চাঁদপুর। শুক্রবার ৮ জুন ২০১৮। ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২২ রমজান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস











৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৮। স্মরণ করুন, ইসমাঈল, আল ইয়াসা ও যুলকিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই গুণীজন।

৪৯। এ এক মহৎ আলোচনা। খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা।

৫০। তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, তাদের জন্যে তার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।

৫১। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়।

৫২। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন





 


প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না।               

-জে-জে-বে।


যিনি বিশ^মানবের কল্যাণ সাধন করেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।   

 


ফটো গ্যালারি
রমজান সম্পর্কিত হাদিস
মোঃ আবদুল হক মোল্লা
০৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পরাক্রান্ত মহাশক্তিশালী রহস্যবিদ আল্লাহ দ্যুলোক-ভুলোক সৃষ্টি করেছেন। তারপর এ দুটোকে একের ওপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দিয়ে সুসজ্জিত করেছেন। যেমন : প্রাণীর মধ্যে মানব, নবী-রাসূলদের মধ্যে আমাদের নবী (সাঃ)কে শ্রেষ্ঠত্ব। বছরের মধ্যে জিলহজ্ব, মাসের মধ্যে রমজানকে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদায় সমুন্নত করেছেন। এ পবিত্র মাসের কিছু রোজা বিষয়ক বিধান হাদিসের মাধ্যমে বর্ণিত হলো :



 



১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক বস্তুরই যাকাত রয়েছে। আর দেহের হলো রোজা। আর রোজা ধৈর্যের অর্ধেক। (ইবনে মাজাহ)।



 



২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুরপাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের দাবিতে এবং সাওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীত জীবনের সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বোখারী)।



 



৩। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, কোনো কোনো সময় মাস ২৯ দিনও হয়, তবে তোমরা চাঁদ না দেখে রোজা রাখা শুরু করো না। যদি ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে তোমরা ৩০ দিন পূর্ণ করেই রোজা রাখা শুরু করবে। (বোখারী)।



 



৪। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুরপাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের দাবিতে এবং সাওয়াবের আশায় রমজান মাসে রাতে কিয়াম অর্থাৎ তারাবীহ ও নফল নামাজসমূহ আদায় করবে এবং দিনে রোজা রাখবে, তার অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বোখারী)।



 



৫। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা সাহ্রি খাও। কেননা এতে তোমাদের জন্যে বরকত ও রহমত রয়েছে। (বোখারী)।



 



৬। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, রমজান মাসে শুরু হলেই কবরবাসীদের ওপর থেকে দোজখের আজাব প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রত্যেক প্রার্থীকে তার প্রার্থীত বস্তু দেয়া হয়ে থাকে। (বোখারী)।



 



৭। হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখেছে অথচ যাবতীয় বর্জনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকেনি। তার উপবাস করার কোনো মূল্যই নেই। (বোখারী)।



 



৮। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন বান্দার সমুদয় আমল তার নিজের জন্যে। কিন্তু রোজা আমার জন্যে। আমি আমার নিজ হাতে পুরস্কার প্রদান করবো। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৯। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, বেহেস্তের ৮টি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে একটির নাম 'রাইহান' রোজাদাররা ছাড়া কেউই এ দরজা দিয়ে প্রবেশাধিকার লাভ করবে না। (বোখারী)।



 



১০। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রোজা রাখার পর মিথ্যা কথা বলে, অপরের কুৎসা রটনা করে, মানুষের ক্ষতির চিন্তা অন্তরে পোষণ করে, তার খাদ্য-পানীয় ত্যাগ করা আল্লাহর কাছে মূল্যহীন। আল্লাহ এমন লোকের প্রতি কখনো দৃষ্টি দেবেন না। (বোখারী)।



 



১১। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুরেপাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস শুরু হয়, তখন থেকে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। বেহেস্তের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। অতঃপর শয়তানকে শিকলে বন্দি করে রাখা হয়। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



১২। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো ব্যর্থ হয় না। (১) রোজাদার ব্যক্তির, (২) ন্যায়পরায়ন শাসকের ও (৩) মজলুম ব্যক্তির। এসব ব্যক্তির দোয়া মেঘের স্তর ভেদ করে আল্লাহর দরবারে পেঁৗছে যায়। এদের জন্যে আকাশের দরজাগুলো সর্বদা উন্মুক্ত করে রাখা হয় এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, হে আমার বান্দা। আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো। (আহমদ ও তিরমিজী)।



 



১৩। হযরত আবদুল্লা ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, ইফতারের সময় রোজাদারের নিজস্ব একটা দোয়া থাকে, কখনো প্রত্যাখান করা হয় না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবদুল্লা ইবনে আমরকে ইফতারের সময় এ দোয়া পড়তে শুনেছি। যথা : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার দয়া (রহমত) প্রার্থনা করছি এবং আমার যাবতীয় কর্মে, তুমি প্রশস্থতা প্রদান করো। আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করো। (বায়হাকী)।



 



১৪। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আহলে কিতাব ও আমাদের মাঝে রোজার পার্থক্য শুধুমাত্র সেহরী খাওয়া। (বুখারী-মুসলিম)।



 



১৫। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) রোজা রেখে আমাকে চুমু দিতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন। তাঁর প্রবৃদ্ধি অন্যদের অপেক্ষা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ছিলো। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



১৬। হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুরপাক (সাঃ) এহরাম ও রোজা রাখা অবস্থায় নিম্নাঙ্গের কেশ পরিস্কার করেছেন। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



১৭। হযরত আবদুল্লা ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুরপাক (সাঃ) মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে রোজা রাখা অবস্থায় মাথায় পানি দিয়েছেন। (আবু দাউদ)।



 



১৮। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কাছে রমজান মাস উপস্থিত হয়েছে। যা অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসে তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ মাস দোজখের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এ মাসে শয়তানগুলোকে বন্দি করে রাখা হয়। আল্লাহর জন্যে এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অতি উত্তম। যে লোক এ রাতে এবাদত থেকে বঞ্চিত থাকবে, সে সত্যিই হতভাগ্য। (মুসনাদে আহমদ ও নাসাঈ)।



 



১৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, রোজা ও কোরআন রোজাদার ব্যক্তির জন্যে শাফায়াত করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ আমি এ ব্যক্তিকে দিনে খাবার ও অন্যান্য কামনা-বাসনা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি। আপনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে, হে আল্লাহ আমি এ ব্যক্তিকে রাতের নিদ্রা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি। আপনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন, আল্লাহ তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন। (বায়হাকী)।



 



২০। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, যে লোক একদিন আল্লাহর পথে রোজা রাখবে, আল্লাহ তার মুখম-ল জাহান্নাম থেকে সত্তর বছর দূরে সরিয়ে রাখবেন। (বোখারী ও তিরমিযী)।



 



২১। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি নেকআমলের ছাওয়াব দশগুণ হতে সাতশ' গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, রোজা এ নিয়মের ব্যতিক্রম। কেননা তা একান্তভাবে আমারই জন্যে। অতএব আমিই যেভাবে উহার প্রতি ফল দেবো। রোজা পালনে আমর বান্দা আমারই সন্তোষ বিধানের জন্যে স্বীয় ইচ্ছে, কামনা ও নিজের পানাহার পরিত্যাগ করে থাকে। রোজার জন্যে দুটি আনন্দ। একটি ইফতারের সময় এবং অন্যটি তার মালিক প্রভু আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের সময়। নিশ্চয়ই জেনে রেখো রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট সুগন্ধি হতেও বেশি উত্তম। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



সাহরী ও ইফতারের বিধান :



১। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, রোজা রেখে যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে, তবে সে যেনো রোজা পূর্ণ করে নেয়। কেননা, আল্লাহ তাকে পানাহার করায়েছেন। (বোখারী)।



 



২। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন তিনটি জিনিস রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করতে পারে না। (১) শিঙ্গা লাগালে (২) বমি হলে (৩) স্বপ্নদোষ হলে। (তিরমিযি)।



 



৩। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলে খোদা (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, রোজা ধৈর্যের অর্ধেক এবং ধৈর্য ঈমানের অর্ধেক। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৪। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা সাহরী খাও। সাহরী খাওয়া আমার সুন্নত। না থাকলেও অন্তত ২/১টা খুরমা বা অন্য কিছু হলেও খেও। কিছুই না থাকলে অন্তত এক ঢোক পানি হলেও পান করবে। (মুসলিম)।



 



৫। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর পাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় বান্দা তারাই যারা ইফতার করতে দেরি করে না। অর্থাৎ সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ইফতার করে। (তিরমিযি)।



 



৬। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রোজা শেষে ইফতার করতে এ দোয়া পাঠ করতেন। যথা : হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই প্রদত্ত রিযিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ)।



 



৭। হযরত উসামা ইবনে যাযেদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার বা ইফতার করায় কোনো মুজাহিদকে যুদ্ধের সাজ সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করে, সে ব্যক্তি উক্ত রোজাদার এবং মুজাহিদের সমান সাওয়াব লাভ করে থাকে। এতে রোজাদার এবং মুজাহিদের সাওয়াব কম করা হয় না। (বায়হাকী)।



 



৮। হযরত হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি হুজুরপাক (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ), আমি সফরেও রোজা রাখার ক্ষমতা রাখি, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? তিনি হুজুরপাক (সাঃ) বললেন, এটা আল্লাহর মেহেরবাণী, যে এটাকে গ্রহণ করে উত্তম এবং এতে গুনাহ নেই। (মুসলিম)।



 



এতেকাফ সম্পর্কীত বিধান :



১। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) রমজানের শেষ ১০ তারিখে এতেকাফ করতে এবং তাঁর সঙ্গীরাও সকলেই তাঁর সাথে এতেকাফ করতেন। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



২। হযরত ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম (সাঃ)কে প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইসলামগ্রহণের আগে এক রাত কাবাগৃহে এতেকাফ করার ইচ্ছে পোষণ করেছিলাম। আজো তা করা হয়নি। তিনি (সাঃ) বললেন, তোমার ইচ্ছে এখন পূরণ করে নাও। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৩। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এতেকাফ অবস্থায় রাসূলে খোদা (সাঃ) তাঁর মাথা মোবারক আমার দিকে বের করে দিতেন। আমি তাঁর মাথার কেশ পরিপাটি করে দিতাম। তিনি (সাঃ) প্রসাব-পায়খানা ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৪। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) প্রতি বছর একবার কোরআন মাজীদ খতম করতেন। যে বছর তিনি প্রথম এতেকাফ করেন, সে বছর তিনি দু' খতম কোরআন মাজীদ তেলাওয়াত করেন। তিনি প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিন এতেকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করলেন, সে বছর ২০ দিন এতেকাফ করলেন। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৫। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশ তারিখে জোড় রাতে শবে ক্বদর তালাশ করো। (বোখারী)।



 



৬। হযরত আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন এতেকাফ করবে, সে দুটো নফল হজ্ব ও দুটো নফল ওমরার সাওয়াবের অংশীদার হবে। (বায়হাকী)।



 



৭। হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এতেকাফকারী সম্পর্কে এরশাদ করেছেন, এতেকাফকারী সমুদয় গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে এবং সে পুণ্যবানদের সাথে সাথে পুণ্যের কাজেও শরীক থাকে। (ইবনে মাজাহ)।



 



৮। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর পাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এতেকাফ করে, তার জন্যে সুন্নততরিকা হলো সে কোনো রোগী দেখতে যাবে না, জানাজায় শরীক হবে না এবং স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না। স্ত্রীর সাথে সঙ্গমরত হবে না এবং বিশেষ প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া যেমন : পায়খানা, প্রসাব) মসজিদ থেকে বাইরে যাবে না। রোজা ছাড়া এতেকাফ হয় না। জামে মসজিদ ছাড়াও এতেকাফ হয় না। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা চাঁদ দেখা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে রোজা ত্যাগ করো না। আর যদি মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায়, তা হলে মাস ত্রিশ দিন পর্যন্ত গণনা করে নাও। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



নফল রোজা সম্পর্কীত বিধান :



১। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, রমজানের রোজা ছাড়া অন্যান্য রোজার মাঝে মুহাররমরে রোজাই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং ফরজ নামাজ ছাড়া নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজই সর্বোৎকৃষ্ট। (মুসলিম)।



 



২। হযরত আবদুল্লা ইবনে আব্বাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) আশুরার দিন রোজা রাখতেন এবং ওইদিন রোজা রাখতে আমাদেরকেও নির্দেশ দিতেন। সাহাবারা আরজ করলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইহুদী-খ্রিস্টানরাও তো এদিনে রোজা রাখে? তাদের এবং আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি? তিনি বললেন, আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তবে আমি নবম তারিখেও রোজা রাখবো। (বোখারী)।



 



৩। হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ)কে সোমবার দিন রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, ওইদিন আমার জন্মদিন এবং ওইদিনই আমার কাছে প্রথম ওহী নাযিল হয়েছিলো। (মুসলিম)।



 



৪। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) আরাফার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ)।



 



৫। হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আগের দিন অথবা পরের দিন রোজা না রেখে শুধুমাত্র জুমার দিন রোজা রাখতে হুজুরপাক (সাঃ) আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৬। হযরত উম্মে ফজল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরাফার দিন রাসূলে খোদা (সাঃ) রোজা রেখেছেন কিনা এ নিয়ে লোকেরা কথাবার্তা বলছিলো। কেউ বললো, তিনি রোজা রেখেছেন, আবার কেউ রাখেননি। রাসূলে খোদা (সাঃ) তখনও আরাফাত ময়দানে ছিলেন এবং উটের পিঠে পেয়ালা দুধ প্রেরণ করলাম। তিনি হুজুর (সাঃ) সাথে সাথে তা পান করলেন। (বোখারী ও মুসলিম)।



 



৭। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) প্রত্যেক মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সফর বা বাড়িতে অবস্থান করার সময় কোনো অবস্থায় রোজা ত্যাগ করেননি। (নাসাঈ)।



 



৮। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) প্রত্যেক মাসের প্রথম ভাগে শনি, রবি ও সোমবারে এবং শেষভাগে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (তিরমিযি)।



 



৯। হযরত সামুয়া ইবনে যুন্দব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সময় হবার আগে রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প না করে, সে রোজার পূর্ণ সাওয়াবপ্রাপ্ত হয় না। (তিরমিযি)।



 



লেখক : ষোলঘর, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩০৩৪৬
পুরোন সংখ্যা