চাঁদপুর। শুক্রবার ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭। ১৫ পৌষ ১৪২৪। ১০ রবিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব


৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৯। হে মু'মিনগণ ! তোমরা মু'মিন নারীগণকে বিবাহ করিবার পর উহাদিগকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তালাক দিলে তোমাদের জন্য তাহাদের পালনীয় কোন 'ইদ্দত ও নাই যাহা তোমরা গণনা করিবে। তোমরা উহাদিগকে কিছু সামগ্রী দিবে এবং সৌজন্যের সহিত উহাদিগকে বিদায় করিবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডায়িত করা যায় না।


-জনলক।


 


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


ফটো গ্যালারি
কোরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ???-??
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(পূর্ব প্রকাশিতের পর) খোলাফায়ে রাশেদীন-এর যুগেঃ- পবিত্র মক্কা শরীফ অন্যতম প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল হায়তামী আশ্ শাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (৮৯৯-৯৭৪ হিজরী) উনার সুবিখ্যাত 'আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম' কিতাবের মধ্যে নিম্নোক্ত হাদীস শরীফ বর্ণনা করেনঃ-



সর্বশ্রেষ্ঠ সাহবী ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ করেন- 'যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করবে সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে'। এভাবে উক্ত কিতাবে সম্মানিত ৪ জন খলিফা উনাদের তরফ থেকে ঈদে মীলাদে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার পৃথক পৃথক ফযীলত ঘোষণা বর্ণিত রয়েছে।



২য় হিজরী শতকঃ ২য় হিজরী শতকে (আজ থেকে প্রায় ১৩০০ বছর পূর্বে) হযরত তাবে তাবেঈন উনাদের যামানায় আব্বাসীয় খিলাফতে পবিত্র ঈদে মিলাদে হাবিবুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হতোঃ- আব্বাসীয় খিলাফতের খলীফা হারুন অর রশীদের আম্মা আল খায়যুরান (মৃত্যু ১৭২ হিজরি ২য় শতক /৭৮৯ খ্রিস্টাব্দ- ৮ম শতক) হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার স্থানে ইবাদত বন্দেগী করার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। যেখানে মুসলমানগণ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঈদে মিলাদে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতেন।



৩য় হিজরী শতকঃ হিজরি ৩য় শতকের মক্কা শরীফের মুসলিম ইতিহাসবিদ আল আজরাকী (মৃত্যু ২১৯ হিঃ/৮৩৪ খ্রিঃ) উনার 'আল মক্কাহ' ভলি : ২, ১৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন 'হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে বিলাদতি শান প্রকাশ করেন সেখানে নামাজ আদায় হতো।"



আল নাক্কাস (২৬৬-৩৫১ হি) উনার 'আল ফাসি শিফা আল গারাম' (খ- ১, পৃ ১৯৯) উল্লেখ করেন 'প্রতি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত (আগমন) স্থানে দুপুরে দোয়া করা হতো'।



৪র্থ হিজরী শতকঃ আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর পূর্বেও ঈদে মিলাদে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হতো। সাইয়্যিদ মুহম্মদ সুলাইমান নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি 'সিরাতুন নবী' জীবনী গ্রন্থে (খ-- ৩) উল্লেখ করেছেন ৩/৪ শতক হিজরী মীলাদ শরীফ উদ্যাপন করা হতো।



হিজরী ৩য় শতকের পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মুসলিম ইতিহাসবিদ আল আজরাকী (ওফাত ২১৯ হিঃ/৮৩৪ খ্রিঃ) উনার 'আল মক্কাহ' (খ- ২, ১৬০ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেন 'হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন সেখানে নামাজ আদায় হতো'।



হযরত আল নাক্কাস (২৬৬-৩৫১ হি) রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার 'আল ফাসি শিফা আল গারাম' (খ- ১, পৃষ্ঠা ১৯৯) উল্লেখ করেন 'প্রতি সোমবার হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মস্থানে দুপুরে দোয়া করা হতো'।



৫ম হিজরী শতকঃ আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর আগে বাদশাহ মুজাফর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ব থেকেই ঈদে মিলাদে হাবীবির প্রচলন ছিল। প্রায় ৯০০ বছর পূর্বে ওমর বিন মুল্লা মুহম্মদ মউসুলি রহমতুল্লাহি আলাইহি ঈদে মিলাদে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবসকে নিয়মিতভাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জারী রাখার প্রচলন চালু করেন। উনার অনুসরনে ইসলামের অমর সিপাহসালার সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহী আলাইহি উনার ভগি্নপতি আরবলের বাদশাহ মালিক আবু সাঈদ মুজাফফর আল দীন (১১৫৪- ১২৩২ খ্রিঃ) রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মীলাদে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুষ্ঠান উদ্যাপন প্রচলন করেন। উল্লেখ্য, উনারা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম করেছেন কিন্তু এর পূর্ব থেকেও ঈদে মীলাদুনবী পালন হতো) ইবনে খালকান আরবালি শাফেয়ী উক্ত অনুষ্ঠানের সাক্ষী।



'তারিখ-ই-মারাত আয জামান' উনার মতে ঐ অনুষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হতো। হিজরী ৭ম শতকের শুরুতে সে যুগের বিখ্যাত ওলামা ও প্রসিদ্ধ ফোজালাগণের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব আবুল খাত্তাব উমর বিন হাসান দাওহিয়া ক্বলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ঈদে মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর একটি বই লিখেন যার নাম দেন 'আত-তানভির ফি মাওলিদিল সিরাজ আন নাজির। তিনি বাদশাহকে এই বই উপহার প্রদান করেন। বাদশাহ প্রীত হয়ে তাঁকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেন।'



শুধু আরবলের বাদশাহ নয়, মিশরের সুলতানও ইহা উদযাপন করতেন। এ দিবসে উনারা হাজার হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করতেন। যার সাক্ষী হলে ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি। সুলতান আবু হামু মুসা তালামসানী এবং পূর্বেকার আন্দালুস ও আকসার শাসকেরা এ পবিত্র দিবস পালন করতেন। আবদুল্লাহ তন্সী সুম্মা তালামসানী এনিয়ে 'রাহ আল আরওয়াহ' নামক একটি বই লিখেছেন।



৬ষ্ঠ হিজরী শতকঃ ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি, যাকে সালাফী-ওহাবীরা তাফসীর ও ইতিহাস শাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করে থাকে, তিনি বাদশাহ মালিক আল-মুযাফফর রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি লিখেন-'বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন আবু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি দানশীল ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। সাথে সাথে তিনি সম্মানিত বাদশাও ছিলেন। উনার বহু পূণ্যময় কাজের আলামত এখনও বিদ্যমান রয়েছে।' [সূত্রঃ- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩ তম খন্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা] অনুরূপ বিবরণ বিখ্যাত গ্রন্থ সীরাতে শামী, সীরাতে হালবীয়া, সীরাতে নববীয়া ও যুরকানী' ইত্যাদিতেও বিদ্যমান আছে।



৭ম হিজরী শতকঃ ৭ম শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ আবু আল আব্বাস আল আযাফি এবং আবু আল কাসিম আল আযাফি (সার্জারির জনক) উনাদের কিতাব 'আল দুরর আল মুনাজ্জাম' কিতাবে লিখেন- 'পবিত্র মক্কা শরিফ উনার মধ্যে ঈদে মীলাদের দিবসে ধার্মিক ওমরাহ হজ্জ্বযাত্রী এবং পর্যটকেরা দেখতেন যে সকল ধরনের কার্য্যক্রম বন্ধ, এমনকি ক্রয়-বিক্রয় হতো না, তাঁদের ব্যতিত যারা সম্মানিত বিলাদত শরীফ উনার স্থান দেখতেন এবং সেখানে জড়ো হয়ে দেখতেন। এ দিন পবিত্র কাবা শরীফ সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হতো।'



৮ম হিজরী শতকঃ ৮ম শতকের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে বতুতা উনার 'রিহলা' কিতাবের ভলিউম ১, ৩০৯ এবং ৩৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন- 'প্রতি জুমুয়া উনার নামাযের পর এবং হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইই ওয়া সাল্লাম উনার আগমন দিবসে বানু শায়বা-এর প্রধান কতৃক পবিত্র কাবা শরিফ উনার দরজা মুবারক খোলা হতো। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বিচারক নজম আদ দীন মুহম্মদ ইবনে আল ইমাম মুহুয়ি আল দিন আল তাবারি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর এবং সাধারন জনগণের মাঝে খাবার বিতরণ করতেন।'



৯ম হিজরী শতকঃ ৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম জালালুদ্দিন আস সুয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রচিত 'আল-হাওয়ী লিল্ ফাতাওয়া' কিতাবের ১ম খ-, ২৯২ পৃষ্ঠায় ঈদে মীলাদে হাবীব ছল্লাল্লাহু আালাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল রয়েছে।



১০ম হিজরী শতকঃ ১০ হিজরী শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ ইবনে যাহিরা উনার 'জামি আল লতিফ ফি ফাদলি মক্কাতা ওয়া আহলিহা' এবং শায়েখ হাফিয ইবনে হাযার আল হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার 'আল মাওলিদ আল শরিফ আল মুনাজ্জাম' এবং ইতিহাসবিদ শায়েখ আল নাহরাওয়ালি উনার 'আল ইমাম বি আলাম বায়েত আল্লাহ আল হারাম' কিতাবের ২০৫ পৃষ্ঠায় লিখা রয়েছে- 'প্রতি বছর ১২ রবিউল আউওয়াল শরিফ বাদ মাগরীব ৪ জন সুনি্ন মাযহাব সম্মানিত ইমাম, বিচারক, ফিক্বাহবিদ, শায়েখান, শিক্ষক, ছাত্র, ম্যাজিস্ট্রেট, বিজ্ঞজন এবং সাধারণ মুসলমানগণ মসজিদের বাহিরে আসতেন এবং তাসবীহ-তাহলীল এর সাথে হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার বাড়ি মুবারক পরিদর্শন করতেন। সম্মানিত বাড়ি মুবারকে যাওয়ার পথ আলোকসজ্জা করা হতো। সকলে উত্তম পোষাক পরিধান করতেন এবং সন্তানদের সাথে নিতেন।'



১১তম হিজরী শতকঃ সমগ্র বিশ্বে একনামে স্বীকৃত মুহাদ্দিস হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (আজ থেকে পাঁচশত বছর পূর্বে যার জন্ম) উনার অসংখ্য কিতাবের মধ্যে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'আল মাওরিদুর রাভী ফি মাওলিদিন নাব্যিয়'। উক্ত কিতাবের ২৯ পৃষ্ঠায় তিনি ঈদে মীলাদে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন সম্পর্কে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ থেকে দলীল পেশ করেছেন।



১২তম হিজরী শতকঃ হযরত আল্লামা মোল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ননা করেন, 'মদীনা শরীফবাসী ঈদে মীলাদুন নবীতে খুবই আগ্রহ, উৎসাহ ও আনন্দের সহিতো এ দিবস উদ্যাপন করতেন।' (মাওরিদ আর রাওয়ী ফি মাওলিদ আন নাবী পৃষ্ঠা ২৯)



১৩তম হিজরী শতকে ঈদে মীলাদে হাবীবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনঃ নির্ভরযোগ্য আলিম মাওলানা হাফিজ মুহাম্মদ আব্দুল হক্ব এলাহাবাদী মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার স্বরচিত বিখ্যাত কিতাবে শায়েখ আব্দুল আযীয দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মন্তব্য তুলে ধরেছেন এভাবে- 'শায়েখ আব্দুল আযীয দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুহররমুল হারাম মাসের অনুষ্ঠান মরসিয়াখানি (শোক গাঁথা পাঠ) সম্পর্কে জনৈক ব্যক্তির জিজ্ঞাসার উত্তরে বললেন, সারা বছরের মধ্যে এ ফকীরের (আমার) বাড়িতে দুটি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়।



হযরত শাহ মুহম্মদ ইসহাক্ব মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্থলাভিষিক্ত উস্তাযুল উলামা হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল গনী মুহাদ্দিছ দেহলবী মুহাজিরে মাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মাহফিলে শরীক হতেন। যেমন- উনার বিশি' শাগরিদ হযরত শাহ আব্দুল হক্ব মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেন, অর্থ : 'আমাদের শায়েখ ও মুর্শিদ উমদাতুল মুফাসি্সরীন, যুবদাতুল মুহাদ্দিছীন জনাব মাওলানা শাহ আব্দুল গনী ছাহেব নকশবন্দী মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আমি দেখেছি পবিত্র মদীনা শরীফ-এ ১২৮৭ হিজরী সনে পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ১২ তারিখে ইয়াওমুল আহাদ বা রোববার দিনে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার অনুষ্ঠানে শরীক হন এবং পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার আঙিনা মুবারক-এ মিম্বরে বসে একের পর এক ইমামগণ পবিত্র রওযা শরীফ উনার দিকে মুখ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন মুবারক উনার যে আলোচনা করছিলেন, তা শুনেন। পবিত্র কি্বয়াম শরীফ উনার সময় সবার সাথে পবিত্র কি্বয়াম শরীফও করেন। এ পবিত্র মাহফিলে হাল ও বরকত যা প্রকাশ পেয়েছিল, তা বলার ভাষা নেই।' (আদ-দুররুল মুনাজ্জাম, রিসালায়ে আসরারে মুহব্বত)



১৪তম হিজরী শতকে ঈদে মীলাদে হাবীবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনঃ ১৯৩০ ঈসায়ীতে (১৩৪৮ হিজরী) ওহাবী রা' সউদী আরব প্রতিষ্ঠার পূর্বে পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হতো। যেমন পবিত্র মক্কা শরীফ উনার পত্রিকা আল কি্ববলা পত্রিকা মতে-'পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসীরা পালন করতেন যার নাম ছিল 'ইয়াওম আল ঈদ মাওলিদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম'। মুসলমান উনারা উত্তম খাবার রান্না করতেন।



আর ঈদে মিলাদুন্নবি পালনের জন্য উপরের বর্নিত আয়াত শরীফ এর হুকুম যেই ভাষায় প্রয়োগ করা হয়েছে, পবিত্র কোরআন শরীফ এর অন্য কোথাও এমনিভাবে জোর তাগিদের সাথে হুকুম আসেনি। একটু ফিকির করলেই এই আয়াত শরীফ এ ঈদে মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের জন্য কমপক্ষে ১০ টি তাগিদ রয়েছেঃ-



১) ???? - ???? (কুল) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কোন কথা শুরু করা হলে, ইহাই এক প্রকারের জোর তাগিদ । যার উদ্ধেশ্য এই যে আপাদ-মস্তক নিমগ্ন হয়ে যাও।



২) ???????? ?????? আল্লাহ পাক উনার ফজলের কারনে। প্রশ্ন তৈরি হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার ফজলের কারন কি? এই ফজল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কারন নবিজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ায় না আসলে আমরা কোরআন শরীফ পেতামনা মুসলমান ও হতোাম না। তাই এই ফযল ও তাগিদ।



৩) ?????????????? - মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের কারনে। প্রশ্ন হল রহমতের কারন কি? রহমত কে? ইহাও ৩য় তাগিদ।



৪) ???????? ?????? ?????????????? - ফযল ও রহমত একত্রীকরন। ফজলের পরে রহমতের উল্লেখ করাও তাগিদ।



৫) ?????????? - জালিকা (??????) এর পরে ফা-কে এজাফত(সম্মান) করা হয়েছে। 'ফা' -আরবী কাওয়ায়েদ অনুযায়ি তাগিদের জন্য ব্যবহৃত হয় বা তাগিদের জন্য আসে।



৬) ???????? - ফজল ও রহমত এর উল্লেখ করার পরে ইশারা বায়িদ লওয়াও তাগিদের অন্তর্ভুক্ত।



৭) ????????????? - 'ফালইয়াফরাহু' শব্দের উপর পূর্ণ 'ফা' হরফ এজাফত করা হয়েছে, যার ফলে তাগিদ করা হয়েছে।



৮) ????????????? - ইয়াফরাহু এর উপর 'লাম' ও তাগীদের জন্য হয়ে থাকে।



৯) ???? ?????? - এখানে 'হুয়া' তাগিদের জন্য এসেছে।



১০) ??????? ??????????? ু 'মিম্মা ইউয়াযমাঊন' ইহাও তাগীদের কালাম।



বর্ণিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ১০ তাগিদের সাথে যে হুকুম প্রদান করেছেন ইহা এই যে, ????????????? - 'ফালইয়াফরাহু' -খুশি পালন কর অর্থাৎ ঈদ পালন কর। কেননা ?????????? 'ফাবিজালিকা' শব্দ দ্বারা যেই রসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা বলা হয়েছে, তিনি আগমন করেছেন উনার পরে আর কোন নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম আগমন করবেন না। মহান আল্লাহ পাক আমাদের হক্ব বোঝার মানার আর পালন করার তৌফিক দিন আমিন সুম্মা আমিন।



 



লেখক : খতিব, কালক্টরেট জামে মসজদি ও প্রভাষক (আরবী) মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৮২২৪
পুরোন সংখ্যা