবে মুবীন' দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রাঃ) সে সম্পর্কে বলেন, এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা'তুফ (সংযোজিত) ও মা'তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খ-, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।

দলিল নং ৬ ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রাঃ) বলেন, অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। ( তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)

দলিল নং ৭ আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রাঃ) বলেন, অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে । আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খ-, পৃষ্ঠা ৯৭)।

দলিল নং ৮ আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রাঃ) বলেন, অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খ-, পৃষ্ঠা ২৬৯)

আর অগ্রসর হয়ে বলেন, অর্থঃ আল্লাহ তায়া'লা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া'লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া'লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টি করেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খ-, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।

দলিল নং ৯ ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মু?হাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রাঃ) বলেন, অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য় খ-, পৃষ্ঠা ২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা)

এ ছাড়া আরো অনেক তাফসীর গ্রন্থর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূরঃ-

সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪।২। তাফসীরে আবি সউদ ২য় খ-, পৃ- ২৫১, ৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খ-, পৃ- ৩৬৯, ৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খ-, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খ-, পৃষ্ঠা ৯৭, ৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খ-, পৃ- ৮৬, ৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খ-, পৃ- ১৬৩, ৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খ- পৃ- ১১৮, ৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খ-, পৃ- ৬৪, ১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খ-, পৃ- ৬৮, ১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খ-, পৃ- ৪৬২, ১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খ-, পৃ- ১৪০, ১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খ-, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খ-, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খ-, পৃষ্ঠা ২৯৫।

সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ- ১। তাফসীরে দুররে মানসুর ৩ খ-, পৃ- ২০১, ২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খ-, পৃ- ৩৪, ৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খ-, পৃ- ৪৮। সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫ঃ- ১। তাফসীরে ইবনে আববাস ৪র্থ খ-, পৃ- ২৪, ২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খ-, পৃ- ১৬৬। সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬ঃ-

১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খ-, পৃ- ১৫৪৬, ২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খ-, পৃ- ৪১১।

হাদীস শরীফের আলোকেঃ দলিল নং ১০

অর্থঃ হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মা-বাবা আপনার কদম মোবারকে উৎসর্গিত, আপনি দয়া করে বলুন, সকল বস্ত্তর পূর্বে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়া'লা কোন বস্ত্তটি সৃষ্টি করেছিলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়'লা সমস্ত কিছুর পূর্বে তোমার নবীর (তোমার) নূর মোবারক তাঁরই নূর মোবারক হতে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর ওই নূর আল্লাহ তায়'লারই মর্জি মুতাবেক তাঁরই কুদরতি শক্তিতে পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল বেহেশ্ত-দোযখ, আর ছিলনা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানব ও দানব। এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করার মনস্থ করেছিলেন, প্রথমেই ওই নূর মোবারককে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম অংশ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে লওহ, তৃতীয় অংশ দিয়ে আরশ, সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে পুণরায় চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমাংশ দিয়ে আরশবহনকারী ফেরেশতাদের দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী, তৃতীয় অংশ দ্বারা অন্যান্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে আবারও চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে সপ্ত আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ এবং পরবর্তী ভাগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল বস্ত্ত সৃষ্টি করে। (আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া ১ম খ-, পৃষ্ঠা ৭১)।

দলিল নং ১১

অর্থঃ হযরত কাব আহবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাববুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন, আকাশকে উঁচু করলেন এবং আপন নূও হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন' তুমি মুহাম্ম্দ হয়ে যাও।' অতএব সে নূও স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৌছে সিজদায় পরে বলল,'আলহামদুলিল্লাহ্' তখন আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোমার নাম মুহাম্ম্দ রেখেছি। তোমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব । (সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খ-, পৃষ্ঠা ৫০)।

দলিল নং ১২

অর্থঃ ''হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাপড় মোবারক সেলাই করেছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুচটি হারিয়ে ফেললাম। এরপরই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুচটি খুঁজে পেলাম''। (ইমাম ইবনে হায়তামী (রাঃ) এর আন-নে'মাতুল কোবরা আলার আলম গ্রন্থে ৪১ পৃষ্ঠা)।

দলিল নং ১৩

অর্থঃ হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,'' হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রববুল আলামীন ইরশাদ করলেন,'' ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি হবেন আমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (কি্বয়ামতের দিনে)। ( আল-খাসাইসুল কুবরা ১ম খ-, পৃষ্ঠা ৩৯)

দলিল নং ১৪

ইমাম হাফেজ আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (রাঃ) বলেন, অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া'লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্ মুনীর। যেমন তিনি ফরমায়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। আরো ফরমায়াছেন, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি হাজের ও নাজেররূপে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর ) রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না. না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীল ও পোশাক মোবারকে মাছি বসত না। (শিফা শরীফ ২য় খ-, পৃষ্ঠা ২৪২)।

দলিল নং ১৫

অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জিবা্রঈল আলায়হিস সালামকে জিজ্ঞেসা করলেন , ওহে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? উত্তরে জিব্রাঈল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সঠিক জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি ( সৃষ্টি জগত সৃষ্টির পূর্বে) আল্লাহ তায়'লা নূরানী আযমতের পর্দা সমূহের চতুর্খ পর্দায় একটি নূরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পরপর উদিত হত। আমি আমার জীবনে সেই নূরানী তারকা বাহাত্তর হাজার বার উদিত হতে দেখেছি। অতঃপর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান রাববুল আলামীনের ইজ্জতের কসম করে বলছি, সেই অত্যুজ্জ্বল নূরানী তারকা আমিই ছিলাম। (সীরাতে হালাভীয়া পৃষ্ঠা ৪৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান পৃষ্ঠা ৫৪৩)।

দলিল নং ১৬

অর্থঃ ''সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপদমস্তক নূর''। (যুরকানী শরীফ ৪র্থ খ-, পৃষ্ঠা ২২০)।

এ ছাড়া আরো অনেক হাদীস শরীফ গ্রন্থ এর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূর তা নিম্নরূপঃ-

১। মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১৩, ২৪ এর ১০নং হাশিয়া, ৫১১ এর ৬নং হাশিয়া, তিরমিজি শরীফ ২য় খ-, পৃষ্ঠা ৩৭, মাওয়াহিবে লাদুনিয়া পৃষ্ঠা ৪৫,শরহে সুন্নাহ ১০ম খ-, পৃষ্ঠা ২০৭, মিরকাত ১ম খ-, পৃষ্ঠা ১৪৬,১৬৬,১৯৪। তিরমিজি শরীফ ২য় খ-, প- ৩৭, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়ার ২য় খ-, পৃ- ২৮৬, ১৮। নশরুততীব পৃ- ৫, কৃতঃ আশরাফ আলী থানবী, ১৯। এমদাদুছ ছুলূক পৃষ্ঠা কৃতঃ রশিদ আহমেদ গাংগুহী । ২০। শুকরে নিয়ামত কৃতঃ কাসেম নানুতুবী, গাওহারে সিরাজী পৃষ্ঠা ৬৯, আজ আর নয় আল্লাহ সকলকে সহীহ বুঝ দান করুক। আমীন চুম্মা আমীন।

লেখক : মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন, প্রভাষক (আরবি) মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, খতিব কালেক্টরেট জামে মসজিদ, চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৪৩৯০
পুরোন সংখ্যা