চাঁদপুর। শুক্রবার ৮ জুন ২০১৮। ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২২ রমজান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস











৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৮। স্মরণ করুন, ইসমাঈল, আল ইয়াসা ও যুলকিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই গুণীজন।

৪৯। এ এক মহৎ আলোচনা। খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা।

৫০। তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, তাদের জন্যে তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।

৫১। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়।

৫২। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন





 


প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না।               

-জে-জে-বে।


যিনি বিশ^মানবের কল্যাণ সাধন করেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।   

 


ফটো গ্যালারি
সাহরি গ্রহণের ফজিলত
মাওলানা এসএম আনওয়ারুল করীম
০৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মাহে রমজানে সাহরি গ্রহণ এক বিশেষ ইবাদত। নবী করীম (সাঃ) সাহরি গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছেন। মূলত রাতের যেই সময়ে সিয়াম সাধনায় ইচ্ছুক বান্দা সাহরি খেতে ঘুম থেকে ওঠে, এই সময়টি আল্লাহ তায়ালার দরবারে অত্যন্ত পছন্দনীয়। পৃথিবীর শুরু হতে এই পর্যন্ত যত নবী রাসূল আগমন করেছেন, তারা প্রত্যেকেই রাতের এই সময়ে আল্লাহ তায়ালার একান্ত সানি্নধ্য লাভ করেছেন। তাই এ সময়ে জাগ্রত হওয়া, জিকির আজকার করা, তাসবীহ তাহলীল পাঠ করা, কোরআন তেলাওয়াত করার ফজিলত অনেক বেশি। রোজাব্রত পালনেচ্ছুক বান্দা এই সময়ে সাহরি খেতে ওঠে আল্লাহ তায়ালার একান্ত সানি্নধ্যে পেঁৗছার যোগ্যতা লাভ করে।



 



সাহরি আরবি শব্দ। এর মূল শব্দ সাহরুন অর্থ রাতের শেষ ভাগ। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, নাজ্জাইনাহুম বিসাহরিন। অর্থাৎ আমি তাদের (লূত নবীর পরিবারবর্গকে) রাতের শেষ ভাগে মুক্তি দিয়েছিলাম। (সূরা কামার ৫৪ : ৩৪ আয়াত, তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪র্থ খ- ২৬৬ পৃষ্ঠা)



নবী করীম (সাঃ) ঘোষণা করেন, তোমরা দিনে শুয়ে রাতের সালাতের জন্যে এবং সাহরি খেয়ে দিনে রোজা রাখার জন্যে সাহায্য গ্রহণ কর। (ইবনে মাজাহ ১২৩ পৃ, ইবনে খুযায়মা, ৩য় খ- ২১৪ পৃ, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪র্থ খ- ২২৯ পৃ)।



 



নবী করীম (সাঃ) আরো বলেন, তোমরা সাহরি খাও, যদিও তা এক ঢোক পানি হয়। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪র্থ খ- ২২৮ পৃ, ইবনে আবি শায়বা ৩য় খ- ৮ম পৃ)



অন্য হাদীসে ইরশাদ হয়েছে তোমরা সাহরি গ্রহণ কর যদিও তা একটা খেজুর হয় কিংবা কিসমিসের দানা হয়। (তাবারানী, আইনুল বারী ৪র্থ খ-, ৩২১ পৃ)



আরেক হাদীসে রয়েছে, যারা সাহরি খায় তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করে। (আহমাদ, নায়লুল আওতার ৪র্থ খ- ১০৫ পৃ, ইবনে হিব্বান, তালখীসুল হাবীর ১৯৩ পৃ)



একদা রাসূল (সাঃ) সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা সাহরি গ্রহণকে মোটেই ছেড় না। (মুসনাদে আহমাদ, নাসাঈ ১ম খ- ২৩৫)



বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রা. হতে বর্ণিত। নবী করীম (সাঃ) বলেন, বেলালের আজান তোমাদেরকে সাহরি খেতে কখনই যেন বাধা না দেয় (মুসলিম, তিরমিযী, মেশকাত, ৬৬ পৃ)



হযরত ইবনে ওমর (রা.)-এর এ হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, নবী করীম (সাঃ) বলেন, বেলাল রাতে (সাহরি খাবার) আজান দেয়। তাই তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত খাও এবং পান কর যতক্ষণ ইবনে উম্মে মাখতুমের (ফজরের) আজান শুনতে না পাও। (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ৬৬ পৃ, নাসাঈ ১ম খ- ৭৫ পৃ)



হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা. বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে সাহরি খেতাম, তারপরে সালাতে দাঁড়াতাম। কেউ যায়েদকে জিজ্ঞেস করলেন, সাহরি ও ফজরের নামাজের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান থাকতো? জবাবে তিনি বলেন, ৫০টি আয়াত পড়ার সময় পরিমাণ। (বুখারী ২৫৭ পৃ, মুসলিম ১ম খ- ৩৫০ পৃ, ইবনে মাজাহ ১২৩ পৃ)।



 



সাধারণত ৫০টি মধ্যম শ্রেণির আয়াত পড়তে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগে। তাই প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম ফজরের নামাজের মাত্র ১৫/২০ মিনিট আগে সাহরি খাওয়া শেষ করতেন। অতএব আমাদেরও উচিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সুন্নাত পালনার্থে ফজরের সালাতের ১৫/২০ মিনিট আগে সাহরি খাওয়া শেষ করা। দেরি করে সাহরি খাওয়ার ব্যাপারে নবীজী (সাঃ) বলেন, নবুয়তের ৭০ ভাগের এক ভাগ হলো দেরিতে সাহরি খাওয়া এবং ইফতারে জলদি করা। ইফতারের নির্দিষ্ট সময় হলে ইচ্ছা করে বিলম্ব না করা। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, ৪র্থ খ- ২৩২ পৃ)



সমস্ত নবীরই আদর্শ ছিল ইফতারে তাড়াতাড়ি এবং সাহরিতে দেরি করা। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪র্থ খ- ২৩২ পৃ, ইবনে আবি শায়বা ৩য় খ- ১৩ পৃ, নাসবুর রাওয়াহ ২য় খ- ৪৭০ পৃ)



এজন্যই নবী করীম (সাঃ) সাহরির খাবারকে বরকতময় প্রভাতী খাবার নামে অভিহিত করেছেন। (আবু দাউদ, নাসায়ী, মেশকাত, ১৭৬ পৃ, ইবনে খুযাইমা ৩য় খ- ২১৪ পৃ, ইবনে আবি শায়বা ৩য় খ- ৯ পৃ)



যারা সাহরি না খেয়ে সিয়াম রাখে তাদের সিয়াম এবং ইয়াহুদি ও নাসারাদের সিয়ামের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। তাছাড়া সাহরি না খেয়ে রোজাদার ব্যক্তি বরকত থেকেও বঞ্চিত হয়। সুতরাং যারা সিয়াম রাখেন তাদের সাহরি খাওয়া জরুরি। যদি কেউ একথা বলেন যে, ইফতারের পর ভাত খেলে বা অন্য কোনো কারণে তার পেট ভরে থাকে তার সাহরি খাবার ইচ্ছা মোটেই হয় না কিংবা সাহরি খেলে বদ হজম হয় বা অন্য কোনো অসুবিধা দেখা দেয় তাহলে তিনি ইয়াহুদি ও নাসারাদের সাথে সামঞ্জস্য রাখলেন। কারো যদি কোনো কারণে এক আধ দিন সাহরি খাবার রুচি না হয় তার জন্য অন্ততপক্ষে একটি খেজুর ও এক ঢোক পানি সাহরির নিয়ত করে খেয়ে নেয়া উচিত। যাতে ইয়াহুদি ও নাসারার সাথে মিল না হয় এবং তিনি এ বরকত থেকেও বঞ্চিত না হন।



 



লেখক : বেতার ও টেলিভিশন আলোচক; বিভাগীয় প্রধান (হাদীস),



আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩১০৭৮
পুরোন সংখ্যা